বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প পিচ্চি বউঃ
পর্ব~৭......
-গত রাত টা স্বপ্নের মত ছিল,
মিথিলা এত তাড়াতাড়ি কাছে চলে আসবে ভাবতে পারিনি।
সকালের আলো ফুটেছে! সে আমাকে কোলবালিশ বানিয়ে
বুকে মাথা রেখে এখনো ঘুমিয়ে আছে,
-মিথু
-হু
-সকাল হয়েছে তো! ওঠ না......
-ইচ্ছে করছে না!
-কেন?
-জানি না! আর শোন,
তুই দেশে ফিরে Gym এর ধারে কাছেও যাবি না!
-কিহ? কেন?
আমি রান্না করবো,
তুই খেয়ে-দেয়ে কুমড়ো পটাস হয়ে যাবি,
তারপর তোকে আমি
কোলবালিশের সাথে মাথার বালিশ বানিয়ে গুমাবো,
-সবাই চায় তার বরের ফিটনেস থাকুন,
আর তুই চাস কুমড়ো পটাস হই?
-হে উপরওয়ালা কি বউ দিয়েছো?
-কেন গো? তুমি কি ফিট
থেকে অন্য মেয়েদের সাথে ফ্লাটিং করবা?
-করলে কি বিশেষ সমস্যা আছে?
-অন্য কারো সাথে যদি দেখি না,
ঘুসি মেরে তর নাক ফাটিয়ে ফেলবো!
-হা হা, তুই আসলেই আমার পিচ্চি বউ.......
মিথু কিছু না বলে আমাকে আরেকটু জড়িয়ে ধরলো!
অনেক বেলা হয়ে গেছে, এখন না উঠলে হচ্ছে না,
চা টা পর্যন্ত খাওয়া হয়নি
তাই উঠে পরলাম মিথু এখনো বেডে শুয়ে আছে!
আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে বের হয়ে দেখি,
সে ওঠার নামই নিচ্ছে না,
ওদিকে তার ফোন বেজে যাচ্ছে,
-মিথু, তোর ফোন
-ধরে দেখ তো কে!
ওর ফোন হাতে নিয়ে দেখি,
আমার শাশুড়ি ফোন দিয়েছেন,
-হ্যালো মিথু!
-না মামী, অভ্র
-কেমন আছিস বাবা?
-ভাল আপনারা?
-এইতো ভাল! কেমন কাটছে দিন?
-ভাল!
আপনার মেয়ের যন্ত্রণায় শেষ হয়ে যাচ্ছি,
-কেন বাবা, কি হয়েছে?
-ওর বাচ্চামো স্বভাব গুলোর জন্য......
-ও তো এমনি......
-পাগলী টা কোথায়?
-এখনো ঘুমাচ্ছে!
মিথুকে জোর করে উঠিয়ে বসালাম,
ফোনটা ওর কানের কাছে ধরলাম,
-কি রে মা, কেমন আছিস?
-ভাল মা! তোমরা?
-ভাল আছি!
-দেশে ফিরবি কবে তোরা?
-খুব তাড়াতাড়ি।
-কেমন লাগছে জায়গা টা?
-খুব ভাল,
তবে তোমাদের অভ্র সেদিন কি করেছে জানো?
-কি করেছে?
সেড়েছে,
এই কথা যদি তারা শোনে কপালে দুঃখ আছে
তাতে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই!
তাই ফোন তার কাছ থেকে নিয়ে,
-মামী, আপনার মেয়ে এখনো বিছানা থেকে ওঠেনি!
কি বলছে না বলছে তার কোনো ঠিক নেই!
আচ্ছা পরে ফোন দিবো
বলে রেখে দিলাম,
-মিথু, তুই এই কথা টা মামীকে বলচে যাচ্ছিলি কেন?
-তো কি করবো?
আমি দেশে ফিরে ফুপিকে বলবো
-পাগল হয়েছিস? যাহ বলিস তুই তোর শাশুড়িকে!
এখন ওঠ ঘুরে আসি........
ঠেলেঠুলে তাকে ওয়াশরুমে পাঠালাম,
সোফায় গিয়ে মাত্র বসেছি,
এর মধ্যে তার ডাক আসলো,
-অভ্র
-কি হলো আবার?
-আমার টাওয়াল টা দিয়ে যা তো!
নাহ, একে নিয়ে আর পারা যায় না!
একটা কাজ যদি ঠিকমতো করতে পারতো,
টাওয়াল নিয়ে তার কাছে গেলাম,
-এই নে তোর টাওয়াল!
সে টাওয়াল সমেত আমাকেও ভিতরে টেনে নিলো......
অসাধারণ সময় কাটছে, কোনোদিন ভাবতে পারিনি আমার
মত ছন্নছাড়া মানুষের জীবন টা মুহূর্তের মধ্যে পালটে যেতে পারে,
তবে সবসময় ভয় হয় কেন জানিনা,
আমার কপালে সুখ নামক জিনিস টা
বেশিদিন স্থায়ী হয় না......
তবে মিথু আসার পর থেকে সবকিছু ভালই হচ্ছে,
ইহিতার সাথে দেখা, দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি,
আর নিঃসার্থ ভালবাসা!
আশা করি সে পারবে আমাকে নিজের মতো
করে গুছিয়ে নিতে!
সকালে আর বেড়নো হলো না!
