বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তখন আমি ক্লাস ৮ এ পড়ি। লেখাপড়াই খুব ভালো। সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকি আর সব পড়া মাথায় ডুকাতে থাকি।
তখন আমার বন্ধু ছিলো শ্রাবন্তী আর জান্নাত। আমি শ্রাবন্তীকে খুব ভালোবাসতাম। আর জান্নাত ছিলো আমার জিগরি দোস্ত। শ্রাবন্তীও আমাকে ভালোবাসত। আমি মাঝে মাঝেই ওকে নানারকম উপহার দিতাম। কিন্তু ও কখনো আমার উপহার নিত না। কেন নিত না তা আমি অনেক জানার চেষ্টা করতাম কিন্তু ও কখনোই আমাকে কিছু বলত না। একদিন শ্রাবন্তী ক্লাসে আসেনি। সেদিন আমি ক্লাস ফাকি দিয়ে চুপিচুপি ওদের বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যাই। ওদের বাড়ি কোথায় সেটা আমি জানতাম কিন্তু কোনটা ওদের বাড়ি তা আমার জানা ছিলো না। আমি ওদের এলাকায় গিয়ে এক লোককে জিজ্ঞাসা করলাম যে,,,,
আমিঃ শ্রাবন্তীদের বাড়ি কোথায়??
লোকটিঃ কোন শ্রাবন্তী??
আমিঃ সামেদুল আংকেলের মেয়ে,,,,
লোকটিঃ ওইযে বাড়িটা দেখতে পাচ্ছো??
আমিঃ হুম্ম,,,
লোকটিঃ ওই বাড়িটাই।
আমি দেখলাম ওদের বাড়িটা খুব পুরুনো একটি বাড়ি।আমি তাদের বাড়ির কাছে যেতেই শুনলাম শ্রাবন্তী আর এক মহিলা কথা বলছে। আর ওই মহিলাই হলেন শ্রাবন্তীর মা। আমি তাদের বাড়ির পেছনে গিয়ে আড়াল থেকে সব শুনতে থাকলাম,,,,,,
শ্রাবন্তীঃ মা, তুমি আমাকে কারও থেকে কোনো উপহার নিতে দাও না কেন??
শ্রাবন্তীর মাঃ মারে আমরা গরিব কিন্তু ভিখারী নই। আমি চাইনা আমার মেয়ে কারও কাছে হাত পেতে কোনো কিছু আনুক।
আমি আর ওখানে থাকলাম না। চলে আসলাম।
পরের দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে সোজা চলে আসলাম স্কুলে। কাল আমার এক মামাতো বোনের বিয়ে। তাই আমি বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য সিলেট আমার মামার বাড়ি চলে যাব। সেখানে কিছুদিন থাকতে হবে। তাই সবার সাথে দেখা করতে আসলাম। এসে দেখি শ্রাবন্তী বসে আছে। আমি বললাম,,,,
আমিঃ শ্রাবন্তী আমি জানি তুমি কেন আমার উপহার গুলো নাও না,,কিন্তু এবার আমি তোমার কাছে অনুরুধ করছি এইবার তুমি আমার দেওয়া উপহারটা ফিরিয়ে দিও না,,,, plz plz plz
কিছুক্ষন ভাবার পর বলল,,,,,,
শ্রাবন্তীঃ ঠিক আছে,,,,
আমার খুশি কে দেখে। আমি জান্নাতের সাথে কথা বলে চলে আসলাম বাড়িতে। আজকে আমার সবকিছু গুছাতে হবে। সবকিছু গুছাতে গুছাতে বিকাল হয়ে গেলো। তারপর বিকালে একটু ঘুরাঘুরি করে সন্ধ্যায় খাওয়া সেড়ে দিলাম এক ঘুম। এক ঘুমেই রাত কাবার। সকালে উঠে রওনা হলাম সিলেটের উদ্দেশ্যে।
সকাল ৭:৩০ এ বাসে উঠলাম। আমি বাসে উঠলে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমার যাত্রা করি। এবারও তাই হলো। বিকালে সিলেট এসে পৌছলাম। তারপর সোজা মামার বাড়ি। সেখানে রিমি আপুর বিয়েতে খুব মজা করলাম। সারাদিন দুষ্টামি, আনন্দ, মজা, ইত্যাদি। রিমি আপুর বিয়েটা হয়ে গেলো। আজকে আমি চলে আসব আমার বাড়িতে।
শ্রাবন্তীর জন্য কি উপহার কিনব বুজতে পারতেছিলাম না। তাই মেলাই গিয়ে তার জন্য একটা নুপুর কিনলাম। তারপর সিলেট থেকে ঘুমের মাধ্যমে চলে আসলাম বাড়িতে। পরেরদিন চলে গেলাম স্কুলে।
ক্লাসের ব্যাঞ্চে বসে আছি। সবাই চলে এসেছে কিন্তু শ্রাবন্তী এখনো আসছে না। তাই মন মরা হয়ে বসে আছি। হঠাৎ জান্নাত এসে আমার পাশে বসল। আমার হাতে নুপুরটা দেখে বলল
জান্নাতঃ নিশ্চয় এটা আমার জন্য এনেছিস।
আমিঃ নারে,,,
জান্নাতঃ তাহলে?
