বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
খালিদ বিন ওয়ালিদ ৮
"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান zami (০ পয়েন্ট)
X
খালিদ বিন ওলীদ - রাঃ পর্ব-৮
নাঙ্গা তলোয়ার , হযরত খালিদ(রা)-এর জীবনভিত্তিক উপন্যাস :
৩৫ আল্লাহর রাসূল (স) উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং অন্ত্র পরিচালনার নৈপুণ্য দ্বারা এ ঘাটতি পূরণ করে দিয়েছিলেন। কুরাইশদের সংখ্যা তিনগুণ না হলে তারা মুজাহিদ বাহিনীর সম্মুখে দাঁড়াতেই পারত না। অধিক সৈন্য বলে তারা লড়ে যাচিছিল মাত্র।
খালিদের দৃষ্টি নিবন্ধ ছিল রাসূল (স)-এর উপর। রাসূল (স) এক পার্শ্ববাহিনীতে অবস্থান করছিলেন। এই বাহিনীর প্রতি আক্রমণ করা তার একান্ত আশা ছিল। তার অধীনস্থ অশ্বারোহী দলকে সংকীর্ণ রাস্তা অতিক্রম করে দ্রুত এগিয়ে যেতে এবং মুসলমানদেরকে একযোগে আক্রমণের নির্দেশ দেন। কিন্তু তার ইচ্ছায় বাঁধ সাধে। হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবাইরের চৌকস তীরন্দাজ বাহিনী। মুসলিম তীরন্দাজ বাহিনী খালেদ বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পশ্চাদপসারণে বাধ্য করে। এখানে তার বেশ কিছু অশ্ব ও সৈন্য নিহত হয়। বিপুল জান-মালের ক্ষয়-ক্ষতি মেনে নিয়ে পিছু হটার সময় তাদের সাথে ছিল কয়েকটি ঘোড়া এবং আহত সৈন্যের এক দীর্ঘ লাইন। নিহত সৈন্য আর ঘোড়া সেখানেই পড়ে থাকে। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিল যুদ্ধ। উভয় পক্ষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে লিপ্ত। ব্যস্ত সবাই সমর শক্তি প্রদর্শনে। কিন্তু এক ব্যক্তি ছিল এর ব্যতিক্রম। সে যুদ্ধ করছিল না। সে একটি বর্শা হাতে রণাঙ্গনে ঘুরছিল। যেন সে কাউকে খুঁজছে। লোকটির নাম ওয়াহশী বিন হারব। সে নিয়মিত যুদ্ধ এড়িয়ে হযরত হামজা (রা)কে তালাশ করে ফিরছিল। হযরত হামজা (রা)-ই আজ তার প্রধান লক্ষ্য কন্তু। কৌশলে তাকে হত্যা করতে চায় সে। তাঁকে হত্যা করতে পারলে ডবল পুরস্কার তার জন্য অপেক্ষা করছে। প্রথমত দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তিলাভ। দ্বিতীয়ত আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দার শরীরের সকল অলঙ্কারের মালিকানা। এক সময় সে হযরত হামজা (রা)কে দেখতে পায়। তিনি সিবা বিন আব্দুল উযযার দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। তখনকার আরব সমাজে মহিলারা খৎনার কাজ করত। ঐতিহাসিক ইবনে হিশামের বর্ণনামতে ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেও আরব সমাজে খৎনার প্রচলন ছিল। হযরত হামযা (রা) সে সিবার প্রতি চড়াও হন। তার মাতা খৎনার কাজ कन्नड । “খৎনাকারিণীর পুত্র”। হযরত হামযা (রা) হুঙ্কার দিয়ে বলেন- এদিকে আয় এবং শেষবারের মত আমাকে দেখে যা ।” সিবা বিন আব্দুল উযযা হামযা (রা)-এর দিকে এগিয়ে আসে। ক্ৰোধে তার চেহারা লাল হয়ে উঠেছিল। তরবারি চালনায় ভীষণ পটু ছিল সে। হামযা (রা)ও তার থেকে কোন অংশে কম ছিলেন না। উভয়ই মুখোমুখি হয় এবং আঘাত পাল্টা আঘাত চলতে থাকে। ঢাল উভয়ের হামলা ব্যৰ্থ করে দিচ্ছিল। সিবা পার্শ্ব পরিবর্তন করে কৌশলী আক্রমণ করে। কিন্তু “ঢাল তলোয়ারের মাঝপথে এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এ সময়ে ওয়াহশী অতি সন্তৰ্পণে পা টিপে টিপে অগ্রসর হয়। উঁচু-নিচু টিলা তাকে লুকিয়ে রাখে। হযরত হামযা (রা)-এর দৃষ্টি ছিল শত্রুর প্রতি নিবদ্ধ। সিবা ব্যতীত আর কেউ তাঁর নজরে পড়েনি।
