বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#নিয়তির_মিলন
পর্বঃ ১ম
.
.
বন্ধুরা বলতো নিয়তি
নাকি এমন একটা
জিনিস যা কখনোই
এড়ানো যায় না।কিন্তু
আমি নিয়তি
জিনিসটাকে বিশ্বাস
করতাম না।যদি না
আমার সাথে তার
আবারও মিলন হতো।
হয়তো ভাবছেন আমি
আবেগ থেকে এসব
বলছি।কিন্তু এটা
কোনো আবেগ নয়।এটাই
আমার নিয়তি।যার
সাথে মিলন হয়েছে
অন্য এক নিয়তির।
হয়তো মিলনটা
অপ্রত্যাশিত তবে সে
যে আমার জীবন এক
সময়ে ছিল সেটা
অপ্রত্যাশিত নয়।
.
আমি অভ্র।দেশের
স্বনামধন্য কোনো এক
ভার্সিটি থেকে
গ্র্যাজুয়েশন
কম্পিলিট করা এক
শিক্ষিত বেকার।
আসলে চাকরি নামক
এই সোনার হরিণ
আমাদের মতো
মধ্যবিত্ত শ্রেনির
মানুষের কপালে নেই।
জীবনের বাস্তবতা যে
কতটা কষ্টের সেটা
এখন ভালোভাবেই
বুঝতে পারছি।আমার
জীবনের গল্পটাও
এখানেই শেষ হয়ে যেত
যদি না এই সময়ে এই
আবির ছেলেটা আমার
জন্য এই টিউশনিটা
যোগাড় না করে দিত।
হয়তো ভাবছেন আবির
কে?আবির হচ্ছে
আমার একমাত্র বন্ধু
যার জন্য আজকেও
আমি এই জীবন
সংগ্রামে টিকে আছি।
সত্যিই ওর মতো বন্ধু
হয় না।
.
-একটা টিউশনি
পেয়েছি করবি?
(আবির)
-করবোনা মানে।
অবশ্যই করব।(অভ্র)
-মিরপুর-১ এ।আমাদের
বাসা থেকে তো বেশ
খানিকটা দূর যেতে
পারবি তো।
-হ্যাঁ পারব।
-বুঝে বলছিস তো?এত
দূরে গিয়ে টিউশনি
করিয়ে আসতে পারবি
তো?
-উপায় নেই।করতেই
হবে।সামনে পূজার
একটা খরচ তারপরে
বোনের
রেজিস্ট্রেশনের টাকা
পাঠাতে হবে।
-এভাবে আর কতদিন!
চাকরি-বাকরির কিছু
একটা খোঁজ পেয়েছিস?
-হা হা চাকরি নামক ঐ
জিনিস টা বোধ হয়
আমাদের কপালে ধরা
দিবে না।
-আচ্ছা তুই তো সেদিন
চাটার্ড ব্যাংকের
ভাইবাতে গেলি সেখানে
কি হলো?
-৩ লাখ টাকা দিলে
চাকরি হবে না হলে
নয়।
-তুই তোর মতো চেষ্টা
কর দেখি আমি কিছু
করতে পারি কি না।
-আচ্ছা তুই যে
টিউশনির কথা বললি
সেটা ছাত্র না
ছাত্রী?
-ছাত্রী।ইন্টার
সেকেন্ড ইয়ারের
ছাত্রী।
-তুই তো জানিস আমি
ছাত্রীদের টিউশনি
করাই না।
-আরে এই টিউশনিটা
করাতে পারলে
মিনিমাম ৯-১০ হাজার
তো পাবিই।আমাদের
কোম্পানির এমডি
স্যারের মেয়ে।আমাকে
বললো তার মেয়ের
টিউশনি করাতে।
কিন্তু সারাদিন
অফিস করার পরে তো
আমার পক্ষে এত
প্যাঁচাল পাড়া সম্ভব
না।তাই তোকে বললাম।
আমার মনে হয় তোর
এই সুযোগটা হাতছাড়া
করা ঠিক হবে না।
-কোনো সমস্যা হবে না
তো।
-আরে বাচ্চা একটা
মেয়ে।ওকে পড়াতে
সমস্যা হবে কিসে।
তাছাড়া তুই তো আমার
থেকে অনেক ভালো
ছাত্র তাই তুই ওকে
অনেক ভালো পড়াতে
পারবি।
-কিন্তু আমাকে কি
ওরা চিনবে?
-তোর ছবি আমি এমডি
স্যারকে দেখিয়েছি
আর তোর পরিচয়ও
বলে দিয়েছি।
-পড়াবো কবে থেকে?
-চাইলে কাল থেকেই
যেতে পারিস।
-আচ্ছা তাহলে কাল
থেকেই শুরু হবে আমার
নতুন টিউশনি।
.
পরেরদিন সন্ধ্যা ৭টায়
চলে গেলাম আবিরের
এমডি স্যারের
বাসাতে।ভেবেছিলাম
হয়তো বাসার কেউই
আমাকে চিনবে না।
কিন্তু আমার ধারনা
ভুল ছিল।এমডি স্যার
আমাকে ঠিকই
চিনেছে।
.
-তোমার নামই তো
অভ্র?
