বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাপ্রাইজ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ovro Amrito (০ পয়েন্ট)

X ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং -হ্যালো ! (চৈতী) -তুমি কোথায় ? (সাগর) -হোস্টেলে । -কি করো ? -পড়ছি আর তোমার কথা ভাবছিলাম । -ও তাই ! -হুম । -আচ্ছা কালকে কি করছো ? -কিছু না ।কেন ! -কালকে তোমার জন্য একটা সাপ্রাইজ আছে । -সাপ্রাইজ !কি সাপ্রাইজ একটু বলো না । -বলে দিলে সাপ্রাইজের কি থাকলো ? -সেটাও ঠিক । -কালকে ঠিক ৬টায় আমার মেসে চলে এসো । -তোমার মেসে যাব কেন ? -বললাম না সাপ্রাইজ দিব । -আমি যেতে পারব না । কালকে আমার অন্য কাজ আছে । -আমার থেকে তোমার কাজ বড় হল ।আসলে তুমি আমাকে ভালোই বাসো না । -তুমি আমার সাথে মজা করো কেন ?জানো না তোমাকে কতটা ভালোবাসি । -যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো তবে কালকে ঠিক ৬টায় আমার মেসে চলে এসো । -প্লীজ তুমি আমাকে এমন দোহায় দিও না । -যদি সত্যিই ভালোবাসো তবে আসতেই হবে । -প্লীজ ।এমন শর্ত দিও না । -কালকে ৬ টার সময় আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব । -আমার কথাটা শুনো । . . টুট টুট টুট ।চৈতী কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই কলটা কেটে গেল ।ও আপনাদের তো পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি ,মেয়েটির নাম চৈতী আর ছেলেটি সাগর ।ওদের রিলেশনের প্রায় ৪ বছরের ।যতদূর জানা যায় সাগর ছেলেটি খুব ভালো ।তবে আজকের কথাগুলো শোনার পর তার মনের আকাশ ঢেকে যায় কালো মেঘে । একটু পড়েই বৃষ্টি নামবে তার দু চোখ বেয়ে ।সে ভাবতেও পারেনি যে সাগরও আর ১০টা ছেলের মতো তাকেও সস্তা মেয়ে ভেবেছে ।শেষ পর্যন্ত তাকেও তার রুমে নেওয়ার প্রস্তাব দিল ।এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে চোখের জল বেরিয়ে এসেছে সেটা সে জানতেও পারেনি । যদি না বান্ধবী অনু তার বিষয়টা জানতে না চাইতো । . -কি রে তোকে কখন থেকে ডাকছি আর তুই উপর হয়ে শুয়ে আছিস ? দেখি এদিকে ঘোর ।এ কি রে তুই কাঁদছিস কেন ? (অনু) -দোস্ত আমার সব শেষ । (চৈতী) -কি শেষ ? -সাগরকে আমি ভালো ভেবেছিলাম আর ও যে এতটা নীচ সেটা ভাবতেও পারিনী । -সাগর ভাইয়া আবার কি করল ? -শেষ পর্যন্ত ও আমাকে রুমে ডাকল । -কি বলিস । দেখে তো মনেই হয় না যে ও এটা বলতে পারে । -আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছি । ও বলেছে যদি আমি ওকে ভালোবাসি তবে কালকে সন্ধ্যা ৬টায় ওর মেসে যেতে হবে । -তুই কি করবি ? -কি করব কিছুই বুঝছি না ।আমি যে ওকে সত্যিই ভালোবাসি ।যদি না যায় তবে আমার ভালোবাসা মিথ্যা হয়ে যাবে ।আর গেলেও ও যে খারাপ কিছু করবে না সেটার ভরসা পাচ্ছি না । -আমার মনে হয় যাওয়া উচিত । - কি বলছিস তুই ? -ঠিকই বলছি ।ব্যাগে একটা ছুড়ি নিয়ে যাবি ।