বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৯

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X Ektu deri hoye gelo,.tai ami sorry গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৯ মজা শুরু তারপর........... - অনেকটা সময় একত্রে পাড় করেছি পাগলীটার সাথে, তাই জীবনটা রুটিন মাফিক হয়ে এসেছে! সকালে মিথুর মিষ্টি কন্ঠে ঘুম ভাঙ্গে, নাস্তা করে অফিসে যাই, লাঞ্চ টাইমে সময় পেলে বাসায় আসি, নাহলে মিথু নিজে খাবার নিয়ে অফিসে চলে যায়। সারাদিন যুদ্ধ শেষে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়! কখনো ভাবতে পারিনি, মিথুর মতো একটা মেয়ে, এত সংসারী হয়ে উঠবে, আম্মু তার হাতে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বিশ্রাম করছে! আর সেও একহাতে আম্মুর দেখাশুনা থেকে শুরু করে আমার খেয়াল, সকল কিছু একহাতে সামলাচ্ছে! আজকাল রান্না-বান্নার কাজটাও নিজে করতে শুরু করেছে। তাতে আমার অবস্থা কিছুটা বিপন্ন, কারণ আম্মাজান আমাকে ভুলে তার বউকে নিয়ে সবকিছু করছেন! যাক ভালই হলো, নিজের উপর এখন এতটা চাপ আসে না। কিন্তু বাবা বিশেষ একটা কাজে দেশের বাইরে যাওয়ায় একা সকল দিক দেখতে হচ্ছে! অফিসের বাইরে ফ্যাক্টরিগুলোতে বেশি সময় দিতে হচ্ছে, আজকে হুট করে অফিস থেকে বেড়িয়ে গেছি, আমার খেয়াল নেই মিথুকে ফোন দিয়ে বলে দিতে আজকে আর বাসায় আসা হচ্ছে না, একদম মনে নেই। হাতে ফোন সবে নিয়েছি এর মধ্যেই মিথুর ফোন, -হ্যালো -হ্যাঁ বলো...... ওহ.. বলতে ভুলে গিয়েছি, আজকাল বউ আমার, তুই বাদ দিয়ে তুমি ডাকতে শুরু করেছে। আমাকেও বাধ্য করে তাই করতে হচ্ছে। -কোথায় আছো তুমি? -একটু বাইরে এসেছি। -লাঞ্চ করতে আসবে না? -মনে হচ্ছে না! ফ্যাক্টরিতে এসেছি, তোমাকে ফোন দিতে একদম খেয়াল ছিলনা। -ঠিক আছে বলে রেখে দিলো! রাগ করেছে পাগলীটা। আমি বাসায় না ফিরলে না খেয়ে বসে থাকবে। তাই শতব্যস্ত হয়েও সবকিছু শেষ করে বাসার উদ্দেশ্যে বের হলাম। রাস্তা থেকে একটা গোলাপ ফুল নিয়ে নিলাম। অনেক টা সময় পর বাসায় গিয়ে পৌঁছালাম। কলিং বেল দিতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো, -কি রে বাবা, আজকে এত দেড়ি করলি কেন?? মেয়েটা না খেয়ে বসে আছে। -আসলে আম্মু, আমার একদম মনে ছিলনা, বাবা বাইরে যাওয়ায় অনেক বেশি চাপ পরছে আমার উপর। -তাই বলে, আপন মানুষ গুলোর কথাও বেমালুম ভুলে যাবি?? -তুমি খেয়েছো?? -হ্যাঁ, মিথু আমাকে খাইয়ে দিয়ে রুমে গিয়ে বসে আছে! -আচ্ছা আমি দেখছি। ফুলটা পিছনে রেখে, রুমে গিয়ে দেখি মিথু শুয়ে আছে, -মিথু -এসেছেন জনাব? না আসলে হতো না? কিছুটা অপরাধী ভঙ্গিতে বললাম, -আসলে জানই তো, কতদিক একা সামাল দিতে হয়! ফুলটা বের করে তার কাছে দিলাম, -বাব্বাহ, ঘুষ দেওয়া শিখেছ? -হা হা, শোন তাড়াতাড়ি টেবিলে খাবার দাও, আমি আসছি। ফ্রেস হতে চলে গেলাম। রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা ডাইনিং রুমে চললাম। মিথু টেবিলে অপেক্ষা করছে। চেয়ার টেনে বসে পরার সাথে সাথে খাবার তুলে দিলো, -আচ্ছা, প্রতিদিন আমার জন্য বসে থাকতে হয়? আম্মুর সাথে খেয়ে নিলেই তো পাড়। -কখনো কি এমন টা হয়েছে? -হয়নি তবে, ব্যস্ততা বেড়েছে। আর অনিয়ম করলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। -কিছু হবে না! শোনো, তোমাকে আর আজকে অফিসে যেতে হবেনা। -সে কি? কেন? কত কাজ বাকি পরে আছে। -আমি শ্বশুর মশাইয়ের সাথে কথা বলেছি, সে তোমাকে আর আম্মুকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে বলেছে। আর অনেকদিন তো আমাদের বাড়িতে যাওয়া হয়না, তাই একটু খারাপ লাগছে। -আম্মুর সাথে কথা বলেছ? -হ্যাঁ, সে রাজি! আর আব্বুও দেশের বাইরে থেকে এসে সোজা আমাদের বাড়িতে চলে আসবে। ভালই হলো, অনেকদিন মিথুকে সময় দিতে পাড়ছি না। আর যান্ত্রিকতার ভিতর থাকতে থাকতে হাপিয়ে উঠেছি, । সেদিন রাতেই আম্মু আর মিথুকে নিয়ে মামাবাড়ি দুঃখিত শ্বশুর বাড়িতে রওনা দিলাম। অনেক টা পথ, আর সারাদিনের ক্লান্তি, সব মিলিয়ে যদিও কিছুটা শোচনীয় অবস্থা! তারপরেও কিছু করার নেই। সারা রাতের গাড়ি জার্নির পর ভোরে পৌঁছে গেছি। কিন্তু গিয়ে মোটামুটি সাইজের ছ্যাকা খেলাম। পুরো বাড়ি সেই আমাদের বিয়ের দিনের মত সাজানো। মনে মনে ভাবতে লাগলাম, মিথুর কোনো বোন নেই। সেও আমার মত একা। তাই কারো বিয়ে হওয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু এভাবে সাজানোর মানে কি? কলিং বেল টিপতেই শ্বশুর শাশুড়ি একত্রে দরজা খুলে দিলো। তাদের হাসিমুখ দেখে কিছুটা সন্দেহ হচ্ছে, -কেমন আছিস তোরা? আমি কিছু বললাম না, মিথু জবাব দিলো, -ভাল! তোমরা?? -হ্যাঁ ভাল। বলেই ভিতরে ঢুকে গেল। আমি সোজা মিথুর রুমে গেলাম। কিছুক্ষণ পর সেও রুমে চলে আসলো। -এই শোনো -হুম বলো -তোমার বাবা কি আবার বিয়ে শাদী করবে নাকি?? -যাহ শয়তান, কি বলছো এইসব? -তাহলে বাড়ি সাজিয়েছে কেন? -আমাদের বিয়ের পরে আগামী পরশু আমার প্রথম জন্মদিন। তাই সবাই একসাথে সেলিব্রেট করবে তাই। -ওহ সেড়েছে, আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, মিথুর জন্মদিন সামনে। কোনো অজানা কারণে আমি কারো জন্মদিন মনে রাখতে পারি না। এমন কি নিজের ক্ষেত্রেও না, কেউ যদি উইশ না করে তাহলে বলতে পারি না আজকে আমার জন্মদিন! পরলাম আরেক বিপদে! বিয়ের পর তার প্রথম জন্মদিন, কিছু একটা না দিলে কেমন লাগে? হয়তো সে মুখ ফুটে কিছু চাইবে না, কিন্তু নিজের কাছে খারাপ লাগবে! বাবাকে ফোন দিলাম, -হ্যালো, বাবা -জ্বি বাবা, বল -আপনি কি আজই ফিরবেন? -হ্যাঁ, এইতো কিছুক্ষণ পরেই ফ্লাইট। হোটেল থেকে বের হবো। -আসলে বাবা, একটা সমস্যা পড়েছে। -কি হয়েছে বাবা, তোমার শরীর ঠিক আছে তো?? -আসলে সবই ঠিক আছে, কিন্তু আপনি তো মিথুদের বাড়িতে চলে আসতে বললেন, আমরা আম্মুকে নিয়ে চলেও এসেছি। আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, মিথুর জন্মদিন। কিছু একটা না দিলে কেমন দেখায়?? -ঠিক আছে বাবা, তোমাকে চিন্তা করতে হবে না। আমি ব্যবস্থা করছি।। -Thank you baba -Always welcome বলে ফোন কেটে দিলাম! যাক, নিশ্চিন্ত হলাম আসলে দুনিয়াতে বাবাগুলো কেন জানি না অনেক বেশিই ভাল হয়। তারা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সন্তানের মাথার উপর বট বৃক্ষের মত ছায়া দিয়ে যায় নিঃস্বার্থ ভাবে। দুনিয়াতে হয়তো খারাপ পুরুষ থাকতে পারে, কিন্তু একজন খারাপ বাবা নেই..... সারারাত গাড়ির জার্নি করে এসেছি, ভাবলাম একটু বিশ্রাম নিব, তা আর হচ্ছে কোথায়?? বাড়ি ভর্তি