বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
অসময়ের যাত্রী ২ (শেষ পর্ব)
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আল মামুন (০ পয়েন্ট)
X
আচ্ছা মামু রিদয় কই?
ও তো কি জানো কিনতে গেছে! (রনি)
বলে যায়নি?
না রে (রনি)
ওর এভাবে রিস্ক নিয়ে একা বের হওয়া উচিত হয়নি! আমাদের পিছে ওরা লেগে আছে!
হুম তো এখন কি করা যায়?
তার আগে বল তোদের কি ঝুমের সাথে কথা হয়েছে?
নারে তা তো হয়নি! ওরা বাসায় ছিলো না! আগে ক্যান বলিস নি?
বলার সুযোগ ই পেলাম না তাই আর কি... বেল বাজছে! মনে হয় রিদয় এসে পরেছে!
যা ভেবে ছিলাম! রিদয় ই এসেছে! কিন্তু ওর হাতে সিসি ক্যামেরা!
কিরে সিসি ক্যামেরা দিয়ে কি করবি?
ভুত ধরবো (রিদয়)
উফফ ফাজলামি বাদ দে...
হুম আসলে আমাদের সেফটির জন্যা আর কি আনলাম!
আচ্ছা তুই সেটাপ করার ব্যাবস্থা কর!
আচ্ছা!
রিদয় ঘটনা শুনেছিস? ওদের নাকি কাল ঝুমের সাথে কথা হয়নি!
মানে কী?
হ্যা! আমাদের অতি দ্রুত মুভ করতে হবে! হুম চল সবাই!
সবাই ঝুমের বাসায় বসে আছি!
ঝুমের আম্মুকে সব খুলে বললাম! কিন্তু সে কথা হেসে উড়িয়ে দিলো! ঝুমের মধ্যে নাকি কোন ধরনের পরিবর্ত্ন ই নেই!
আচ্ছা আন্টি ঝুম এখন কোথায়? (তাহমিদ)
বাবা ও তো কলেজে গেছে!
কোন কলেজ? (রিদয়)
কলেজের নাম শুনেই আমরা আর বিন্দু মাত্র অপেক্ষা না করেই রওনা দিলাম! আজ সবাই বাইক নিয়ে বের হয়েছি! কারন হাতে সময় নেই! ঝুম কে বাচাতেই হবে আমাদের... কলেজে যেয়ে খোজ নিয়ে জানলাম আজ নাকি ঝুম কে কেউ কলেজেই দেখে নি! তাহলে মেয়েটা গেলো কোথায়?
রিদয়?
বল অর্নব!!
তোরা এক্ষুনি ৪৭/২ এ রওনা দে... তুই যাবি না?
আমি যাবো,তবে বাসায় যেতে হবে আমার কাজ আছে।আমি কাজ সেরেই আসছি! আচ্ছা যা তাহলে!
ওরা ৩ জন রওনা দিলো!
বাসায় ফিরে কাজ সেরে আবারো ৪৭/২ এর দিকে বাইক ছুটালাম! ওখানে যেয়েই রনি কে কল দিলাম!
কই তোরা? (আমি)
আমরা ২য় তলায় খুজছি!
আচ্ছা আমি আসছি দাড়া!
দোতালায় উঠেই সবাইকে পেয়ে গেলাম!
ওই রিদয়!
ঝুমের খোজ পেয়েছিস?
না রে! এখনো অন্য রুম গুলো বাকি আছে খুজা!
তাহলে শুরু করা যাক! প্রত্যেক টা রুম সার্চ করবো! আমরা!
প্রত্যেক টা সার্চ করার দরাকার নেই! কোন রুমে আছে আমি এখন বুঝতে পারছি!
কোন রুমে?
সেই খালি রুমটায়!
আমরা খালি রুমে যাচ্ছি! কিন্তু বেশ ভারি নিশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে!
রিদয় রনি আর তাহমিদ আগে আমি পিছে দাড়িয়ে আছি! রুমের সামনে যেতেই দেখলাম ঠিক রুমের মাঝে একটা মেয়ে বসে আছে! মেয়েটা ঝুম কিনা তা বুঝা যাচ্ছে না! তবে ওর পিছেই ছায়ার মত কে যানো দাঁড়িয়ে আছে!! সবাই রনি আর তাহমিদ রুমের ভিতর ঢুকতে গেলে রিদয় ওদের বাধা দেয়!
