বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাচ্চা হইতে সাবধান

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Aryan Rohan (০ পয়েন্ট)

X আজ খুব খুশি লাগছে।মাকে পটিয়ে আমার প্রেমিক পুরুষ এর বাসায় ভাড়াটে হিসেবে এসেছি। মা জানতেই পারলোনা এর আসল কারন। এখন বাসার ছাদে যখন -তখন দেখা করতে পারবো বেচারা নিলয়ের সাথে। বলতে বলতেই নিলয়ের কল... আমি: হুম বলো.. নিলয়: কি বিয়ের আগেই শ্বশুর বাড়ি এসে কেমন লাগছে? আমি: শ্বশুর বাড়ি থেকেও বাপ-মায়ের টাকায় ফুটানি করতে যেমন লাগে আরকি। নিলয়: আরে খাল কেটে একবার যেহেতু কুমির এনেছি একটু সবুর করো বাসায় ও আনবো। আমি রেগে বললাম,খাল -বিল বুঝলাম কিন্তু এখানে কুমির টা কে? নিলয়: আহ -হা উপমা বুঝোনা? রাগ করো কেন বাবু? শোন একটা টেকনিক জানাতে কল দিছি। আমি: হু বলো.. নিলয়: আমার বড় বোনের মনে একবার প্রবেশ করতে পারলেই কেল্লা ফতে.. মা আপার উপর কথাই বলেনা। আমি: এখন কি ছেলে সাজতে হবে আমার?আমি কেমনে তোমার আপার মনে ঢুকবো তাও মেয়ে হয়ে? নিলয়: আরে আমার আপা বিকেল ৪টায় ছাদ এ যায় তার ছেলেকে নিয়ে। তুমিও তখন যাবা। বাচ্চাকে পটিয়ে কোলে নিলেই কাজ ফাইনাল. আমি: কোলে নিলেই আপা পটে যাবে? নিলয়: হুর খালি কোলে নিয়া চাইয়া থাকবা কেন? আদর করবা। আপার বাচ্চাকে কেউ আদর করলে সে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। আমি: ওক্কে, একবার ৪টা বাজতে দেও।তারপর আপার মুখে শুধু আমার ই নাম.. বিকেল হতেই সেজেগুজে ছাদ এ গেলাম। গিয়েই দেখি মহিলা বাচ্চা নিয়ে দাড়িয়ে আছে। বাচ্চার দিকে তাকিয়ে আমার যায় যায় অবস্থা। গাবলু...গুবলু... এ তো আমার চেয়েও ভারি.. ওরে কোলে নিব কি করে? নিলয় আমায় এভাবে শাস্তি দিল! ওরে যে কোলে নিবে সেই তো মায়ের ভোগে... গিয়েই বাচ্চার গাল ধরে বললাম সোনামনি কি নাম? বাচ্চার মা উঠেই বলে, বলো বাবু নাম বলো. বাচ্চা: হাতিম। মনে মনে ভাবি ম খানা বাদ দিলেই তো নামের সাথে মিলে যাইতো। আমি হেসে বললাম কি কিউট... বাচ্চার মা: নতুন এসেছেন? আমি: হুম আপু।দোতলায় এসেছি। বাচ্চা আমার খুব ই ভালোলাগে। আপনার ছেলেটা মাশাল্লা সুন্দর। বাচ্চার মা হেসে বলে ২মিনিট থাকলেই বুঝবা কি বিচ্ছু.. আমি: না না আপু কি বলেন ও থাক আমার কাছে। বাচ্চার মা: বাঁচালে আমায়।বাসায় একটু কাজ ছিল।