ওয়াহশী নিজেকে আড়াল করে এক সময় কাছে পৌঁছে যায়। বর্শা নিক্ষেপে সে ছিল সিদ্ধহস্ত। সে হযরত হামযা (রা)-এর এত কাছে পৌঁছে যায় যেখান থেকে তার নিক্ষিপ্ত বর্শা। লক্ষ্যভ্ৰষ্ট হওয়ার সামান্যও সন্দেহ ছিল না। এবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। বর্শা হাতে তোলে পজিশন নেয় এবং মোক্ষম সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। হযরত হামযা (রা)কে গুপ্ত হত্যার প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত; তখন তিনি আক্রমণের পর আক্রমণ করে সিবাকে প্ৰায় কোণঠাসা করে ফেলেছেন। এক সময় তিনি প্ৰচণ্ড বেগে তরবারি চালালে তরবারি সরাসরি সিবার পেটে আঘাত হানে। তিনি তরবারি এমনভাবে টেনে বের করেন যে, এতে তার পেট আরো ফেড়ে যায়। সিবা হযরত হামযা (রা)-এর পায়ে এসে হুমডি খেয়ে পড়ে।
হযরত হামযা (রা) সামনে যেতে তৎপর। এরই মধ্যে ওয়াহশী পূর্ণ শক্তিতে বর্শা নিক্ষেপ করে। ব্যবধান খুবই কম ছিল। বর্শা পেটের এত গভীরে প্রবেশ করে যে, তার ছুঁচালো মাথা পৃষ্ঠদেশ ভেদ করে যায়। অতর্কিত এ ভয়ানক আক্রমণে তিনি সাথে সাথে লুটিয়ে পড়েননি। এদিক-ওদিক নজর ঘুরিয়ে হত্যাকারীকে আবিষ্কার করতে চেষ্টা করেন। নজর ঘুরিয়ে ওয়াহশীকে দেখতে পান। পেটের বর্শা নিয়েই তিনি তার দিকে ছুটে যান। ওয়াহশী নিজ স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকে। হযরত হামযা (রা) বেশি দূরে যেতে পারেননি চার-পাঁচ কদম গিয়েই জমিনে লুটিয়ে পড়েন। ওয়াহশী দূরে দাঁড়িয়েই তার শরীরের নড়াচড়া প্রত্যক্ষ করতে থাকে। নিথর হয়ে গেলে ওয়াহশী তাঁর মৃতদেহের নিকটে আসে। হযরত হামযা (রা) শহীদ হয়ে যান। ওয়াহশী তাঁর শরীর থেকে বর্শা খুলে চলে যায়। সে ফিরে গিয়ে হিন্দা এবং মনিবা জুবাইর বিন মুতীদমকে তালাশ করতে থাকে।
pod
উহুদের বিভিন্ন চিত্রগুলো খালিদের স্মৃতিপটে যতই ভাসতে থাকে তার অন্তর ততই ভারাক্রান্ত হয়। অশ্ব তাকে নিয়ে চলছিল। আপন মনে। নিম্নাঞ্চল অতিক্রম করায় উহুদের পর্বতশৃঙ্গ দৃষ্টি থেকে আড়াল হয়ে গিয়েছিল। তাঁর গোত্রের নারীদের কথা হঠাৎ মনে পড়ে যায়। তারা কুরাইশ ও সমমনা গোত্রের মধ্যে বীরত্ব ও রক্তে ত্যাজ সরবরাহ করছিল। খালিদের আরো মনে পড়ে যে, তিনি যুদ্ধের পুরো দৃশ্য নিজচক্ষে দেখার জন্য নিকটবতী একটি উচু টিলায় আরোহণ করেন। এখান থেকে তিনি মুসলিম নারীদের দেখতে পান। রণাঙ্গন থেকে আহতদের নিয়ে এসে তাদের হাতে সোপর্দ করা হত। তারাই তাদের সেবা যত্ন ও প্রয়ােজনীয় চিকিৎসা করত। তৃষ্ণাৰ্তাদের পানি পান করাত। এ ধরনের মহিলার সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ চৌদ্দজন। নবী নন্দিনী হযরত ফাতেমা (রা)ও ছিলেন তাদের মধ্যে।
তীব্র সংঘর্ষ কিছুক্ষণ উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলে। কুরাইশদের জোশ ক্ৰমেই স্তিমিত হতে থাকে। এক সময় স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদ বিশাল কুরাইশ বাহিনীর উপর প্রাধান্য বিস্তার করে। কুরাইশদের পতাকাধারী একজন নিহত হলে আরেকজন এসে পতাকা তুলে ধরত। এভাবে কয়েকবার পতাকা ভুলুষ্ঠিত হয়। শেষদিকে এক গোলাম এসে পতাকা তুলে ধরে, কিন্তু সেও নিহত হয় এরপর মুসলিম বাহিনী কুরাইশদের আর কাউকেই পতাকা তোলার সুযোগ দেয়নি।
