বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিগন্যাল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ovro Amrito (০ পয়েন্ট)

X "সময়ের সাথে ভোল্টেজের পরিবর্তন হওয়াকে সিগন্যাল বলে"কথাটি বলেই ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীর দিকে একবার তাকালো স্যার অসিত মিত্র। -ছাত্র-ছাত্রীরা কারোর কোনো প্রশ্ন থাকলে বলতে পারো। (স্যার) সুযোগ পাওয়া মাত্রই এক লাফে দাড়িয়ে গেলাম। -স্যার আমার একটা প্রশ্ন আছে।(আমি) -হ্যাঁ বলো। -স্যার আপনার কথা আমি মানতে পারছি না।বারংবার সিগন্যাল দিলেও তো ভোল্টেজের পরিবর্তন হচ্ছে না। -সিগন্যালে অবশ্যই ভোল্টেজের পরিবর্তন ঘটবে। -তাহলে স্যার এতদিন ধরে অবনীকে সিগন্যাল দিচ্ছি ওর ভোল্টেজের কোনো পরিবর্তন হয়নি কেনো? কথাটি বলার সাথে সাথেই ক্লাসের সকল শিক্ষার্থীর হাসির রোল পড়ে গেল। অপরদিকে শুরু হয়ে গেল স্যারের বকুনি, -ফাজিল,ইডিয়েট তোমার এতবড় সাহস প্রেম-ভালোবাসার কথা স্যারের সামনে বলো। (ধমকের সাথে) -স্যার আমার সিগন্যালে ভোল্টেজের পরিবর্তন হচ্ছিলো না তাই বললাম।আপনি যদি ভোল্টেজ পরিবর্তন করে দিতেন! -আমাকে দেখে কি ঘটক মনে হয়?ফাজিল ছেলে এই মুহূর্তে আমার ক্লাস থেকে বেড়িয়ে যাও। অতঃপর ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলাম।এই স্যারদের জ্বালায় একটু সিগন্যাল দেওয়া যায় না।আপনার হয়তো ভাবছেন অবনী কে? আবনী হচ্ছে আমার ক্লাসমেট এবং বেস্টফ্রেন্ড।সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকে ওকে সিগন্যাল দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু ওর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সারা পায়নি। আরে সারা পাওয়া দূরের কথা ওর ভোল্টেজেরই কোনো পরিবর্তন হয়নি।এই যে এসে গেছে মহারানী।ওর এই হাঁসিমাখা মুখ দেখেই বুঝি বারবার ক্রাশ খাই।স্যারের বকুনিতে এখন ওর এই এই সুন্দর হাসিটাই আমার কাছে বিশ্রী লাগছে। -ঐ তোর হাঁসি থামাবি! (আমি) -প্রতিটা ক্লাসেই তোকে নিয়ে একেকটা ফান হয়!(অবনী) -সেটা তো তোর জন্যই! -আমার জন্য কেন? -তুই একটু সিগন্যাল দিলেই তো আমার আর এসব করতে হয় না। -দেখ তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড।তোর সাথে রিলেশন করা সম্ভব নয়। -কেনো সম্ভব না।একটু সিগন্যাল দিয়েই দেখ। -আমার তো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই তোর মতো বান্দরকে সিগন্যাল দিতে যাব।তাছাড়া তোর সিগন্যালে ড্রপ বেশি। -দেখ আমাকে আর যায় বলিস বান্দর বলবি না। -ওলে বাবা লে।বাবু দেখি রাগ করেছে। -যাতো এখান থেকে। একটু একা থাকতে দে। -চল ক্যান্টিনে যায়। আজকে আমার মনটা অনেক ভালো।তোকে একটা ট্রিট দিব। -লাগবে না তোর ট্রিট। -চল বলছি। অতঃপর টানতে টানতে ক্যান্টিনে নিয়েই এল। আমি জানি ও মনে মনে আমাকে ভালোবাসে কিন্তু বলে না।আমিও নাছোরবান্দা ওর মুখ থেকে কথাটা বের করিয়েই ছাড়ব। পরেরদিন ক্লাসে গিয়ে একটু বুদ্ধি খাটালাম। অবনীর পাশে না বসে নিধির পাশে বসলাম। এদিকে এই দৃশ্য দেখে অবনী তো রেগে আগ্নেয়গিরি হয়ে গেছে।এই বুঝি বিষ্ফোরিত হবে। আমিও কম কিসে? অবনীকে দেখিয়ে দেখিয়ে নিধির সাথে গল্প জুড়ে দিলাম। আজকে ক্লাসে একটুও দুষ্টামি করিনী।