বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার কাছের অথবা দূরের সম্পর্কের
কাজিন।
আরও একটা পরিচয় আছে । আমরা আবার
‘বন্ধু’।
বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য তৈরী
হয়ে বসে আছে সে। খুব সুন্দর লাগছে
তাকে।
আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি।
সেও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি একটু এগিয়ে গেলাম। তার
চোখের ভাষা পড়তে ।
না কিছুই পেলাম না ।
বিয়ের অনুষ্ঠান যথাযথ ভাবেই চলছে ।
আমি দেখছি।
ও হ্যাঁ, আমার উপরও একটা দায়িত্য
পড়ছে । “বর পক্ষের লোকদের
দেখাশুনা
করা”, আর একটা হলো । এই দায়িত্য
গুলো ওর ভাই আমাকে দিয়েছে ।
আমার উপর আস্থা রেখে।
ওর ভাই আর আমার মধ্যে খুব ভালো
একটা সম্পর্ক । বড়ভাই আর ছোটভাই
এর। খুব আদর করে আমায়। বিশ্বাসও
করে।
বরপক্ষের লোকজন এখোনো আসেনি ।
আপাতত ফ্রি আছি। তাই তাকে
দেখার সুযোগটা হাতছাড়া করলাম
না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই বরপক্ষ চলে আসবে।
তারও কিছুক্ষণ পর কাজী সাহেব
বিয়ের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করবে।
আর তারপর...............
** কাজী সাহেব অনেক আগেই এসে
বসে আছেন। কাজী গুলা কি এমনই হয়??
এতো তাড়াতাড়ি আসার কোনো
মানে হয়??
আচ্ছা বিয়ের পর অদিথি তার
স্বামীর সাথে হানিমুনে কোথায়
যাবে ?? তার
পছন্দের দার্জিলিং ?? নাকি তার
স্বামীর পছন্দের কোনো এক
জায়গায়??
না আর পারছি না ভাবতে। বুকের বাম
পাশটায় একটা ব্যাথা অনুভব করছি।
মনে
হচ্ছে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে। যা
আর কোনো দিন ফিরে পাবো না,
ফিরে
আসবেও না । জীবনের একটা অংশ
হারিয়ে পেলছি। যা ছাড়া জীবন
কল্পনাও
করতে পারি না।
হুম, আমি অদিথিকে ভালোবাসি।
অনেক বেশিই ভালবাসি। যা অদিথি
কোনোদিন
বুঝতেও চায় নি।অথবা বুঝেও না বুঝে
থেকেছে। ও আমায় বন্ধুর বেশি
কোনোদিন
ভাবেনি।
ভালবাসার কথা জানাইনি তাই
হারাচ্ছি, এটা বললে ভূল হবে।
অনেকবার বলেছি। অনেক ভাবে
বুঝাতে চেষ্টা করেছি কতোটা
ভালবাসি তাকে।
প্রতিউত্তরে ও সবসময়ই বলে গেছে
আমায় বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু কখনো
ভাবে
না। আর ওর পরিবার যা বলবে ও তাই
করবে। পরিবারের মতামতের বিরুদ্ধে
কিছু
করতে পারবে না। এতোবার
ভালোবাসি বলার পরও আমাদের
বন্ধুত্ব ঠিকই টিকে
ছিল। আমাদের সম্পর্কটা সব সময়
তুমিতেই ছিল।
দোষটা আমারই । আমার হাতে সুযোগ
ছিল। ওর পরিবারে বিয়ের কথা বলা।
হয়তো
সাহস হয়নি। নয়তো তার ভাইয়ের
আমার প্রতি যে বিশ্বাস তার
মর্যাদা দিতে
গিয়ে বলিনি।
না, আর পারছিনা তার দিকে
তাকিয়ে থাকতে। নিজের
অজান্তেই এক ফোটা
চোখের জল গাল বেয়ে পড়ছিল। টের
পেয়ে তা মুছে ফেললাম। আমি
চাইনা কেউ
আমায় সন্দেহ করুক। ওখান থেকে সরে
আড়ালে চলে আসলাম।
** কিছুক্ষণ পর ওর ছোট বোনটা এসে
বলল আমায় অদিথি নাকি ওর রুমে
ডাকছে। একটু হতবাক লাগছিল। আবার
স্বাভাবিকও মনে হচ্ছিল। ডাকতেই
পারে ।
বন্ধু বলে কথা!!!! হয়তো বিদায় বলতে
ডাকছে।
একটু খারাপ লাগলেও গেলাম ।
দরজায় গিয়ে একটু আওয়াজ করলাম।
ভিতরে ঢুকতে বলল। আমি ভিতরে
গিয়ে
দাঁড়ালাম। ও প্রশ্ন করলো।
- কেমন আছো??
