বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্রিজ

"ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Hasan rabbi (০ পয়েন্ট)

X সন্ধ্যা থেকে ব্রিজে বসে আছি, হালকা শীতল বাতাস বইছে। অজ-পাড়াগাঁয়ে এরকম স্টিলের ব্রিজ সচরাচর দেখা যায়না। ব্রিজটা অনেক পুরোনো, ব্রিটিশ শাসনামলে তৈরি হয়েছিল। মরা জ্যোৎস্নায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের বুকে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রিজটাকে কেমন যেন অপার্থিব মনে হয়। কিছুদিন আগেও গ্রামের উঠতি বয়সী তরুণ থেকে শুরু করে সবাই ব্রিজে আসতো। সন্ধ্যার পর শুরু হতো আড্ডা, চলতো মধ্যরাত পর্যন্ত। এখন আর কেউ ব্রিজে আসেনা, না আসাটাই স্বাভাবিক। পাঁচটি মোটা পিলারের উপর দাঁড়িয়ে আছে এই ব্রিজ। পিলার আর স্টিলের পাতের মধ্যে একটুখানি ফাঁকা জায়গা। এক সপ্তাহ আগে এই ফাঁকা জায়গাতে একটা লাশ পাওয়া যায়। শুধুই শরীর, মাথাটা ভাসছিল নিচের পানিতে। লাশ দেখে মনে হয়েছিল কেউ প্রবল আক্রোশে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলেছে। তারপর চোখ দুটো তুলে নিয়েছে, গালের দুপাশের মাংস ছিঁড়ে নিয়েছে। লাশটা কেউ চিনতে না পারেনি, বেওয়ারিশ হিসেবে নদীর পাড়েই লাশটাকে কবর দেয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে সন্ধ্যার পরে কেউ ব্রিজে আসেনা। যাদের বাড়ি ব্রিজের ওপারে তারাও সন্ধ্যার পর ব্রিজ পার হতে চায়না। রাতটা কাটিয়ে দেয় পরিচিত কোনো আত্নীয়ের বাড়িতে। ব্রিজে বসে আছি, শীতল বাতাস বইছে। আকাশে গোল থালার মতো চাঁদ, একটু পরপর মেঘ এসে চাঁদটাকে ঢেকে দিচ্ছে। আমি আমার ছেলেবেলার কথা মনে করছি। আমরা ছিলাম দুই ভাই, যমজ। আমাদের মধ্যে সবকিছুতে এত মিল ছিল যে মা পর্যন্ত আমাদের দুজনকে গুলিয়ে ফেলতো। প্রাইমারি স্কুল শেষ করে আমরা ক্লাস সিক্সে ভর্তি হলাম। এর কিছুদিন পর আমাদের স্কুলের এক হিন্দু স্যার মারা যায়। আমার যমজ ভাই আমাকে মড়া পোড়ানো দেখতে যাওয়ার কথা বলে। স্কুল ছুটির পর আমরা দুজন মড়া পোড়ানো দেখতে যায়। শ্মশানটা ছিল ব্রহ্মপুত্রের তীরে, শত বছরের পুরোনো এক বটগাছের নিচে। অন্ধকার হয়ে আসছে, বেশিক্ষণ দেখতে পারিনি। মড়া পোড়ানো দেখে বাড়ি ফেরার পথে বটগাছের শিকড়ে হোচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় আমার ভাই। সে বারবার বলছিল কেউ একজন তাকে ধাক্কা মেরেছে। আমি পাত্তা দেইনি, বাড়ি এসে খেয়েদেয়ে ঘুমিয়েছি। সকালে আমি ঘুম থেকে ঠিকি উঠেছিলাম, কিন্তু আমার ভাই উঠেনি। এর পর থেকে আমি একটানা একটা স্বপ্ন দেখতাম। কোথাও কেউ নেই, শুধু আমি একা। নদীর তীর ধরে দৌড়াচ্ছি, সামনে একটি শ্মশান। আমি শ্মশানে ঢুকতে চাইনা, তারপরেও আমি শ্মশানে ঢুকে যাই। এরপর চিৎকার করে ঘুম থেকে জেগে উঠি। প্রায় প্রতিদিন এই স্বপ্নটা দেখতাম আমি। মা কোনো এক মাওলানার কাছ থেকে তাবিজ এনে দেয়, আরো কি কি জানি করে। এরপর থেকে আস্তে আস্তে স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়। তবে