বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ পিচ্চি বউ
পর্ব~3
Writeen by tutul
কাল থাইল্যান্ড যেতে হচ্ছে হানিমুনে,
একরকম জোর করে পাঠাচ্ছে বাবা,
বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছে নেই এমন গুন্ডি বউ নিয়ে হানিমুনে যেতে।
যেহেতু বাবা বলেছে তাই ফাঁকি দেওয়ার উপায়
বের করা ও মুশকিল।
সন্ধ্যার দিকে জিনিস পত্র গুছানে যাবো,
ওয়ারড্রব খুলে দেখি আমার অর্ধেক জামা কাপড় হাওয়া,
সেখানে বউ আমার স্বযত্নে নিজের শাড়ির দোকান বসিয়েছে।
রাগে ফেটে পরলাম,
-মিথুউউউউউউউউউউউউউ
-সমস্যা কি তর হ্যাঁ?
-আমার বাকি জামাকাপড় কোথায়?
-ফুপির কাছে দিয়ে এসেছি!
-আমার ড্রয়ারে হাত দিয়েছিস কেন?
-তো?
-তো মানে? সাহস হল কেমন করে?
-আমি না তর বউ?- বউ তো কি?
হয়তো বুঝেছে রাগ করেছি,
তাই কথা না বাড়িয়ে আম্মুর কাছে গিয়ে
জামাকাপড় গুলো সুবোধ বালিকার মত নিয়ে আসলো।
-ব্যাগ গুছিয়ে নে।
সে কোনো কথা না বলে ব্যাগ গুছানো শুরু করলো।
আমার প্রায় শেষ।
ব্যাগে বিন্দু মাত্র জায়গা নেই।
এখন বাঁধলো মহাবিত্ত,ট্রাউজার আর গেঞ্জি নেওয়া হয়নি।
মেজাজ সপ্তমে উঠে গেল।
নতুন করে শুরু করার কোনো মানে হয়না।
মিথিলার এখনো শেষ হয়নি।
বড় ব্যাগ সে দখল করেছে।
কিছু বলতেও পারছি না।
শেষমেষ কোনো উপায় না দেখে আবার মানবিক আবেদন করতে হল।
-মিথু
-হুম
-এই মিথু.....
-আচ্ছা, তর কি মনে হয় আমার কানে সমস্যা আছে?
-মোটেও না?
-তাহলে মিথু মিথু করছিস কেন? বলে ফেল।
-ক্ষুদ্র পরিসরে একটা মানবিক আবেদন.......
-কি?
-আমার ব্যাগে জায়গা নেই।
ট্রাউজার গেঞ্জি গুলো তর ব্যাগে নিতে পারবি?
-যদি না নেই?
এবার প্রচন্ড রাগ লাগছে, এতো ভাল করে বললাম,
তার পরেও শুনলো না।
কিছু না বলে রুম থেকে বেড়িয়ে যেতে শুরু করলাম,
তখন বউ আমার পিছন থেকে ডাক দিলো,
-কোনটা কোনটা নিবি?
-তর ইচ্ছে।
বলে চলে আসলাম।
নিচে নামতে গিয়ে আবার রুমে উঁকি মারলাম,
দেখি সে যত্নে সহকারে ট্রাউজার আর গেঞ্জি ভাঁজ করে তার ব্যাগে ভরে নিলো।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হলাম,
মিথু উঠে গেছে।
তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে পরতে হবে, ৯:৩০ এ ফ্লাইট।
আকাশী রঙের শার্ট গায়ে দিতে যাব এর মধ্যে মিথু বলল,
-তর কালো রঙের শার্ট নাই।
-আছে, কেন?
-সেটা পর না।
তকে সুন্দর লাগবে।
মিথু এই কথা বলছ? ভাবতেই অবাক লাগছে।
বলছে যখন ড্রয়ার থেকে কালো শার্টআআ বের করে পরলাম।
টাই হাতে নিয়েছি, নট বাঁধতে যাব,
-দে আমি বেঁধে দিচ্ছি।
বাধ্য ছেলের মত কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলাম।
নট বাঁধা শেষ করে সে বলল,
-দেখ, তোকে অনেক সুন্দর লাগছে।
আমি বরাবর নিজের উপর উদাসীন টাইপ পাবলিক।
তাই আয়না দেখতে ইচ্ছা হলো না।
একটু পরে বান্দা জেল আর চিরুনি নিয়ে এসে চুলগুলো একটা হেস্তনেস্ত করে দিলো,
যত সময় যাচ্ছে তত অবাক লাগছে।
রুম থেকে বের হবার জন্য পা বাড়ালাম,
পিছন থেকে মিথু ডাকল,
-অভ্র
-হুম বল।
-শাড়িটা একা পরতে পারছি না,
একটু হেল্প করবি?
