বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালো লাগলো তাই গল্পটা কালেক্ট করলাম???????????? বিয়ের প্রথম দিকে আমার স্ত্রী সুমাইয়া কোন কাজ করতে পারতো না,খুব ভুল করতো,বাড়ির অন্যরা শুধু ওর ভুল গুলি দেখিয়ে দিয়ে অপদস্থ করতে চাইতো আমি তখন সুউচ্চ পাহাড় হয়ে সামনে দাঁড়াতাম।বলতাম,
--সে এই বাড়িতে নতুন,তার ভুল হতেই পারে,আর সবাইকে বাপের বাড়ি থেকে কাজ শিখে আসতে হবে এমন কোন কথা নেই।আর কেউ সব শিখে আসলেও,হঠাৎ করে অন্যের বাড়িতে ;সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে,নতুন সংসারের কাজ ধরতে পারবে এমনতো নয়।
সুমাইয়ার ভুল দেখলে আড়ালে ডেকে বুঝাতাম।শিখাতে চেষ্টা করতাম পরিবারের কোন মানুষটি কেমন,কার সাথে কেমন আচরণ করতে হবে।সবসময় সাহস দিতাম। কখনো কারো সামনে সুমুকে অপমান জনক কথা বলিনি,কারণ আমি খুব ভাল করেই জানে,যদি আমি আমার স্ত্রীকে সম্মান না করি তবে অন্য সবাই তাকে অবহেলা,অপমান,অপদস্থ করবে।
যদি আমি সুমুকে সম্মান,স্নেহ দিই,তবে সুমু অন্যদের কাছেও সম্মানিত হবে।অন্য কেউ সুমুকে কটু কথা বলতে দুইবার চিন্তা করবে।আমি সবসময় চেষ্টা করতাম,সুমু যেন হাসি খুশি থাকে কারণ তাকে তার চির চেনা পরিবেশ,ঘর, বাবা-মা,ভাই-বোন সবাইকে ছেড়ে আসতে হয়েছে;শুধুমাত্র আমার ভালবাসার জন্য।কিন্তু আমাকে কিছু ছেড়ে যেতে হয়নি।এটাই দুনিয়ার নিয়ম,কিন্তু দুনিয়ার নিয়ম বলে সুমু বা অন্য স্ত্রীদের কষ্ট হয় না এমন নয়।
সুমুকে সবসময় বলতাম,
--যতটুকু কাজ করতে পারবে করবে কিন্তু কখনো মা'য়ের সাথে উঁচু আওয়াজে কথা বলবে না।
কখনো কখনো বাড়িতে বয়স্ক মেহমান আসলে বলতো,
: আজকালকার মেয়েদের কত কথা,একটুর চেয়ে একটু কষ্ট করলেই ক্লান্ত হয়ে যায়।এতই নরম!আর আমরা কত কষ্ট করে ছেলে মেয়ে বড় করেছি।
সুমু কষ্ট পেতো,আমি ওকে বুঝাতাম,বলতাম
--থাক না,উনি বয়স্ক মানুষ,তুমি কষ্ট পেয় না।উনারা পেরেছেন বলে তোমাকে পারতে হবে এমন কোন কথা নেই।
সুমু খুব খুশি হতো,স্পষ্টই বুঝতাম।
সুমুর বাবার বাড়ি থেকে এটা,সেটা দেয়নি,এসব নিয়ে কথা হতো।আমি বলতাম,
--আমি সুমুকে বিয়ে করেছি, ওর বাবার বাড়ির উপহারকে নয়।
কোন কোন সময় বাড়ির অন্যরা কাজ করতে পারে না বলে তিরস্কার করতো,অনেকসময় এসব নিয়ে কিছু বলিনি,একদিন খুব রাগ হলো,শান্ত;অথচ দৃঢ় কন্ঠে বললাম,
--সুমুকে কাজের মেয়ে আনিনি,যতটুকু পারে করবে,না পারলে মেরে ফেলতে তো পারবো না।
আড়ালে সুমুকে বুঝাতাম,
একটু চেষ্টা কর যতটুকু পার ঘরের কাজে হেল্প করতে।কারণ আমি তুমিও ঘরের খাবার খাব,ঘরের থালা, বাসন ব্যবহার করবো।ঘর পরিস্কার থাকলে তোমার বা আমারও ভাল লাগবে।
আমার কথা সুমু মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতো,বলতো,
: ইয়াসির, তুমি এত সুন্দর করে কীভাবে বলো,আমি তোমার কথা শুনতে বাধ্য হই!না শুনে পারিই না।
