বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৬

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৬ রাত হয়ে এসেছে। ডিনার শেষ করে সোফায় এসে চোখ বন্ধ করে বসলাম। খুব মাথা ব্যথা করছে, মিথিলা এসে আমার পাশে বসল, -অভ্র -বল -তুই ঠিক আছিস? -হ্যাঁ -চোখ বন্ধ করে আছিস কেন? -মাথা ব্যথা করছে খুব। -তর মাথা ম্যাসেজ করে দিব? কিছু বললাম না! আগের মত চুপ করে বসে থাকলাম। মাথায় কমল হাতের স্পর্শ পেলাম। খুব যত্ন করে ম্যাসেজ করে দিচ্ছে মিথিলা। স্বপ্নের কথা কিছু বলা হয়নি তাকে, -মিথু -হু -জানিস, আজকে যখন তুই বাসার বাইরে গিয়েছিলি, আধো ঘুম, আধো জাগরণের মাঝে একটা স্বপ্ন দেখলাম........ -কি দেখলি? -তোকে সাথে নিয়ে কোনো এক পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়েছি। হাত ধরে হাটছিলাম, হঠাৎ তুই আমার হাত ফসকে পাহাড়ের খাঁদে পরে গেলি। সাথে আমিও অতলে হারিয়ে যেতে শুরু করলাম। কিন্তু কে যেন আমার হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করলো। তার চেহারা দেখতে পেলাম না। চোখ খুললাম, আমার কথা শুনে মিথু কিছুটা হাসতে শুরু করলো, -তুই আমাকে নিয়ে আজকাল স্বপ্নও দেখিস? -ব্যাপার টা মোটেও হাস্যকর না। -জানি তো! কেন জানি হাসতে ইচ্ছে করলো। -তর বাচ্চামি স্বভাব ভাল হবে না কোনদিন? -সম্ভবনা শূন্যের কাছাকাছি। এবার আমার হাসি পেলো। পাগলী টা আসলেই মনে হয় কখনো গম্ভীর হতে পারবে না। -অভ্র, তর হাসিটা সুন্দর! -বাব্বাহ, তুই আমার হাসিও খেয়াল করেছিস? আর কি কি দেখলি? -এই, তুই একটা গবেট, ছাগল, গরু, উজবুক, ছন্নছাড়া ইত্যাদি ইত্যাদি। খুব জোরে হেসে উঠলাম! কারণ আমাকে নিয়ে কেউ এ ধরণের কথা কোনো দিন বলে নি। -তর কেন এমন মনে হয়? -কেন বলবো তোকে? উঠে গেলাম! ঘুমাতে হবে গত ২দিন অনেক ধকল পার হয়েছে! কিন্তু এ কি? বেডে গিয়ে দেখি কোলবালিশ নেই! -মিথু -বলে ফেলুন অভ্রবাবু -কোলবালিশ কোথায়? -রুম সার্ভিসে ফেরত দিয়ে দিয়েছি! -কিইইইইইইই? কেন? -কোলবালিশটাকে কেন যেন সতিন সতিন মনে হয়, -তোকে কি করা দরকার এখন? ভাল কথা, কোলবালিশ ছাড়া তুইও তো ঘুমাতে পারিস না! -আমার বর আছে না? তাকেই না হয় কোলবালিশ বানিয়ে নেব! -কিসের বর? আমি তর কোলবালিশ হতে রাজি না! -যাহ, লাগবে না, আমি বুঝিনা তর মতো আন রোমান্টিক একটা ছেলেকে কোন মেয়ে বিয়ে করতে ছাইবে? -ছাড় তর রোমান্টিকতা! আমি ঘুমাতে গেলাম এইটুকু বলে বেডের এক পাশে গিয়ে শুয়ে পরলাম, মিথুও এসে আমার কাছ ঘেঁষে শুয়ে পড়ল! কিছু বললাম না, চোখ লেগে এসেছে। গভীর ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছি, হঠাৎ মিথুর হাত আমার বাহুর উপর চলে আসলো, নাহ এ মেয়েকে নিয়ে তো বিশাল মুসীবত! কোলবালিশ ছাড়া ঘুমায় না, অথচ তাকে সতিন মনে করে ফেরত দিয়ে এসেছে! নিজের কাছে কিছুটা অস্বস্তি লাগছে। কিন্তু কিছু করার নেই! পাগলী টা দিন দিন আপন করে নিতে চাচ্ছে! আমি কি পাড়ছি ওর প্রাপ্য ওকে ফিরিয়ে দিতে? নাকি অবিচার করছি মেয়েটার সাথে? এমন কোনো মেয়েকে এখনও দেখিনি, যে তার বরের পুরনো ভালবাসাকে তার জন্মদিনে বাসায় হাজির করে। সবকিছু জানার পরেও কোনো হাঙ্গামা না করে সবকিছু নিরবে নিভৃত্বে মেনে নিয়ে আমাকে ভালবাসতে চাইছে! আমি কি পারবো ওকে ভালবাসা দিয়ে আজীবন নিজের কাছে আগলে রাখতে? পারবো কি সুন্দর একটা জীবন তাকে উপিহার দিতে? ভাবতে ভাবতে আমিও ঘুমিয়ে গেছি! আগেকার সেই কোলবালিশের বদ অভ্যাসের