ক্লাস শেষে দরজার কাছে যেতেই, -আজকে তো একদম ভদ্র ছেলের মতো ক্লাস করলি!(অবনী) -মা বলেছে ভদ্র হয়ে থাকতে আর ভালোভাবে ক্লাস করতে(আমি) -আন্টি মনে হয় এটাও বলে দিয়েছে যে আমার সাথে বসা যাবে না? -সেটাতো বলেনি। -তাহলে আজকে আমার সাথে না বসে নিধির সাথে বসলি কেন? -শুধুমাত্র তোর সাথেই বসতে হবে এমন তো কোনো সংবিধানে লেখা নেই।আচ্ছা আমার একটা কাজ করে দিতে পারবি? -কি কাজ? -নিধির সাথে আমার লাইনটা করিয়ে দে! -পারিস তো নিজেই করে নে। -দেখ তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড তাই তোকেই আমার লাইনটা করিয়ে দিতে হবে। -পারব না।এসব কাজ আমার দ্বারা হবে না। -মানে এক ফ্রেন্ড প্রেমে পড়েছে আরেক ফ্রেন্ড তাকে সাহায্য করবে না। -না করবে না। কথাটি বলেই অবনী চলে গেল।তারপরে দুদিন কেটে গেল তবুও অবনী কলেজে আসেনি।মনে হচ্ছে সেদিনের অভিনয়টা একটু বেশিই হয়েছিল। এদিকে অবনীকে ছাড়া আমারও ক্লাসে মন বসছে না।তিথির কাছে গেলেও ওর বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। -তিথি তোর সাথে কিছু কথা ছিল।(আমি) -বল।(তিথি) -আচ্ছা অবনীকে এই কয়দিনে কলেজে দেখা যাচ্ছে না কেন? -তা তো আমি বলতে পারি না। -ও তোর কাজিন আর ওর খবর তুই জানিস না? -ও তো তোর বেস্টফ্রেন্ড তুই ওর খবর রাখতে পারিস না। -দেখ তোর সাথে ঝগড়া করার কোনো মুড নেই। -আচ্ছা কিছু হয়েছে নাকি? -কিছু তো একটা হয়েছেই নাহলে ওর ফোন অফ,ফেসবুক ডিএক্টিভেট করে রাখা কেন? -ও তো কখনো এমন করে না।আচ্ছা ওর কি কিছু হলো নাতো? -ক্লাস ছুটির পরে ওর বাসায় যাবি? -ওকে যাওয়া যাবে। -ক্লাশ শেষে আমি কলেজ গেটে অপেক্ষা করব তুই চলে আসিস। -ওকে। অতঃপর কলেজ ছুটির পরে আমি আর তিথি অবনীর বাসাতে গেলাম।দরজাতে কলিং বেল চাপতেই আন্টি মানে অবনীর মা দরজা খুলল। -একি আবির,তিথি তোমরা এই সময়ে! (আন্টি) -আন্টি কিছুদিন ধরে অবনী কলেজে যাচ্ছে না।তাই খোঁজ নিতে এলাম।(আমি) -দুই দিন আগে কলেজ থেকে এসে কি হলো জানি না তারপর ও আর রুম থেকেই বের হচ্ছে না। অতঃপর আসল কারনটা বুঝলাম। -আচ্ছা আন্টি ওর সাথে দেখা করা যাবে। -হ্যাঁ ওতো ওর রুমেই আছে। -আবির তুই গিয়ে দেখা করে আয় আমি আন্টির সাথে গল্প করি।(তিথি) অতঃপর অবনীর রুমে চলে এলাম।রুমটা একেবারে অন্ধকার তাই লাইট জ্বালালাম। -তুই আমার রুমে কি করছিস?(অবনী) -না তুই দুইদিন ধরে কলেজ যাচ্ছিস না তাই তোর খোঁজ নিতে এলাম।(আমি) -কেনো নিধি আজকে পাশে বসতে দেয়নি? -আচ্ছা তোর কি হয়েছে বলতো? -আমার কিছু হয়নি। আমি ঠিক আছি! -তাহলে তোর ফোন ফেসবুক দুটোই অফ কেন? -আমার এসব ভালো লাগে না। -কেন লাগে না? -আমাকে একটু একা থাকতে দিবি? -আচ্ছা তুই কি আমার কথাতে রাগ করেছিস? -তোর কথায় রাগ করব কেন?তুই আমার কে? -তুই কি আমাকে ভালোবাসিস? -না। -হ্যাঁ। -না। -হ্যাঁ। -হ্যাঁ তোকে আমি ভালোবাসি। অবশেষে অসিত স্যারের পড়া প্রমানিত হলো।সময়ের সাথে ভোল্টেজের পরিবর্তন হয়ে এনালগ সিগন্যাল ডিজিটালে পরিনত হলো। . লেখাঃ #অভ্র_অমৃত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ সিগন্যাল
→ একটি সিগন্যাল ও আমার আমি
→ ট্রাফিক সিগন্যালে প্রেম--

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now