বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুরবেলা বউ আর সাত বছরের মেয়ে তাহেরাকে নিয়ে
ভাত খাচ্ছিলেন রমিজ মিয়া। ঠিক তখনই খবর আসে রমিজ
মিয়ার চাচা শ্বশুর মারা গেছেন। রমিজ মিয়া খবর শুনে
শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রমিজের শ্বশুরবাড়ি ছিল তার বাড়ি থেকে পাঁচ কি ছয়
কিলোমিটার দূরে । তাই তিনি বউ আর মেয়েকে একটা
ভ্যান গাড়িতে তুলে দিয়ে নিজে সাইকেল নিয়ে
যাচ্ছিলেন।গ্রামের কাঁচা রাস্তা তার উপর বর্ষাকাল
হওয়ায় রাস্তায় অনেক কাঁদা জমে ছিল।
প্রায় এক ঘন্টা পর গিয়ে শ্বশুর বাড়ি পৌঁছায় রমিজ
মিয়া। গোসল তারপর জানাযা শেষে আসরের নামাজের
পর লাশ কে কবর দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাহেরা ওর
বাবা রমিজের কাছে বায়না ধরে যে,
সেও কবর দিতে যাবে।
মেয়ের কথায় না করে দিয়ে রমিজ বলেন,
— তুমি ছোট মেয়ে মানুষ, সেখানে গিয়ে কি করবে?
তবে মেয়েটা তার বড্ড জেদি সে যাবে তো যাবেই।
অনেক কান্নাকাটি করার পর রমিজ মিয়া তাহেরাকে
নিয়ে যেতে রাজি হয়।
তবে তিনি বলেন যে, সে যেন সব সময় তার মামার সাথেই
থাকে। তাহেরা রাজি হয়।
গ্রামের শেষ প্রান্তে চাষের জমির ভিতর গোরস্থান।
গোরস্তানটির চারদিকে কোন দেয়াল নেই, নেই কোন
সীমানাও।
গোরস্থানে এসে রমিজ মিয়া তাহেরাকে ওর মামার
কাছে রেখে বলেন,
— এখানে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকবা কোথাও যাবেনা।
তারপর রমিজ মিয়া লাশটিকে মাটি দিতে কবরের কাছে
চলে যান।
কেমন করে লাশকে মাটি দেয় তা দেখার জন্য ভীষণ
কৌতুহলী হয়ে যায় তাহেরা। তাই মামাকে কিছু না বলেই
মাটি দেয়া দেখবে বলে ওপর পাশ দিয়ে কবরের পাশে
গিয়ে যেই না উঁকি দেবে ঠিক তখনই একটা পুরোনো কবর
ভেঙে ভিতরে পরে যায় তাহেরা।
তারপর চিৎকার শুরু করে দেয়। রমিজ মিয়া তাড়াতাড়ি
মেয়েকে ভাঙা কবর থেকে তুলে বাসায় চলে যান।তারপর
মেয়েকে আচ্ছা মত গালি দেন যে,
কেন সে তার কথা শুনলোনা ?