তাই লাঞ্চ শেষ করে বিকেলে বীচ থেকে
খানিক টা সামনে ঘুরতে বের হলাম!
রাস্তা দিয়ে হাঁটছি, হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো,
স্কিনে তাকিয়ে দেখি অচেনা নাম্বার।
প্রথম বার না ধরে পকেটে রেখে দিলাম,
আবার একই নাম্বার থেকে ফোন আসলো,
একরাশ বিরক্তি নিয়ে ধরলাম,
-হ্যালো,
-অভ্র বলছিলে?
-জ্বী, কে বলছিলেন প্লীজ?
-আমি আবির ভাইয়া!
-ওহ,ভাইয়া! আপনি আমার নাম্বার কোথায় পেলেন?
-তোমাদের রিসোর্টে গিয়েছিলাম,
দেখলাম তোমরা নেই, পরে রিসিপশন থেকে নিয়েছি!
-কেন দরকার ভাইয়া?
-তোমরা কোথায় আছো এখন?
-একটু বাইরে এসেছিলাম!
জায়গার নাম টা বললাম,
আবির ভাইয়া কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললো!
পাশের একটা কফি শপে ডুকে কফি অর্ডার করে
তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলাম!
একটু পরে সে গাড়ি নিয়ে হাজির! শপে আসলো,
-কি অভ্র, মিথিলা, কেমন যাচ্ছে?
আশা করি ভালই চলছে সবকিছু!
-জ্বি ভাইয়া ভাল! উঠাৎ জরুরি ভাবে ডাকলেন?
-আসলে, আজ ইহিতার জন্মদিন!
এখানে তো ওর তেমন কোনো আত্মীয় স্বজন নেই!
আর বিয়ের পরে এই প্রথম জন্মদিন!
যদি একদম কেউই না থাকে হয়তো ওর খারাপ লাগবে!
আর ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি সময় থাকতেও পারিনা ওর পাশে!
তাই আমি চাচ্ছিলাম তুমি আর মিথিলা যদি আজকে আমাদের বাসায় আসতে,
হয়তো ইহিতার ভাল লাগতো।
-আসলে ভাইয়া,
আমার কথা শেষ করার আগেই, মিথু জবাব দিলো,
-অবশ্যই.....
ভেবেছিলাম কোনো ভাবে পাশ কাটিয়ে যাব!
আমি চাচ্ছিলাম না আবার ইহিতার সাথে
আর কোনদিন দেখা হোক!
সবে মাত্র মিথুকে আপন করতে শুরু করেছি!
নিয়তি আমার সাথে কি খেলা শুরু করেছে?
অনিচ্ছা স্বর্ত্বেও যেতে হবে!
আবির ভাইয়া তার গাড়িতে করে আমাদের সাথে
নিয়ে তার বাসার দিকে রওনা দিলো!
আমার মুড টা পরিবর্তন হয়ে গেল!
আবির ভাইয়া বললো, বাসা বেশি দূরে নয়!
তাই চুপ করে বসলাম!
মিথু আমার কানের কাছে মুখ এনে বললো,
-অভ্র, ইহিতার জন্য কিছু একটা নেওয়া দরকার না?
কথা শেষ করার আগে সে আবির ভাইকে গাড়ী পার্ক করতে বললো, কারণ জানতে চাইলে বললো,
একটু দরকার আছে,
গাড়ী থেকে নেমে সোজা গিফট শপের দিকে হাটা ধরলো,
আমিও তার পিছে পিছে গেলাম,
আবির ভাইয়া আমাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো,
-এই, সতিনের জন্য কি নেওয়া যায়?
-কি বললি?
-বললাম, ইহিতার জন্য কি নেওয়া যায়?
ওর ফেভারিট জিনিস কি ছিলো?
-টেডিবিয়ার!
মিথু গিফট শপের কর্নারে যেতে যেতে বললো,
-পেয়েছি!
-কি পেয়েছিস?
গিয়ে দেখি ইয়া বড় সাইজের টেডিবিয়ার!
সাইজে আমার থেকেও বড় হবে!
মিথু এইটা নেবে বলেই বায়না ধরলো, কি করবো,
পেমেন্ট করে বেড়িয়ে পড়লাম,
শপের লোকেরা এসে গাড়ির পিছনে উঠিয়ে দিয়ে গেলো,
কিছুক্ষণের ভিতরে পৌঁছে গেলাম ইহিতাদের আপার্ট্মেন্টে!
টেডিবিয়ার টা ওয়াচ ম্যান কে দিয়ে উপরে
পাঠিয়ে দিতে বললাম!
আবির ভাইয়ার সাথে সাথে ঢুকলাম!
কলিং বেলে চাপ দিতেই প্রায় সাথে সাথে দরজা
খুলে দিলো ইহিতা!
আবির ভাইয়া বললো,
-হ্যালো, বাবু
-ওদের কোথায় পেলে?
-ধরে এনেছি!
বলে ভিতরে ঢুকে গেলো সে!
পিছু পিছু আমি আর মিথুও!
-হ্যালো ইহিতা, কেমন আছো?
-ভাল, তোমরা?
-হ্যাঁ ভাল
একবার তার সাথে চোখাচোখি হলো!
ইহিতা মনে হয় এখনও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না!
দরজা ধরে
৮ম পর্ব আসছে।।।আর পিশাচ কল গল্পের ২ পর্ব আসছে।।।।কেমন লাগ্লো বলবেন কিন্তু
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now