ও থাক আমি কিছুক্ষণ পর এসে নিয়ে যাব। মনে মনে ভাবলাম যে করেই হোক বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আমার দেখানোই লাগবে, না হলে তো আপার মনে ঢোকা যাবেনা। আপু ওকে আমি বাসায় নিয়ে যাই আপনি বাসা থেকে নিয়ে যাবেন। এই বলে অনেক যুদ্ধ করে বস্তা কোলে নিলাম। বাচ্চার মা: হাটিয়ে নিয়ে যাও। আমি: না কোলেই থাক। বস্তা নিয়ে কোন মতে বাসায় আসলাম। এই মজা আমি উঠাবো নিলয়। বিয়েটা হয়ে নেক একবার।ওই আহাম্মক নিলয়রে দিয়া আমায় কোলে নিয়ে ১০০বার ছাদ এ যেতে বলবো.. হাতিম কে বাসায় এনে বললাম বাপ কি খাস তুই? হাতিম: সবকিছু খেতে পারি।জানো আন্টি ছোটবেলায় বালিও খেতাম। আমি:হ আরেকটু বড় হও মানুষ ও খাইবা। তোমার মামারে খাইয়ো আগে। হাতিম: মানুষ খাওয়া যায় আন্টি? আমি: বাবা আমায় আন্টি বলোনা আমায় মামিমা বলবা।। কি বলবা? হাতিম: মায়িমা। আমি: মায়িমা না মামিমা। হাতিম চুপ করে বলে পারিনা। আমি: তোমায় চকলেট দিব মামিমা বললে। ভাবলাম মামিমা বলাতে পারলেই বাচ্চার মনের আশা পুরন করতে হলেও মামি বানাবে আমারে। বলো বাবা মামিমা। হাতিম: মা। আমি খুশি হয়ে বললাম আচ্ছা আমায় মা ই ডাকো আমি কি তোমার? হাতিম: মা..মা...মা এখন চকলেট দেও। আমি: আচ্ছা বসো আমি নিয়ে আসছি। ৫মিনিট পর রুমে এসে দেখি রুম আর চেনা যাচ্ছেনা। বিছানার সবকিছু মেঝেতে পরে আছে। আমার সব বই-খাতা ছিড়ে ফেলেছে। হাতিম দেয়ালে কি যেন আঁকছে.. আমি রেগে বললাম: হাতি কি করছো? হাতিম: মা বোমা আঁকছি। মনে মনে বলি তুই তো একটা বোমা। ৫মিনিট এ আমার রুম ধ্বংস। কোন দেশ ধ্বংস করতে হলে এই বাচ্চারে নিক্ষেপ করলেই হবে। আমার পছন্দের লিপস্টিক দিয়া বোমা আঁকে। মারতে মন চায় কিন্তু উপায় নাই। সব এই নিলয় বেক্কলের জন্য। -হাতিম চলো... হাতিম: কই মা? আমি: চুপ থাক..চল আগে। ওরে নিয়া আবার ছাদে গেলাম। বাচ্চার মায়ের কোন খবর নাই। নিলয়ের ফোন ও বন্ধ। কি ঝামেলায় পরলাম আমি.. এর মাঝেই আরেক মহিলা কোলে করে বাচ্চা নিয়ে আসলো.. বাচ্চা দেখলেই এখন বিরক্তি লাগে.. মহিলা এসে বলে ভাবি আপনারা কি নতুন? এই বুড়া মহিলা আমারে ভাবি ডাকে কোন আন্দাজে! মেজাজ এই মহিলার প্রতিও খারাপ হয়ে গেল। আমি: হু নতুন এসেছি। মহিলা: বাচ্চা দেখলে মনেই হয়না এই বাচ্চা আপনার। আমি: কেন বাচ্চার কপালে কি লিখা আছে এ আমার বাচ্চা না? মহিলা: না রাগ করবেন না। মনে মনে ভাবি আমনের মতন বুড়া মহিলার ভাবি কি আমায় মনে হয়! মহিলা: ভাবি আমি কাপড়গুলি বাসায় রেখে আসি।