ঠিক তখনি পকেট থেকে সর্ট গান টা বের করে সেই অবয়ব টাকে লক্ষ করে গুলি করলাম! কিন্তু আস্তে করে জানো সেই অবয়বটা উধাও হইয়ে গেলো..
আমরা সবাই স্তব্দ! মেয়েটার পিছে যে ছিলো সে গেলো টা কোথায়? পালিয়ে যাওয়ার তো কোন উপায় ই নেই! তাহলে কি সত্যি ওটা অন্য কিছু ছিলো? দ্বিতীয় জগতের কিছু?ঃ এর ই মধ্যে রিদয়,রনি আর তাহমিদ মেয়েটার কাছে গিয়েছে! কিন্তু রদয় মেয়েটার কাছে যেতে দিচ্ছে না! নিজের পকেট থেকে কি জানো একটা বের করে মেয়েটার হাতে চেপে ধরলো সাথে সাথে মেয়েটা চিৎকার করে উঠলো! আমি এবার মেয়েটার পাশে যেয়ে দাড়ালাম! ফ্ল্যাশ অন করে মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম এটাই ঝুম!
আত্মা টা পারে নি ওর কোন ক্ষতি করতে (রিদয়)
আত্মা? (তাহমিদ)
মানে কি!!!! (রনি)
আমরা ঠিক সময়ে এসে গেছি! নাহলে ঝুম কে মেরেই ফেলতো! (রিদয়)
তুই কি এখন আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস যে একটা আত্মা দাঁড়িয়ে ছিলো? (আমি)
রিদয় আমার দিকে এমন ভাবে তাকালো যার ভাষা বুঝতে আর আমার সমস্যা হলো না!
আচ্ছা বাদ দে তোরা আমদের এখান থেকে এখন ই বের হতে হবে (রনি)
ঝুম? (আমি)
ঝুম তুমি কথা শুনতে পারছো?
হটাৎ করেই ঝুম দাঁড়িয়ে রিদয়ের হাত ধরে কান্না শুরু করে।
ভাইয়া আমাকে বাচান,নাহলে আমাকে ও মেরে ফেলবে!
তোমার কিচ্ছু হবে না ঝুম! আমরা আছি তো! (রিদয়)
কিন্তু ঝুম এর কান্না আর ভয় কোনটাই কমাতে পারলাম না আমরা! ভয়ে ঝুম সেন্সলেস হয়ে গেছে!
আমরা ঝুম কে ৪৭/২ থেকে বের করে আনলাম,ইতিমধ্যে তাহমিদ হাসপাতালে কল দিয়েছে! এম্বুলেন্স কিছুক্ষনের মধ্যেই এসে পরলো! ঝুমের সাথে তাহমিদ কে পাঠিয়ে দিলাম হাসপাতালে!
সবাই বেশ ক্লান্ত ছিলাম! কোন মতে লাঞ্চ করেই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে ছুটলাম আমি রনি আর রিদয়!
ঝুমের জ্ঞান ফিরেছে! কেবিনে দেওয়া হয়েছে ওকে! কেবিনে যেতেই দেখলাম ঝুমের বাবা,আম্মু রনি আর ASP আদিত্ত রায় দাঁড়িয়ে আছে!
আমাকে দেখে ASP আদিত্ত রায় ডাকলো অর্নব?
জ্বি বলুন?
ক্রিমিনাল কে কি আপনি দেখেছেন?
দেখেছি,কিন্তু অন্ধকার থাকায় পরিষ্কার দেখতে পাইনি!
হুম খুব বাচা বাচিয়েছেন আপনারা সময় মতো না গেলে হয়তো ঝুম কে আর জীবিত পাওয়া যেতো না! থ্যাঙ্কস!
......(আমি)
আচ্ছা ক্রিমিনালের ব্যাপারে কিছু জানা গেছে?
না তেমন কিছু না তবে একটা ব্যাগ পাওয়া গেছে কোকেন আর নাইন এমএম সহ! ওগুলো থানায় হ্যান্ড ওভার করে দিয়েন প্লিজ!
