বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গেট খুলে বাসায় ঢুকতেই বাবা চিৎকার
করে
বলল,
-তোর মত নিলজ্জ ছেলে আমি পৃথিবীতে
একটাও দেখিনি,,এখনি বের হয়ে যা
বাসা
থেকে।
.
বাবা হয়ত এটা বলার জন্য রেডি হয়েই
ছিল।
আমি বাবার কথা শুনে একটু অবাক হলাম,
মনে
করতে লাগলাম গত কয়েক দিনে কোন ভুল
ভাল
কাজ করেছি কিনা?
নাহ,একটাও মনে পড়ল না।
.
মা পাশেই ছিল তাই মায়ের মুখের দিকে
তাকালাম। ইশারায় জিজ্ঞেস করলাম
কি
হয়েছে?
মা কোন কিছু বলল না,যেমন ছিল তেমনই
রইল।
মাকে দেখে মনে হল উনিও একটু রেগে
আছেন। হঠাৎ আবার কি এমন হল, কিছুই
মাথায়
আসল না।
.
আমি আস্তে করে জিজ্ঞেস করলাম,
-কি হয়েছে?
-কি হইছে,এই দেখ,,
.
বাবা ওনার হাতের মোবাইল টা আমার
চোখের সামনে ধরল।স্ক্রিনের দিকে
তাকাতেই আমার প্রাণ উড়ে গেল।আমি
আর
নিতু হাত ধরে বসে আছি।তাও সেই রকম
ভাবে
বসে আছি।
এ ছবি বাবার কাছে এল কিভাবে?
.
ছবিটাকে যে অস্বীকার করব তারো কোন
উপায় নেই।ছবিতে যে শার্ট টা পড়ে
আছি,
সেটা এখনো আমার গায়ে কারণ ছবিটা
আজ
বিকেলের।বিকেলেই নিতুর সাথে
দেখা
করে এসেছি।
লজ্জার মাথা খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
-আপনি ছবি তুলছেন?
-গাধা, আমার কোন কাজ নাই আমি ছবি
তুলব।
মানুষ বাসায় এসে দিয়ে যায়।
-কে দিছে,
-দোতলার মিসেস খন্দকার,,
.
মনে হচ্ছিল, এই মহিলাই কিছু করছে।নিতু
আর
আমার প্রেমের কথা এই পুরো বিল্ডিং এ
এই
মহিলা ছাড়া অন্য কেউ জানেনা।সেদিন
লিফটে দেখে ফেলছিল।এই মহিলার
সাথে
কখনোই আমার ভাল সম্পর্ক ছিল না তাই
বলে
ইনি যে গোয়েন্দাগিরি করে ছবি তুলে
নিয়ে
এসে বাবাকে দিবেন ভাবিনি।
সুযোগ পাইলে ঠিক ঠাক একটা বদলা
অবশ্যই
নিব।
.
এবার মা মুখ খুলল,
-তুই আর দুনিয়াতে অন্য মেয়ে পাইলিনা,
-কেন? নিতু কি খারাপ?
-ওর বাপের জন্য তোর বাবা বিল্ডিং এর
সেক্রেটারির নির্বাচন টা হেরে গেছে,
-তাতে ওর কি দোষ?
.
এবার বাবা চিৎকার করে উঠে বলল,
-এত কিছু জানতে চাইনা,ওই মেয়ের সাথে
যা
ছিল এখানেই শেষ করো।আর যেন কিছু না
শুনি,
.
শেষ বললেই কি আর শেষ হয়। তখনি বাসার
কলিং বেল বেজে উঠল। আমি ঘরে এসে
মোবাইল টা বের করে নিতুকে ফোন
দিলাম,
-হ্যালো,,
-বাসায় কোন সমস্যা হইছে?
-হ্যাঁ,
-ফটো কি তোমার বাসাতেও গেছে?
-হুম,,বাবা বলতেছে এক সপ্তাহের মধ্য
আমার
বিয়ে দিবে,
-টেনিশন নিওনা,দেখতেছি কি করা
যায়।
.
কথা বলে শেষে বসার রুমে গিয়ে দেখি
নিচতলার এক আন্টি আসছে। উনিও কোন
ভাবে ছবি দেখছেন।তাই আর কি
জিজ্ঞাসাবাদ করতে আসছেন, ব্যাপার
টা
সত্যি কিনা।
বাবা ওই আন্টির কথার কোন জবাব না
দিয়ে
শুধু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
আন্টি
আমাকেও জিজ্ঞেস করল,
-ঘটনা কি সত্য,
.
আমিও কোন জবান দিলাম না,তবে
মৌনতা
সম্মতির লক্ষ্যন,এটা ওই আন্টি খুব
ভালভাবে
বুঝে নিয়ে বাসা থেকে বিদায় নিলেন।
.
আন্টি চলে যেতেই বাবা বলল,
-সবাই জেনে গেছে,মান সম্মান আর কিছু
থাকল না।
.
আমি আস্তে করে বললাম,
-বাবা তোমার হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ
নিতেই এই প্রেম টা আমি করছি,
.
বাবা আমার কথার জবাবে কিছু বলল না।
শুধু
নির্বাক চোখে তাকিয়ে রইল।
.
আমার আর নিতুর প্রেমের নিউজ টা
ছড়িয়ে
গেল খুব দ্রুত।এ বিল্ডিং,ও বিল্ডিং
তারপর
পুরো মহল্লা।এমন কি আশেপাশের
মহল্লাতেও। চেনা পরিচিত সবাই
জিজ্ঞেস
করে,
-কি ভাই,কি অবস্থা?