তাহেরার গায়ে যে কাঁদামাটি লেগে ছিল তা ধুয়ে দেন
তাহেরার মা।
রাত প্রায় আট টা বাজে। খাওয়ার পর রমিজ মিয়া তার
বউকে বলেন,
— আমি তাহলে এখন বাড়ি যাই কারণ গরু-ছাগল আছে আর
তুমি মেয়েকে নিয়ে থাকো। কাল সকাল হলে চলে যেও।
রমিজের বউ তাকে চলে যেতে বলেন।
ঠিক তখনই তাহেরা ওর বাবার সাথে বাসায় যাবে বলে
বাধ সাধে।
সবাই বলে,
–তুমি মায়ের সাথে থাকো, কাল সকালে যেও।
কিন্তু কে শোনে কার কথা? সে যাবে তো যাবেই।
অবশেষে রমিজ মিয়া মেয়েকে সাইকেলের পিছনে নিয়ে
রওনা হন।
বৃষ্টির পানি জমে থাকায় রাস্তাটিতে কাঁদা ভরা। রমিজ
মিয়া আস্তে আস্তে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
প্রায় এক কিলোমিটার আসার পর সামনেই একটা বড়
মেহগনি গাছের বাগান পরে।আর এর পাশ দিয়েই
রাস্তাটা চলে গেছে।মেহগনি গাছের বাগানের কাছে
আসতেই হঠাৎ সাইকেলের চেইনটা পরে যায়।
রমিজ মিয়া সাইকেল থেকে নেমে চেইনটি তোলার সময়
লক্ষ্ করেন তার পাশ দিয়ে কালো একটা বিড়াল চলে
গেল। রমিজ মিয়া বিষয়টা আমলে না নিয়ে আবার
সাইকেল চালাতে লাগলেন।
মেহগনি গাছের বাগানটার মাঝে আসতেই আবার
সাইকেলের চেইন পরে যায়। রমিজ মিয়া আবার সাইকেল
থেকে নেমে চেইনটা তোলার সময় লক্ষ্য করেন সেই
কালো বিড়ালটা আবারো তার পাশ দিয়ে চলে গেল।
এবার একটু ঘাবড়ে যান রমিজ মিয়া।
তিনি বুঝে যান যে, এটা স্বাভাবিক কিছু না।
চেইনটা ঠিক করে সাইকেলে উঠবে ঠিক তখনই আবারও
লক্ষ্য করেন প্রচণ্ড জোরে হাওয়া বইছে মেহগনি গাছের
বাগানে।যেন সামনে এগুতেই পারছেন না। মেয়েকে
একহাতে ধরে কোন রকমে সাইকেলটা ঠেলতে ঠেলতে
বাগানটার শেষ প্রান্তে আসতেই একটা মেহগনি গাছের
ডালের উপর চোখ পরে তার।
তিনি দেখেন, সাদা কাফন পরা একটা মানুষের অবয়ব
সেখানে বসে আছে। তবে অবয়বটার মাথা নেই।
ভয়ে কলিজা শুকিয়ে আসে তার।তিনি ভাবেন,
— মেয়ে যদি এটা দেখে তো প্রচন্ড রকমের ভয় পাবে।
তাই তিনি মেয়েকে সাইকেলের পিছন থেকে সামনে
এনে কোলের ভিতর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলেন,
— মা, তুমি চোখ বন্ধ করে বসে থাকো। আমি না বলা
পর্যন্ত চোখ খুলবে না।
তারপর রমিজ মিয়া কোন রকমে সাইকেলটা ঠেলতে
ঠেলতে রাস্তা দিয়ে দৌড়াতে থাকেন।
মেহগনি বাগানটা পেরোতেই এখন খোলা মাঠের ভিতর
দিয়ে রাস্তা ।রমিজ মিয়া সাইকেল নিয়ে মেয়েকে
জাপটে ধরে দৌড়াচ্ছেন ঠিক তখনই দেখতে পান সামনেই
পুরো রাস্তা জুড়ে সাদা কাফন পরা একটা লাশ শুয়ে
আছে। এটা দেখে অনেক ভয় পেয়ে যান তিনি।তবে তাকে
যে ভয় পেলে চলবে না। তাকে যে ভাবেই হোক বাসায়
পৌঁছাতেই হবে।রমিজ মিয়া আবারও মেয়েকে বলেন,
— মা, আমি না বলা পর্যন্ত কিন্তু তুমি চোখ খুলবেনা।
এরপর রমিজ মিয়া লক্ষ্য করেন লাশটার পাশ দিয়ে
সামান্য একটু জায়গা আছে যেখান দিয়ে সাইকেল
চালিয়ে কোন রকমে চলে যাওয়া যাবে। রমিজ মিয়া
সাইকেলে উঠে সেই লাশটার পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে
সাইকেল নিয়ে পাশ কাটাতেই প্রচন্ড পচা পচা গন্ধ পান।
মেয়েটাও তার গন্ধ পেয়ে বলে,
— বাবা এটা কিসের গন্ধ ?