-আমি?
-হ্যাঁ।
-পারিনা তো?
-বেশি কিছু না।
শুধু কুচি গুলো একটু ধরলেই হবে।
গেলাম, সাথে সাথে হাতে শাড়ির কুঁচি ধরিয়ে দিলো,।
দীর্ঘ ৯মিনিটের চেষ্টায় তার শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে পারলাম।
সাজসজ্জা শেষ,নেহাত আমি কবি নই,
হলে হয়তো ওর রুপ দেখে এখনই সাহিত্য রচনায় বসে যেতাম।
প্রথম লক্ষ্য করলাম, ওর চোখে ভিন্নরকম একটা মায়া আছে।
মা বাবার দোয়া নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম।
এয়ারপোর্টে যেতে যেতে ৮:৩০ বেজে গেল,
গিয়ে শুনি ফ্লাইট লেট হবে একঘণ্টার মত।
কিছু করার নেই,
ওয়েটিং রুমে বসে আছি তখন মিথু বলল,
-চল, আইসক্রিম খেয়ে আসি।
-ইচ্ছে করছে না।
-চল না।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেতে হলো, যেহেতু ফ্লাইট লেট হবে,
তাই এতো সময় বসে থাকার মানে হয়না।
তবে একটু রাগী হলেও মিথুর মধ্যে বাচ্চামি
অভ্যাস গুলো এখনো রয়ে গেছে।
দেখতে ডিপাচার টাইম হয়ে গেলো।
থাই এয়ারওয়েজ এর ফাস্ট ক্লাস টিকিট।
দীর্ঘ যাত্রা শেষে গিয়ে নামলাম থাই এয়ারপোর্ট।
সেখান থেকে ট্যাক্সি যোগে সোজা
Centra Grand Beach Resort এ উঠলাম।
অসাধারণ জায়গা।
রিসোর্টের সামনে বিশাল এক সুইমিংপুল।
আরেকটু সামনে বীচ।
তারপর সু-বিশাল সমুদ্র।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে,
প্রকৃতিও যেন তার রুপ আরো বেশি ঢেলে সাজিয়ে নিচ্ছে।
সারাদিনের জার্নি তে খুব ক্লান্তি লাগছে।
মিথু এসেই বিছানায় শুয়ে পরেছে।
সে খেয়াল করেনি জায়গাটা এতো সুন্দর।
শাওয়ার নিয়ে বাইরে এসে দেখি মিথু বারান্দায়
দাঁড়িয়ে আছে,
-যা ফ্রেশ হয়ে নে।
-হ্যাঁ যাচ্ছি, আর শোন, তুই রেডি হয়ে নে,
বীচে যাব।
-আমার খুব ক্লান্ত লাগছে।
-কোনো কথা বলবি না।
চুপসে গেলাম,
পাগলিটা যেহেতু বায়না ধরেছে কিছু করার নেই।
বীচে হাটছি, পাশে মিথিলা,
একটু এগিয়ে সমুদ্র জলে পা ভিজিয়ে দিলাম।
সামনে বসার জায়গা, গিয়ে বসলাম,
আলো আঁধারের অসাধারণ খেলা চলছে।
বেশ লাগছে দেখতে, হঠাৎ বউ আমার বলে উঠলো,
-জানিস, অনেক দিনের ইচ্ছে, Alcohol খাব
কখনো সাহস হয়ে উঠেনি, নিয়ে আসবি?
-এখনই খাবি?