.
খুবই অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হল আমার
জন্য।একই সাথে নিতুর জন্য।আর আমাদের
পরিবারের জন্যও।
.
সেদিন রাত্রে আবার বাবার সামনে
পড়লাম।
বাবা খুব বিষণ্ণ ভাবে বলল,
-তোর জন্য আমার সব মান সম্মান শেষ,
তোদের বিয়ে দেওয়া ছাড়া কোন উপায়
ও
নেই।
.
আমি কথাটা শুনে মনে মনে প্রীত হলাম।
এ কথাটা আজ নিতুর বাবা নিতুকে
বিকেলেই
বলেছে।
বাবা আবার বলল,
-নিতুর বাবা কি রাজি হবে?
.
আমি এবার মুখ খুললাম,
-শুধু রাজী হবে না বাবা,,এর পরের বার এই
বিল্ডিং এর সেক্রেটারিও আপনি হবেন।
.
আমার কথা শেষ হতে না হতেই বাসার
কলিংবেল বেজে উঠল। বাবা আমাকে
ভেতরে পাঠিয়ে দিল। আমি আমার ঘরে
চলে
এলাম।
নিজের ঘর থেকেই বুঝলাম, নিতুর বাবা
মা
আসছে। নিতু বলেছিল এ কাজটা খুব দ্রুত
হবে
তবে এত দ্রুত ভাবিনি।
.
আমার বাবা আর নিতুর বাবার কথোপকথন
শুনে মন টা ভরে গেল।
নিতুর বাবার সাথে আমার বাবা এত ভাল
ব্যাবহার করবেন এটা কখনো ভাবিনি।
কালকেও এনাদের মধ্য দাঁ কুড়াল রিলেশন
ছিল।মান সম্মান বাঁচানোর জন্য এরকম
অনেক
অপ্রিয় কাজ করতে হয়।
.
আমি নিজের ঘরে বসেই শুনলাম নিতুর
বাবা
বলল,
-ছেলে মেয়েরা যা করছে,,
সেই ভুল টা আমাদেরই তো শোধরাতে
হবে,
বাবা বলল,
-হুম,তা তো অবশ্যই,
.
এবার নিতুর মা বলল,
-আপনাদের অনুমতি থাকলে ওদের বিয়ে
দেই,
.
পাশ থেকে আমার মা বলল,
-এটাই ভাল,তাহলে মান সম্মান টাও
বাঁচবে।
.
খুব দ্রুত মিষ্টি মুখ হয়ে গেল।বিয়ের দিন
ও
ঠিক হয়ে গেল।দুই সপ্তাহ পরেই বিয়ে।
.
দোতলার মিসেস খন্দকার এর উপর যা রাগ
ছিল সব পরে গেল।মহিলা ধন্যবাদ
পাওয়ার
যোগ্য। এত সহজেই আমার আর নিতুর বিয়ের
জন্য আমাদের পরিবার রাজি হবে
ভাবিনি।
দুই দিন আগেও ভাবতাম, আমাদের
পালিয়েই
বিয়ে করতে হবে কিন্তু এখন পারিবারিক
ভাবেই বিয়ে হচ্ছে।
.
নিতুকে ফোন দিলাম,
-হ্যাঁ বলো,
-বিয়ে ঠিক হইছে,
-সত্যি?
-হুম,দু সপ্তাহ পর,
-দারুন,
-দোতলার মিসেস খন্দকার কে একটা
ধন্যবাদ
দিয়ে আসব নাকি?
-কালকে দুজন এক সাথে গিয়ে আসব।
-আচ্ছা,,
.
যথারিথী পরের দিন নিতুকে নিয়ে
উপস্থিত
হলাম মিসেস খন্দকার এর বাসায়।যথেষ্ট
সুন্দরী মহিলা।আমাদের খুব আপ্যায়ন করে
ভেতরে নিয়ে গেলেন।ওনার স্বামী
বিদেশে
থাকে,তাই উনি ফ্লাটে একাই থাকেন।
সাথে
অবশ্য ওনার সাত বছরের ছেলে থাকে।
.
আমি ঘরে ঢুকেই বললাম,
-আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মিসেস খন্দকার,
-কেন?
-আপনার জন্যই আমাদের বিয়েটা এত দ্রুত
হচ্ছে,
.
উনি আমার কথায় হেসে ফেললেন।আমি
অবাক হলাম,কারণ আমি কোন জোক্স
বলিনি।
ওনার দেখা দেখি পাশে বসা নিতুও
হাসাহাসি শুরু করল।
.
আমি নিতুকে জিজ্ঞেস করলাম,
-কি হল,হাসছ কেন?
.
এবার মিসেস খন্দকার বললেন,
-পুরো বুদ্ধিটাই নিতুর ছিল,
-মানে?
-নিতুই প্লান করে ছবি তুলে তোমার আর
ওর
বাবার কাছে পাঠিয়ে ছিল।আমি তো শুধু
বাহন হিসেবে ছিলাম।
.
আমি নিতুর দিকে তাকালাম,ও এখনো
হাসছে। -তুমি করছ এসব?
-হুম,তুমি তো ভীতু,কিছুও বলতে পারোনা।
তাই
এ ব্যাবস্থা করছ,
-আমাকে একবার বলতা?
-বললে,এত মজা হত না,
.
প্রথমে নিতুর প্রতি একটু রাগ উঠলেও, এখন
মনে হচ্ছে,ওর একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য।
এরকম
কিছু না করলে আমাদের খুব খারাপ কিছুই
হতো ।
-ধন্যবাদ নিতু...
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now