বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ পিচ্চি বউ
পর্ব 2
প্রথমত নিজের রুম ছাড়া আমার ঘুম আসেনা,
তার উপর না আছে কোলবালিশ,
অথচ মিথিলা কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে।
ইচ্ছে করছে ওর বিছানায় কয়েকটা তেলাপোকা ছেড়ে দিয়ে আসি।স
কিন্তু এই মাঝ রাতে সেটাই বা পাব কোথায়।
সেদিন আমারই ভুল হয়েছে,
আম্মুকে যদি বলতাম আমার গার্লফ্রেন্ড আছে
তাহলে আজকে এই দিন দেখতে হতোনা।
আর মিথ্যে বলেই লাভ হতো কি?
যদি আম্মু দেখতে চাইতো?
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে উঠে বসলাম,
ঘুম যেহেতু আসছে না শুয়ে থেকে পিঠ ব্যথা করার মানে হয়না।
কিছুক্ষণ পর দেখি মিথিলাও জেগে উঠেছে।
-কি ঘুমাস নি? মিথিলা
-না, আমি
-জানিস, আমার ও ঘুম আসছেনা
-তো আমি কি করতে পারি?
মাথায় নিয়ে নাচবো তকে?
-থাক ঝগড়া করতে ইচ্ছে করছেনা!
-তর এই গুণ্ডামি স্বভাব ভাল হবেনা?
-কি বললি?
-না কিছুনা
বলেই সোফায় শুয়ে পরলাম,
কোনরকম রাত টা পার করতে পারলেই হয়!
কখন চোখ লেগে গিয়েছে খেয়াল করিনি,
সকালে ঘুম ভাঙ্গলো পাখির কিচিরমিচির সব্দে,
আড়মোড়া ছেড়ে উঠে দেখি মিথিলা
আগেই ওয়াশ রুমে গিয়েছে ফ্রেস হতে।
বারান্দার দিকে গেলাম, বাড়ির সামনে প্রচুর জায়গা,
প্রকৃতির এতো সুন্দর রুপ আগে এতো কাছ থেকে দেখা হয়নি!
মিথিলা বেড়িয়ে আমাকে ফ্রেস হয়ে
নিচে আসতে বলে নিজে নিচে চলে যায় নিচে গিয়ে দেখি সবাই নাস্তার টেবিলে উপস্থিত।
আম্মু বাবা, নানা সাথে আরো অনেক আত্মীয়স্বজন সবাই
বাড়ি ফেরার আলোচনা করছে, চেয়ার টেনে বসলাম,
খেয়াল করিনি পাশে মিথিলা বসে আছে,
কোনোরকম নাস্তা শেষ করে নিজের রুমে
দুঃখিত মিথিলার রুমে এসে বসলাম।
আচ্ছা বউয়ের রুম কে কি নিজের রুম ভাবা যাবে?
চিন্তা করার আগেই সে এসে হাজির!
এ কি আমাকে শান্তি দিবেনা?
-চল, সবাই নিচে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য!
-হ্যাঁ চল
মামা বাড়ি দুঃখিত শ্বশুর বাড়ি থেকে বিদায় নেয়ার সময়
খেয়াল করলাম মিথু কি সাবলীল ভাবে গাড়িতে উঠে বসল!
সবার থেকে বিদায় নিয়ে আমিও গারীতে উঠে বসা মাত্রই
ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
অনেক দুরের পথ,
আর রাতে ঘুম হয়নি তাই চোখ লেগে আসতে চাইছে!
কিছুটা লেগেও আসছে হঠাৎ
আমার ঘাড়ের উপর কিছু একটা স্পর্শ করল,
ফিরে দেখি মিথু ঘুমে টলে আসছে,
বাঁধা দিলাম না, শত হলেও বিয়ে করা বউ,
আগে খেয়াল করিনি,
মিথু দেখতে একেবারে পরীর মত!
ওকে ডাকলাম বাড়ি পৌঁছানোর পর,
ঘাড়ে মাথা দিয়ে ঘুমিয়েছিল দেখে কিছুটা বিব্রত বোধ করছিল!
নতুন বউ বরণ করে নিতে সবার সে কি ফুর্তি!
আমার বেশ বিরক্তি লাগছিল!
সব শেষ করে নিজের রুমে এসে হাত পা ছেড়ে শুয়ে পরলাম,
মিথিলাও চলে আসলো কিছুক্ষণ পর।
-তোর রুম টা এতো অগোছালো কেন?
-তাতে তর কি?
-আমার কি মানে?
-দেখ, এটা আমার রুম কিভাবে থাকবে সেটা আমি ঠিক করব!
