বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প পিচ্চি বউ
পর্ব~১ম
গ্রাজুয়েশন শেষ করে সবেমাত্র বাবার ব্যবসায় মন নিবেশ করেছি,
সারাদিন যন্ত্রণা সহ্য করে বাসায় ফিরেই দেখি আম্মু টিভির সামনে মনমরা হয়ে বসে আছে।
বুঝলাম তুফান শুরুর আগের শান্তি,
-কি হয়েছে আম্মু?
-কি আর হবে?
-চুপ করে আছো কেন?
-তাহলে কি চেঁচামিচি করবো?
-ইচ্ছা হলে করতে পারো!
-থাম তুই!
-আচ্ছা।
কিছু না বলে নিজের রুমে চলে এলাম।
কিছুক্ষণ পরে আম্মু নিজেই খাবার খেতে ডাকছে!
টেবিলে গিয়ে বিড়ালের মতো বসে পরলাম,
খাবার তুলে দিয়ে শুরু করল,
-তুই আর তর বাবা, সারাদিন বাইরে থাকিস,
আমি একা একা কি করবো বাসায়?
-পয়েন্ট, কি করতে পারি?
-বলছিলাম কি বাবা, তুই একটা বিয়ে করে ফেল!
গার্লফ্রেন্ড -ঠ্রেন্ড থাকলে বল আমরা দেখে শুনে.....
-কি শুরু করলা আম্মু?
-আছে নাকি কেউ?
-না!
-তাহলে চল, কালকে আমরা মিথিলা দের বাসায় ঘুরে আসি?
তোর মামা অনেকদিন ধরে ফোন দিচ্ছে যাওয়ার জন্য!
-তুমি যাও আমি অফিস শেষ করে চলে আসসব!
আর আপাতত বিয়েশাদী করার ইচ্ছা নেই!
-ঠিক আছে বাবা, ভুল করিস না কিন্তু!
কিছু না বলে রুমে চলে আসলাম।
মিথিলা, আমার মামাতো বোন, একসাথে বড় হয়েছি,
যদিও আমার থেকে বছর তিনেকের ছোট!
আসলে তাকে মেয়ে না বলে গুন্ডি বললে বেশি মানাবে!
খুব ঝগড়ুটে টাইপের মেয়ে,
তবে মানুষ হিসেবে খুব একটা খারাপ না!
আগে পাশাপাশি থাকতাম তবে ব্যবসার সুবাদে
আমাদের ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে!
আর মামা তার প্রিয় শহর চিটাগাং রয়ে গেছে,
প্রায় ৮বছর দেখা হয়নি তাদের সাথে!
পরের দিন অফিস শেষে বিকেলের ফ্লাইটে চিটাগাং চলে গেলাম!
গাড়ি পাঠিয়েছে তাই সোজা বাড়ি চলে গেলাম!
বাড়িতে ঢোকার আগেই আমার চোয়াল ঝুলে পড়ল,
চারিদিকে আমাদের সব আত্মীয়স্বজন দেখতে পাচ্ছি!
গাড়ি থেকে নামার সাথে সাথে প্রায় সবাই আমার উপর হামলে পড়ল!
তা মামুলি ব্যাপার, অনেকদিন পর দেখা,
কিন্তু বাড়ি সাজানো কেন আর সবাই একত্রে এখানে কেন,
এইটুকু জিজ্ঞেস করার মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না,
একটু এগুতেই দেখি আমার বাচ্চাকালের বন্ধু রাফিদ,
-কিরে দোস্ত, কেমন আছিস?
-ভাল ছিলাম!
-এখন কি হয়েছে?
-তারপর আব্বু-আম্মু ধরে বিয়ে করিয়ে দিল,
-হা হা, ভাবী কেমন আছে, কোথায় সে?
-সে ভালই আছে, তোর বউ সাজাচ্ছে?
-মজা নিচ্ছিস?
-একটুও না! আন্টিই তো সব করেছে!
গিয়ে দেখ আংকেলও উপরে আছে!
মজা হিসেবে নিয়েই উপরে চলে গেলাম,
গিয়ে দেখি বাবা সত্যিই এখানে,
ভাবলাম মিথিলার বিয়ে তাই সবাই এসেছে,
আর রাফিদ, মামার পরিবারের অতি ঘনিষ্ঠজন,
তাই হয়তো এসেছে!
-বাবা, তুমি এখানে কেন?
-ছেলের বিয়েতে থাকবো না?
-তুমিও শুরু করে দিলে?
-মোটেই না, চল আমার সাথে!
প্রায় আসামীর মতো ধরে আমাকে নিয়ে গেল একটা রুমে,
গিয়ে দেখি আম্মু সাথে খালামনিরা সবাই ব্যস্ত পাঞ্জাবি পছন্দতে,
আমাকে দেখে মনে হয় আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে!
