বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েদের গোপন কিছু কষ্টেরগল্প
একবার হলেও কষ্টকরে পড়বেন......
মেয়েটি প্রেগন্যান্ট হয়ে দিনে ২০-৩০ বার বমি আর নানান শারিরীক সমস্যায় ভুগছে।
খেতে বসলে বাচ্চা লাথি মারে, খেতে পারে না। রাতে ঘুমাতে গেলে যন্ত্রনায় ছটপট করে ঘুমাতে গেলে রাতে ঘুম আসে না।
সারাদিন শরীরটা কেমন যেন করে।
বসতে গেলে, শুইতে গেলে হাটতে গেলে মাতাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে।
আবর মনের ভিতর ভয়ও করে. কি হবে পারবো তো সব সামলিয়ে উঠতে।
এভাবে ৯ মাস কেটে যায় হটাৎ প্রসব বেদনা ওঠে।
চারদিকে বিষদের ছায়া। বাঁচবে তো মেয়েটি,আর বনাগত শিশুটি?
মৃত্যকে হাতে নিয়ে মেয়েটি শুয়ে পড়ে জরায়ু ছিড়ে স্রোতের মত রক্ত ঝরে। চিৎকার করে মেয়েটি, যেন পৃথীবিটা তার অবস্তানে নেই।।
সে সূর্যের আলো যেন আজ ক্ষীনন দেখাচ্ছে, প্রচণ্ড আলোতেও সব কিছু কেমন যেন আবছা লাগছে।
চারদিকে তাকায়, আপন মানুষ গুলোকে খামছে ধরে যেন মৃতু্্যর হাত থেকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে।
বাচ্চাটি পৃথিবীর মুখ দেখে।
সবাই বাচ্চাকে নিয়ে কত আনন্দ উল্লাস করে নতুন নতুন জামা কিনে নিয়ে আসে।
বাচ্চাকে নিয়ে হাজারো সপ্নের বীজ বুনে।
কে কি নামে ডাকবে তা ঠিক করতে হলুসুল অবস্থা শুরু হয়ে যায়।
আত্নীয় কুটুমরা বাচ্চার এগালে ওগালে চুমু খায়।।
মেয়েটি বাচ্চার দিকে তাকিয়ে মুসকি হাসে।
কে যানে এই হাসির মাঝেও কত বেদনা জড়িয়ে আছে।।
নবাগত অতিথিকে পেয়ে সবাই মেয়েটিকেকে বেমালুম ভুলে যায়।।
মেয়েটি সেই ময়লা বেডেই শুয়ে তাকে মুখ ফুটে নিজের শারারীক অবস্তার কতাও বলতে পারে
কিছুটা ভয়ে, কিছুটা লজ্জায়।।
সংসারের সবকিছুর জন্য সবার কাছে টাকা থাকে শুধু মেয়েটির চিকিৎসার জন্যে কারোও পকেটে টাকা থাকে না।।
ঝরে যাওয়া রক্তের পরিপূর্নতার জন্য প্যাকেটে প্যাকেটে দুধ আসেনা।।
বাচ্চা গর্ভে থাকাকালীনও মেয়েটি কারো কদর পায়নি।
না মায়া - দরদ, না একটু পোষ্টিকর খাবার তারপরও সবার আক্ষেপ বাচ্চাটা আরেকটু মোটা হলে ভাল হত।
কেও বাচ্চার মায়ের কথা ভাবলো না
কি দিয়েছে মেয়েটিকে
দুধ, কলা,মাখন কি পেয়েছে মেয়েটি, তিন বেলার ভাত মাছ আর সবজি ছাড়া আর কতটুকুইয়া পেয়েছে।
শাড়ি খানা মলিন মুখখানা আরো মলিন হাতে ফোসকা ধরে গেছে।
আগের মত আর মোলায়েম হাতখানা নেই বলেই স্মমীর কাছেও সে অনাদূত।।
সেই লানণ্য নেই বলে শাশুড়ি মাঝে মাঝে বুড়ি বউ বলে সুম্বোধন করে দূর থেকে মেয়েটি শুনে,কিছু বলে না কাকে বলবে।
স্মামীকে।সে এসব কথা এখন কানে দেয় না
এসব নাকি ন্যাকামি।।
প্রসবের দুই দিন না যেতেই শাশুড়ী আর ননদের আক্ষেপ,
বউটা এখনে রান্না ঘরে আসছে না কেন।
মেয়েটি হাটতে পারে না।হাটতে গেলে মনে হয় এই বুঝি পরান পাখি উড়ে গেল।