-হুম।
মুখ ফুটে বলেছে আনতে গেলাম,
আমার এইসবের উপর কোনো নেশা নেই,
তাই নিজের জন্য একটা ফ্রুট জুস নিলাম।
ওর কাছে ফিরে গ্লাস টা হাতে দিয়ে আবার পাশে বসলাম।
খেয়াল করলাম মিথিলা ঘাড়ে মাথা রেখে চুপ করে বসে আছে।
নিজের কাছে একটু বিব্রত বোধ হচ্ছে।
আশেপাশে লোকজন কমে আসছে, রাতও হয়ে এলো।
উঠতে হবে। মিথিলা ঘুমিয়ে গেছে।
ডাকবো কিনা বুঝতে পারছি না,
কিন্তু এভাবে তো বসে বসে রাত কাটিয়ে দেয়া সম্ভব হবে না।
ডাক দিতে গিয়ে থমকে গেলাম।
সিদ্ধান্ত নিলাম কোলে করে রিসোর্টে নিয়ে যাব,
উপায় না পেয়ে তাই করতে বাধ্য হলাম,
কোলে নিলাম ওকে,
হাঁটতে শুরু করলাম রিসোর্টের দিকে,
আমার গলা জড়িয়ে ধরেছে, এতো মহা মুসিবত।
যে মেয়ে আমার সাথে ঝগড়া না করলে পেটের ভাত হজম হয়না,
সে ড্রিংক করে গলা ধরে আছে, ঘুমে না থাকলে হয়তো আমাকে গলা টিপে মেরে ফেলতো।
রুমে ফিরে খাটে শুইয়ে দিলাম, গুটিশুটি শুয়ে পড়ল।
পাতলা একটা চাদর ওর গায়ে টেনে দিলাম।
মুখের উপর কিছু চুল উড়ে এসেছে, সরিয়ে দিলাম,
ও অন্যপাশ ফিরলো, আমি আর কি করব,
সোফায় একটা বই নিয়ে শুয়ে পরলাম।
কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম মনে নেই।
সকালে ঘুম ভাঙ্গলো মিথুর গলার চিল্লাচিল্লি শুনে,
-এই অভ্র, অভ্র, উঠবি নাকি পানি থেরাপি দিতে হবে।
-চোখ ডলতে ডলতে উঠলাম। কি হয়েছে?
-চল সমুদ্রে যাবো
-কোনো দরকার নেই।
-চল না। না হলে কিন্তু আমি একাই যাব।
না গিয়ে উপায় নেই, পাগলিটা একা গিয়ে কি না কি করে বসে।
সাথে যেতে হলো, সে মহানন্দে নেমে গেছে,আমি হাটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছি,
আমার থেকে একটু দূরে সে বাচ্চাদের মতো লাফালাফি শুরু করছে,
সামনে দিকে যেতে নিষেধ করে আমি পাড়ে চলে আসলাম।
দেখলাম সে আরো সামনে এগিয়ে গেছে কিছুটা।
যদিও তার পাশে আরো কয়েকজন ছিলো।
বড় একটা ঢেউ আসতে শুরু করলো,
কিছু বুঝে উঠার আগেই শুধু একটা চিৎকার শুনলাম.......
-অভ্র....
মিথিলাকে দেখতে পাচ্ছি না,
বুকের বা পাশ টায় মোচড় দিয়ে উঠলো,
ঘাম ছুটতে শুরু করেছে, আমি এগিয়ে যেতে চাইলাম,
সাথে সাথে রক্ষী বাহিনীর সদস্য
আমাকে খপ করে ধরে বসলো,
ডুবুরি দল নেমে পড়ল,
মিথুর পাশে আরো ৪-৫জন টুরিস্ট ছিলো,
প্রায় আধা ঘন্টার মধ্যে সবাইকে উদ্ধার করা গেলেও মিথিলার কোনো খবর মিললো না।
বুক ফেটে কান্না আসতে চাইছে,
সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করছি,
তার কিছুক্ষণ পর তাকেও উদ্ধার করে রিসোর্টের
পাশে হসপিটালে ভর্তি করা হলো,
সারাদিন ওর পাশে বসে থাকলাম,
অবস্থা এখন কিছুটা ভাল,বাড়িতে কিছু জানালাম না।
খামাখা তারা চিন্তা করবে, সব থেকে বড় কথা মিথু সুস্থ।
রাত হয়ে এসেছে, সারাদিন কিছু খায়নি সে,
নার্স এসে খাবার দিয়ে গেল,
জানি একা খেতে পারলেও খাবে না,
ভয় পেয়েছে অনেক বেশি,
তাই খাইয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম,
খাবার মুখে নেওয়ার আগে জিজ্ঞাস করলো,
-তুই কিছু খেয়েছিস?
ক্ষুদার কথা ভুলেই গেছি,
এখন যদি 'না' বলি তাহলে হয়তো ও ঝাবে না।
তাই মিথ্যে বলতে বাধ্য হলাম,
-হ্যাঁ খেয়েছি.......
খাওইয়ে দেওয়া শেষ হলে,
ওর ঔষধ গুলোও বের করে খাওইয়ে দিলাম,
বিশ্রাম দরকার তাই শুয়ে পরতে বললাম।
-অভ্র
-বল
আমার পাশে একটু থাকবি, খুব ভয় করছে......
-তুই ঘুমো, আমি পাশে আছি।
চেয়ার টা আরেকটু পাশে টেনে নিয়ে বসলাম,
ও আমার হাতটা ধরে ঘুমিয়ে পরলো,
যত দিন যাচ্ছে পাগলি টা ততো আপন করে নিচ্ছে.........
চলবে.......
Plz wait for next part!!!
Kmn laglo. Bolben
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now