হুম...
আচ্ছা খুনি ক্যান এমন করতেছে কিছু বুঝতে পারছেন আপনি?
নাহ সিওর না!
ওদের বড় কো টার্গেট আছে নাকি?
হতে পারে,তবে এই ছেলে মেয়ে গুলোর ক্ষতি অন্যকেউ করেছে!!
মানে?
নাহ কিছু না...
আর কিছু না বলে আমরা চলে আসছিলাম তখনি ঝুমের বাবা আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না ধুরু করে দিলেন।
বাবা তোমারা না থাকলে আজ আমার মেয়েটা আর থাকতো না!
আংকেল নিজেকে কন্ট্রল করুন! আর ঝুম কে কোণ ভাবেই একা রাখবেন না!ঝমের ক্ষতি কোন মানুষ করেনি!
তাহলে? মানে কি? কি বলছো!!!!
আমরা ওখান থেকে চলে আসলাম সবাই।বাসায় বসে ব্লাক কফি খাচ্ছি সবাই!
দোস্ত? (রিদয়)
হুম?
এখানে এখন দুটা কেইস! একটা ক্রাইম আর একটা...
তুই আমাকে বিশ্বাস করতে বলছিস যে ভুত এসব করেছে?
আর বিশ্বাস না করেও উপায় নেই কারন সত্যি ই তো ওই রুম টায় মানুষ ছিলো না! কি এমন থাকতে পারে বল তো! ক্যান এত রহস্য! কি চায় ক্রিমিনাল গুলো?
আচ্ছা ব্যাগ টা ভালো মতো দেখেছিস?
হ্যা দেখেছি! (তাহমিদ)
রনি তুই ব্যাগ টা আবার ভালো মতো সার্চ কর!
রনি ব্যাগ সার্চ করতে পাশের রুমে গেলো।আম্রা ৩ জন থ হইয়ে আছি! কারন বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে যে এখনো আত্মা আছে,ভুতের অস্তিত্ব আছে।
আমি একটু বাইরে যাচ্ছি! তোরা থাক! (রিদয়)
কই যাবি তুই?
কাজ আছে ...
আচ্ছা যা...
এর মধ্যেই রনি আসলো!
দোস্ত দেখ ব্যাগে কি পেয়েছি (রনি)
রিদয় থমকে দাড়ালো!
কি পেয়েছিস?
পেপার টা পড়!
পেপার টা পরে দেখলাম কোকেন ডিলিং এর! তারমানে আরো কোথাও কোকেন রাখা হয়েছে! ডিলের জায়গার নাম ও দেওয়া! ডীলের পেপার অনুযায়ী কাল ৭ টায় এক ট্রাকে করে কোকেন ডিল হবে!
তাহমিদ তুই আদিত্ত রয় কে কল দিয়ে এখনি বল প্রত্যেক টা রোড এ চেইক পোষ্ট বসাতে!
ঠিকাছে!(তাহমিদ)
রিদয় বাইরে থেকে প্রায় ঘন্টাখানেক পরে আসলো! হাতে ব্যাগে কি কি জানো! সোজা ও ব্যাগ টা আলমারিতে রেখে তালা মেরে দিলো আমরা ভাবলাম ওর পারসোনাল কিছু তাই আর কিছু জিজ্ঞাস করলাম না!!
খাওয়া শেষে রিদয় আমাদের সবাই কে ডাকছে!
ডাকছিস ক্যান? (রনি)
তোদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখাবো!
ধুর ঘুমামু! (আমি)
আরে দ্যাখ...
রিদয় প্লে করলো......
আধার আলো...দড়জার ফ্রন্ট সাইড... কিছুই হচ্ছে না ঠীক ১.২৭ সেকেন্ডে কি জানো গেটের ভিতর থেকে ঢুকে গেলো!
রিদয় থামা ১.২৭ এ থামা!
আমরা সবাই থ হয়ে আছি! নিজের চোখে দেখলাম যে অন্য জগতের কিছু্,দড়জা ভেদ করে ঢুকলো!বিশ্বাস হচ্ছে না কিচ্ছু ভয়ে আমরা ঘেমে গেছি!
