বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প পিচ্চি বউ পর্ব~৫ম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X গল্প পিচ্চি বউ পর্ব~৫ম এক্টু দেরি হয়ে গেল।।তাই আমি খুব দুক্ষিত।।। গতকালের ঘটনার পর, নিজের কাছে নিজেকে বিব্রত লাগছে, কখনো ভাবিনী ইহিতার সাথে আবার দেখা হতে পারে। রাতে ভাল ঘুম হয়নি, ঘুমতে হবে। বিছানায় টান টান হয়ে শুয়ে পরলাম, মিথু রেডি হয়ে কোথায় যেন বের হবে আয়োজন করছে, ভাবলাম কপাল হয়তো আজও পুড়ছে, ঠিক মত ঘুমানোর সুযোগ পাচ্ছি না। চোখ লেগে আসতে শুরু করেছে, তখনি মিথু ডাকলো, -অভ্র, ঘুমিয়েছিস? -হুম -কি হুম হুম? শোন আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, ঘন্টা খানের মধ্যে ফিরব, তুই ঘুমো। -হুম -তর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে ঘুমের মধ্যে আর কিছু বলেছিলাম কি না মনে পড়ছে না, গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম...... আজকাল আমি দিবা স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি, দেখলাম আমি আর মিথু কোনো এক পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছি, হঠাৎ সে আমার হাত ফসকে এক খাঁদে পড়ে গেল, শুধু একবার তার চিৎকার শুনলাম, তারপর চারিদিকে নিস্তব্ধ হয়ে আসলো, তারপর আমিও অতলে হারিয়ে যেতে শুরু করলাম। কে যেন আমার হাত ধরে টেনে তোলার চেষ্টা করছে, চেহারা ঝাপসা, ঠিক মত বুঝতে পারছি না, এইটুকু দেখার পর আর ঘুমিয়ে থাকতে পারলাম না, লাফ দিয়ে উঠে বসলাম, হার্টবির্ট অনেকটা বেড়ে গেছে। পাশে থাকা গ্লাস থেকে পানি খেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। কত সময় ঘুমিয়েছি? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় দুঘণ্টার অধিক হয়ে গেছে। মিথু বলে গেল কোথায় যেন যাবে। সে এখনো ফিরে আসেনি, চিন্তা লাগছে, ফোন দিলাম, -হ্যালো মিথু, কোথায় তুই? -এইতো এসে পরেছি, রিসোর্টের পাশেই। আর কিছু বললাম না, ফোন কেটে দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম শাওয়ার নিতে। বেশ লম্বা শাওয়ার নিয়ে বের হলাম সাথে সাথে কলিং বেলে চাপ পড়ল। ভাবলাম হয়তো মিথু চলে এসেছে। রুমের দরজা খুলে দিয়ে বললাম, কোথায় গিয়েছিলি হ্যাঁ? এত লেট কেন ফিরতে? এবার উপরে তাকালাম, আমার শিড়দাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল, মিথু একা না, সাথে ইহিতাও দরজার সামনা দাঁড়ানো..... রিসোর্টের বারান্দায় বসে আছি, পিন পতন নিরবতা, কেউ কোনো কথা বলছে না, আমার আসলে রাগ করা উচিৎ কি না বুঝে উঠার চেষ্টা করছি, মিথিলা নিরবতা ভাঙ্গে, -অভ্র, কফি খাবি? ইহিতা তুমি? আমি এবার মিথুর দিকে ক্রুর দৃষ্টিতে তাকালাম। সে হুট করেই কফি আনতে বেড়িয়ে গেল। বারান্দায় আমি আর ইহিতা, আমি বুঝে উঠতে পারছি না, মিথিলা আমার বউ হয়ে ইহিতাকে কেন বাসায় নিয়ে আসলো? আর এখন একা রেখে কেন বাইরে গেল? আসলে ও চাচ্ছে টা কি? ইহিতা এবার কথা বলতে শুরু করল, -কেমন আছিস অভ্র? -ভাল থাকার কথা ছিল..... -তোর পেঁচিয়ে কথা বলার অভ্যাস টা এখনো রয়ে গেল? -অনেক অভ্যাস এখনো আগের মতই আছে। বিন্দু পরিমাণ পরিবর্তন হয়নি বা করার চেষ্টা করিনি। -বিয়ে টা কি ইচ্ছে করে করেছিস?? -তর কি তাই মনে হয়? -এখন আর আগের মত করে কিছু মনে করতে ইচ্ছে করেনা রে। কিছু একটা বলতে চেয়েছিলাম, তার আগেই মিথু কফি নিয়ে হাজির। কফি রেখে সে আবার কোথায় যেন যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছে।, -কোথায় যাচ্ছিস তুই? -এক মিনিট অপেক্ষা কর। সে রুমে চলে গেল। নিজের ব্যাগ বের করে কি যেন খুঁজতে লাগল, আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তে ওর দিকে তাকিয়ে আছি, কে যেন বের করে আবার আমাদের কাছে ফিরে আসলো। -হ্যাঁ কি যেন বলছিলি অভ্র? কিছু না বলে ওর হাতের দিকে লক্ষ্য করলাম। একি? আমার ডায়েরী ওর হাতে কেন? এই ডায়েরী তো গত ৬বছরে আমি নিজেই খুলিনি। -মিথু, এটা তর কাছে কেন? -কোনটা? -ডায়েরীটা -ও এইটা? তোর ওয়ারড্রব থেকে জামাকাপড় সড়াতে গিয়ে পেয়েছিলাম। -ধরেছিস কেন? -কি বলিস? আমি না তর স্ত্রী? এইটুকু অধিকার আমি সংরক্ষণ করি না? কিছু বললাম না, চুপসে গেলাম। যেহেতু ডায়েরী মিথিলার হাতে সুতরাং ইহিতা সম্পর্কে কিছুই তার অজানা থাকার কথা না। এবার ইহিতা শুরু করল, -আচ্ছা, তোমাদের সম্পর্ক এই রকম কেন? মনে হয় ইঁদুর বিড়ালের মত সারাদিন ঝগড়া করো। আমি কিছু একটা বলতে চেয়েছিলাম, তার আগেই মিথিলা জবাব দিলো, -আসলে ব্যাপার টা হচ্ছে, আমার কোনো ইচ্ছে ছিলোনা এই গবেট টাকে বিয়ে করার, কিন্তু ফ্যামিলি হুট করে বিয়ে দিয়ে দিলো। বিয়ের ৪ঘন্টা আগে শুনলাম আজকে আমার বিয়ে। ব্যাপার টা অসাধারণ না? । ইহিতা একটু হাসলো, এবার আমি শুরু করলাম, -আমি কি তকে বিয়ে করার জন্য বসে ছিলাম? তুই তো ৪ঘন্টা সময় পেয়েছিস, আর আমি বিয়ের আসরে গিয়ে শুনেছি আমার বিয়ে আজ। ইহিতা এবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। ওর হাসিটা আগের মতই আছে। মিথু আবার শুরু করল,। -আচ্ছা বাদ দে, ডায়েরী তে তুই ১১ পৃষ্ঠার পর আর কিছু লেখিস নি। চুপ করে থাকলাম, আসলে আমি কখনো চাইনি এই ডায়েরী কারো হাতে পরুক, আর পড়া তো দূরে থাক। মিথুর কথার ভাবে যা বোঝা যাচ্ছে, সে শুধু ডায়েরী পড়েনি, সকল কাহিনী আদি অন্ত বুঝে ফেলেছে। আর সেই সুবাদে আজকে ইহিতা আবার সামনে হাজির। কি দরকার ছিলো সেদিন রেস্টুরেন্টে ডিনার করা, কি দরকার ছিলো আবির ভাইয়ের সাথে পরের দিন দেখা হওয়া। দেখা হলো ভাল, বাসার ঠিকানা কেন দিলো? আর আমিই বা সেটা কেন মিথুর কাছে রেখে দিলাম? কথা গুলো মনে পরলে নিজের মাথা দেওয়ালের সাথে ঠুকতে ইচ্ছে হচ্ছে। মিথুর কথায় আবার বাস্তবে ফিরে আসলাম। -ইহিতা, ডায়েরী টা তুমি দিয়েছিলে এই বানরটাকে? -হ্যাঁ -কিন্তু দেখছ? গবেট টা শুধু মাত্র ১১পৃষ্ঠা লিখে আর ছুঁয়েও দেখেনি। ইহিতা এবার বলতে শুরু করে, -জানো মিথিলা, অভ্র আমার খুব ভাল বন্ধু ছিলো। আমিও বুঝতে পারিনি, অনেক চমৎকার সময় একত্রে পার করেছি। -জানি ইহিতা। তোমাদের গল্পটা চাইলে ভিন্নরকম হতে পারতো। -আসলে ততটা সহজ ছিল, আমি আবির কে দেওয়া কথা কোনো মতেই ফেলতে পারতাম না। আর অভ্রর আশে পাশে থাকলে কোনদিন আমার পক্ষে সম্ভব হতো না। তাই পালিয়ে এসেছি অনেক দূরে। জানি আমাকে অনেক খুঁজেছে সে। কষ্টও পেয়েছে নেহাৎ কম নয়, কিন্তু আমি নিরুপায় ছিলাম। ইহিতার গলা কেঁপে উঠছে কথা বলতে গিয়ে, তাই আর সামনে এগুতে চাইলাম না। -আচ্ছা বাদ দে এইসব। তারপর ইহিতা, বিয়ে করলি কবে? -এইতো, ৬ মাসের মত। দেশ থেকে আসার পর ইতালি ছিলাম মামার কাছে। অনেকদিন আবিরের সাথে যোগাযোগও করিনি। তারপর হঠাৎ বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। -ভাল তো। মিথু, আবার কোথায় যেন যেতে উঠলো, এবার সে একা নয়, ইহিতাও উঠলো তার সাথে, আমি ভাবলাম হয়তো ইহিতার তাড়া আছে তাই ওর চলে যেতে হবে, কিন্তু মিথু কোথায় গেল? একা বসে থাকলাম বারান্দায়......... Ektu wait korun next part r jonno.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now