বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"পলকহীন চাওনি"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X অনেকদিন ধরেই দেখছি মেয়েটাকে। মনে হয় কলেজে পড়ে। আমার পাশের বাসাটায় থাকে। মেয়েটা দেখতে প্রায় ফর্শা ই বলা যায়। আর আমি পড়ালেখা শেষ করে বাবার অন্ন ধ্বংস করছি। মেয়েটাকে প্রায়সই লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। যখনি চোখে চোখ পড়ত অন্য দিকে চেয়ে থাকার ভান করতাম। জানি না সে আমার দিকে তাকাতো কিনা!!! কিন্তু পরক্ষনেই যখন তাকাতাম বুঝতাম যে রাগে ফোস ফোস করছে। আমার কাছে ভালোই লাগত। তারমানে আমার দিকেও তাকাতো। আমাদের চোখাচোখি হতো বারান্দা দিয়ে। কি মধুর সে চোখ জোড়া। অনেক মায়া সেই চোখে!!! মনে হয় সারাদিন নাওয়া খাওয়া ভুলে চেয়ে থাকি ওই চোখের পানে। কিছুদিন যাবত চোখ জোড়াকে খুজে পাচ্ছি না। মাকে বললাম ওরা কোথায় গেছে? মায়ের সাথে তাদের পরিবারের আবার খুব ভাব। মা বলল যে ওরা নাকি কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গেছে। আমিতো কথা টা শোনা মাত্রই খুবই ব্যথিত হলাম। আহ!!! কবে যে আসবে ও?? শুধু অপেক্ষা করি। গতকাল একটা চাকরি পেয়েছি। বাবা বলেছে এবার বিয়েটা করে ফেলতে। কিন্তু আমার মন যে কিছুতেই মানছে না তাকে না দেখতে পেয়ে। বাবাকে বললাম আরো কিছুদিন সময় দিতে, নিজেকে ঘুছিয়ে নিতে। হঠাত একদিন আবার দেখা পেলাম সেই মায়াবতীর। আমি ঠায় পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছি। কিন্তু সে কোনো পাত্তাই দিচ্ছে না। আমিও ব্যথিত হয়ে রুমে ফিরে এলাম। তারপর থেকে আর নজর দেই না ওই বারান্দায়। সেই মায়াবতী ঠিক ই থাকে কিন্তু কেনো যানি আর তাকাতে ইচ্ছা করে না। ইদানীং অফিসের চাপ একটু বেশিই। বাসায় ফেরা হয় সন্ধ্যা নাগাদ। শরির ক্লান্ত তাই আর চোখ মেলে চারিপাশ দেখার সুযোগ হয় না। শুক্রবার সকালবেলা। ছুটির দিন। কেনো জানি বারান্দা টা খুব টানছে আমাকে। বারান্দায় চেয়ার টা পেতে বসলাম। মনে মনে ভাবছি অনেকদিন যাবত মায়াবতী টাকে দেখা হয় না। আমাকে অবাক করে দিয়ে সে নিজেই বারান্দায় আসলো। তার পরনে ছিল হলদে শাড়ি, আর খোলা চুল। দেখে চোখ ফেরানো বড়ই দায়। কিন্তু আমি একবার তাকিয়ে আর তাকাতে পারছি না। কেনো জানি না আজ এমন হচ্ছে। আমি বারান্দা থেকে উঠে চলে আসলাম। কিন্তু সেই মায়াবতীর চোখ জোড়া কিছুতেই ভুলতে পারছি না। কিন্তু ভাবলাম যে আমাকেই পাত্তা দেয় না, তাকে মায়ায় জড়িয়ে কি লাভ!! তাই মাথা থেকে চিন্তাটা বাদ দিলাম। প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার আগে প্রতিদিন বারান্দায় যাই। এক মগ কফিতে চুমুক দেয়ার জন্য। অপরপাশের বারান্দায় সেই মেয়েটি থাকেই। এখন আর আগের মতো পলকহীন ভাবে তাকাই না। কেন জানি মনে হতো সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তাকালেই দেখতাম যে সে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। মনে হতো আমার মনের ভুল হয়তো। তাই কফিটা শেষ করেই অফিসে রওনা দি। একদিন হঠাত বিকালে অফিস থেকে ফেরার পথে দেখা হলো তার সাথে। দূর থেকে চোখাচোখি হলো। মনে হলো তার দু চোখে প্রচন্ড রাগ। কাছাকাছি যেতেই চোখ সরিয়ে নিচের দিকে মাথা দিয়ে তাকে ক্রস করলাম। আবার আগের মতো চলছে সব। প্রতিদিন সকালে বারান্দায় যাওয়া। অফিস থেকে ফেরা। তাকে দেখেও না দেখার ভান করা। এই আমার জীবন। হঠাত একদিন বাবা বলল -অনেক সময় তো নিলে। নিজেকে যথেষ্ট ঘুছিয়েছ বটে। এবার না হয় বিয়ে টা করে ফেলো। -আচ্ছা বাবা(আমি) -তোমার