আম্মু কিছু না বলে মিট মিট হাসছে!
রাগে আমার চেহারা রীতিমত লাল হয়ে গেছে,
ভদ্রতার কারণে কিছু বলতেও পারছিনা,
বুঝলাম যে অবস্থা, সবকিছু আয়ত্বের বাইরে চলে গেছে,
এখন হেরে যাওয়া সৈনিকের মত দেখা ছাড়া কিছু করার নেই!
সবাই সাজ সজ্জায় লেগে আছে, একাই বাড়ির ছাদে চলে গেলাম,
গিয়ে দেখি মিথিলাও দাঁড়িয়ে আছে,
-ঐ, তুই এখানে কেন?
-কি আর করব?
-সেটাই কথা,
এত বড় ষড়যন্ত্র হচ্ছে আমাকে জানাসনি কেন?
-আমি নিজেই জানিনা,
আজকে সকালে ইংল্যান্ড থেকে ফিরেছি বাবা বলেছে
নানাভাই অসুস্থ তাড়াতাড়ি চলে আসতে,
এসে দেখি এই অবস্থা!
-আমি তোকে বিয়ে করতে পারব না!
-আমি কি বসে আছি নাকি তোকে বিয়ে করার জন্য?
-দেখ তর মত পিচ্চির সাথে ঝগড়া করার ইচ্ছে নেই!
কিছু একটা কর
-কি করব?
-তোর বয়ফ্রেন্ড নাই, তার সাথে পালিয়ে যা!
-বয়ফ্রেন্ড পাবো কোথায়?
-খারাপ বলিস নি, কে ই বা গুন্ডীর বয়ফ্রেন্ড হতে চাইবে?
-দেখ অভ্র,
তোকে সাবধান করে দিচ্ছি আমাকে পিচ্ছি আরর গুন্ডী বলবি না!
-কি, কি করবি হ্যাঁ?
ও কিছু একটা বলতে চেয়েছিলা তার আগে মামা এসেসে হাজির হয়,
-আরে তোরা এখানে কেন? চল নিচে চল!
কত সাঁজগোঁজ বাকি!
আসলে রাগ টা কার উপর করব বুঝতে পারছি না!
সবাই একদিকে, কিছু করার উপায়ও খুঁজে পাচ্ছি না!
হাল ছেড়ে দিয়ে যা হচ্ছে হতে দিলাম,
যথারীতি আমাকে কোরবানী দুঃখিত বিয়ে করিয়ে দেওয়া হল!
রাত্রে মামার বাড়িতেই থাকতে হল,
বন্ধু-বান্ধব সবাই ধরে আমাকে একটা ঘরে ঢুকিয়ে দিল,
গিয়ে দেখি মিথিলা বউ সেজে বসে আছে,
হুট করে গিয়ে সোফায় বসে পরলাম,
চিন্তা করতে পারছিনা কি থেকে কি হয়ে গেল!
মিথিলা ঘোমটা তুলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,
যাকে বলে অগ্নিদৃষ্টি,
-কিছু বলবা বউ?
-কিসের বউ কার বউ?
-সেটাই হচ্ছে আসল কথা,
তোর মত একটা পিচ্ছি মেয়ে কিভাবে আমার বউ হয়?
-অভ্র, তোকে আমি আগেই সাবধান করেছি,
আর যাকেই হোক তোকে বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে আমার কোনো কালেই ছিল না!
-আমার ছিল মনে হয়?
-তাহলে করলি কেন?
-করলাম কোথায়? ধরে করিয়ে দিল!
-কি রকম পুরুষ একটা বিয়ে ভাঙ্গতে পারলি না?
-সে সময় টুকুই বা পেলাম কোথায়,
-যাহান্নামে যা
-সেটা পরে দেখা যাবে, এখন সর আমি ঘুমাবো,
খুব ঘুম পাচ্ছে!
-ঘুমা, কে ধরে রাখছে?
-খাট থেকে নাম!
-অসম্ভব, খাটের ধারে কাছে আসলে তোর খবর আছে!
-কি করবি হ্যাঁ?
-খুন করে ফেলব
-গুন্ডী কি আর শখে বলি?
কোন কথা না বলে ফ্রেস হয়ে শুয়ে পরে সে,
-এই মিথু, শোন না,আমি সোফায় ঘুমাচ্ছি সমস্যা নেই,
তবে ক্ষুদ্র পরিসরে একটা মানবিক আবেদন,
তোর কোলবালিশ টা একটু দিবি?
-না!
বলেই ঘুমিয়ে পরে! স্বয়ং উপরওয়ালা মালুম,
এই মেয়েকে নিয়ে কিভাবে সংসার করব.....
কেমন লাগল বলবেন ভাল লাগলে
চলবে.....২য় পর্ব
উতসাহ না দিলে পরের টা দিবনা।।
কেমন লাগছে কমেন্ট করে জানাবেন।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now