একটু বাচ্চাকে দেখবেন? এক বাচ্চা নিয়া পারিনা তারউপর আরেকবাচ্চা! আমি: না আমি পারবোনা.. পরপুরুষ সাথে রাখিনা। মহিলা: পরপুরুষ কে? আমি: কেন আপনার বাচ্চা? মহিলা: এটুক বাচ্চা পরপুরুষ কেমনে? আমি: ও ছেলে, আজ বাদে কালতো পুরুষ ই হবে নাকি? মহিলা: ছিঃ এমন মানুষ আমি কখনো দেখিনাই। নিজে এক বাচ্চার মা হয়েও বাচ্চার কদর বুঝেনা। আমি: মানুষ দেখলেই খালি বাচ্চা গছাইতে ইচ্ছা হয়?যান নিজের বাচ্চা নিজে সামলান আমারে ঝামেলা দিয়েন না। মহিলা রেগে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরেই নিলয় ছাদ এ আসলো.. নিলয়কে দেখেই বললাম কিরে উজবুক এতক্ষণ এ আসলি? বলতে নিব এই নে তোর ভাগ্নে। এর মাঝেই ওই মহিলা এসে নিলয়কে বলছে কিরে ওনার কাছে কি? উনি বাচ্চা পুরুষ এ ভয় পায় কিন্তু বুড়া পুরুষ এ দেখছি কোন প্রবলেম ই নাই। আমি: তাতে আপনার কি? নিলয় দেখোনা এই মহিলা তখন থেকে আমার পায়ে পরে ঝগড়া করছে।কি সব ভাড়া দেও? নিলয় দাঁতে দাঁত চেপে বলছে ওই লিয়া থামো। আমি: কি ফুসুরফাসুর করছো মেনি বিড়ালের মতন? নিলয়: আরে এই তো আমার আপা.. আমি নিলয়ের দিকে আতংক নিয়ে তাকিয়ে বলি তাহলে উনি কে ছিল? নিলয়: কে? আরে আমার কোলের বাচ্চাটা যার আমদানি। এর মাঝেই বাচ্চা উঠে বলে মা চকলেট দিবানা? নিলয় আমার দিকে সন্দেহ চোখে তাকিয়ে বলে মা! আমি বাচ্চারে ঝাড়ি দিয়া বললাম চুপ থাক। নিলয় বাচ্চারে বলে বাবু ইনি কে তোমার? বাচ্চা উঠেই বলে,মা। আমি রাগ করে উঠে বললাম ওই আমি তর কে? বাচ্চা: মা,মা,মা দেও চকলেট দেও। নিলয়: ছিঃ ছিঃ লিয়া।তোমার বাচ্চা আছে আর আমি জানতাম ই না। তুমি বলেছো তুমি অবিবাহিত। আমি: আরে এটা তো তোমার আপুর বাচ্চা। নিলয়: চুপ থাকো এখন নিজের বাচ্চা আমার আপুর উপর চাপাও! এই বলে চলে গেলো.. আমি এই এক টন ওজনের বাচ্চা নিয়া দাড়িয়ে আছি। বাচ্চা কতক্ষণ পর পর বলে মা চকলেট দিবানা? আমি: ওই থামবি?আমি তোর আন্টি। বাচ্চা: মা বলার জন্য এখনোতো চকলেট পেলাম না। আগে পাই তারপর আন্টি ডাকার জন্য ও কিন্তু চকলেট দিতে হবে। আমি: এ হাতি থাম নইলে খায়ালামু। #ভালোবাসা আমায় বাচ্চা হাতির মা বানায়া দিলো। #চকলেট বোমা বিস্ফারণ। পরিশিষ্ট : বাচ্চারে বললাম বাবু চলো তোমার বাসায় দিয়া আসি। বাচ্চা: না চকলেট দেও। আমি: আরে বাসায় অনেকগুলা চকলেট রেখে এসেছি। বাচ্চা: