বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপারেশন 97......
জুলহাজ ফয়সাল
ছয়
জ্ঞান ফিরলে নিজেকে সাদা চাদরের
এক বিছানায় আবিষ্কার করলাম।
সাদা চাদর! মানে আমি হাসপাতালে!
লাফ দিয়ে উঠলাম, আর সাথে সাথেই
মাথার বা-পাশের রগে একটা টান
লাগল মনে হল হাজার ও লাইট মাথার
চারপাশে জ্বলে উঠল। বিছানায় পড়ে
গেলাম। অসম্ভব ব্যথা করছে। মাথার
বা-পাশটায় হাত দিয়ে দেখি বেন্ডেজ
করা ভয়পেয়ে গেলাম আবার ও
রক্তক্ষরণ হয়েছে তাহলে। নাহ
বাঁচার শেষ সম্ভাবনাটুকু ও নেই আর।
ডাক্তার বলেছিল প্রথম আঘাতেই
ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছি, বাঁচার কোন
সম্ভাবনাই ছিল না। তবে দ্বিতীয়
আঘাত লাগলে ভাগ্য সহায় নাও হতে
পারে। তাহলে এবার আর সম্ভবত
ভাগ্য সহায় হবেনা। যেই ব্যথা করছে
মারা তাহলে শিওর যাব। যন্ত্রণার
মাঝেও লোকগুলোর ওপর অসম্ভব
রাগ হচ্ছে। হাতের কাছে পেলে
টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলতাম।
একটু পর একজন নার্স আসলো।
আমার দিকে তাকিয়েই ভুত দেখার
মত চমকে উঠল। সম্ভবত রাগে
আমার চোখ খুব বেশি লাল হয়ে
আছে সেটা দেখে চমকেছে। কিন্তু
পরক্ষণেই একটা চিৎকার দিয়ে
জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। আমি বোকা
হয়ে গেলাম এতে জ্ঞান হারানোর
কি আছে। নার্সের চিৎকারে
কয়েকজন ডাক্তার হুরুমুর করে
ভিতরে আসলো। আমাকে দেখে
তারাও একইভাবে চমকালো। আমি
কিছুই বুঝতে না পেরে বোকার মত
তাকিয়ে রইলাম। হঠাৎ কানের কাছে
সুড়সুড়ি লাগায় হাত দিয়ে আমিও
চমকে উঠলাম রক্তে ভেষে যাচ্ছে
এতক্ষণ অন্য চিন্তা থাকায় খেয়াল
হয়নি কিন্তু এখন রক্ত বের হওয়ার
আওয়াজ ও যেন শুনতে পারছি।
একজন ডাক্তার তাড়াহুড়ো করে
আমাকে কি যেন এক ইঞ্জেকশন
দিল। সাথে সাথ্রেই গভীর ঘুমে
তলিয়ে গেলাম।
চুপচাপ শুয়ে আছি একটু আগে ঘুম
ভেঙেছে। মাথার বেন্ডেজ এবার খুব
শক্ত করে বাঁধা। ব্যথাটা ও একটু
কমেছে। এমন সময় দরজায়
আওয়াজ হল তাকিয়ে দেখি আগের
নার্সটা। আমাকে দেখে একটা হাসি
দিয়ে বলল, আমি অবাক হচ্ছি তুমি
এখনো কীভাবে বেঁচে আছ। এতরক্ত
বের হচ্ছিল আমি ভেবেছিলাম তুমি
মারা গিয়েছ। তাই ভয়পেয়ে...
যাইহোক, তোমাকে বেঁচে থাকার
অভিনন্দন। আমি মুচকি একটা হাসি
দিলাম। নার্স বলল একজন তোমার
সাথে দেখা করবে। ঘুম ভাঙার
অপেক্ষায় সকাল থেকে বসে আছে
বলে নার্স বের হয়ে গেল। কে হতে
ভাবার আগেই দেখি অহনা ভিতরে
প্রবেশ করল। আমাকে দেখে মিষ্টি
কণ্ঠে বলল, ওয়েলকাম ব্যাক! এখন
কেমন লাগছে? আমার এখন প্রচণ্ড
রাগ হবার কথা মেয়েটার ওপর কিন্তু
কেন যেন একটুও রাগ হচ্ছেনা।
আমিও মুচকি হেসে বললাম
আলহামদুলিল্লাহ এখন ভালো
লাগছে। ওর সাথে কথা বলার
একপর্যায় প্রসঙ্গ পালটে গেল। ও
বলল তুমি এখনো বেঁচে আছো দেখে
ওরা সবাই খুব অবাক হয়েছে তবে
খুশিও হয়েছে। ওদের কথা উঠায়
আমি বললাম, আমি তোমাকে প্রথম
যখন দেখেছিলাম তখন ভাবতেও
পারিনি তুমি ওদের একজন হবে অথচ
তোমাকে দেখে ভদ্র মনে হয়।
অবশ্য আমার এ সম্পর্কে ধারণা
নেই ভদ্র চেহারার মেয়েরাই হয়ত
আসলে তোমার মত হয়। আমি কথাটা
অন্যদিকে ঘুরে বলছিলাম ওর দিকে
তাকাতেই দেখি ওর চোখে পানি।
আমি আবার ও বোকা হয়ে গেলাম।
আসলে কথাটা এভাবে বলা উচিত
হয়নি আমার। তাই বললাম, আমি,
আমি এটা বুঝাতে চাইনি সরি। অহনা
চোখের পানি মুছে বলল, না ঠিক
আছে আমি এটারই যোগ্য তুমি ভুল
কিছু করছ না। আমি কথাটা ঘুরানোর
জন্য বললাম আমি এখন কোথায়
আছি? মেয়েটা বলল একটা প্রাইভেট
হাসপাতালে। আমি কি তোমাদের
বন্দী? মেয়েটা আমার কথা শুনে মনে
হল আবার ও আহত হয়েছে। হ্যা
তোমাকে নজরে রাখা হয়েছে। ওর
চোখ আবার ও ভিজে উঠল। আমি
যাই লিডার তোয়ার সাথে কথা বলবে
বলে ও তাড়াহুড়া করে চলে গেল।
আমারও কেন যেন মন খারাপ হয়ে
গেল।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now