বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অর্ধমানবী পর্ব-১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ovro Amrito (০ পয়েন্ট)

X -তোর সাথে আমাকে তোর গ্রামে নিয়ে যাবি কি না তাই বল (ঈশিতা) -তোকে আগেও বলেছি এবারও বলছি আমার সাথে তোর যাওয়াটা ঠিক হবে না(আবির) -কোনো ঠিক হবে না? আমি জীবনে কখনো গ্রাম দেখিনী।তাই তুই আমাকে তোর সাথে তোর গ্রামে নিয়ে যাবি। -দেখ আমার গ্রামটা আর পাঁচটা গ্রামের মতো নয়।একদম বিদঘুটে আর ভয়ানক। সন্ধ্যার পরে লোকজন ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়।সেজন্যই বলছি তোর যাওয়ার দরকার নেই -আমিতো এমন একটা ভয়ানক গ্রামই খুঁজছিলাম।আচ্ছা তোদের গ্রামে কি ভূত আছে -ভূতের ভয়ে গ্রামের লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেনা আর তুই জিঞ্জাসা করছিস ভূত আছে কি না -দোস্ত আমাকে প্লিজ নিয়ে চলনা।আমার ভূত দেখার খুব শখ -তুই কি সিওর যেতে চাস -অবশ্যই -ঠিকাছে তাহলে পরশু তোকে আমার সাথে আমার গ্রামে নিয়ে যাব -থ্যাঙ্কু দোস্ত -তোকে একা নিয়ে যাব না।সাথে রাজও যাবে -ওকে আমি রাজি -আমার শর্ত এখনো শেষ হয়নি -আবার কি শর্ত -আমার গ্রামে যেতে হলে এসব বিদেশী পোশাক বাদ দিয়ে দেশী পোশাক পড়তে হবে -আছা বাবা ঠিক আছে . বাস কাউন্টারে গিয়ে ৩জনের তিনটা টিকেট কেটে ফেললাম।দুদিন পরে আবির,রাজ,ঈশিতা রওনা হয় আবিরদের গ্রামের উদ্দেশ্য। যেহেতু রাজ আর ঈশিতা শহরের বড় হয়েছে তাই গ্রাম সম্পর্কে তাদের আগ্রহ বেশি।ঢাকা থেকে তাদের গ্রামের সিমানা পর্যন্ত পৌঁছাতে রাত প্রায় ১২ টা বেজে গেছে।নদীর ঔপারেই আবিরদের গ্রাম।নদীর পাড়ে একটাও নৌকা দেখা যাচ্ছে না।খেয়া পারাপারও বন্ধ হয়ে গেছে।নদীর পাশেই শ্মশান।বাতাসে কেমন মৃত্যুর গন্ধ ভেসে আসছে। অবশেষে দেখা গেল একটি নৌকা। . -মামা আমাদের একটু নদীর ওপারে দিয়ে আসবেন(আবির) -তোমরা কারা আর এত রাতে শ্মশানের পাশে কি করছো(মাঝি) -আমি আসিত চক্রবর্তীর ছেলে -ও তুমি অসিত মাস্টারের ছেলে।তা এত রাথে এখানে যে -আসলে ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছি -সাথে ওরা কারা -আমার ক্লাসমেট শহর থেকে এসেছে -তোমাদের এখানে থাক ঠিক হবে না তাড়াতাড়ি নৌকাতে উঠে এসো . নৌকাতে উঠার পরে . -শোনো নদীতে যাই হয়ে যাক বা যেই তোমাকে ডাকুক না কেন পিছনে ফিরে তাকাবে না -কেনো(রাজ) -আমাদের গ্রামটা তোমাদের শহরের মতো না।এটা একটা অভিশপ্ত গ্রাম। অনেক বছর আগে একসাথে গ্রামের প্রায় অর্ধেক লোক মারা গিয়েছিল তারপর থেকেই গ্রামটা অভিশপ্ত হয়ে গেছে . নৌকাটা নদীর মাঝে যেতেই হঠাত্ কোথা থেকে ঝড় উঠে গেল। মনে হচ্ছে কেউ তাদের পিছন থেকে ডাকছে। আরে ঐ তো একজন নদীর ভিতরে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। . -নৌকা থামান!ঐ দেখুন একজন মানুষ নদীতে হাবুডুবু খাচ্ছে(রাজ) -ঐ দিকে তাকিও না ওটা কোনো মানুষ না। ওটা হচ্ছে প্রেত আত্মা(মাঝি) -আমি নিজ চোখে দেখছি ওটা মানুষ আর আপনি বলছেন মানুষ না -তোমার বন্ধুকে চুপ করতে বলো নাহলে তোমাদের ক্ষতি হতে পারে(আবিরকে দেখিয়ে) -দোস্ত দেখ মানুষটা কিভাবে মারা যাচ্ছে আমি ওকে নৌকাতে তুলে আনব . কথাটি বলার সাথে সাথেই নদীর ঢেউ বেড়ে গেল।চারিদিকে মেঘ ঘনিয়ে এলো।