যদি খারাপ কিছু করতে যায় তবে একদম শেষ করে দিবি । -আমি কি পারব করতে ? -অবশ্যই পারবি । . অতঃপর ডিনার শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ে । কিন্তু কিছুতেই চৈতীর ঘুম আসছে না । মনের ভিতরে কেমন যানি একটা অস্থিরতা কাজ করছে ।সারারাত বিষয়টা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে সেটা সে নিজেও জানে না । সকালে যখন তার ঘুম ভাঙলো তখন বেলা ১২টা ।ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আবার ভাবতে লাগলো বিষয়টা ।ভাবতে ভাবতে খেতেই ভুলে গেছে সে । যত বেলা বাড়তে লাগলো তত তার মনের উত্তেজনা বাড়তে লাগলো । দেখতে দেখতে দুপুর পেরিয়ে বিকাল । . এখন বিকাল সাড়ে ৫টা ।চৈতী যাচ্ছে সাগরের মেসে ।আজকে একটা কিছু একটা করবেই সে ।সাগরকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে । কিছুক্ষনের মধ্যেই সে সাগরের মেসে পোঁছে গেল ।ম্যাচ বললে ভুল হবে ।সেটা ছিল একটা ফ্ল্যাট । বিল্ডিংটা লোকালয় থেকে একটু দূরে ।কমপক্ষে ৬ টা পরিবার থাকে এখানে । কিন্তু একদম নিরিবিলি ।যখন সে কলিং বেলটা চাপলো সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল ।আশ্চর্য !ভিতরে কেউ নেই তাহলে দরজা খুলল কে !রুমটা খুব পরিপাটি করে সাজানো । মনে হয় পুরো প্রস্তুতি নিয়েই তাকে ডাকা হয়েছে ।অতঃপর রুমের লাইট নিভে গেল ।চৈতীর মনের ভয়টা অনেক গুন বেরে গেল । অতঃপর দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শুনতে পেল সে ।মনে হচ্ছে কেউ একজন তার দিকে এগিয়ে আসছে । ভয়ে চৈতীর গলা শুকিয়ে আসছে । ভয়ে ভয়েই বলল । . -কে ? -আমি । -সাগর । -হ্যাঁ জান । -দেখো সাগর তূমি কিন্তু আমার কিছে আসবে না । -কাছে না এলে সাপ্রাইজ দিব কিভাবে । -দেখো তোমাকে কিন্তু আমি ভালো ছেলে ভেবেছিলাম । -আমি তো ভালোই । -তাহলে রুমের লাইট অফ করলে কেন ? -তোমাকে সাপ্রাইজ দেবার জন্য । -ছিঃ তুমি এতটা নীচ । - ছিঃ বলার কিছুই হয়নি আসলটা তো এখন হবে । -ঠাসসসসসস । . অতঃপর রুমের লাইট জ্বলে উঠলো । . -হ্যাপি বার্থডে টু ইউ । (সাগর) -আমার বার্থডে তোমার মনে ছিল । -থাকবে না কেন ?তুমি আমার কলিজা আর কলিজার বার্থডে ভুলে গেলে হবে । -আমাকে মাফ করে দাও ।আমি তোমার বিষয়ে কি না কি ভেবেছিলাম । -ভেবেছিলে সাগর নামক ছেলেটিও তোমাকে তার ফ্ল্যাটে ডাকলো ।তোমাকেও বাকি পাঁচটা সস্তা মেয়ে ভাবলো । -প্লিজ ক্ষমা করে দাও । -ক্ষমা কিসের জন্য । যেভাবে সাপ্রাইজটা দিয়েছি তাতে তোমার ভাবনাটা স্বাভাবিক । আচ্ছা চলো কেক কাটো । -ছুড়ি কোথায় । -তোমার ব্যাগেই তো আছে । -তুমি জানলে কিভাবে ? -কারন পুরোটাই সাজানো ছিল । তোমাকে সাপ্রাইজ দেবার জন্যই যা কিছু করেছি । -খুব ভালোবাসো তাই না । -ভালোবাসি ।খুব ভালোবাসি আমার পাগলিটাকে...... . . অফুরন্ত ভালোবাসার এক বার্থডে সপ্রাইজ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাপ্রাইজ..!
→ সাপ্রাইজ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now