বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

[বন্ধু]

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md. Nadim Mostofa Jibon (০ পয়েন্ট)

X আজ ১৩ টা বছর পর আমি আমার বন্ধুকে দেখলাম।১৩ বছর আগে, একটা ভুল বুঝা- বুঝির কারণে আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়।সে ছিল খুব জেদি।আমার সাথে অন্য কারো বন্ধুত্ব কখনই মেনে নিতে পারত না।কারণ সে আমায় প্রচন্ড ভালোবাসত। আর এই ভালোবাসার ভাগ সে অন্য কাউকে দিতে চাইত না।আমিও তাকে কম ভালোবাসতাম না।আমিও তাকে খুব ভালোবাসতাম। সে ছিল আমার বেস্ট বন্ধু। তার সাথে অন্যদের তুলনা করা বৃথা।আমার সেই প্রিয় বন্ধুটির নাম ছিল আবির। কিন্তু, কোথা থেকে যেন একটা ঝড় এসে আমাদের দুইজনকে দুই দিকে নিয়ে চলে গেছে। আজ ১৩ টা বছর পর আমি আমার প্রিয় বন্ধুর চেহারাটা দেখলাম।একই মুখ।একই চোখ।একই চেহারা। তবে তার ব্যবহার আর আমার প্রতি তার ভালোবাসা কেমন, তা আমি জানি না। কিছুক্ষণ পর সেও আমাকে দেখতে পেয়ে আমার দিকে আসতে শুরু করল।আমি তার চোখে বেদনাময় একটা ভাব দেখতে পেলাম।তার চোখই বলে দিচ্ছে যে, সে ভালো নেই। --কেমন আছিস রে? [আবির] --ভালো, তুই? [আমি] --আল্লাহ যেরকম রেখেছে। [আবির] --তুই কি আজও আমার উপর রাগ করে আছিস? [আমি] --রাগ করলে কি কথা বলতাম।আচ্ছা তুই কি আমায় এখনও ভালোবাসিস? [আবির] --তোকে আমি ভালোবাসি কি না জানি না।তবে, তোর সাথে কাটানো প্রত্যেকটা মুহুর্ত্যকে মিস করি।যখন মনে কষ্ট পাই, তখন তোর সাথে কাটানো দিনগুলির কথা মনে করে নিজেকে শান্তি দিই।যখন নিজেকে খুব একা মনে হয়, তখন তোর কথা ভেবে নিজের একাকিত্ব দূর করি।তুই যেভাবে আমার স্কুলের সাটা শার্টে কলমের কালি মাখাতি, সেই কথা মনে করে নিজে নিজেই হেসে উঠি।কখনও কখনও ঘুমের ঘোরে বন্ধু বলে চিৎকার করে উঠি।আবার কখনও তোর কথা মনে করে চোখের জল গুলোকে চোখ থেকে বের করে দিই।তুই আর আমি যেভাবে ছোটবেলা ছবি আঁকতাম, সেভাবে ছবি আঁকার চেষ্টা করি।তোর সাথে বৃষ্টির দিনে যেভাবে বৃষ্টিতে ভিজতাম সেভাবে বৃষ্টিতে ভিজি। তোর কথা খুব মনে পড়লে, তোর ছবি বের করে তোর ছবির সাথে কথা বলি।তুই আর আমি যেভাবে চকলেট কিনে এনে রেখে দিতাম, সেভাবে এখনও আমি চকলেট কিনে এনে রাখি।আরো অনেক কিছুই হয়তো করি। তবে, এটা তোর প্রতি ভালোবাসা কি না জানি না।[আমি] দেখলাম যে, আবিরের চোখ থেকে জলগুলো টপ টপ করে মাটিতে পড়ে, মাটিগুলোকে ভিজিয়ে দিচ্ছে।বুঝতেই পারছি যে, সে কতটা কষ্ট পেয়েছে।আর এদিকে আমি খেয়ালি করিনি যে আমার চোখ থেকেও জল বের হচ্ছে। --কি রে, কাঁদছিস কেন? আমরা চাইলে আবার সেই ছোটবেলার বন্ধুত্ব ফিরে পেতে পারি।[আমি] --তা হয় না রে।[আবির] --কিন্তু কেন? তোর রাগ কি এখনও কমেনি? [আমি] --না রে।সেজন্য না।আমি চাইনা যে, আমার বন্ধু আবারও বন্ধু হারানোর কষ্ট পাক।[আবির] --মানে? কি বলছিস? [আমি] --আমি এই পৃথিবীতে মাত্র কিছু দিনের অতিথি।আমার হাতে আর বেশি সময় নেই। যখন আমি জানতে পারি য, আমি আর বেশিদিন বাঁচব না।তখন আল্লাহর কাছে শুধু একটি দুয়া'ই করেছি যে, মৃত্যুর আগে যেন আমি আমার বন্ধুকে একটি বারের মতো দেখতে পারি।আল্লাহ আমার দুয়া কবুল করেছে। এতেই আমি সন্তুষ্ট।[আবির] --না ! এটা হতে পারে না। (কাঁদতে কাঁদতে) [আমি] --হ্যাঁ রে।এটাই সত্য।[আবির] আর কিছু বলতে পারলাম না। শুধু বন্ধুকে জোরে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলাম। ~~~~~ [সমাপ্ত]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now