বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
written by:-- shahadat Hasan
প্রথম পর্ব
প্রায় পাচ বছর পর দেশে ফিরলাম৷ এক প্রকার রাগ,অভিমান আর জিদ অভিমান নিয়েই বিদেশে গিয়েছিলাম৷ এতোদিন পর আমার চেহারার অনেক পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয় নি আমার মনের৷ আমার মনটা সারাক্ষন পড়ে থাকে ছয় বছর আগের রুপার সাথে কাটানো বিলের পাড়ে,নদির ধারে আবার কখনো বা রুপার ঘরের জানালার পাশে রুপাকে একবার দেখার আকুতি নিয়ে জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে থাকার মাঝে৷ রুপা মেয়েটা শ্যামলা ফর্সা আর একটু রাগি হওয়ার পরও আমার ক্যানো জানি ওকে খুব ভালো লাগত৷ ও যখন আমার মুখের সামনে বসে থেকে রাগ করে গাল মুখ ফুলিয়ে বসে থাকত ইচ্ছা করত গালদুটো আরও একটু টেনে ওর কিউটের মাত্রাটা আরেকটু বাড়িয়ে দেই৷ ওর হাসি মুখ খানা দেখলে আমার কলিজা,মন প্রান সবি জুরিয়ে যায়৷ রুপাকে দেখার পরদিন থেকেই আমি ওকে পটানোর মিশনে নেমে পড়ি৷ কারন আমার বুঝা শেষ যে আমি ওকে না পেলে হয়তো আমার জীবন অপরিপূর্ন৷ আমাকে ওর পেতেই হবে৷ মেয়েটা ছিল ক্লাস টেনের ছাত্রী৷ সদ্য ষোড়শি কোনো মেয়ের জিবনে আমি প্রথম প্রেমিক পুরুষ হব তা ভাবতেই আমার রাতের স্বপ্নের মাত্রাটা আরও বেড়ে যেত৷ আমার মনে আছে ও ওর বান্ধবিদের সাথে হাসতে হাসতে স্কুলে যেত তখন আমি নিয়মিত করে ঘুম থেকে উঠে ওর স্কুলের দিকে হাটা দিতাম৷ ওর স্কুলের সামনের টং দোকানে বসে থাকতাম৷ আর রুপার হাসিমুখের দিকে একপলকে চেয়ে থাকতাম৷ অদ্ভুদ্ভাবে হাসার ক্ষমতা আল্লাহ ওকে দিয়েছিলেন৷ সে হাসি দেখে আমি যেন আরও বেশি মুগ্ধতা বাড়ত আমার৷ একদিন তো শুক্রবারেও স্কুলে গিয়েছিলাম৷ আমাকে দেখে দোকানদার মামা বলল মামা আইজকা তো শুক্রবার আইজকা তো দেখবার পারবেন না৷ কি করব না ভেবে ঠোটে কামড় দিয়ে ভাবতে লাগলাম,আমি কি তবে রুপার প্রমে পুরাই অন্ধ হয়ে গেলাম যে শুক্র শনিটাও পর্যন্ত চিনতে পারি না৷ তবে এটা যে রুপা ও তার বান্ধবিরা বুঝতে পারছে এ বিষয়ে আমি নি:সন্দেহ৷ ওর বান্ধবিরা আমাকে নিয়ে ওকে টিটকারি মারত তা আমার কানে মাঝে মধ্যেই আসত৷ প্রতি সপ্তাহে রুটিন করে ওর বাড়ির আশেপাশে দু তিনটা পাক দিয়ে না আসলে আমার যেন ঘুম হারাম হয়ে যেত৷ কাকাতলিয়ভাবে ওর সাথে একদিন বড় বটগাছতলায় দেখা হয়ে গেল৷ আমিতো দেখে সাইকেল ব্রেক করার সাথে সাথে আমার হাটবিট যেন আরোও বেড়ে গেল৷
--এই যে শুনেন
--জ্বি বলেন
--কি ব্যাপার আপনি আমার কলেজ,প্রাইভেট এমনকি আমার বাড়ির আশপাশে ঘুরা ঘুরি করেন কাহিনি কি?
--না মানে ইয়ে আরকি
--কি?? এমন আমতা আমতা করেন ক্যানো??
--একটা পরিকে দেখার জন্য৷
--কে সেই পরি?
-আমার সামনে যে পরিটা দাঁড়িয়ে আছে সেই বা পরির চেয়ে কম কিসে?
--ও তাই
বলেই মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেল৷ বোঝা গেছে এটা গ্রিন সিগন্যাল৷ তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নাই৷ ওর দুইটা বান্ধবির পেট পূজা করে প্রেমটা জোড়া লাগিয়েছিলাম৷ হাসি,আনন্দ আর মজায় মেতে ছিলাম দু বছর৷ কিভাবে কেটে গেল দুবছর তা আমি নিজেও বলতে পারব না৷ প্রায় প্রতিদিন ওর সাথে দেখা করা,মাঝে মধ্যে নদীর পাড়ে ঘুরতে যাওয়া,একসাথে ফুচকা খাওয়া৷ আমি যেন প্রেমের নীল সাগরে ভাসছি৷ পৃথীবিটাকে আরও বেশি সুন্দর লাগছিল৷ কিন্তু এ ভালোলাগা বেশীদিন টিকল না৷ ওর বাসা থেকে আমাদের সম্পর্কের কথা জেনে যায়৷ তারপর থেকেই রুপা আর আমার দেখা সাক্ষাত প্রায় একেবারেই বন্ধ৷ এদিকে আমি কি করব না করব না ভেবে পেয়ে দু:চিন্তায় আকুল হয়ে গেলাম৷ রুপাকে দেখার জন্য আমার দুচোখ পিপাসার্ত৷ কিছু দিন পর জানতে পারলাম রুপার বিয়ে হয়ে গেছে৷ এখন আমি কি করব??চোখে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখছি না৷
চলবে....
#পর্যাপ্ত পরিমান রিকুয়েস্ট আসলে দ্বিতীয় পর্ব লিখব৷
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now