-ওহ তাই?
-অবশ্যই
-দাড়া, আমি ফুপিকে ডাকছি ফুপিইইইইইইইইই
-এই থাম, মিথু, ঐ......
গিয়ে ওর মুখ চেপে ধরলাম!
নিজের কাছেই কিছুটা বিব্রত লাগছে,
সাথে সাথে আম্মু এসে হাজির!
-কিরে মা, কি হল?
আর অভ্র, তুই মিথিলার মুখ চেপে রেখেছিস কেন?
ছেড়ে দিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম!
-দেখো না ফুপি, তোমার ছেলে বলছে,
আমাকে নাকি এই রুমে থাকতে দিবে না!
-কি? তুই এই কথা বলেছিস?
-না আম্মু, আমি আসলে বলছিলাম, ইয়ে মানে....
-থাক মা, তুই আমার সাথে আয়, অনেক মেহমান এসেছে,
তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই!
সে আম্মুর সাথে চলে গেল, আমি নিজের বিছানায় টান টান
হয়ে শুয়ে একখানা গল্পের বই হাতে নিয়ে পড়তে লাগলাম,
কিছুক্ষণ পর কিছুক্ষণ পর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গেলাম।
রাতের খাবার শেষ করে নিজের রুমে এসে দেখি মিথিলা খুব
সুন্দর করে রুম গুছিয়ে ফেলেছে!
বিছানায় শুতে যাব তখন ঘটলো যত বিপত্তি,
- এই থাম থাম!(মিথু)
-কি হয়েছে?(আমি)
-আমি বিছানায় ঘুমাব!
-তাইনাকি? তা ঘর টা কার?
-ফুপিকে ডাকব?
-অবশ্যই.......
-তুই না আগে কত ভাল ছিলি
এখন এমন করছিস কেন?
- এতকিছু বুঝিনা, খাটে আমি ঘুমাচ্ছি, শুভ রাত্রি!
বলেই শুয়ে পরলাম!
অসহায় হয়ে সে পাশে দাঁড়িয়ে থাকল!
-এই অভ্র
-হুম
-শোন না
-বল
-তর রুমে টেডিবিয়ার নেই?
-কি? এই জিনিস আমি কোথায় পাব?
-আমি টেডিবিয়ার ছাড়া ঘুমাতে পারিনা!
অন্তত তর কোলবালিশ টা দে না।
-গতকাল দিয়েছিলি?
-প্লিজ দে না
-এক কাজ কর, চাইলে বেড শেয়ার করতে পারিস
ও কিছু একটা ভাবল,ভাবনা শেষে পাশে শুয়ে পরল,
-কিন্তু লাইট অফ করতে পারবি না"
-লাইট অফ করে কি তর হাতে শহীদ হব? (আস্তে করে বললাম)
-কি বললি তুই?
-কিছু না, ঘুমা.....
একপাশে ও আরেক পাশে আমি মাঝখানে কোলবালিশ!
মোটামুটি শীত পরতে শুরু করছে,
শেষ রাতে বেশ ঠান্ডা লাগে
তাই কম্বল গায় দিয়ে শুয়ে পরলাম!
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল, বেশ ঠান্ডা লাগছে,
উঠে দেখি পুড়ো কম্বল মহারাণী একা দখল করে নিছে!
ওর গায়ে টাচ করব সে সাহস ও পাচ্ছি না!
ওকে ডাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম
-মিথিলা
-হুম
-এই মিথু
-কি হয়েছে? গরুর মত চিল্লাচ্ছিস কেন?
-আমি গরু?
-গরুর ও কিছু জ্ঞান আছে
-কম্বল দে আমার
-আমি করব তাহলে?
-কিভাবে বলব?
-তুই এত কেয়ারলেস ক্যান?
-আমি কেয়ারলেস?
-নয়তো কি?
বউয়ের জন্য একটু শীত সহ্য করতে পারবি না?
-বউ? তুই? তাও আমার?
-বিয়েটা কেন করেছিলি?
কিছু না বলে শুয়ে পরলাম!
ওর সাথে কথা বলে কোন লাভ নাই!
প্রচণ্ড একরোখা টাইপ মানুষ!
গায়ে কিছুটা উষ্ণ ভাব লাগছে!
কিছুটা কম্বল আমাকে দিয়েছে তাহলে!
যাজ যতটা গুন্ডি ভেবেছিলাম ততটা নয় তাহলে!
সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করছে না!
অথচ মিথু বার বার ডেকেই যাচ্ছে
-এই অভ্র, অভ্র.....
