বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প পিচ্চি বউ: পর্ব ~৪র্থ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X গল্প পিচ্চি বউ: পর্ব ~৪র্থ সকাল হয়ে গেছে পাগলিটা এখনো হাত ধরে ঘুমিয়ে আছে, চেহারা খানিক টা শুকিয়ে গেছে। হয়তো আরো ভয়ংকর কিছু ঘটতে পারত। সৃষ্টিকর্তার কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া তেমন কিছু হয়নি। বেচারির জন্য খুব মায়া লাগছে, আজকে রিলিজ দিয়ে দেবার কথা। মিথিলা এখনো ঘুম থেকে উঠেনি। হাত ধরে ঘুমিয়েছে, কোথাও যেতে পারছি না। আমার মত ছন্নছাড়া মানুষ কারো জন্য চিন্তা করছে? ভাবা যায় না.... কিছু সময় পরে সে নিজে জেগে উঠেছে। -তুই রাতে ঘুমাস নি? (মিথিলা) -না (আমি) ডক্টর এসে আরেক বার রিপোর্ট দেখে তার চেম্বারে ডাকলো। ওর পাশ থেকে উঠে গিয়ে ডাক্তারের সাথে দেখা করতে গেলাম। তার ভাষ্য'র সারাংশ হলো, চাইলে পেসেন্ট কে নিয়ে আজকে দুপুরের পরে চলে যেতে পারি। কেবিনে ফিরে মিথিলাকে জানালাম, সে বলল ঠিক আছে, নার্স এসে নাস্তা দিয়ে গেল, উঠে বসেছে পাগলিটা, ভাবলাম নিজে খেতে পারবে, আবার কি ভেবে যেন নিজে খাওইয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, চেয়ার টেনে কাছে গিয়ে বসে খাওইয়ে দিতে শুরু করলাম, -তুই এতো ভাল কেয়ার নিতে পারিস, জানতাম না তো। ওর কথায় খুশি হব নাকি রাগ করব বুঝতে পারছি না, -কোনো কথা বলবি না, জানিস কত হেনেস্ত হতে হয়েছে? যদি ভাল মন্দ কিছু একটা হয়ে যেত? -তুই আছিস না? কিচ্ছু হবে না। আর কিছু বললাম না, চুপ করে খাওয়ানো শেষ করে উঠে ওয়াশ রুমে ফ্রেশ হয়ে আসলাম। -অভ্র....কালকে যদি আমার কিছু একটা হয়ে যেত, কি করতি?? -আমি বেঁচে যেতাম..... হাঁসতে শুরু করছে পাগলিটা, বাহ ওর হাসিটা তো বেশ সুন্দর। -শোন, আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে যা নিয়ে আয়। -পারব না -যা না, প্লিইইইইইইইইইইইইইইজ এত করে যখন বলছে না গিয়ে পারলাম না, নিচে নেমে এলাম, আইসক্রিম পার্লার থেকে বেশ কয়েকটা আইসক্রিম নিয়ে আবার হসপিটালের দিকে রওনা দিলাম। রাস্তায় একটা ফুলের দোকানে কালো গোলাপ দেখে চোখ আঁটকে গেল, নেওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে নিয়ে নিলাম বেশ কয়েক টা, কেবিনে ফিরে দেখি আমার ফোন মিথুর হাতে, চেহারা দেখে মনে হয় কপালে দুঃখ আছে, -আমার ফোন ধরেছিস কেন, কোন কথা বলছে না, অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে, -তোর ফোনে ইহিতা নামের ফোল্ডারে একটা মেয়ের এতগুলো ছবি কেন? কি বলব কিছু খুঁজে পাচ্ছি না, কিছু তো একটা বলতে হবে, -তাতে তর কি? -তর কি মানে? আমার বরের ফোনে অন্য মেয়ের ছবি আমি সহ্য করব ভেবেছিস? -সিরিয়াসলি? আচ্ছা বাদ দে এইসব, অনেক বড় কাহিনী পরে একসময় বলব..... এই নে তর আইসক্রিম। -ফুল কি ইহিতার জন্য কিনেছিস? -কি যা তা শুরু করেছিস? তোর জন্য অনেছি (দিনে দুপুরে এত বড় মিথ্যে কথা কিভাবে বললাম) -সত্যি? -হুম -জানিস আমার কালো গোলাপ অনেক পছন্দ.... -যাক, কিছু একটার সাথে মিল