রমিজ মিয়া বলেন,
— ও কিছু না মা। তুমি চোখ বুজে থাকো।
রমিজ মিয়া আর একটু সামনে যেতেই পিছন থেকে তার
বৌয়ের গলায় ডাক শুনতে পান।
ডাক শুনেই তার মেয়ে বলে,
— বাবা, মা তোমাকে ডাকছে, মাকেও আমাদের সাথে
নিয়ে চলোনা।
রমিজ মিয়া আবার মেয়েকে বলেন,
— নিয়ে যাচ্ছি, তবে তুমি কিন্তু চোখ খুলবে না আমি না
বলা অবধি।
এভাবে জোরে জোরে সাইকেল চালিয়ে রমিজ মিয়া
তার গ্রামের রাস্তায় চলে আসেন। সেখান দিয়ে যেতে
যেতে দেখেন,
পাশের বাশ বাগানের ভিতর থেকে সেই মাথা কাটা
লাশটা হাতের ইশারায় তাকে ডাকছে।
রমিজ মিয়া আরো জোরে জোরে সাইকেল চালাতে
চালাতে তার বাড়ির কিছুটা কাছে আসতেই একটা
লোককে দেখতে পান। তাকে দেখতেই যেন প্রাণ ফিরে
পেলেন রমিজ মিয়া। তাড়াতাড়ি লোকটার কাছে চলে
যান এবং তাকে তার বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে
বলেন।পথে লোকটাকে রমিজ মিয়া ঘটনাটা বললে
লোকটা তাকে বলে,
— আমিতো মাঝে মাঝেই অনেক রাতে এ পথ দিয়ে যাই।
তবে কোনদিন তো কিছু দেখিনি। হয়ত লাশ কবর দিয়ে
এসেছেন তাই এমন হয়েছে।
একথা বলেই বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে লোকটি চলে
যায়।
ঘরে ঢুকে রমিজ মিয়া লক্ষ্য করেন তার মেয়ের গা দিয়ে
কেমন যেন পচা গন্ধ বের হচ্ছে। তিনি ভাবেন,
হয়ত কবরের ভিতর পরে যাওয়ার কারণে এমন হয়েছে।
রমিজ মিয়া তার মেয়েকে বলেন জামা কাপড় খুলতে
কারণ তাকে গোসল করতে হবে।
বাবার কথা মতো তাহেরা জামা খুলতেই মেঝেতে একটা
ছোট্ট হাড়ের টুকরো পরে যায়। হাড়ের টুকরোটা দেখে
সেটা হাতে নিয়ে রমিজ মিয়া বলেন,
— মা, তুমি এটা কোথায় পেলে !
তাহেরা বলে,
— সে যখন কবরের ভিতর পরে গিয়েছিল তখন তার গায়ের
উপর এটা পড়েছিল।
আর তখনই সে এটা নিয়ে পকেটে রেখেছিল পরে এটা
দিয়ে খেলা করবে বলে।
মেয়ের কথা শুনে রমিজ মিয়া প্রচন্ড রাগে মেয়েকে
অনেক বকাঝকা করেন।
আর তাড়াতাড়ি পাশের বাড়ির হুজুরের কাছে চলে যান।
হুজুরটি সব শুনে রমিজ মিয়ার থেকে হাড়টি নিয়ে তাকে
এক গ্লাস পানি পড়া দেন আর বলেন,
— এটা একটা আঙুলের হাড়। আর এই হাড়টি তোমার
মেয়ের সাথে আনার কারণেই পথে তোমাদের সাথে
এমনটা হয়েছে। আর তুমি যদি পথে সেই সময় তোমার
মেয়েকে চোখ বন্ধ করে না রাখতে বলতে তবে তোমার
মেয়ে সেটা দেখে প্রচন্ড ভয় পেতো এমনকি অনেক বড়
ক্ষতি ও হতে পারতো।
সব শুনে রমিজ মিয়া সেই পড়া পানি নিয়ে বাড়ি চলে
আসেন। তবে ঠিক সেদিন রাতেই রমিজ মিয়া স্বপ্ন
দেখেন যে,
তার চাচা শ্বশুরের কবরের পাশের কবরের উপর দাড়িয়ে
সেই গলাকাটা লাশটা তাকে বলছে,
” তোর অনেক সাহস, যে কারণে তোর মেয়েকে নিয়ে
বেঁচে ফিরতে পারলি। না হলে তোর মেয়েকে আর জ্যন্ত
ফিরে পেতি না”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now