দরুন কখন আমার একটা হাত তার বাহুতে চলে গেছে খেয়াল করিনি। যেহেতু কিছু করার নেই তাই মিথুর দিকে ঘুরে শুলাম। ঘুমন্ত অবস্থায় একদম পরীর মত লাগছে তাকে, কি মায়াবী চেহারা, মনে হচ্ছে তার প্রতিটি নিশ্বাস অনুভব করতে পারছি, সাথে বুকের প্রতিটি হৃদ স্পন্দন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি....... সকাল হয়ে গেছে, মিথুর মিষ্টি কন্ঠে ঘুম ভাঙ্গলো -এই অভ্র, অভ্র -কি হয়েছে? -উঠ না। দেখ সকাল টা কত সুন্দর আজকে। চল বাইরে থেকে ঘুরে আসি। -আরেকটু ঘুমাই? -চা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, উঠ না! উঠে পরলাম। চা খেয়ে ফ্রেস হয়ে পাগলীটাকে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম। রিসোর্ট থেকে একিটু এগিয়ে দেখি ফুলের দোকান। মিথুকে নিয়ে আগে সেখানে গেলাম। সুন্দর দেখে একগুচ্ছ কালো গোলাপ কিনে তার হাতে ধরিয়ে দিলাম। আবার হাঁটতে শুরু করেছি, আজকে মিথু না, আমিই আগে ওর হাত টা ধরলাম, একটু লজ্জা পেল মনে হচ্ছে! তাতে কি? আমারই তো বউ! সকাল টা আসলেই আজ খুব সুন্দর! রৌদ্রজ্জল চারিদিক! বেশ লাগছে তাকে নিয়ে হাঁটতে! দেশ থেকে কেউ এখনো ফোন দেয়নি, আসলে ফোনে কথা বলতে বরাবরই আমার কেন জানি বিরক্তি লাগে! তবে আজকে কি মনে করে যেন আম্মু কে ফোন দিলাম! -কি বাবা? ভুলে গেছিস আমাদের এখনই? -কি যে বলো না? -হা হা, সময় কেমন কাটছে! -যার সাথে পাঠিয়েছি, কেমনই বা কাটতে পারে? মিথু পাশ থেকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে! -মিথু কোথায়? -পাশেই আছে! -দে তো, মেয়েটার সাথে ভাল করে কথা বলতে পারলাম না! ফোনটা মিথুর কাছে দিলাম, তাও লাউড স্পিকারে, -আসসালামু ওয়ালাইকুম ফুপি -ওয়ালাইকুমসালাম মা , কেমন আছিস? -ভাল ফুপি! আপনারা কেমন আছেন? -ভাল মা! তোমাদের ছাড়া বাড়িটা শুন্য শুন্য লাগছে..... -আমারও খুব খারাপ লাগছে! -তাড়াতাড়ি চলে আয় তো, আর পাগলটার দিকে খেয়াল রাখিস! -ঠিক আছে ফুপি বলে ফোন রেখে দেয়! বীচ থেকে একটু সামনে নাকি খুব সুন্দর একটা জায়গা আছে! মোটামুটি স্বচ্ছ পানি, সামনে সু-বিশাল ঝর্ণা, আশেপাশে লম্বা লম্বা গাছ! বোর্ট নিয়ে চলে গেলাম সেখানে! পাশাপাশি বসেছি দু-জন! চারিদিকের পরিবেশ দেখে হঠাৎ মাথায় কু-বুদ্ধি চাপলো! এখানকার পানির গভীরতা বেশ খানি, ভাবলাম মিথুকে একটু ভয় দেখানো যাক, ওর পাশ থেকে উঠে বোর্টের একদম সামনে চলে গেলাম, -কোথায় যাচ্ছিস? -কি হলো আবার? -শরীর টা ভাল লাগছে না! একদম সামনে গিয়ে মাথা ঘুরে পানিতে পরে যাওয়ার ভান করলাম! পরার সাথে সাথে ওখান থেকে একটু দূরে ডুব দিয়ে চলে আসলাম! মিথু দৌড়ে এসে আমাকে দেখতে না পেয়ে চিৎকার দিলো, সাথে কান্না জুড়ে দিলো! মুখে বেদনার ছাপ স্পষ্ট খেয়াল করলাম। বাচ্চা মেয়েদের মতো কাঁদছে আর আমার নাম ধরে ডাকছে! বোর্টের ক্রু অনেকে ঝাঁপিয়ে পরেছে আমাকে উদ্ধার করতে, নাহ বেশি হয়ে যাচ্ছে, সাঁতরে কাছে চলে গেলাম! মিথু যে রেলিং ধরে দাঁড়ানো ঠিক সেখানে গিয়ে উঠলাম, -কি হয়েছে আমার বউটার? -অভ্র......... বলে আবার কাঁদতে শুরু করেছে, উপরে উঠে আসলাম! -হা হা, একটু মজা করছিলাম, জানিস আমি কলেজে থাকতে সুইমিং চ্য চলবে........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৯
→ গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~১০
→ গল্প পিচ্চি বউঃ পর্ব~৭......

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now