কি কোনো পছন্দ আছে? -(আমি খানিক্ষন মায়াবতী টার কথা চিন্তা করলাম। ভাব্লাম যে আমাকে পাত্তা দেয় না তার কথা বলেই বা কি লাভ?) না বাবা। -আচ্ছা আমরা মেয়ে দেখে রেখেছি। আগামী ১৮ তারিখ তোমার বিয়ে। -আচ্ছা বাবা। আমি মনে মনে বলি এবার মায়াবতী টাকে পুরোপুরিভাবে ভুলতে পারবো। কিন্তু তার চোখ জোড়া কিছুতেই ভোলা সম্ভব না। যাক বিয়ের দিন এলো। বিয়ে সম্পুর্ন হলো। বন্ধুরা পাগলের মতো ধরে এনে বাসর ঘরে পুরে দিলো। বাইরে থেকেও ছিটকিনি মেরে দিলো। হঠাত মনে হলো, বিয়ে তো করলাম। বউয়ের মুখখানি তো দেখা হলো না। যাই একটু কথা বলে আসি। যেই না কথা বলতে যাবো, তখনি সে তেড়ে আসল। আরে!!! এ যে আমার মায়াবতী। বউ বলল, -ওই কি মনে করছ? আমাকে ভুলে যাবা? নতুন বউয়ের সাথে আদর সোহাগ করবা? আমি থাকতে তা কক্ষনো হবে না। - আরে!! এটা কেম্নে সম্ভব? আমি কি তোমাকে বিয়ে করছি নাকি? - হ্যা। আমাকেই বিয়ে করছো। আগে তো প্রতিদিন হ্যাবলার মতো চেয়ে থাকতা। এখন আর তাকাও না কেন? (প্রচন্ড রাগে) -না মানে তোমাকে আগে ভাল লাগতো তাই তাকাতাম। এখন....... - এখন কি? এখন আর ভাল্লাগেনা তাই তো? এখন নতুন কাউরে পাইছ তাই না?? সেই জন্যেই আমি সব প্ল্যান করছি। আমিই বাবাকে বলে তোমাকে বিয়ে করছি। - ও এই কাহিনি? আচ্ছা। আগে তো আড় চোখে তাকাতাম। এখন তা ও তাকাবো না। - কি বলছ তুমি?(কান্নাজড়িত গলায়) -না কই কিছু তো বলি নাই। -তুমি জানো? যেদিন থেকে তুমি আর আমার দিকে তাকাও নাই। আমিই তোমার দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু তুমি যখনি হঠাত করে চাইতে তখন অন্যদিকে চোখ সরাতাম আর ভাবতাম, কেনো আর আমার দিকে আগের মতো তাকায় না? কেনো এমন করে? একটু তাকালে কি এমন ক্ষতি হবে? যেদিন হলদে শাড়ি টা পড়েছিলাম, ভেবেছিলাম তুমি সেই প্রথম দিনের মতো হ্যাবলার মতো চেয়ে থাকবা। আর আমি হ্যাবলাটার দিকে জনমভর চেয়ে থাকব। কিন্তু তুমি একবার তাকিয়ে আর তাকালেই না। তখন আমার খুব কাঁদতে ইচ্ছা হচ্ছিল আর খুব রাগ হচ্ছিল। তারপর সেই দিন পথে দেখা হয়েছিল। আমি দূর থেকে তোমাকে রাগী চোখ দেখিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি বুঝলে না। এই রাগের মদ্ধে কতটুকু "তুমি" জড়িয়ে আছো? বুঝার চেষ্টা টকুও করলে না।তাই আমার বুদ্ধিতেই আজ আমাকে বিয়ে করতে হয়েছে তোমাকে। কিন্তু আজ থেকে আমার দিকে না তাকালে কিন্তু খবর আছে। আজ থেকে শুধু আমার দিকেই তাকাবা। ঠিকাছে? (ইমোশনালভাবে) -(আমি ঘুমিয়ে যাওয়ার ভান করে পড়ে রইলাম) -ওই!!!তুমি ঘুমাচ্ছো??(রাগি) বলার সাথে সাথে ঝড় শুরু হলো। আর কোথাও না। সে ই ঝড় হলো ভালবাসার কিল ঘুসির ঝড়। তাও আমার এই বুকে। -তোমার কথা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেছিলাম।(মিথ্যা)। মেয়েরা যে এতো কথা বলতে পারে, তা তোমাকে বিয়ে না করলে জানতেই পারতাম না। হে হে। - তোমাকে আমি...... কথা শেষ করার আগেই চারটি ঠোটের মিলন সম্পুর্ন হয়ে গেছে। -আজ থেকে শুধু আমার এই মায়াবতীর চোখের দিকেই চেয়ে থাকবো। যে দেখা কখনো শেষ হবে না। -সত্যি তো??? - তিন সত্যি। -আমাকে ভালবাসো? - বাসি তো। -এভাবে না। প্রপোজ করতে হবে।(ভাব নিয়া) -ওকে, মায়াবিনি। >>তোর এক কথায় আমি রাখবো হাজার বাজি, তোর ইশারায় আমি মরে যেতেও রাজি। তোর ওই নেশা লাগানো চোখে চেয়ে থাকবো প্রতি বেলায়, তুই কি হাটবি আমার সাথে অনেক ভীড়ের মেলায়? চলবি কি প্রতিক্ষন পাশাপাশি? হবি কি আমার সারজীবনের সুঃখ দুঃখের সাথী?(হাটু গেড়ে) লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now