বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খেতে বসলেই আব্বুর সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
না না ইট-পাটকেল দিয়ে না ।গ্লাস আর তরকারীর বাটি দিয়ে।
আমাদের এই উত্তপ্ত অবস্থার শিকার হয়ে জ্বলে পুড়ে কয়লা হয় আম্মু। সে কোন দিকে যাবে বুঝে উঠতে পারে না ।একদিকে ছেলে আরেকদিকে স্বামী।
মূলত দুইটা কারণে আমাদের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয় ।প্রথমটা হলো রাজনৈতিক আর পরেরটা হলো পেটনৈতিক।পেটনৈতিক মানে হলো খাবার নিয়ে ঝামেলা ।আব্বু যেভাবে খেতে পছন্দ করে আমি তার উল্টাটা।এবং এটাকেই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে চিণ্হিত করা যায়।
আমরা বাপ-ছেলে খেতে বসলে আমাদের সমাবেশস্থলে আই মিন খাবার টেবিলে আম্মুকে রীতিমত ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়।মাঝেমধ্যে গন্ডগোল বেশি হয়ে গেলে আম্মু ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব পালন করে।আমার আর আব্বুর বক্তৃতা পাল্টা বক্তৃতা যখন সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তখন আম্মু জলকামান ব্যবহার করে ,আই মিন জগ ভর্তি ওয়াসার পানি এনে আমাদের মাথায় ঢেলে দেয়।এভাবেই আম্মু থমথমে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রনে নেয়।
আব্বু ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল করে আর আমি স্বচ্ছ রাজনীতি ।কারও পক্ষে বিপক্ষে না ।যেটা সত্যি সেটাই।খাবার টেবিলে বসে তাঁর দলের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরলেই আমার উপর খড়গ নেমে আসে।তাঁর হস্তদ্বয় মোচড়ামোচড়ি শুরু করে আমার উপর আঘাত হানার জন্য।কিন্তু পাশেই নিরপেক্ষ পুলিশ আই মিন আম্মু থাকার কারণে আমি বেঁচে যাই।
আর খাবার নিয়ে আব্বুর সাথে সংঘাত শুরু সেই বাল্যকাল থেকে।আব্বু খাবে মাঝের ঝোল আর আমি ভাজি।আব্বু সবজি খাবে জাপানি স্টাইলে অল্পসিদ্ধ করে আর আমি একটু পোড়াপোড়া করে।আব্বু মাছের কাঁটা খাওয়ার নির্দেশ দেয় কিন্তু আমি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।
আব্বু নিজের সিদ্ধান্ত অগণনতান্ত্রীক ভাবে আমার উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।কিন্তু আমি বিরোধী দলের ন্যায় তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করি।আর তখনই আব্বু আমার উপর নাশকতা চালানোর চেষ্টা করে।কিন্তু আম্মু তা অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে প্রতিহত করে।
জাতীসংঘের শান্তিরক্ষীর ন্যায় তৃতীয়পক্ষ সেজে আম্মু বহুবার আমাদের মাঝে শান্তি আলোচনার চেষ্টা করেছে।কিন্তু আব্বুর স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে বারবার তা ভেস্তে গেছে।
সর্বশেষ আম্মু এবং আমার পরিবারের অন্য সদস্যরা পরিবার পঞ্চায়েত বসিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এই সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য আমাকে বিয়ে করিয়ে দিয়ে আমার খাবার টেবিল এবং রান্নার পাত্র আলাদা করে দেয়া হবে।
এবং আমিও বিচার বিভাগের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে উক্ত রায় মেনে নিয়েছি।????
(ঘটনার স্থান ,কাল ও পাত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক নয়)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now