আমিঃ আমি এটা শ্রাবন্তীর জন্য এনেছি,, কিন্তু ও তো এখনো আসল না,,,,
জান্নাতঃ কিরে তুই জানিস না,,,,?
আমিঃ কি জানব?
জান্নাতঃ আরে শ্রাবন্তী তো এখান থেকে TC নিয়ে চলে গেছে। আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। জান্নাত আমার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে হাসি দিয়ে চলে গেলো। আমি ওখান থেকে সোজা চলে গেলাম শ্রাবন্তীদের বাসায়। গিয়ে দেখি কেও নেই। আমি যখন উপহার দিতে চাইতাম তখন ও নিত না, আর আজ যখন ও নিতে চাইল তখন দিতে পারলাম না,,,,,,,,,
২০ বছর পর। আমি এতদিন শুধু শ্রাবন্তীকেই খুজে গেছি। আমি জানতাম জান্নাত আমাকে ভালোবাসে। তাই আমি ভাবলাম শুধু শুধু জান্নাত কে কষ্ট দিয়ে লাভ কি / শ্রাবন্তীকে তো আর পাবো না,,,,তাই জান্নাতকে ফোন দিলাম,,,,,
আমিঃ হ্যালো,, জান্নাত,
জান্নাতঃ হ্যারে কি হইছে?
আমিঃ তুই আজকে বিকালে আমার সাথে কফি হাউজে দেখা করবি,,,,
জান্নাতঃ কেন?
আমিঃ কথা আছে,,,, জুরুরি কথা
জান্নাতঃ ফোনে বল
আমিঃ নারে,, খুব জুরুরি,,
জান্নাতঃ ঠিক আছে। আমি আসব।
সময় যেন যায় না,,,,অবশেষে বিকাল এলো আমার বারান্দায়। আমি কফি হাউজে চলে গেলাম।
বসে আছি। দেখলাম জান্নাত আসছে,,,,, এসে আমার পাশে বসল। আমি তার হাতটা ধরে বললাম,,,
আমিঃ জান্নাত আমি তোর চাওয়া উপহারটা তোকে আজ দিতে চাই,,,,,আমি তোকে ভালোবাসি,,,,,
জান্নাতের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। ওর কাছে একটা ছেলে আসল। জান্নাত ওকে দেখিয়ে বলল,,,,
জান্নাতঃ শাকিব, এই হচ্ছে রিকি, আমার হবু বর,,,, আর রিকি ও হচ্ছে আমার প্রিয় বন্ধু শাকিব।
আমিঃ হ্যালো,,,,
রিকিঃ হ্যালো,,,,,
জান্নাতঃ ঠিক আছে। আজ আমরা উঠি আমাদের বিয়ের কিছু কেনাকাটা করতে হবে।
আমিঃ হুম্ম,,,,,,
আমি আর কিছুই বলতে পারলাম না। আমি ওই নুপুরটা শ্রাবন্তীকেই দিব। তার জন্য শুরু হলো আবার অপেক্ষার প্রহর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now