-জ্বী আমিই অভ্র।
-তোমার বিষয়ে আবির
আমাকে সব বলেছে।
আচ্ছা তুমি নাকি
অনেক ভালো ছাত্র
তাহলে তুমি এখনো
চাকরী না খুঁজে
টিউশনি করাও কেনো?
-আসলে আঙ্কেল
হয়তো সবকিছু খুঁজলে
পাওয়া যায় না।এজন্য
হয়তো চাকরিটা
পাচ্ছি না।
-আচ্ছা শোনো আমার
মেয়ে ইংরেজিতে খুব
কাঁচা ওকে একটু
ভালোভাবে পড়িও।
-জ্বী আঙ্কেল আমি
আমার সব্বোর্চ চেষ্টা
করব।
-তাহলে পড়ানো শুরু
করে দাও।তোমার
ছাত্রী উপরের রুমে
আছে।
-জ্বী আঙ্কেল তাহলে
আমি এখন পড়াতে যায়।
.
অতঃপর অভ্র পড়াতে
যায় তার নতুন
ছাত্রীর।অভ্র
ভেবেছিল ছাত্রী
হয়তে নম্র ভদ্র হবে।
কিন্তু তার ধারনা
ছিল ভুল।তার নতুন
ছাত্রী ছিল সেই
লেভেলের দুষ্টু।বাংলা
ভাষায় যাকে বলে
ফাজিলের হাড্ডি।
কিছু না বলেই অভ্র
পড়ানোর রুমে ঢুকে
চেয়ারে বসে পড়ে।
.
-কি ব্যাপার বলা নেই
কওয়া নেই কোত্থেকে
উড়ে এসে জুড়ে
বসলেন?(ছাত্রী)
-আমি অভ্র।(অভ্র)
-অভ্র কে?
-যাকে আপনার
পড়ানোর দায়িত্ব
দেওয়া হয়েছে।
-ও বাবা বলেছিলো
আজকে নাকি আমার
নতুন টিচার আসবে।
তাহলে আপনিই সে।
-জ্বী আমিই আপনার
নতুন টিচার।
-আচ্ছা বলুন তো
আপনি আমার টিচার
নাকি আমি আপনার
টিচার?
-আমি আপনার টিচার।
-তাহলে আপনি করে
বলছেন কেনো?
টিচাররা কি কখনো
স্টুডেন্ট দের আপনি
করে বলে?
-তাহলে কিভাবে বলে?
-তুমি করে বলে।
-ও আচ্ছা।তোমার
ইংলিশ বইটা দাও
দেখি।
-স্যার আপনি এত
ক্ষ্যাত মার্কা কেনো?
-ক্ষ্যাত মার্কা মানে!
-প্রথম দিনেই এসে
পরিচয় না করেই
পড়ানো শুরু করে
দিয়েছেন।
-আমি কি তোমার সাথে
পার্কে ঘুরতে এসেছি
যে তোমার পরিচয়
আমাকে জানতে হবে।
-যেতে চান স্যার?
-হোয়েট!
-না মানে পাশেই একটা
শিশু পার্ক আছে।
চাইলে যেতে পারেন।
-এসব বিষয় পরে
আলোচনা হবে এখন
ইংলিশ বই দাও।
-আচ্ছা স্যার আপনার
পরিবারে কে কে আছে?
-মা বাবা আর বোন।
-আমার পরিবারে বাবা
আর বড় আপু আছে।
আচ্ছা স্যার আপনি
আমার নাম জানেন!
-নাতো!তোমার নাম কি?
-আমার নাম মিলা।
-সুন্দর নাম।
-আমার বড় আপুর সাথে
নাম মিলিয়ে রাখা।
সুন্দরতো হতেই হবে।
-তাই নাকি।
-হুম আমার বড় আপুর
নাম দোলা আর আমার
নাম মিলা।
.
দোলা নামটা শুনে
অভ্রের হৃদয়ে ঠান্ডা
বাতাসের একটু দোলা
দিয়ে গেল।যেই নামটা
থেকে অভ্র পালিয়ে
বেড়াচ্ছে সেই নামটা
শুনে অভ্র একটু
বিস্মিত হলো।
.
-স্যার কি ভাবছেন?
-কই কিছু না।আচ্ছা
তোমার আপুর নাম কি
যেন বললে?
-দোলা।
-তোমার আপু তোমাদের
সাথে থাকে না?
-আপুতো স্কলারশিপ
নিয়ে বিদেশে পড়তে
গেছে।এবারই আপুর
পড়া শেষ হয়ে যাবে
তারপর দেশে ফিরবে।
-তোমাকেও তোমার
আপুর মতো বিদেশে
পড়ার সুযোগ পেতে হবে।
-আমার তো পড়ালেখা
করার ইচ্ছা নেই।
-কি ইচ্ছা তোমার
-নায়িকা হওয়ার।
সালমান খানের সাথে
সিনেমা করার!
-এসব চিন্তা বাদ দিয়ে
পড়ার প্রতি মন দাও।
ভালোভাবে পড়ালেখা
করলে সালমান খানই
তোমার কাছে আসবে।
.
চলবে.....
.
লেখাঃ #অভ্র_অমৃত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now