মানুষজন, হৈ চৈ লেগেই আছে। তবে সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষকেই আমি চিনি না। আম্মু ধরে ধরে একেক জনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে, আর আমি সুবোধ বালকের মত দেখে যাচ্ছি। মিথু এসেই তার দুঃসম্পর্কের এক বোনের বাবু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। ব্যক্তিগত ভাবে বাচ্চাদের আমার খুবই ভাল লাগে। কিন্তু এই বাচ্চাটাকে কেন জানিনা একটু বেশিই ভাল লাগছে। তাই আমিও মিথুর সাথে বাবুটাকে নিয়ে ছাঁদে চলে গেলাম। হঠাৎ আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে। আমার কোল থেকে বাবুটাকে মিথুর কাছে দিয়ে ওর মায়ের কাছে রেখে আসতে বললাম। বৃষ্টিজল গায়ে পড়লে হয়তো ঠান্ডা লেগে যেতে পারব। মিথুও তাই করলো, সে নিচে চলে গেলো। আমি ছাঁদের কর্ণারে রাখা দোলনায় একা বসে থাকলাম। মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হলো! তার পরেও বসে থাকলাম, মিথুও চলে আসলো প্রায় সাথে সাথেই, -এই, নিচে যাবে না? বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসবে তোমার! -আসুক! অকেনদিন একসাথে ভেজা হয় না। সে মৃদু হেসে আমার পাশে এসে বসে পরলো, -হয়তো উপরওয়ালা আজ একটু বেশিই খুশি, তাই এতো সুন্দর বৃষ্টি উপহার দিচ্ছে। -হ্যাঁ! ঠিকই বলেছো -হয়তো আরো কিছু উপহার ও রয়ে গেছে! -যেমন?? -সেটা না হয় কালকে জানতে পারবে। জন্মদিন তার, অথচ উপহার আমার জন্য, অদ্ভুত তো। সকাল সকাল উঠে পড়েছি আজ, চারিদিকে ব্যস্ততা! এক কাপ চা পর্যন্ত খাওয়া হয়নি। রুম থেকে বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়েছি, এর মধ্যে বাবার সাথে দেখা, -এই যে অভ্র, তোমাকেই খুঁজছিলাম -কেন বাবা! -এই নাও, যেটার কথা বলেছিলে। আমার হাতে প্যাকেটে মোড়ানো কি যেন একটা হাতে দিয়ে বাবা চলে গেলো! আবার রুমে ঢুকলাম! খুলে দেখি, মিথুর জন্য ডায়মন্ড রিং। বাহ, অসম্ভব রকম সুন্দর, বলতে দ্বিধা নেই, আমার থেকে আমার বাবার পছন্দ অনেক বেশি ভালো। মিথুর আজ সারাদিন দেখা নেই। আমিও খুব একটা চিন্তা করলাম না! অনেকদিন পর এসেছে বাবার বাড়িতে তাই হয়তো সকলের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। রুমে এসে আমিও রেডি হয়ে বের হলাম, তার দেখা মিললো সন্ধ্যার কিছুটা আগে, একেবারে পরীর মতো লাগছে তাকে। নীল রঙের শাড়িতে তাকে অসম্ভব রকমের সুন্দর মনে হচ্ছে। দু'চোখের পাশে কাজল দেওয়াতে চোখের গভীরতা কয়েক হাজার গুণ বেড়ে গেছে। মনে হয় সে গভীরতা মাপতে গেলে আমি অতলে হাড়িয়ে যাব। । ডাক পড়লো তাই দুজন একত্রে গেলাম, কেক কাটলাম, ফর্মালিটি শেষ করে, তার হাত ধরে, রিং টা পরিয়ে দিলাম। অনেক বেশি অবাক হয়ে গেছে পাগলী টা। অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মৃদু একটু হাসি দিলাম। হুট করে সে কানের কাছে মুখ এনে বললো, -তোমার উপহার'টির কথা শুনবে না?? -কি?? -তুমি বাবা হতে যাচ্ছ..... ...........চলবে পর্ব~১০


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~১০
→ গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৬
→ গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৭......

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now