বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~১০

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~১০ -সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রুমে ফিরলাম। খুশিতে আমার নাচতে ইচ্ছে করছে। জামাকাপড় চেঞ্জ করে বসেছি, এর মধ্যে মিথু চলে এসেছে। তাকে ধরেই নাচতে শুরু করলাম, -এই কি করছো? ছাড়। -আজকে কোনো কথা হবে ন? -হা হা, বলে কি পাগলটা! -হুম! এত বড় একটা সু-সংবাদ। জানো, আজকে আমার থেকে খুশি মনে হয় এই জগতে আর কেউ নেই। -তাই নাকি জনাব?? কিছু একটা বলতে চেয়েছিলাম, এর মধ্যেই তার দুঃসম্পর্কের ভাই এসে নিচে ডাকলো। সবাই নাকি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। তাই নিচে গেলাম। নানু, আম্মু, আব্বু, শ্বশুর শাশুড়ি সহ আরো অনেকে বসে আছে। আমি মিথুকে বসিয়ে দিয়ে মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালাম, একটু ঝেড়ে কাশি দিয়ে শুরু করলাম, -শোন সবাই, তোমাদের জন্য একটা শুভ সংবাদ আছে। আমি বাবা হতে যাচ্ছি। বলে একটা বিজয়ের হাসি দিলাম! কিন্তু এ কি? কেউ কোনো পাত্তাই দিলো না। শুধু নানু উঠে এসে আমার কান মলে দিয়ে বললো, -এ খবর আমরা সবাই জানি। এখন মিষ্টি খাওয়ানোর কথা কি আমাকে বলে দিতে হবে?? মক্কেল বনে গেলাম,তার কথা মতে যা দাঁড়ালো তা হচ্ছে, আমি বাদে সকলেই এই খবর ভালমতো জানে। মিথুর দিকে তাকিয়ে দেখি সে হাসছে। খুব দ্রুত মিষ্টি নিয়ে আসা হলো, প্রথমে আম্মু উঠে এসে আমাকে মিষ্টি খাইয়ে দিলো, -দাদু হচ্ছি বুঝেছিস?? সেই খুশিতে........ তারপর এক এক করে সকলে আমাকে মিষ্টি থেরাপি দিয়ে গেলো। বাড়িতে খুশির ধুম উঠেছে। তবে খুশির মাত্রাটা আমার থেকে কারো বেশি হবে না বাজি দিয়ে বলতে পারি। উচ্চ স্বরে গান বাজনা শুরু হয়েছে। একে তো মিথুর জন্মদিন, তার ওপর নতুন মেহমান আসছে। ব্যাপার টা অনেক টা আগুনে পেট্রল দেওয়ার মত। মিষ্টি থেরাপি হজম করতে রাতে আর খাবার খেতে ইচ্ছে করছে না। তবুও খাবার নিয়ে মিথু সোজা রুমে চলে এসেছে। শুয়ে ছিলাম, তার উপস্থিতি টের পেয়ে উঠে বসলাম, সেও আমার পাশে এসে বসলো। -না খেয়ে রুমে চলে আসলে কেন? মন খারাপ?? -বলে কি পাগলীটা? যে থেরাপি হজম করতে হয়ছে, খেতে ইচ্ছে করছে না। -তা বললে তো চলবে না! -তুমি খেয়েছ? -উমহু! প্লেটটা আমি হাতে নিলাম। সবসময় তো সে আমার খেয়াল রেখেছে, এখন থেকে না হয় আমিই একটু করি। তাকে খাইয়ে দিতে শুরু করলাম। -মিথু। -হুম -জানো, এইদিন টার জন্য কতদিন অপেক্ষা করেছি? -তাই? -হ্যাঁ! -আচ্ছা- তোমার কি চাই ছেলে না মেয়ে? -তোমার মত মিষ্টি আর লক্ষ্মী একটা মেয়ে। -কিন্তু মেয়েদের নাকি বাবার মতো হলে ভাল হয়। -উমহু, আমার মেয়ে আমি তার মায়ের মতো শান্ত আর ধৈর্যশীল করে তুলবো। -হা হা, ঠিক আছে। -তবে নাম নিয়ে কিন্তু আমি ঠিক করে রেখেছি। -কি? -আয়েশা মেহজাবিন। -ইহিতা দিয়েছিলো নাম টা তাই না?? কি বলবো