এর ই মধ্যে আদিত্ত রায় এর কল আসলো হ্যালো?
হু অর্নব,একটু কথা ছিলো!
জ্বি বলুন ভাই!
আমরা চেইক পোষ্ট বসিয়েছি! আমার লোক তোমার বাসার নিচে আছে ডিলিং পেপার এর একটা কপি ওর কাছে দিয়ে দাও!
আচ্ছা ঠিকাছে!
তাহমিদ?
হু?
এই পেপার নিয়ে যা,দেখ আদিত্ত রায় এর লোক দাঁড়িয়ে আছে নিচে,তুই অরিজিনাল কপি টা রেখে দিবি আর একটা কপি তাকে দিয়ে দিস!
মানে...আমাকেই যেতে হবে? (তাহমিদ) এত্ত ভয় পেলে হবে না! যা এখন!
তাহমিদ চলে গেলো!
আমরা সবাই ভাবছি কী করবো! যা দেখলাম ফুটেজ এ তা এখগ্নো বিশ্বাস করতে পারছি না!
দোস্ত?(রিদয়)
হুম...
আমাদের ঝুম কে বাচাতে হবে! কারন যেই এ কাজ করুক না ক্যানো ঝুম কে আবারো এট্যাক করবে...
আচ্ছা ঠিকাছে দেখা যাবে...
আমরা সবাই ডিনার করছিলাম এর মধ্যেই আমাদের গেইট ই প্রচুর জোড়ে বারি পরলো! মনে হচ্ছে গেট ভেঙ্গে ফেলবে!
সবাই সবার দিকে তাকিয়ে আছি... কে হতে পারে? ক্রিমিনালদের মধ্যে কেউ?
সবাই সতর্ক হয়ে গেলাম,দরজা রীতিমতো ভাঙ্গার মত অবস্থা। সর্ট গান টা বের করে দরজার দিকে গেলাম পিছে রনি আর রদয়! আমি পিছে সরে গেলাম আর রিদয় গেট খুলে দিলো! দেখলাম তাহমিদ দাঁড়িয়ে আছে! আমরা পুরো বোকাবনে গেলাম! . তাহমিদ ঠিক জেনো রবোটের মত ঘরে ঢুকলো! রনি রেগে চিৎকার করে বললো কিরে তাহমিদ সবাই কে ভয় দেখালি ক্যান? এটা কী মজা করার সময়?
তাহমিদ চুপ করে আছে! চোখে পলক না ফেলে তাকিয়ে আছে! আমরা আর কিছু বললাম না! তাহমিদ কে খাবারের টেবিলে ডাকলাম! আমাদের খাওয়া প্রায় শেষ দিকে! কিন্তু তাহমিদের খাওয়া দেখে আমরা অবাক! আমাদের ৪ জনের খাবার পরিমান ও একাই খেয়ে ফেলেছে! ভাবলাম হয়তো ওর ক্ষুদা পেয়েছে! শুধু রিদয় কে দেখলাম ছটফট করছে!
গভীর ঘুমে ছিলাম! বেশ ক্লান্ত থাকায় তারাতারি ঘুমিয়ে পরেছিলাম আমরা! কিন্তু রিদয় এর ধাক্কায় ঘুম ভেঙ্গে গেছে! এক কোনায় তাহমিদ ছুড়ি হাতে দাড়িয়ে আছে! চোখ টকটকে লাল! রিদয় আমার হাতে একটা সুতার মতো পড়িয়ে দিলো! তাহমিদ আমাদের দিকে আসতে নিয়েও অন্যকিছুর শক্তির কারনে ছিটকে যাচ্ছে!
রিদয় কালো টাইপের একটা বোতল থেকে পানি বের করে তাহমিদের দিকে ছুড়ে দিতেই তাহমিদ চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালো!
আমার আর বুঝতে বাকি নেই কি হয়েছে! এর মধ্যে রনিও এসে পরেছে পরিস্থিতি সামলানোর জন্য আমারা তাহমিদ কে বেডে শুইয়ে দিলাম!
ওই অশরীরি তাহমিদ কে আছড় করেছিলো! (রিদয়)
হুম বুঝতে পারছি(রনি)
...... (আমি)
এখন তাহমিদের কি আরো ক্ষতি হবে? (রনি)
না আর কিছু হবে না! ওর সাথে আমি পবিত্র সুতা বেধে দিয়েছি!