এখনো মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমি দেখতে পাই, ঠিক খাটের কোনায় আমার পায়ের কাছে কেউ একজন কালো আলখাল্লা পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি শব্দ করিনা, চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করি। এখন আমি অনেক কিছুই বুঝি, বুঝতে পারি পরে কি ঘটবে। ঈদের দিন কাকাকে বলেছিলাম গরুর মাথা থেকে মগজটা বের করে মাথাটা আমাকে দিয়ে দিতে। কাকা আমাকে গরুর মাথা দিয়েছিল যদিও চাপাতির আঘাতে গরুর একটা চোখ গলে গেছে। মাথাটা আমি ভাইয়ের কবরের সাথের বাঁশঝাড়ে রেখেছিলাম। আজ সন্ধ্যায় আসার সময় বাঁশঝাড়ের দিকে তাকিয়েছিলাম। গরুর মাথাটা আমার দিকে তাকিয়ে জাবর কাটছে, গলে যাওয়া চোখের জায়গায় নতুন চোখ গজিয়েছে... ব্রিজে বসে আছি, শীতল বাতাস বইছে। এই বাতাসে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়। চাঁদটা মেঘের আড়ালে চলে গেছে, ছোট ছোট ফোটায় বৃষ্টি পড়া শুরু করেছে। রাত বারোটা, গ্রামে রাত বারোটা মানে অনেক রাত। দূরে শ্মশানে আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে, মড়া পোড়ানো হচ্ছে। আমি শ্মশানে যেতে চাইনা কিন্তু কেউ একজন বারবার ফিসফিস করে বলছে শ্মশানে যা, শ্মশানে যাহ... ব্রিজ থেকে নেমে নদীর তীর ধরে হাটছি। দাদী বলেছিল একাত্তরের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীরা গ্রামের মানুষদের মেরে এই নদীর তীরে কবর দিয়েছিল। পুরো এলাকাটা একটা অঘোষিত বধ্যভূমি। আমাদের দেশের অনেক বাড়িই কবরের উপর বানানো হয়েছে। এমনও হতে পারে আপনি যে ঘরে শুয়ে আছেন সেই ঘরের নিচে কারো কবর রয়েছে। আপনার খাটের নিচে কেউ ঘুমিয়ে আছে পরম সুখে... আমি হাটছি। কিছুদিন আগে ব্রিজের নিচে পাওয়া লাশের কবরটা পাড় হওয়ার সাথে সাথে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো। আমি দৌড়াচ্ছি, নদীর তীর ধরে দৌড়াচ্ছি। হঠাৎ কিছু একটাতে হোচট খেয়ে পড়ে গেলাম আমি। সামনে শ্মশান। আমি শ্মশানে ঢুকতে চাচ্ছিনা, কিন্তু বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য আমাকে শ্মশানে ঢুকতেই হবে। শ্মশানে ঢুকলাম, হ্যা মড়া পোড়ানো হচ্ছিল। হুট করে বৃষ্টি নামায় সৎকারের কাজ একটু বাকি রেখেই সবাই চলে গেছে, চিতায় এখনো আগুন জ্বলছে। বৃষ্টির বেগের সাথে সাথে আমার অস্বস্তিও বাড়ছে। আমাকে বের হতে হবে, শ্মশান থেকে বের হতে হবে। বৃষ্টি না থামলে বের হওয়া সম্ভব না। সময় কাটানোর চেষ্টা করছি। পকেটে সিগারেট আছে, সিগারেট খেলে সময় কাটবে। সিগারেট ধরাবো কিন্তু পকেটে লাইটার নেই। চিতায় আগুন জ্বলছে, সিগারেট ধরাতে গিয়ে মনে হলো কিছু একটা নড়ছে। আমি সিগারেটে টান দিলাম, চিরচেনা সিগারেট থেকে পরিচিত গন্ধ আসছেনা। এর বদলে বেলি ফুলের গন্ধ আসছে, তীব্র বেলি ফুলের গন্ধ। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিনা। আমার ঘুম পাচ্ছে, প্রচণ্ড ঘুম। আমি ঘুমাচ্ছি, অশুভ রাত্রি...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now