কুরাইশরা রণে ভঙ্গ দেয়।
খালিদ কুরাইশ বাহিনীর পৃষ্ঠ প্রদর্শনের দৃশ্য চেয়ে চেয়ে দেখেন। মুসলিম বাহিনী কর্তৃক তাদের পিছু ধাওয়াও তার নজরে আসে। কুরাইশরা রণে ভঙ্গ দিয়ে সেনা ক্যাম্পেও দাঁড়ায়নি। জিনিসপত্র ফেলে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় সকলেই পলায়ন করে। মুসলমানরা বিজয়ের আনন্দে এবং প্রতিশোধের সম্পূহায় কুরাইশদের ক্যাম্পের উপর চড়াও হয়। আনন্দ-শ্লোগান আর বিজয়-উল্লাসে চারদিক মুখরিত করে তোলে মুসলমানরা। কুরাইশরা এমন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়ন করে যে, ভাগার সময় মহিলাদের ব্যাপারে চিন্তা করার সুযোগও তারা পায়নি। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই তারা পালাতে থাকে। কিন্তু মুসলমানরা তাদের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি।
অশ্বারোহী দু'দলের কমান্ডার ইকরামা। আর অপর দলের কমান্ডার খালিদ নিজে। তাদের লক্ষ্য ছিল, পার্শ্ব-বাহিনীকে আক্রমণ করে পর্যুদস্ত করে দেয়া। তারা সুযোগ খুঁজতে ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে যুদ্ধের গতি অন্য দিকে মোড় নেয়। যুদ্ধ কুরাইশদের সম্পূর্ণ প্রতিকুল অবস্থানে চলে যায়। তারপরেও ইকরামা ও খালিদ নিজ নিজ বাহিনী নিয়ে পূর্বের জায়গায় অবস্থান করতে থাকে। চরম নৈরাশ্যজনক এ অবস্থার মধ্যেও খালিদের আশা ছিল যে, তিনি শেষ পর্যন্ত পরাজয়কে বিজয়ে বদলে দিতে পারবেন। তিনি সম্মুখ দিক হতে নয়; বরং এক পার্শ্ব দিয়ে মুসলিম বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে অপেক্ষমাণ ছিলেন। কিন্তু এটা মোটেও সহজ ও কুঁকিমুক্ত ছিল না। এর জন্য মরণ ফাঁদের ন্যায় এক সংকীর্ণ সুড়ঙ্গ অতিক্রম করা আবশ্যক ছিল। সুড়ঙ্গ অতিক্রম করে যেতে একবার উদ্যোগও নিয়েছিলেন, কিন্তু আগে প্ৰস্তুত মুসলিম তীরন্দাজ বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা রুখে দেয়। তা সত্ত্বেও খালিদ এখনও এই সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহারের অপেক্ষায় প্রহর গুণতে থাকেন। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হালনা। মোক্ষম সুযোগ এসে গেল।
তীরন্দাজ বাহিনী তাদের অবস্থান থেকে কুরাইশদের পলায়নের দৃশ্য দেখতে থাকেন। পলায়নপর বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবন করে তাদের ধন-সম্পদ হস্তগত করাটাও তাদের নজর এড়ায় না। গনিমতের আশায় তীরন্দাজরা এক এক করে তাদের অবস্থান ছেড়ে চলে যায়। কমান্ডার আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা) তাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। “আমার দ্বিতীয় নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ স্থান ত্যাগ করবে না- রাসূল (স)-এর নির্দেশটি দ্বিতীয়বার স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু কেউ তাঁর কথা শোনেনি।
“যুদ্ধ শেষ।” একথা বলতে বলতে তীরন্দাজ দলটি পাহাড়ের ঘাঁটি থেকে নিচে নেমে আসে-“গনিমতের মাল আমাদের। আমরা বিজয়ী হয়েছি”
কমান্ডারের সাথে থাকে মাত্র নয়জন তীরন্দাজ ।
