বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রতিদান!!!!

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তাওহীদ-(আসিফ তৌহীদ) (০ পয়েন্ট)

X গত দু'মাস আগে পার্বতীপুর রেলস্টেশন এ গিয়েছিলাম।মূলত সৈয়দপুর রেল কারখানা পরিভ্রমণ করে সেখানে যাই আমার বড়আব্বুর সাথে।বড়আব্বু ঐ রেল বিভাগে কী যেনো ইঞ্জিনিয়ার!!!!তাই তার কোনো কাজে গিয়ে আমাকে অফিসে রেখে যায়।বসে থাকতে ভালো লাগছিলো না তাই বাইরে বের হলাম।স্টেশন এর এক জায়গায় বসে আছি আর বাদাম চিবোচ্ছি।আমার থেকে কিছুটা দূরে বসে আছে একজন বৃদ্ধ মহিলা ও পুরুষ।লোকটা দেখতে কঙ্কালসার। তবে চামড়া ঝুলে গেছে।আন্দাজ করতে পারলাম হয়ত কোনো সময় সুস্বাস্থের অধিকারী ছিলো। মহিলাটাও কেমন রোগা রোগা।তাদের পরনে যে কাপড় তা ছেঁড়া না তবে ময়লা। কিন্তু তারা কত শালীন ভাবে একে অপরের সাথে কথা বলছে,হাসাহাসি করছে।আমি হতবাক। বড়আব্বু কিছুক্ষণ পর এসে আমাকে ডাকল!প্রথমবারে হয়ত সারা দেইনি।তাই-- >তোকে ডাকছি শুনিস না? >না,এমনি।ওনাদের দেখছিলাম তো। >চল যেতে যেতে ওদের কথা বলছি।(বাসায় যাওয়ার কথা বলছে) >দ্বাড়াও কিছু টাকা দিয়ে আসি। >টাকা নিবে না। >কেনো??(আমি অবাক। যারা স্টেশনে থাকে এভাবে তারা সাধারণত ভিক্ষুক। তবে টাকা নিবে না কেনো) >টাকা নিবে না,বললাম তো!!।চল ট্রেন এসে পরেছে। ট্রেন এ উঠলাম। >বড়আব্বু বলছে----ওনার বাড়ি দক্ষিণ বঙের ঐদিক।জমি ছিলো লোকের কয়েক বিঘা।নিজের জমিতেই চাষাবাদ করত। >ও....এখানে কি করে এলো।আর এমন অবস্থা কেনো? >হ্যাঁ,ওটাই তো দুঃখের বিষয়।ওনার ছেলে ঘোরানোর কথা বলে ট্রেন এ করে ঘোরাচ্ছিল।এই স্টেশনে এসে নেমেছিলো।এখানেই বসিয়ে রেখে চলে যায় তাদের ছেলে। ওনারা অনেক খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পায় না।আজ ১০ দিন থেকে তারা এখানে। >পুলিশকে বলেনি কেউ? >বলেছে,,,,তবে তারা বাড়ি ফিরতে নারাজ। >কেনো? >তাদের বউমা নাকি প্রচুর জ্বালায়। >ছেলে কিছু করে না? >এই তো ছেলের কাজ ছেলে করল।নির্দয়তার পরিচয় দিলো। আমি স্তব্ধ।নিজের কথা ভাবছি।এটা কিভাবে সম্ভব???কিভাবে একজন ছেলে পারে বাবা মাকে এভাবে ফেলে রেখে যেতে।কী এমন বোঝ হয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা?দিনে তিন বেলা খাবারই তো যথেষ্ট ছিলো।সেই ছোট থেকে বড় করার এই প্রতিদান??হাসি পাচ্ছে,তাচ্ছিল্যের হাসি। >আচ্ছা তাদের খাওয়া দাওয়া কীভাবে হয়??তারা তো কারো কাছে টাকাও নেয় না। >"বৃদ্ধ কল্যাণ সমিতি" নামে একটা সমতি আছে ওনারাই দেখশোনা করে।আমাদের রেল কমিটি থেকেও তাদের দেখাশোনার ব্যাবস্থা আছে।কিছুদিন পর হয়ত তাদের একটা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা হবে। >ক্ষণিকের জন্য সস্তি পেলাম।তাদের দেখশোনা করার মত আশ্রমে হয়ত কেউ থাকবে,খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা হবে,বুড়ো বুড়ি বসে হাসাহাসি করে গল্প করবে।কোনোমতে বাকীটা জীবন পার করলেই হলো।পরক্ষনে ভেবে দেখলাম---ছেলে ভুলে যাবে বলে কি বাবা মাও ভুলে যাবে?হয়ত কোনো এক সময় তারা তাদের ছেলের ছোটবেলা নিয়ে গল্প করবে,তাকে পাওয়ার আনন্দ নিয়ে গল্প করবে। মাঝে মাঝে আস্তে আস্তে কাঁদবে, কখনোবা ডুকরে ডুকরে।তবে একজন আরেকজনকে অবশ্যই শান্তনা দিবে।-- বলবে--যে ছেলে বাবা মা কে বের করে দিয়েছে তার জন্য কাঁদবে???পরক্ষনে হয়ত নিজের বলা কথাটা ভুলে গিয়ে নিজেও কাঁদতে শুরু করবে।এ জীবনে কি আর কোনো সুখ আছে।হাহা.....হাসি পায়।।ওই সব জন্তুদের জন্য হাসি পায়।যারা বাবা মা কে চিনতে পেলো না।যারা বাবা মায়ের প্রাপ্য শেষ বয়সের সঙ্গটা ছিনিয়ে নিলো।নাতি নাত্নির সাথে দুষ্টুমি করার অধিকারটা ছিনিয়ে নিলো।হাহা...সত্যিই হাসি পায়।ঘৃণার হাসি। যাক গে,,,,তাদের ভালো থাকাই কাম্য করি।কিছুদিন পর তাদের আশ্রমে গিয়ে একটু আড্ডা মেরে আসা যাবে,একটু বোঝ কমিয়ে আসা যাবে। ------আসিফ তৌহীদ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now