বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।।প্রতিবেশী।।
লেখক- রোদ বৃষ্টি অথবা অন্যকিছু
শহুরে জীবন আর গ্রামীণ জীবনের প্রার্থক্য
বিস্তর!
গ্রামীন জীবন হচ্ছে ভালোবাসার,
আর
শহুরে জীবন হচ্ছে টাকার!
মাঝেমাঝে মনে হয়
শহরের মানুষগুলো হল কনক্রিটের!!!
আর গ্রামের মানুষেরা ত মাটির।
মাঝেমাঝে আমার মনে হয়
আমিও কী মাটি থেকে কনক্রিটের হয়ে
যাচ্ছি!!!
অনেকটা বাধ্য হয়ে আমি শহুরে জীবনে
অভস্ত্য
হওয়ার চেষ্টা করছি!!!
এখানে টাকা ছাড়া এক পা এগুনো অসম্ভব!
আমি সমুদ্র,
মানে আমার নাম সমুদ্র,
অবাক হবেন না আমার নাম দেখে,
মা-বাবা অনেক সখ করে আমার নামটি
রেখেছে
আমার নামের মত আমার ও কোন কূল
কিনারা নাই!
মানে আমি এতিম,
ছোট বেলায় মা-বাবাকে হারায়,
খালার কাছে থাকতাম,
এখন নিজের লেখাপড়ার প্রয়োজনে
শহরে আসছি।
ব্যাচেলার লাইফ!!!
ব্যাচেলার লাইফ কী রকম আপনাদের না
বললে ও বুঝবেন।
রাত বারোটা গরমে কাহিল অবস্থা
ঘুমানোর জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি
কিন্তু ঘুম কেন জানি না আমার চোখে ধরা
দিচ্ছে না!!!
সাথে আরেকটি যন্ত্রণা যুক্ত হল!!!
শব্দ এত রাতে কিসের শব্দ এত্ত!!!
রুমমেটককে জিঙ্গেস করলাম
কিরে কিসের শব্দ এত্ত সাদমান???
আমার রুমমেটের নাম সাদমান,
সাদমান বলল নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে
পাশের ফ্লাইটে।
আমি বললাম এত্ত রাতে আর সময় ফেল না!!
বিরক্তির সুরে।
পরদিন সকালে ঝগড়ার শব্দে ঘুম ভাঙলো।
কে ঝগড়া করে?
পরে জানতে পারলাম
আমাদের নতুন প্রতিবেশী।
সময় বহমান
কিছুদিন ধরে আমি একটি বিষয় লক্ষ করছি।
আমাদের প্রতিবেশির ঘর থেকে কিছুক্ষণ
পর পর শুধু কান্নার শব্দ শুনা যায়।
আর ঝগড়া ত দিনে রুটিন অনুযায়ী শুরু হয়।
আমাদের নতুন প্রতিবেশির ওপর আমি এবং
সাদমান খুব বিরক্ত।
কান্নার আর ঝগড়া শুনে বুঝতে পারলাম
আমাদের প্রতিবেশি চারজন একজন পুরুষ
একজন মহিলা একজন অল্প বয়স্ক ছেলে আর
একজন কিশোরী হবে হয়তো!
আমি শুধু পুরুষ মানুষটাকে দেখেছি কী
মায়াবী চেহেরা তার!!!
আলাপ করার ইচ্ছে আমার তাকলে ও
লোকটির অভিব্যক্তি দেখে মনে হল
তার আমার সাথে কথা বলার কিঞ্চিৎ
পরিমান ও আগ্রহ নায়!
তাই আমি ও আর আগ্রহ দেখালাম না।
মাঝেমাঝে তাদের ঝগড়া শুনে খুব মজা
লাগে একেবারে হিন্দি সিরিয়ালের মত!!!
খোজখবর নিয়ে ও প্রতিবেশির সম্পর্কে
তেমন কিছু জানতে পারলাম না।
একদিন আমি বাজার করে ফিরছি দেখি
প্রতিবেশি বাইরে যাচ্ছে,
এরকম কয়েকদিন লক্ষ্য করলাম।
একদিন একটি অদ্ভুদ ব্যাাপার লক্ষ করলাম,
পুরুষ মানুষটি যখন ঘরে থাকে ঠিক তখনি
ঝগড়া হয়,
সে বাইরে চলে গেলে আর ঝগড়ার শব্দ শুনি
না!!!
কাল আমার পরীক্ষা
পড়তে বসছি
ঠিক তখনি ঝগড়া শুরু করে আমার
প্রতিবেশিরা।
আমি ধৈর্য হারিয়ে ফেলি
বাইরে গিয়ে প্রতিবেশির দরজায় জোড়ে
করাঘাত করি।
তবু ঝগড়া চলছে।
আমি এবার চিৎকার দিলাম।
আওয়াজ আর নায়
মানে ঝগড়া বন্ধ হয়ছে।
আমি ফিরে এসে আবার পড়তে বসি।
পাঁচ মিনিট যেতে না যেতে
আবার ঝগড়া শুরু!
আমি আবার গেলাম
আবার চিৎকার দিয়ে ডাকলাম,
ঝগড়া বন্ধ
ফিরে আসছি ঠিক তখন দেখি দরজা খোলার
শব্দ!
পিছনে ফিরে দেখি লোকটি রক্তচক্ষু করে
দাড়ানো।
আমি তার কাছে গেলাম গিয়ে তাদের
ঝগড়ার ফলে আমার যে সমস্যা হচ্ছে তা
তাকে বললাম,
কিন্তু সে কোন কথা বলছে না একদৃষ্টিতে
আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি তার কাছে যাওয়ার পর একটি অদ্ভুদ
বিষয় লক্ষ করলাম তার পায়ে নুপুর!!!