আচ্ছা চলো। আমায় কোলে তোল.. আমি: বাসা কয়তলায়? বাচ্চা: নিচতলা। আমি: তোরে কোলে নিয়া নিচতলা যাব? মারতে চাস আমারে..? হাটা ধর নিচের দিক তাকায়া। নিচতলায় গিয়ে দরজা নক দিলাম। আজ মহিলারে যা ইচ্ছে তাই বলবো.. বাচ্চা দিয়ে এসে খোঁজ নাই.. দরজা খুললো বাচ্চার বাপ... বাচ্চা: বাবা, মা যে চকলেট রেখে গেছে সেগুলা দেও। এর মাঝেই বাচ্চার মা দৌড়ে আসলো। ওই কে চকলেট রেখে গেছে?আরেকবার ক? বাচ্চা: মা..মা.. মা চকলেট দেও। বাচ্চার মা: কোন মা। বাচ্চা আমার দিকে তাকিয়ে বলে এই মা। বাচ্চার মা চেঁচিয়ে বাচ্চার বাপের দিকে তাকিয়ে বলে ওমা..ওমা ওমা.. আমি যখন বাসায় না থাকি এই মাইয়া বাসায় আইসা চকলেট দেয়? বাচ্চার বাপ: ওই কি কও? বাচ্চার মা: এর মাঝে আমার ছেলেরে মা বলাও শিখায়া ফেলছো...? এতদিন যে মেয়েরে নিয়া সন্দেহ করতাম সেই মেয়ে আসলে এই মেয়ে.. আমার বর-বাচ্চা দুটাই কেড়ে নিতে চায়... এর মাঝেই বাচ্চা আমার হাত ধরে বলে এই মা চকলেট কই রাখছিলা? লও প্যারা... #ভালোবাসা বাচ্চা সমেত বাচ্চার বাপরেও ধরাইয়া দিল। বাচ্চার মা আমায় আর বাচ্চার বাপকে নিয়ে বাড়িওয়ালা মানে নিলয়দের বাসায় নালিশ দিতে গেল। নিলয় দরজা খুলে বলে কি হয়েছে? বাচ্চার মা: তুমার আব্বা কই? নিলয়: বাইরে গেছেন..কেন? বাচ্চার মা: শোন বাবা.. আমরা আর এই বাসায় থাকবোনা। এই মেয়ের সাথে আমার তেনার মনে হয় ইটিশ-পিটিশ চলে। এই মেয়ে তার জন্য এই বাসায় ভাড়া আসছে। এনারে তো বের করা যায়না। আমরাই পরের মাসে চলে যাব। নিলয় আমার দিকে আলমগির এর মতন তাকিয়ে বলে এতদূর.. আমি শাবানার মতন তখন ওড়নার আচল মুখে গুঁজে বললাম ওগো আজ তুমি আমায় ভুল বুঝলে...একদিন এ ভুল ভাঙবে সেদিন বেশ দেরী হয়ে যাবে বলে দৌড় দিতে নিলাম। পিছন থেকে বাচ্চা উঠে বলে মা...দাড়াও চকলেট দিয়া যাও।। #ভালোবাসা আমারে শাবানার মতন অবলা বানাইয়া দিল। বাচ্চাকে চকলেট দিয়ে আন্টি ডাকানো শিখিয়ে নিলয়ের কাছে নিয়ে গেলাম। নিলয় দেখো বাচ্চা আমায় আন্টি ডাকে। নিলয়: বাবু এখন বলো এ তোমার কে? বাচ্চা আমার দিকে তাকিয়ে বলে মা এখন কি কাকি ডাকবো নাকি আন্টি? আমি: ওই চুপ থাক। নিলয়: ছি ছি বাচ্চাকে শিখিয়ে এনেছো? আমি ডলি জোহরের মতন আল্লাহগো কইয়া চিক মারলাম। #বিঃদ্রঃ বাচ্চা-বানর এ দুটো জিনিস লাই দিবেন না


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now