স্যাটেলাইটের মত খালিদের দৃষ্টিতে বিষয়টি সাথে সাথে ধরা পড়ে যায়। তার কাছে এটা স্বপ্নের মত মনে হয়। তিনি এমনই একটি সুযোগের অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু তা যে এত তাড়াতাড়ি অতি সহজে হাতের মুঠোয় এসে যাবে তা ছিল কল্পনাতীত।
তিনি অবস্থান ছেড়ে যাওয়া তীরন্দাজদের উপর গভীর দৃষ্টি রাখেন। যখন তিনি নিশ্চিত হন যে, তারা কুরাইশ বাহিনীর ক্যাম্পে পৌছে গনিমতের মাল সংগ্রহে ব্যস্ত তখন তিনি অশ্বারোহী দল নিয়ে গিরিপথে অবস্থানরত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা) ও তাঁর অধীনস্থ নয় তীরন্দাজের উপর প্রচণ্ড আক্রমণ করেন। খালিদ ইচ্ছা করলে তাদের এড়িয়েও যেতে পারতেন, কিন্তু প্ৰতিশোধ স্পাহা তাকে উম্মাদ করে তুলে। তার অশ্বারোহী দলটি পাহাড়ের উপরে উঠতে থাকলে উপর থেকে তীরন্দাজগণ তাদেরকে তীর মেরে আহত করতে থাকে ।
খালিদকে গিরিপথে আক্রমণ করতে দেখে ইকরামা নিজেও বাহিনী নিয়ে উদ্দেশ্যস্থলে এসে পৌঁছে। তার অশ্বারোহী বাহিনীও চতর্দিক দিয়ে উপরে উঠতে থাকে। তাদের কাছেও তীর ছিল। তারাও তীরের জবাব তীর দ্বারাই দিতে থাকে। মাত্র ৯ জনের পক্ষে বিশাল অশ্বারোহী বাহিনীর গতিরোধ করা সম্ভব ছিল না। অশ্বারোহীরা এক সময় সুড়ঙ্গ মুখে চলে যায়। তীর রেখে এবার তারা তরবারি নেয়। কিছুক্ষণ পাল্টা-পাল্টি হামলা চলে। এক সময় সবাই আহত হয়ে লুটিয়ে পড়ে। খালিদ আহতদেরকে পাহাড়ের উপর থেকে নিচে নিক্ষেপ করে। তীরন্দাজ কমান্ডার আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রা)ও শহীদ হয়ে যান।
গিরিপথ দখলের পর খালিদ (র) ও ইকরামা নিজ নিজ বাহিনীকে নিচে অবতরণ করায়। মুসলিম বাহিনী যেখান থেকে যুদ্ধের সূচনা করে সেখানে গিয়ে তারা একত্রিত হয়। খালিদের নির্দেশে উভয় কমান্ডার ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলিম বাহিনীর উপর হামলা চালায়। এ সময় মুসলমানরা মূলত যুদ্ধের অবস্থায় ছিল না। নবী করীম (স)-এর সাথে কিছু সংখ্যক মুজাহিদ তখনও ছিলেন। এ জানবাজ মুজাহিদগণ ঈগলের মত ছুটে গিয়ে অশ্বারোহীদের মোকাবিলায় তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
কুরাইশদের সাথে আহত নারীরাও পালাচ্ছিল। কিন্তু উমরা নামী মহিলা পলায়ন করতে না পেরে নিকটবতী এক স্থানে আত্মগোপন করেছিল। মুসলিম বাহিনীর উপর কুরাইশ অশ্বারোহী বাহিনীর পুনঃ আক্রমণ করতে দেখার সময় কুরাইশদের ভুলুষ্ঠিত পতাকার উপর তার নজর পড়ে। এক সুযোগে সে পতাকাটি উঠিয়ে উচু করে তুলে ধরে।
এদিকে আবু সুফিয়ানও পলায়নপর পদাতিক সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল। হঠাৎ সে পেছন দিকে তাকালে পত পতা করে বাতাসে উড়া কুরাইশদের পতাকাটি সে দেখতে পায়। “হুবল জিন্দাবাদ, উযযা জিন্দাবাদ” শ্লোগানে আকাশ-বাতাস প্ৰকম্পিত করে সে পদাতিক সৈন্যদেরকে সংগঠিত করে রণাঙ্গনে আবার ফিরিয়ে নিয়ে এসে মুসলমানদেরকে ঘিরে ফেলে।
খালিদের আরেকটি কথা আজ ভীষণভাবে মনে পড়ে। সেদিন তিনি হত্যার জন্য রাসূল (স)কে তালাশ করে ফিরেন। আর আজ চার বছর পর সে তাঁরই নিকট মদীনা যাচ্ছে। এ মুহূর্তে তার মন-মস্তিষ্ক জুড়ে নবী করীম (স)-এর প্রিয় সত্তা বিরাজমান। (চলবে)
প্রতিদিন গল্প দেওয়া হবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now