বিষয়টি আমাকে হতবাক করেছিল।
এরপর আমি চলে আসি আর ঝগড়ার আওয়াজ
পাচ্ছি না।
কয়েকদিন পর বাসার সবাই বাড়ি চলে গেল
কলেজ বন্ধ তাই।
আমি যাইনি যেতে মন চাইনি তাই
গেলেই ত খালা কথা শুনাবে।
বিকেলে আমি নাস্তা করার জন্য নিচে
যাচ্ছি,
ঠিক তখনি আমার প্রতিবেশি লোকটির
সঙ্গে আমার দেখা,
একগাল হাসি দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে
আসলো আমাকে বলল কেমন আছ?
আমি কী বলব বুঝতে পারছি না !!!
যে লোক আমার সাথে গত ৩মাসে কথা বলে
নি সে হঠাৎ আজকে!!
দ্বিধাজড়িত কন্ঠে বললাম ভালো আপনি
লোকটি বলল ভালো,
লোকটির চোখের দিকে তাকিয়ে যেন
আমি ধীরে ধীরে সম্মোহিত হয়ে যাচ্ছি,!
লোকটি বলল তোমাদের বাসায় ত কেও নাই
আজকে রাতে আমাদের বাসায় তাই
তোমার দাওয়াত!
আমি একবার ভাবতে পারলাম না লোকটি
কী ভাবে জানলো বাসায় কেও না থাকার
কথাটা!
আমি দাওয়াত গ্রহণ করলাম।
কী হচ্ছে আমি বুঝে ওঠতে পারছিলাম না!
রাতে আমি প্রতিবেশির বাসায় গেলাম
লোকটি একা বসে আছে
আমাকে দেখতে পেয়ে বসতে বললো
লোকটি আমাকে এনে আমাকে এক গ্লাস
পানীয় দিল কী পানীয় জানি না।
অদ্ভুদ স্বাদ।
আমি জ্ঞান হারালাম
তার পর আর মনে নাই।
জ্ঞান যখন ফিরলো নিজেকে হাত পা
বাধা অবস্থায় আবিস্কার করলাম!
লোকটি সামনে বসা
আমার জ্ঞান ফেরার অপেক্ষারত ছিল মনে
হয়,
হঠাৎ তার মুখ দিয়ে
নারী কন্ঠ
শিশুর কন্ঠ
কিশোরীর কন্ঠে
আমার সাথে কথা বলতে লাগলো!!!
আর হাসতে লাগলো
সে আজ নাকি নতুন শক্তি
অর্জন করবে।
আমার খুব ভয় করছিল ভয়ে কন্ঠনালি দিয়ে
কোন শব্দ বের হচ্ছিল না!
লোকটি একটি ছোট্ট মূর্তির সামনে
মোমবাতি জ্বালিয়ে নারী বেশ নিয়ে
নাঁচতে লাগলো,
কিছুক্ষণ পর আমি আরো তিনটে ছায়া
মূর্তি দেখতে পেলাম।
ধীরে ধীরে
আমার শরীলে প্রচন্ড ব্যাথা জেগে উঠতে,
প্রতিবেশী
২
লাগলো,
আমার দেহ থেকে আমি যেন আলাদা হয়ে
যাচ্ছি।
কিছুক্ষণ পর
লোকটি একটি মানুষের দেহকে টেনে
আমাদের ফ্লাটে নিয়ে গেল।
তারপর
লোকটি বাসার সব কিছু গুছিয়ে নিল।
তালা লাগিয়ে দিল।
তারপর
আমি লোকটিকে অনুসরণ করছি,
শুধু আমি না আরো তিনটি ছায়া মূর্তি
সহ।
লোকটি নিচে গিয়ে বাড়িওলাকে বাসার
চাবি বুঝিয়ে দিল।
বুঝতে পারলাম শয়তানটি বাসা ছেড়ে
দিচ্ছে।
জমিদার কী আমাকে দেখতে পাচ্ছে না??
না তিনি আমাকে দেখতে পাচ্ছে না।
আমার অসহায় চিৎকার তিনি শুনছেন না।
আমার এই কার্যকলাপ দেখে,
ঐ তিনটি ছায়া মূর্তি অট্ট হাসি হাসছে।
নিজেকে কেন জানি না খুব হালকা
লাগছে।
যেন এখনি বাতাসে উড়ে যাবো।
আমার পাশে চলা সে তিনটি ছায়া মূর্তি
একটি শিশুর
একটি কিশোরীর
আর
একটি মহিলার।
এদের কথা কী
শুনতে পেতাম তখন?
আমি আজীবনের জন্য আজ বন্দী।
কেও কী আমার খোজ নিবে।
হয়তো অনেকে আমি হারিয়ে গেছি ভেবে
অনেক খুশি হবে।
তাদের আপদ ত বিদায় হল।
অজানা পথে লক্ষ্য আমি সম্মোহিত হয়ে
লোকটিকে অনুসরণ করছি।
আর কেন জানি না
এত্ত কষ্ট শর্তেও আমার চোখ দিয়ে আর
লোনা স্রোত বহমান হচ্ছে না।
হয়তো এটিই মৃত্যু।
(গল্পটা কোন শ্রেণীতে পরেছে জানান ৷ আমি সেই শ্রেণীতে এডেট করে দিন)
(সমাপ্ত
কাল্পনিক
ভূল মার্জনীয়)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now