- হুম ভালো। (আমার উত্তর)
- খুব বেশী ভালো??
- যতটুকু থাকা প্রয়োজন।
- হুম, ভালো। আজ আমার বিয়ে
জানো???
- হুম, জানি ।
- আজ আমি চলে যাবো, সেটা
জানো??
- হুম।
- শুধু হুম হুম করতেছো কেন? কিছুতো বল।
- কি বলব??
- কিছুই বলার নাই??
- --
- কি হলো কথা বল না কেন??
- হুম বলার আছে।
- তো চুপ করে আছো কেন??
- ভালো থেকো।
- সেটা তুমি না বললেও থাকবো।
- ও
- ‘ও’ কি ?
- কিছু না। আসি।
- চলে যাবে??
- হুম।
- কিছু বলবে না?
- বলেছি তো ভালো থেকো?
ওকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলাম না।
আদিখ্যেতা আমার পছন্দ না। কি শুনতে
চাইছে ও?? ওকে আবার ভালোবাসি
বলবো?? অনেক হয়েছে আর না।
ওখান থেকে চলে আসছিলাম। কিন্তু
না, আমি যাবো না। আমায় কিছু
একটা করতে
হবে। আমায় অনেক ছোট একটা ‘বড়
কাজ’ করতে হবে। ওর ভাইকে খুজতে
লাগলাম। কিন্তু পাচ্ছি না। এ দিকে
আমার ছোট একটা ‘বড় কাজের’ সময়
পুরিয়ে
যাচ্ছে।
** ৩ ঘন্টা পর..................
কাজী অফিসে বসে আছি আমি।
আমার সাথে একটা ‘পরী’ বসে আছে।
হুম ওটা
অদিথি। আমাদের সাথে আরও একজন
এসেছে, উনি আমার বড় ভাই। আই মিন
অদিথির বড় ভাই, উনাকে খুব ব্যাস্ত
বলে মনে হচ্ছে। ছোট বোনকে
পালাতে
সাহায্য করেছে, একটু তো ব্যাস্ত
হবেই। বাড়িতে কথা বলছেন উনি।
কিছুক্ষণ
পরই আমার আর অদিথির বিয়ে।
অদিথিকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে।
হয়তো বাবা মা কে ফাঁকি দিয়েছে
তাই। ওর
চিন্তিত মুখ দেখে ওর হাতটা ধরলাম।
বললাম ‘চিন্তা করো না, ওরা সব
মেনে
নিবে,তোমার ভাই তো আছে
আমাদের সাথে??
আমার কথা শুনে ও একটু চমকে উঠলো।
তারপর আমার চোখের দিকে
তাকিয়ে
রইলো। হয়তো ভরসা খুঁজছে।
বিয়েটা হয়েই গেলো! আর এদিকে
ভাইয়াও বাড়িতে মেনেজ করে
ফেলল।
** ৩ ঘন্টা আগে যা ঘটল …………
অদিথির রুম থেকে বের হয়েই সোজা
ওর ভাইকে খুজতে লাগলাম। কিছুক্ষণ
পর
পেয়ে গেলাম।
- ভাইয়া কিছু কথা ছিল।
- হুম বল। (ওর ভাইয়ের উত্তর )
- ভাইয়া আমি অদিথির সাথে কথা
বলেছি। যতটুকু বুঝলাম তাতে আমার
মনে হয়
এই বিয়েতে ওর মত নেই। আমার মনে হয়
………
- কই ও তো আমায় এমন কিছু বলেনি। ও
আমায় বলেছে তুমি নাকি ওকে
ভালোবাসো, আর ও তোমায় কষ্ট
দিতে চায় না!!!
- ও………
- ‘ও’ কি?? নিজের কথা নিজে বলতে
পারো না। আর তুমি আমায় আগে
বলোনি
কেন?? এখন কিছু করার নেই। আজ
বিয়ের দিন।
উনার কথা শুনে আমার আর কিছুই বলার
থাকলো না। শুধু চোখ গুলো একটু চলচল
করে উঠলো। আমার আর কিছুই যে করার
নেই।
- ঠিক আছে এখানের কাঁদার কিছু
নেই। আমি দেখছি কি করা যায়।
এ কথা শুনে আমার মুখটা মনে হয় একটু
উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। উনার দিকে
তাকাতেই আস্থার একটা হাসি দিল ।
আর বলল ‘তুমি বাইরে অপেক্ষা করো।
আমি ওকে নিয়ে আসতেছি।
আর তারপর তো হয়েই গেলো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now