আছে তাহলে.... কপাল ভাল ছিল তাই আইসক্রিমের সাথে কালো গোলাপের সুবাদে এ যাত্রা বেঁচে গেলাম। মিথুকে নিয়ে রিসোর্টে ফিরেছি, রুমে ফিরে সে আবার ঘুমিয়েছে, যদিও বেশি সময় না। উঠে আবার বায়না ধরল সে শপিং করতে যাবে। এ কি মুসিবত? সারারাত দু চোখের পাতা এক করতে পারিনি, একটু ঘুমাবো, তার কোনো উপায় দেখতে পাচ্ছি না। কিছু করার নেই, তাই তৈরি হয়ে সাথে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম, সে তো মহা খুশি, দেখে মনে হবে না, গতকাল তার উপর দিয়ে কত বড় এক বিপদ চলে গেছে। মার্কেটে গিয়ে, তার কেনাকাটার অবস্থা দেখে আমার অবস্থা ছেড়ে দে বাপ কেঁদে বাঁচি, এইরকম হয়ে গেলো। আমার দু-হাত ভর্তি ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে সে এটা ওটা কিনেই চলেছে। হুট করে সে এক শপে ঢুকে কি যেন খুঁজতে থাকে, আমি বার বার জিজ্ঞাস করে যাচ্ছি, কি খুঁজিস? তার কোনো সারা নেই। একটু সামনে গিয়ে সে দাঁড়ায়, -অভ্র -হুম -এদিকে আয়। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, -কি হয়েছে? -এই জ্যাকেট দুটো দেখ না -গরমের মধ্যে তুই জ্যাকেট দিয়ে কি করবি? -আরে, বোকা আমাদের দেশে তো শীত চলছে, গিয়ে লাগবে না? দেখ কেমন লাগছে। তাকিয়ে দেখি জ্যাকেটের একটা ছেলেদের আর একটা মেয়েদের। একটার পিছে লেখা The King এবং এরেকটার পিছনে The Queen.। মনের অজান্তে হেসে উঠলাম। আমার গুন্ডি বউটা এত রোমান্টিক বাহ..... মার্কেট শেষ করে একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম ডিনার করতে। খাবার অর্ডার করে আনমনে বসে ফোন ঘাটাঘাটি করছি, এর মধ্যে মিথু ডাক দিলো, -অভ্র -বল -ঐ মেয়েটাকে দেখ। ফোনের দিকে চেয়ে থেকে বললাম, -কোনটা? -আরে, ঐ যে আমাদের সামনের টেবিলে। একরাশ বিরক্তি নিয়ে মাথা তুলে দেখি ইহিতা সাথে আবির ডিনার করছে। আকাশ থেকে পড়লাম। এই মেয়ের সাথে আমার গত ৬ বছরে কোনো দেখা নাই। অনেক খুঁজে ক্লান্ত হয়ে প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছি। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, মিথুর কথায় বাস্তবে ফিরে আসলাম, -এই মেয়ের ছবি তোর ফোনে আমি দেখেছি। এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করলাম, -আরে নেহ, তুই অন্য মেয়ের ছবি দেখেছিস, -না, এই মেয়ের নাম ইহিতা? ঠিক? হাল ছেড়ে দিয়ে বললাম, -হ্যাঁ -এই মেয়ের সাথে তর কি যেন একটা চক্কোর ছিল এক সময়?ঠিক? -হ্যাঁ -তাহলে ফুপিকে জানাস নি কেন? -সে এক ইতিহাস। -তর ইতিহাসের গুল্লি মারি, চল কথা বলে আসি। -ইচ্ছে নেই -কি বললি? -বলেছি ইচ্ছে করছে না। মিথুও কেন জানি আর জোর করল না, খাবার চলে আসলো, কেন যেন মুডটা চেঞ্জ হয়ে গেল, কোনোরকম খাবার শেষ করে মিথুকে নিয়ে রিসোর্টে চলে আসলাম। রাত হয়ে গেছে অনেক টা। মিথু ঘুমাচ্ছে, আমি একা বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছি বিশাল জলরাশির দিকে। ভাবছি ইহিতার কথা। মনের অজান্তে চোখ দিয়ে এক ফোটা জল চিবুক বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ কেন যেন কাঁদের উপর হাত রাখলো, তাকিয়ে দেখি মিথু, কখন ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছে খেয়াল করিনি। -মন খারাপ? (মিথিলা) -হুম -অনেক ভালবাসতি ইহিতাকে? কিছু বললাম না। গিয়ে পাশাপাশি দুটো রকিং চেয়ারের একটা তে গা এলিয়ে দিলাম। মিথু পাশের চেয়ার টা তে এসে বসলো। -এই অভ্র -বল -কি হয়েছিল ওর সাথে? -বাদ দে, ওর বিষয়ে কথা বলতে ভাল লাগেনা। -আচ্ছা, চল ঘুমাবি না? গতকাল ঘুমাস নি একটুও উঠে গিয়ে খাটের একপাশে শুয়ে পরলাম। সে এসে আরেক পাশে শুয়ে পরলো ঘুম আসছে না কোনো মনে, পুরনো স্মৃতিগুলো নিয়ে মস্তিস্কের প্রতিটি কোষ নিজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেছে। মাথায় হাতের স্পর্শ পেলাম, মিথু পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। দেখতে দেখতে ঘুম চলে আসলো। সকালে বেলা করে ঘুম থেকে উঠলাম, আজ আর মিথিলা বিরক্ত করেনি, কি মনে করে উপরওয়ালা মালুম। উঠার সাথে সাথে দেখি বান্দা চায়ের কাপ নিয়ে হাজির, -শুভ সকাল। -আজ এত ভাল হয়ে গেলি? -আমি বরাবরই ভাল একটু হাসলাম। চা শেষ করে ফ্রেস হয়ে মিথু কে নিয়ে নিজেই বীচে ঘুরতে বেরলাম। পাগলী টা আজকে ইচ্ছে করেই হাত ধরে হাটছে। ভাল লাগছে, চারিদিকের পরিবেশ টা অসাধারণ। একটু এগিয়ে গিয়ে বসলাম দুজনে, সামনে সরু কিছুটা রাস্তা, আনমনে তাকিয়ে ছিলাম নীল সমুদ্রের দিকে। হঠাৎ কে যেন বলল, -আরে অভ্র না? বামে ঘুরে দেখি আবির, এক সময়ের পরিচিত ভাই, -জ্বি ভাইয়া, কেমন আছেন? -হ্যাঁ ভাল, কবে এসেছ? -এইত অল্প কয়েকদিন হলো, আপনি কি এখানে আছেন? -হ্যাঁ। আসলে দেশে যাওয়া হয়না অনেক দিন তাই তোমার সাথে কোনো যোগাযোগ ছিলোনা। -ওহ, ভাইয়া পরিচয় করিয়ে দেই, এই হচ্ছে আমার মিসেস। -মিথু, আবির ভাই। টুকটাক কথা বলছিলাম হঠাৎ আবির ভাইয়া বলল, চলো আমাদের বাসায়, কথা শেষ করার আগেই কোথা থেকে যেন ইহিতা চলে আসলো, -এই আবির,(ইহিতা) -আরে ইহিতা, এসো। দেখো অভ্র এসেছে তার মিসেস কে নিয়ে হানিমুনে। -অভ্র, কেমন আছিস? আবিরের একটা কল আসায় সে একটু পাশে গিয়ে কথা বলতে থাকে, -যেভাবে দেখতে চেয়েছিলি..... চুপ করে যায় ইহিতা, নিরবতা ভাঙ্গে মিথু, -আপনি ইহিতা আপু? তাই না? মৃদু হেসে উত্তর দেয় সে, -হ্যাঁ -আপনার কথা আমাকে বলেনি এই ফাজিল টা, আমি ওর ফোন থেকে বের করেছি। মিথু একটা বিজয়ী হাসি দিয়ে থেমে গেল, আমি কোন কথা না বলে চুপ করে থাকলাম। ইহিতা আবার বলল, -তো, বিয়ে করলি কবে? -এইতো কিছুদিন, কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, গলা কেপে উঠছে, এর মধ্যে আবির ভাইয়ের কথা শেষ হয়ে যায়, তাকে একটু ব্যস্ত মনে হলো, বাসার ঠিকানা দিয়ে ইহিতাকে নিয়ে চলে গেল। আমি মিথুকে নিয়ে রওনা দিলাম রিসোর্টের দিকে। আসার সময় তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, -মিথু, আমাদের গল্পটা চাইলে অন্যরকম হতে পারত তাই না? বউ আমার একটু মুচকি হাসলো শুধু..... চলবে......৫ম Romanticcccc coming


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now