বুঝতে পারছি না, কথা টা যে মিথ্যে তাও না। তাই হাল ছেড়ে দিলাম, -হ্যাঁ, তোমার পছন্দ হয়নি? -সেটা বলিনি! তাছাড়া নাম টা খুব সুন্দর। আর যদি ছেলে হয় তাহলে আহনাদ রওনক। চুপসে গেলাম। এই নাম টাও ইহিতা দিয়েছিলো। আমি বুঝতে পারছি, মিথু মেয়েটা এতো ধৈর্যশীল কেন? আর কেনই বা ইহিতার পছন্দ অপছন্দ গুলো কে প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছে? এতো টা বেশি ভালবাসে মেয়েটা আমাকে?? খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পরলাম। । আজকে কেন যেন সকাল সকাল উঠে পরলাম। মিথু এখনো ঘুমিয়ে আছে ডাক দিলাম না। গতকাল সারারাত ফূর্তি হয়েছে। কেউ এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। ফ্রেস হয়ে কিচেন রুমে চলে গেলাম। দু কাপ কফি বানিয়ে আবার রুমে চলে আসলাম। তাকে ডাক দিলাম, -মিথু ওঠো না। সেও আমার ডাক শুনে হুড়মুড় করে উঠে গেলো। -আজকে এত তাড়াতাড়ি উঠে গেলে? অন্যান্য দিন তো ডেকে তুলতে হয়। -এমনি, কফি নাও -আরে বাব্বাহ, আপনি কফি বানিয়েছেন আমার জন্য? নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। -কেমন হয়েছে? -অসাধারণ। -চলো বিকেলে ঘুরে আসি। -আগে বের হয়ে দেখি। বিকেল বেলায় শ্বশুর মশাইয়ের বাইক নিয়ে বের হলাম। । পিছনে মিথু, প্রায় ৬বছর পরে বাইক নিয়ে বের হয়েছি। ইহিতার সাথে সবকিছু শেষ হবার পরে আর কোনদিন বাইক নিয়ে বের হইনি। তার খুব পছন্দ ছিলো বাইকে করে ঘোরা। আজকে কেন জানিনা মিথুকে নিয়ে বের হতে ইচ্ছে হলো। মিথু আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। আর আমি খুব সাবধানে চালিয়ে যাচ্ছি, একটা পার্কে গিয়ে বসলাম! জায়গা টা অতি চমৎকার। ভাল লাগছে হাঁটতে! মিথু জোর করে ফুচকা খেলো। যদিও আমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিলো না। তবুও তার জোরাজোরির কারণে শেষ পর্যন্ত খেতে হলো। । সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, বাড়িতে ফিরতে হবে। তাকে নিয়ে রওনা দিলাম! রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা। আমিও নিশ্চিন্তে যাচ্ছি, হঠাৎ সামনে থেকে দ্রুত গতির একটি গাড়ি এসে আমাদের ধাক্কা দিলো। শূন্যে ডিগবাজি খেয়ে গিয়ে পরলাম রাস্তার পাশে। শুধু মিথু বলে শেষ একটা চিৎকার দিয়েছিলাম। তারপরে আর কিছু মনে নেই। চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছি। মাথায় ভোঁতা যন্ত্রণা। মাথায় সহ হাত পায়ে বেশ কয়েক জায়গায় ব্যান্ডেজ। মিথুর কথা মনে পরতেই বুকের বা-পাশ টায় চিন চিন ব্যথা শুরু হলো। নার্সকে ডাকলাম, প্রায় নার্সের সাথে সাথেই আব্বু কেবিনে চলে আসলো। -আব্বু মিথিলা কোথায়? -সে ভাল আছে। -কোথায় মিথু? -পাশের কেবিনে। দৌড়ে গেলাম সেখানে, গিয়ে দেখি মিথু শুয়ে আছে। পাশে গিয়ে বসে তার হাত ধরলাম। বাম হাত এবং পায়ে ব্যান্ডেজ ছিলো। মিথুর এই অবস্থা দেখে