বাকি রাত টা আমরা জেগেই কাটালাম! ৬ টার দিকে তাহমিদের ঘুম ভাংলো ! তখন আমরা কফি খাচ্ছি! তাহমিদ আমাদের কাছে এসে বসলো!
দোস্ত শরীর ব্যাথা করতেছে অনেক!(তাহমিদ)
করবেই তী রাতে তো গিয়েছিলো অর্নব কে খুন করতে!যেই ধস্তা ধস্তি হয়েছে রদয়ের সাথে! (রনি)
মানে কী? ( তাহমিদ)
রিদয় সব খুলে বললো তাহমিদ কে!
তাহমিদের নাকি শরীর ভালো লাগছে না! ব্যাপার টা ঠিক ও মেনেও নিতে পারছে না! হঠাৎ তাহমিদ জ্ঞান হারালো! শরীরে হাত দিয়ে দেখলাম বেশ জ্বর! রনি হাসপাতালে কল দেওয়ার সাথে সাথে এম্বুলেন্স আসলো!
তাহমিদ কে হাসপাতালে ভর্তি করে আমরা চলে গেলাম স্পটে! যেখানে পাচার হবে কোকেন সহ অস্ত্র!
আমি রনি রদয়! সাথে ASP আদিত্ত রায়! আর তার ফোর্স! আমি আর রনি রিদয় দূরে গাড়ী নিয়ে বসে আছি! ৩ টা রাস্তা ৩ টা তেই চেকপোষ্ট!
৭ টা বেজে গেছে আদিত্ত রায় তার ফোর্স নিয়ে রেডি!
লাল কালারের এক মালবাহী ট্রাক এদিকে আসছে! সাথে সাথে ফায়ার করলো! ট্রাক ড্রাইভার ভয়ে ট্রাক থামিয়ে নেমে গেলো! এর ট্রাক ড্রাইভারের হেল্পারের গায়ে গুলে লেগেছে বেশ হইচই! এরমধ্যে ট্রাক সার্চ করা শুরু হলো! পাশ থেকেই একটা মাইক্রোবাস ক্রস করলো! ট্রাক নিয়ে হইচইয়ের জন্য কেউ মাইক্রোবাস কে আটকায়নি!
হঠাৎ আমি গাড়ী ফুল স্পিডে ছুটালাম! ওরা আমাদের থেকেও ভালো চাল দিয়েছে! কিন্তু আমাদের থেকে বেশী বুদ্ধি খাটাতে পারবে না! খালি ট্রাক পাঠিয়ে আমাদের বোকা বানাতে চেয়েছিলো! মাইক্রোবাসেই আছে কোকেন আর অস্ত্র! পিছু করছিলাম আমি আর রনি! বার বার ওভার টেক করছিলাম! কিন্তু কাজ হচ্ছে না! উল্টো দিক থেকে রদয় গাড়ি নিয়ে পাচারকারীর গাড়ীর পথ আটকালো! রিদয় গাড়ীতেই বসে আছে আমি আর রনি পিছনের গাড়িতে মাঝে সেই পাচারকারীদের গাড়ী! হঠাৎ ওরা গুলি ছুড়া শুরু করলো! ৬ জন নেমে আমাদের দিকে অবিরত গুলি ছুড়ছে! আমি নেমে সর্ট গান বের করে ফায়াড় করলাম! একজনের হাত থেকে গুলি পড়ে গেলো! এর মধ্যেই আদিত্ত রায় আর আর তার টিম এসে গেছে!
আদিত্ত রায় আর তার ফোর্স সবাই কে এরেস্ট করলো! রিদয় ঠিক সময় মত না আসলে কি হতো সেটা জানতাম না! আমরা সবাই বের হলাম! রিদয় আমি আর রনি দাঁড়িয়ে আছি!
আপনারা আমার সাথে একটু থানায় যাবে প্লিজ! (আদিত্ত রয়)
জ্বি আপনি যান! আমাদের একটু কাজ আছে! (আমি)
আমরা বাসায় ফিরলাম! ভাবছি আজ প্রথম আমরা কোন কেস সল্ভ করার পথে! কিন্তু ওরা তো খুনের সাথে জড়িত না! খুনের সাথে জড়িত অন্যজগতের কিছু!