আর ঐ লোকটি বিশাল আকার ধারন করলো। লোকটির মাথা নেই। গলা দিয়ে রক্ত ছিটকে ছিটকে পড়ছে আর নদীর জল পুরো লাল বর্ণ ধারন করেছে।একি রাতের বেলায় সূর্য উঠেছে। সূর্যটা দেখতে একেবারে লাল বর্ণ। মনে হচ্ছে তাজা রক্ত দিয়ে তৈরী।এদিকে পাড়ের শেয়ালগুলো জোড়ে জোড়ে ডাকছে। সারা নদীতে মরা লাশে ভরে গেছে।সবারই গলা কাটা আর সবার রক্তে নদীর জল পুরো লাল হয়ে গেছে। . -একি এসব কি হচ্ছে? নদীতে এত মরা লাশ ভেসে উঠলো কিভাবে (রাজ) -তোমাকে আগেই বলেছিলাম ওদিকে কান না দিতে।তবুও ডাক দিয়েছো এবার নদীর কিনারা না পাওয়া পর্যন্ত এসব হতেই থাকবে(মাঝি) -একি নৌকাতে তো রক্ত উঠে এসেছে -এসব রক্ত না।এটা ঐ আত্মাগুলোর মায়া -আমি বসে থাকতে পারছি না।আমাকে কে যেন নদী থেকে টানছে . অতঃপর তাকিয়ে দেখে সেটা একটা ক্ষত- বিক্ষত হাত। . -এই হাতটা এলো কোথায় থেকে -নৌকা জাপটে ধরে বসে থাকো না হলে ওরা তোমাকে নদীতে নিয়ে যাবে . আরও দুটি হাত দিদিকে থেকে বেরিয়ে এসে আবির আর ঈশিতাকে ধরে ফেলল। নৌকা প্রায় ডূবেই গেছে।তবুও মাঝি জোরে একটু এগিয়ে যেতেই পরিস্থাতি স্বাভাবিক হয়ে গেল। কিনারাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভয়ে কেউ কথা বলতে পারলো না। নৌকা থেকে নেমে, . -বাড়ি না পাওয়া পর্যন্ত একবারেও পিছন ফিরে তাকাবে না(মাঝি) -আচ্ছা এর আগেও তো আমি অনেকবার এসেছি কিন্তু এমনতো হয়নি(আবির) -তোমার বন্ধু ঐ প্রেত আত্মার মায়াতে সাড়া দিয়ে ফেলেছিল তাই ওতগুলো লাশ ভেসে উঠেছিল।তোমরা সাবধানে থেকো!আর এটা রাখো(একটা কাঠি দিয়ে) -এটা কি -এটা প্রেত ডাল।এটা কাছে থাকলে কোন প্রেত আত্মা তোমাদের কাছে আসতে পারবে না -কিন্তু -আর একটিও কথা না বলে সামনের দিকে তাকিয়ে চলে যাও . অতঃপর একটাও কথা না বলে তারা বাড়ির দিকে যেতে থাকে। হঠাত্ তৃষার কন্ঠস্বর শুনতে পায় আবির।তৃষা হচ্ছে আবিরদের গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে।পিছনে তাকিয়ে দেখে সত্যিই তৃষা দাঁড়িয়ে আছে। . -আরে তোমার নাম তৃষা না(আবির) -হ্যাঁ।তা অনেকদিন পরে গ্রামে এলেন যে (তৃষা) -পরীক্ষা শেষ করে আসতে গিয়ে দেরি হয়ে গেল -আপনার সাথে এরা দুজন কারা -আমার ফ্রেন্ড।তা তুমি এত রাতে এখানে -আপনার নাকি ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না তাই আসতে হলো . অতঃপর পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখে ফোনে নেটওয়ার্ক নেই। . -আমাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না সেটা তুমি জানলে কিভাবে -সেটা নাহয় অজানাই থাক।এখন চলুন আপনাকে বাড়িতে দিয়ে আসি -না না তুমি বাসায় চলে যাও আমরা চলে যেতে পারব -দায়িত্ব নিয়েছি না . অতঃপর তারা একসাথে বাড়ি আসতে থাকে। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই . -আচ্ছা আপনারা বাড়ি যান আমি আর যাব না (তৃষা) -বাড়িতে নাহয় একবার ঘুরে যাও(আবির) -সমস্যা নেই।আপনারা যান আমি আমার বাড়িতে যায় . অতঃপর তৃষা চলে গেল আর আবিরও বাড়িতে চলে এল।ঘড়িতে এখন ৪টা বাজে।তারমানে তাদের এতটুকু আসতে ৪ ঘন্টা লেগেছে।আগে তো এত সময় লাগতো না.. . চলবে.... . লেখাঃ #অভ্র_অমৃত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অর্ধমানবী শেষ পর্ব
→ অর্ধমানবী পর্ব-২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now