-হুম
-ওঠ, অনেক বেলা হয়ে গেল
-তো?
-উঠবি না তো
ওর শব্দ থেমে গেল ভাবলাম হয়ত হাল ছেড়ে দিয়েছে,
আবার গভীর ঘুমে ঢুব দিতে যাব,
তার আগেই বান্দা আমার গায়ে একজগ জল ঢেলে দিলো,
হুমড়ি খেয়ে খাট থেকে পরে গেলাম,
অন্যদিকে বউ আমার অট্টহাসিতে ফেটে পরল!
ঠোঁটের পাশের তিল টা মুগ্ধভাবে তাকিয়ে দেখছিলা,
তার কথাতে বাস্তব জগতে ফিরে আসলাম,
-কি উঠতে বলেছিলাম না?
-আজকে তর খবর আছে......
খুনসুটি সবে শুরু করেছে,
পাগলীটার আরো কত পাগলামি সহ্য করতে হবে কে জানে......
নাস্তার টেবিলে গিয়ে বসলাম,
পাশের চেয়ার টা আমার পিচ্চি বউ দখল করে নিয়েছে,
কিছু বললাম না সবাই সামনে দেখে,
-অভ্র শোন!
-হ্যাঁ বাবা
-এই নে প্লেন টিকেট,। কালকে সকালে তরা হানিমুনে থাইল্যান্ড যাচ্ছিস,
হালকা ধাক্কা খেলাম, এই মেয়েকে নিয়ে হানিমুন?
কিভাবে সম্ভব?
মিথুর চোখে মুখে কিছুটা হাসি দেখতে পেলাম!
সবাই হয়তো ভেবেছে ও খুব খুশি, কিন্তু আমি জানি,
এ হাসি যে কি ভয়ংকর! রুমে ফিরে চিন্তায় পরে গেলাম,
বাবা যেহেতু বলেছে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায়ও নেই!
কিন্তু একে নিয়ে তো মহা মুশকিল!
আমার জীবনে এইরকম গুন্ডা মেয়ে আর দেখিনি,
রুমে এসেই শুরু করল,
-তর সাথে আমি হানিমুনে যাবনা!
-কেনো গো?
-কেনো মানে?
-থাম তুই, তর জন্য আমার এই অবস্থা!
কিছু একটা কর না!
বাবা বলেছে কিছু করার নেই!
ব্যাগ গুছিয়ে নে!
-আম্মু আমাকে নিয়ে যাও!
বলতে না বলতেই মামির দুঃখিত এখন তো সে আমার শ্বাশুড়ি!
দিলেন ফোন, যদিও ফোন মিথুর, ধরলাম আমি!
-হ্যালো মিথু!
-না, অভ্র বলছিলাম, মামি!
-কেমন আছিস বাবা?
-ভাল মামি!
আপনার মেয়ে অনেক ভাল রাখছে!
পাশ থেকে মিথিলা এমন ভাবে তাকাচ্ছে মনে হয়
তার দৃষ্টিতে ভস্মীভূত করে ফেলবে!
-তা বাবা, এখন তো একটু আম্মা ডাকতে পারিস,
-হ্যাঁ অভ্যাস করে নিব!
-তরা নাকি কালকে হানিমুনে যাচ্ছিস?
-আপনার মেয়ে যাবেনা, নিন মিথুর সাথে কথা বলুন!
ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে সোজা ছাদে চলে গেলাম!
আকাশ টা খানিক টা মেঘলা, বৃষ্টি নামতে পারে!
ভালই হল, অনেকদিন বৃষ্টিতে ভেজা হয়না!
দোলনায় বসতে না বসতেই বৃষ্টি নামতে শুরু করলো।
যাকে বলে কুকুর বিড়াল বৃষ্টি, গা ছেড়ে দিলাম!
ভালই লাগছিল,
যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার গুন্ডা বউ টা এসে হানা দিল।
-জানিস, অনেকদিন পর আজকে
বৃষ্টিতে ভুজতে ইচ্ছে হল, মিথু
-কেন?
-ইচ্ছে ছিল, বর কে নিয়ে কাঁক ভেজা ভিজবো,
তবে তোর মত ক্যাবলাকান্ত দিয়ে হবেনা।
-তোর মত পিচ্চির সাথে ভেজার কোন ইচ্ছা নাই,
বলে নিচে চলে আসলাম।
যাকে বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে না, তাকে নিয়ে হানিমুনে যেতে হচ্ছে।
হে উপরওয়ালা, এই ছিল তোমার মনে.......
Continue......
Aged part amr profile paben....next part r jonno wait korun....
Kmn laglo bolben
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now