বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-- এই তুমি এভাবে সেজেঁ আসলে কেন?
.
আমার প্রশ্নে খানিকটা বিব্রত হয়ে নিত্তিয়া বলল...
-- চোখে কাজল দিলেও দোষ আর না দিলেও দোষ।
-- সেটা তো আমি বলছি না। চোখে কাজল দিয়েছো তো বেশ কিন্তু কাজল দেওয়ার পর অবশ্যই কেঁদে ছিলে।
-- ওইটা কান্না নয় বোকা। আসলে আমার কাজলে এলার্জি আছে তো। খুব চুলকায় তাই চোখ দিয়ে জল চলে আসছিল।
-- এলার্জি থাকলে চোখে কাজল দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বুঝি।
-- কেউ একজন যে আমার চোখের কাজলে তার অনুভূতি গুলো খুজেঁ পায়। তার সেই অনুভূতির কাছে যে আমার চোখের জলটা তুচ্ছ।
-- বাব্বা বেশ রোমান্টিক মোডে আছো দেখছি?
-- তুমি যখন আমার হাতটা ধরে থাকো তখন তো আমার ভুবনটাই তুমি। আর তোমার ভুবনটা সম্পূর্ণ আমার মত করে সাজিয়ে নিয়েছি। তাই একটু রোমান্টিক।
.
নিত্তিয়ার কথা গুলো এতটাই আকর্ষন করছে যে ওর চুল গুলো কানে গুজেঁ দিতে বাধ্য হলাম। তখন নিত্তিয়া মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে মুখটা লুকানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু আজকে মেয়েটা অনইচ্ছা শর্তেও আমার জন্য চোখে কাজল দিয়ে পুরো গালটাই কালো করে ফেলেছে। কখনো নিত্তিয়াকে ভালবাসি বলি নি তবুও তাকে আমি বড্ড বেশি ভালবাসি।
.
রাতে বসে বসে ল্যাপটপ চালাচ্ছি তখনই পাগলী নিত্তিয়ার ফোনটা আসলো।
-- হুমম পাগলী বলো।
-- তুমি কই??( কান্না করছে)
-- আরে বোকা মেয়ে কান্না করছো কেন?
-- আমি প্রশ্ন করেছি তুমি এখন কোথায়?
-- রুমে...
-- পাচঁটা থেকে একটু আগে পর্যন্ত মোবাইল বন্ধ ছিল কেন তোমার?
-- আসলে চার্জ ছিল না তো..
-- মিথ্যা বলতে হবে না। রিকশায় ওই শয়তানী টা কে ছিলো?? তোমার জি এফ তাই না। তুমি আমাকে ভালবাসলে নাকি অভিনয় করলে। এখন অন্য মেয়ের সাথে ঘুরতেছো। আর কখনো ফোন দিবে না আমায়।
.
বলেই ফোনটা কেটে দিলো। আজকে রিপ্তিকে সাথে নিয়ে একটু রিপ্তিদের বাসায় গেছিলাম। আসলে রিপ্তি আমার ফ্রেন্ডের জি এফ। ওর বাসায় একটু সমস্যা ছিল তাই গিয়ে ছিলাম আর তখন হয়ত নিত্তিয়া আমাদের দেখেছে। এখন উল্টা পাল্টা ভেবে নিজে কান্না করছে। আমি জানি ও আমায় আবার ফোন দিবে।
.
প্রায় ৪০ মিনিট পর নিত্তিয়ার আবার ফোন আসলো...
-- হুমম মেডাম বলো।
ও কিছু বলছে না, শুধু কান্না করেই চলেছে।
-- কি হলো কিছু কি বলবে?
-- তুমি আমার রাগ ভাঙ্গাবে না। এত কষ্ট দিচ্ছো কেন?
-- আমাকে কি একটু কথা বলার সুযোগ দিবে নাকি নিজেই বকবক করবে।
-- হুমম বলো।
-- একটু বেলকনীতে আসবে।
-- তুমি???(অবাক হয়ে)
-- হুম তোমার বাসার নিচে আছি।
কোন উত্তর না দিয়ে দৌড়ে আসলো। এসেই বাচ্চাদের মত হাতের পিট দিয়ে চোখের জল গুলো মুছতে লাগলো।তারপর আবার বলল...
-- এখানে আসছো কেন? ওই মেয়ের সাথে বুঝি ব্রেকআপ হইছে?
-- ওই মেয়ের সাথে আমার বিয়ে। তোমাকে নিমন্ত্রণ দিতে আসছি এখন।
-- রাজ....
বলেই কান্না করতে করতে বেলকনিতে বসে পড়লো।
-- আরে বোকা মেয়ে নাকি। ওইটা আমার ফ্রেন্ডের জি এফ হয়। আর ওরে নিয়ে ওদের বাসায় একটু সমস্যার কারনে গিয়ে ছিলাম। সরি তো বাবা...
চোখ আবার মুছতে মুছতে উঠে দাড়ালো। পাগলী মেয়েটাকে নিয়ে পারা যায় না। অসম্ভব পাগলী ও।
-- সত্যি বলছো তো, ও তোমার কি লাগে না ।
-- হলেই বা সমস্যা কি?? তোমারই তো সতীন হবে। এক সাথে গল্প করতে পারবে।
-- রাজ একদম ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
-- ওকে, সত্যি বলছি ও আমার কিছুই লাগে না ।
-- চকলেট,আইসক্রিম আর একটা চিপস কিনে দিয়ে যাও তো সামনের দোকান থেকে। আসলে দুপুর থেকে বাদরটার উপর রাগ করে কিছু খাই নি।
-- ওই এখন এগুলো খাবে না। পরে গ্যাস্ট্রিক হয়ে যাবে। একটু পর ডিনার করে ঘুমাবে ।
-- না হবে না, আমি ওই গুলো খাবো।
-- পিটুনী চিনো। উপরে এসে মেরে যাবো।
-- সত্যি বলছো তাহলে আসো আসো
তোমার হবু শশুড় রুমেই আছে। আমাকে মারতে আসলে তোমাকেই পিটিয়ে দিবে।
-- ওরে বাবা...
-- হইছে এবার কিনে দিয়ে যাও।
-- বললাম না একটু পর ডিনার করবে।
-- প্লিজ,সব গুলো এক কামড় করে খেয়ে তোমার জন্য রেখে দিবো।
-- হা হা হা আচ্ছা গেটের সামনে আসো। আমি কিনে নিয়ে আসছি।
-- আসতেছি...
পাগলীটা অদ্ভূত মায়ার অধিকারি। আমি সব কিছু কিনে আনতেই দেখি নিত্তিয়া একটা বক্স হাতে দাড়িয়ে আছে। ওর হাতে চিপস, চকলেট আর আইসক্রিম দিতে দিতে বললাম...
-- হাতে কি?
-- তোমার হবু বউয়ের হাতে বানানো মাংস।
-- খাওয়া যাবে তো।
-- রাজ ঠিক হচ্ছে না কিন্তু।
-- ওকে আর বলবো না।
আমি চলে যাবো তখনই নিত্তিয়া আমার হাতটা ধরলো...
-- কি হলো মেডাম?
কোন উত্তর না দিয়ে আমার নাকে টান দিয়ে সোজা বাসায় চলে গেল। হা হা হা পাগলী একটা।
লেখক:- অলিভার কুইন (শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now