রনি?
হুম বল (রনি)
আমরা কীভবে তাদের বিশ্বাস করাবো যে খুনের সাথে অন্যকিছু জড়িত?
ওটা আমার উপর ছেড়ে দে অর্নব! চল থানায় যেতে হবে! (রিদয়)
হুম চল(আমি)
ব্যাগ টা নিয়ে নে (রনি)
ওহ হ্যা দাড়া নিয়ে আসি!(আমি)
আমরা এখন থানায়! সামনে আদিত্ত রায় বসে আছে!
আচ্ছা এখন এই ব্যাগ টা রাখুন! কোকেন আর কিছু নাইন এমএম আছে! (আমি)
আপনারা না থাকলে আজ আমাদের কি যে হতো... (আদিত্ত রায়)
...... (আমি)
আপনারা খুনিদের যে শুধু খুজে বের করেছেন তা না সাথে বড় একটা চক্র কেও ধরিয়ে দিয়েছেন! (আদিত্ত রায়)
খুনের সাথে ওরা জড়িত না! ( আমি)
মানে? তাহলে কারা জড়িত? (আদিত্ত রায়)
আসলে ব্যাপার টা অনেক কমপ্লিকেটেড! (আমি)
তাহলে ওরা খুনি না?
না,শুনুন আহসানের বাসায় আমরা গিয়েছিলাম! ওর বাবা আমাদের সাথে শুধু শুধুই খারাপ ব্যাবহার করেছে! আসলে ঘটনা ছিলো ওরা ৪৭/২ এ গিয়েছিলো ঠিক ই! কিন্তু ওখানে ওই বড় গ্যাং বাড়িটা বেছে নেয়!কারন সবাই জানে ওটা ভুতের বাড়ী! ওদের ডিলিং এর টাইমে ছেলে মেয়ে গুলো ওখানে ক্যাম্প করে! আর ওদের দেখে একমাত্র আহনাফ! তাই আহনাফ কে ওরা ওনেক টাকা দেয়! আহনাফ ও চুপ হয়ে যায় টাকা পেয়ে! ওরা ওখান থেকে বাড়ি ফিরার পর আহনাফ তার বাবাকে সব কিছু জানায়! টাকার অংক টা একটু বেশীই বড় তাই ওর বাবাও চুপ করে যায়! আমরা যখন ওদের বাসায় যাই ওর বাবা ভয় পেয়ে যায়!
এতটুকু বলে আমি থামলাম!
ওর বাবা ভয় ক্যান পেলো?? (আদিত্ত) কারন খুনের সাথে ওই গ্যাং জড়িত ছিলো না! কিন্তু গ্যাং মেম্বারস রা যখন খুন না করেও দেখলো ফেসে যাচ্ছে তখন আহনাফের বাবা কে ভয় দেখায় ওরা! হুমকি দেয়! তাই ওর বাবা আমদের সাতেহ এমন করেছিলো! (আমি)
কিন্তু আপনারা এগুলো জানলেন কীভাবে? (আদিত্ত)
তাহমিদ হাসপাতালে থাকলেও ও বসে থাকে নি! বাকি কাজ টা ও ই সেরেছে! তাহমিদ ও আসছে! এখানে! কিছুক্ষনের মধ্যে এসে পরবে!
কিন্তু খুন কারা করলো?(আদিত্ত)
রিদয় একটা পেন ড্রাইভ আদিত্ত রায়ের কাছে দিলো!
আপনি ভিডিও ফুটেজ গুলো দেখবেন আর আপনাকে কল দিলে সাথে এসে পরবেন প্লিজ! আমরা এখন উঠি ঝুম মেয়ে টাকে বাচাতে হবে!
আমরা ওখান থেকে চলে আসলাম!
যেভাবেই হোক ঝুম কে বাচাতে হবে! আমরা ঝুমের বাসায় গেলাম! রিদয় ক্যান আমাদের ওদের বাসায় নিয়ে আসলো এখনো জানি না!