রুমের বাহিরে ওর যত মন খারাপই থাকুক না কেন,রুমে আমি ওকে একটু সুন্দর করে বুঝিয়ে বললে, একটু ভালবাসা দিলে;আমার সুমু সব কষ্ট ভুলে যায়।
আমি সবসময় চেষ্টা করেছি,আমার মা বা পরিবারের অন্যদের সাথে যেন সুমুর সম্পর্ক ভালো থাকুক।ভালো সম্পর্ক হতে দেরী হলেও আমার পক্ষ থেকে ভালবাসার কোন কমতি করিনি।কারণ মেয়েরা শ্বশুর বাড়িতে যত কষ্টই পাক না কেন,স্বামীর একটু ভালবাসাই সব ভুলে যেতে পারে।
সবসময় দুনিয়ার সবকিছুর আগে প্রাধান্য দিয়েছি সুমুর সাথে মা'য়ের সম্পর্ককে,কেননা আমি জানি একজন ঘরের বউয়ের সাথে যদি শাশুড়ির ভালো সম্পর্ক তাকে তবে সেই বউরা দুনিয়াতেই বেহেশতের সুখ অনুভব করে।
আর আমিতো আছিই,আমার রানী সাহেবাকে ভালবাসার জন্য,রানীর মত মর্যদা,ভালোবাসা দেওয়ার জন্য।হয়তো রানীর মত অফুরন্ত টাকা,পয়সা দিতে পারবো না কিন্তু অফুরন্ত ভালবাসা দিতে পারবো।
একদিন সুমু বললো,
: ইয়াসির আমি খুব ভাগ্যবতী, আমি তোমাকে পেয়েছি।এত রেসপেক্ট, এত ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য আমি নই,জানি না কোন ভালো কাজের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহতা'লা তোমাকে আমার করে দিয়েছেন।
ইয়াসির,তুমি এত ভাল কেন?আমাকে এত ভালবাস কেন?এইভাবে সুখ কি সব মেয়েরা পায়?
আমি মুনালিসার মত মুচকি অথচ রহস্যময় হাসি হেসে বললাম,
--আসলে আমি খুব স্বার্থপর, আমি তোমার জন্য কিছুই করি না,সব আমার নিজের জন্য করি।আমি জানি,তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো।তুমি হাসি-খুশি থাকলেই সারাদিন মেহনত করে এসে আমি স্বস্তি পাবো,শান্তি পাবো।
তোমাকে কষ্ট দিলে,তোমার সাথে ঝগড়া হলে আমি কোথাও শান্তি পায় না।সারাদিন কাজে মন বসে না।চলার গতি দুর্বল হয়ে যায়।সারাদিন তোমার কথা ভেবে ভেবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে,সবার সাথে রাগারাগি করি।
আর তোমার আর মায়ের সাথে সম্পর্ক ভাল থাকলে আমি নিশ্চিত থাকি,তুমি বাড়িতে ভালো আছ।আমার দুশ্চিন্তা হয় না,আমার সুমু ভাল আছে।
সুমু খানিক রাগের ভান ধরে বললো,
: তো,ইয়াসির এই তোমার গোপন ফর্মুলা। আসলে তুমি আমাকে ভালইবাস না।সব নিজের জন্য করো।
আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম,
--তুমি আর আমি কি দুইজন?আমার রানী সাহেবা ছাড়া আমি যে অচল।তোমার, আমার সুখ কি আলাদা?আমি খুশি হলে যেমন তুমি সুখ পাও,ঠিক তেমনি তুমি সুখ পেলে আমি খুশি হই।
খানিকটা চিন্তিত হলো আমার রানী সাহেবা,বললো,
: আচ্ছা ইয়াসির,সব ছেলেরা এমন নয় কেন?
--কারণ তারা বুঝে না,
"স্ত্রী অসুখী মানে নিজে অসুখী।স্ত্রী মানে ঘরের শান্তিই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শান্তি,আর এই শান্তিতেই জান্নাতের আসল শান্তি লুকায়িত "
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now