লজ্জাস্তান থেকে এখনো রক্ত ঝরছে।
কাতরাতে কাতরাতে মেয়েটি রান্না ঘরে আসে।।
ননদ আর শাশুড়ী হুংকার দিয়ে বলে বাচ্চা কি আমরা জন্ম দেয় নাই, শুধু কি তুমিই মা হয়েছো।।
অসহায় চাতক পাখির মত মেয়েটি ভাবে পাখিরও তো একটা জায়গা আছে।
এখানে ভাল না লাগলে অন্যএ উড়ে যায়। কিন্তু আমার বাবা মাকে ছেড়ে আসলাম, ভাইটিও নেই যাকে একটু মনের কথাগুলো বলবো স্মামি এখন এসব বুঝে না।
ও এখন কারো সাথে তর্ক করতে পারবে না।
সকাল যায় আর রাতে ফিরে।।
মেয়েটি রান্না শেষ করে খাটে গিয়ে বুকে বালিশ দিয়ে টপটপ করে চোখের পানি পেলো
ইচ্ছে করে স্মামির বুকে মাথা রেখে একটু ঘুমাবে।।
কিন্তু সে তো এখন স্মামী না বাচ্চার বাবা।
তার এখন অনেক দায়িত্ব।
বাবা মাকে খুশি করতে হয়,
বন্ধুদেরকে খুশি করতে হয়।।
অফিসকে খুশি করতে হয়।
আর আমি,আমি তো স্ত্রী
আমাকে খুশি না করলেও চলব।
আমি তো আর আপন কেউ না।
সমাজের মানুষ বলে পরের মেয়ে।
ইচ্চা করে চিৎকার করে কান্না করতে।
পরিক্ষিনের মেয়েটি ভাব ওরা কি ভাববে।
শরীরটা ভাল নেই।খেতে ইচ্ছে কেরছে না, বুকে দুধ আসে না।।
বাচ্চাটার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিবেশিরা আলগা দরদ দিয়ে বলে, মাইয়াডার কারনে বাচ্চাটাও শুকিয়ে যাচ্ছে।
হায়রে মানুষ, হায়রে সমাজ শাশুড়ি,ননদ অমুকের বউ তমুকের মেয়ে, সবাই তো নারী অথচ কেউ এই মেয়েটার কষ্ট বুঝলো না।।
কেউ চিন্তাও করলো না।
মা বাঁচলেই তো বাচ্চা বাঁচবে।
মেয়েটি অভিমান নিয়ে শুয়ে তাকে,
রাতে খাবার খায় না।
স্মামি বাসায় এসে চেঁচিয়ে বলে
তোমার কারনে যদি আমার বাচ্চার কিছু হয় তাহলে খবর আছে।।
এবার মেয়েটি দাঁত মুখ খিচিয়ে বলে হুম। কি খবর করবে।
খবর নিয়েছো আমার একবারও।
এটা শুনেই পাশের লোকেরা বলে উটে কত বড় বেয়াদপ মেয়ে।।
সব লাঞ্চনা বঞ্চনার পরও মেয়েটি তার স্মামিকে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না।
দিনের পর দিন আক্ষপ করে যায় কবে তার তাকে বুজবে।।
কবে তাকে বুকে টেনে নিবে।
দিন যায় দিন আসে।
হতভাগা মেয়েটির আর সুদিন আসে না।।
এভাবে অনাদারে অবহেলায়,
একটা মেয়ে তিলে তিলে তার জিবনকে শেষ করে দে।।
আমরা মাঝে মাঝে তাদেরকে মায়ের জাতি বোনের জাতি বউয়ের জাতি বলে শান্তানা দিই।
কিন্তু সান্তনার আর কাজ হয় না।।।
চল্লিশ বছরের মেয়েটিকে দেখতে এখন 65 বছরের বুড়ি লাগে।
তাতেও সমাজের আক্ষেপ কেন এত বুড়ি লাগে।।
ভাবুনতো আপনাকে যদি এভাবে অবহেলা করা হত তাহলে আপনার কেমন লাগতো।
ভালবাসার মানুষগুলোকে ভালবেসে কাছে রাখা যায় না কি??
নারিদের প্রতি সহমর্মিতা আর ভালবাসার মোড়ক উম্মেচন হোক,আপনাকে দিয়ে আমাকে দিয়ে।
তবেই সমাজ বাঁচবে, বাচবে মানবতা।
(Collected from FB
""""""""""""সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now