এখানে কি করবি তুই? (আমি)
প্লানচেট (রিদয়)
কীহ পাগল তুই? (আমি)
ঝুমকে বাচাতে হলে ওই আত্মা কে ডাকতে হবে,কী চায় সেটা জানতে হবে! (রিদয়)
কিন্তু প্লানচেট কীভাবে কি করতে হয় আমরা কিছুই জানি না! (রনি)
তোদের জানা লাগবে না, দ্যা গ্রেট প্যারানরমাল রিসার্চার আসাদুর রহমান শিপন ওরফে প্রেতাত্তা কে আমি আসতে বলেছি! কিছুক্ষন বস ঝুমের মা কে খুলে বলতে হবে আগে সব কিছু! আর আদিত্ত রায় কে কল করে আসতে বল!
শিপন ওরফে প্রেতাত্তা এসে পরেছে! ঝুমের মাকের বুঝানো হয়েছে সব!আদিত্ত রায় আমার সাথে দাড়িয়ে আছে!
প্রেতাত্তা রিদয় আর তাদের দুজন ফ্রেন্ড প্ল্যানচেট এর আসরে বসে গেছে! আমাদের নিষেধ করেছে যা কিছুই হয়ে যাক আমরা যাতে আতংকিত না হই!
কি সব বিরবির করছে প্রেতাত্তা! তার কিছুক্ষন পরেই রিদয় কেমন কেপে উঠলো! ঘরের জানালা গুলো জানো ভাঙ্গার অবস্থা! রিদয়ের উপর সেই আত্মা ভর করেছে! শিপন>ক্যান তুমি সবাই কে খুন করলা? কাউকে ছারবো না আমি,ঝুমকেও মেরে ফেলবো! সাথে তোদের কেও!~!
শিপন>কী ভুল করেছে ওরা?
ওরা আমার ঘরে ঢুকে আমার সন্তান দের কবরে আগুন জালিয়েছে! আমি ছারবো না কাউকে!
শিপন>ওরা না বুঝে এটা করেছে! তুমিও তো কত গুলো মায়ের কোল খালি করেছো! ছেড়ে দেও ঝুম কে!
না আমি ছাড়বো না!
শিপন>অর্নব তুমি এই কালো বোতল থেকে পানি বের করে রিদয়ের শরীরে ছুড়ে দেও! আমি কোন মতে পানি রিদয়ের শরীরে পানি ছিটালাম সাথে সাথে প্রচন্ড চিৎকার করে উঠলো!
আমাকে ছেরে দে তোরা! আমি চলে যাবো! শিপন>তুই যদি ঝুমের কিছু করার চেষ্টা করিস তাহলে তোকে সারাজীবনের জন্য বন্ধি করে দেব!
হঠাৎ রিদয়ের মুখ থেকে ছলকে রক্ত পরলো! রুমে নিরাবতা বিরাজ করছে! শিপন ওরফে প্রেতাত্তা বললো এখন নাকি আর ভয় নেই! ঝুমকেও এখন একদম নরমাল লাগছে!
প্রেতাত্তার সাথে আমরা সবাই পরিচিত হলাম! আমাদের সাথে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করলাম! প্রেতাত্তা ভাই ও না করলো না!
তার আগে আমরা আদিত্ত রায়ের সাথে গেলাম থানায়! সাংবাদিকদের সা্থেকথা বলার জন্য!
ভোর বেলা আমরা সবাই কফি খাচ্ছি! আর প্রেতাত্তা ভাইয়ের ঘটনা শুনছি! রনি হঠাৎ চিৎকরে করলো!
কিরে কি হয়েছে!? (রিদয়)
খবরের কাগজ আমাদের দিকে বাড়িয়ে দিলো রনি! প্রথম পেইজে বড় হেডলাইন "৫ খুনের রহস্যের সমাধান করলো গোয়েন্দারা" সাথে আমার,রিদয়,রনি আর তাহমিদের ছবি!
আমরা সবাই বেশ খুশি ছিলাম!তবে আরো খুশি হলাম যখন নিউজ দেখলাম! বলা হয়েছে সরকার থেকে এই খুনের রহস্যের সমাধানের জন্য আমাদের সম্মাননা দেওয়া হবে!
সমাপ্ত
Jubayer Ahmed Al Mamun.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now