নিজের বুক ফেটে কান্না আসতে চাইছে। এর মধ্যে সবাই মিথুর কেবিনে চলে আসলো। জানতে চেয়েছিলাম সেদিন কি হয়েছিলো। আব্বুর কথায় সারাংশ দাঁড়ালো, সেদিন ব্রেক ফেল করা একটা গাড়ি আমাদের উদ্দেশ্যহীন ভাবে ধাক্কা দেয়। আশেপাশে লোকজন থাকায় তারা সাথে সাথে হসপিটালে এনে বাড়িতে খবর দেয়। আমার আঘাত টা বেশ গুরুতর ছিলো, মাথায় বেশ কয়েক টা সেলাই দিতে হয়েছে। মিথুর বাম হাত কেটে গিয়ে বেশ রক্তক্ষরণ হয়ে অবস্থা আশংকা জনক হয়ে উঠেছিলো। কোথাও তার গ্রুপের সাথে মিলে এমন রক্ত পাওয়া যাচ্ছিলো না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে অচেনা এক ব্যক্তি রক্ত দিতে সম্মতি জানায়। রক্ত সংগ্রহ করে সবাই মিথুকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পেড়েছিল। হঠাৎ সেই মানুষ টির কথা মনে হলে তার খোঁজ করা হয়, কিন্তু তাকে আর পরে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, সেদিন রক্ত পাওয়া না গেলে হয়তো অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। মিথুর জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষণ আগে। আমি নিজের কেবিন বাদ দিয়ে তার পাশে বসে আছি। কোনোদিন ভাবতে পারিনি এই অবস্থায় তাকে দেখতে হবে। -মিথু, একটু ভাল লাগছে? -কিছুটা! তুমি ঠিক আছো তো? -হ্যাঁ, একদম। । বেশ কয়েকদিন হসপিটালে থাকার পরে আমাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিথুর হাঁটতে বেশ কষ্ট হয়। পায়ের আঘাত টা অনেক বেশি ছিলো। সবথেকে বেশি ভয়ে ছিলাম বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে কি না? । তবে এবার কপাল টা মনে হয় একটু বেশিই ভাল ছিলো। হালকা আঘাতের উপর দিয়ে বেড়িয়ে গেছি। বাচ্চার কোনো সমস্যা হবেনা বলে ডাক্তার আশ্বস্ত করেছেন। । আরো কিছুদিন পরে.......... । মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেছি। তবে সেদিনকার কালো দাগ টা এখনো মনের মধ্যে বসে আছে। মিথুর কিছু একটা হয়ে গেলে জানি না নিজেকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারতাম কি না। ডাক্তার চেকাপ করে আরো কিছুদিন রেস্ট নিতে বলেছে। তাই আম্মু আর আব্বু বাড়িতে ফিরে গেছে। আমি আর মিথু তাদের বাড়িতেই আছি। মিথুকে নিয়ে ছাঁদে এলাম অনেকদিন পর। বিকেল পেরিয়ে গোধূলি সময়, আকাশ টা পুরো পরিষ্কার। সূর্য্যের লাল লাভাটা খুব সুন্দর লাগছে। সে বললো, -আচ্ছা, সেদিন যদি আমার ভালমন্দ কিছু একটা হয়ে যেতো?? কথা শেষ করার আগেই তার মুখে হাত চেপে ধরলাম। -এমন কথা আর কখনো বলবে না। তুমি চলে গেলে কাকে নিয়ে বাঁচবো? -এতটা ভালবাসো আমাকে? -হ্যাঁ, অনেক বেশি নিজের থেকেও বেশি। কোথাও যেতে দিবো না তোমাকে। -তবে কোনোদিন যদি নিয়তির কাছে হেরে যেতে হয় আমাদের............ ..........চলবে........পর্ব~১১ THE LAST


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now