বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপারেশন 97......
জুলহাজ ফয়সাল
চার
বাসায় এসে দেখি অয়ন আমার
আগেই এসে বসে আছে। আমি ওকে
দেখে বললাম কিরে কখন আসলি? ও
মুখ কালো করে বলল তোর সাথেই
বের হয়েছিলাম কিন্তু তুই আমাকে
মেয়েটার সামনে ফকির বানিয়ে দিলি?
আমক হাসতে হাসতে বললাম আর কি
করব, তুই যা করেছিস তাতে তোকে
ফকির না বানালে আমি নিজেই ফকির
হয়ে যেতাম। যাইহোক, কিছু সিরিয়াস
কথা আছে। তুই কি কিছু বুঝেছিস?
অয়ন বলল মনে হচ্ছে ওরাই ব্যাংক
হ্যাকের চেষ্টা করছে। ঠিক ধরেছিস,
কিন্তু এটা যদি সত্যি হয় তাহলে
ওরা আমাকে কীভাবে চিনল? আমার
মনে হচ্ছে কোন সরকারি কর্মকর্তা
ও এর সাথে জড়িত থাকবে অয়ন
বলল। আমরা এ ব্যাপারে আরও
কিছুক্ষণ কথা বলার পর ও যখন চলে
যাবে ওকে সাবধানে থাকতে বললাম।
অয়ন চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর
আমি বের হয়ে পড়লাম। আমি একটা
পার্কের পাশ দিয়ে হাটছি আর
ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছি। মেয়েটা
বলেছিল ওদের লিডার নিজেই আমার
সাথে কথা বলবে। আমি বুঝতেছিনা
আগ থেকেই ওদের ব্যাপারে আমার
সন্দেহটা সরকারকে জানানো উচিত
হবে কিনা। কেননা, আমার কাছে কোন
প্রমাণ নেই যদি দেখা যাযায় এটা
খুবই সাধারন বিষয় তাহলে আমি
হাস্যকর হয়ে যাব। তাছাড়া ওরা
নিশ্চয়ই এটা ভেবে রেখেছে। আমার
উপর ও হয়ত সর্বক্ষণ নজর
রাখছে। আমি পার্কের ভিতরে
কিছুক্ষণ বসলাম। আমার মাথা ব্যথা
করছে, চিন্তা করলেই মাথা ব্যথা
করে। কিছুদিন আগে এক
এক্সিডেন্টে আমি মাথায় একটা
আঘাত পাই। ডাক্তার বেশকিছু দিন
স্বাভাবিক থাকতে বলেছে আর কোন
ধরণের চিন্তা করতে নিষেধ করেছে।
বেশি চিন্তা করলে আঘাতের স্থানটা
আবার খারাপ হয়ে যাবে। আমার
এখন প্রচুর চিন্তা হচ্ছে তাই
মাথাটাও অসম্ভব ব্যথা করছে। মন
চাচ্ছে এখানেই শুয়ে পড়ি। তবুও খুব
কষ্টকরে একটা রিকশা নিয়ে বাসায়
এসে শুয়ে পড়লাম।
ঘুম থেকে যখন উঠলাম তখন রাত
ন'টা বাজে। শরীরটা এখনো ক্লান্ত
লাগছে তবে এখনের ক্লান্তটা বেশি
ঘুমানোর ফল। তাছাড়া আজ সারাদিন
বলতে গেলে না খেয়েই আছি প্রচণ্ড
ক্ষুদাও লেগেছে। রান্না করাও নেই
ঘুমানোর কারণে রান্নাও করতে
পারিনি। অগ্যতা হোটেল থেকেই
খেয়ে আসলাম। বাসায় ঢুকেই দেখি
কেউ ফোন দিয়েছিল মাত্র কেটে
গেছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি
ওই নাম্বার থেকে সারাদিনে ২৮টা
কল এসেছে। কিছু একটা মনে পড়ায়
হঠাৎ-ই চিন্তিত হয়ে পড়লাম। এই
মূহুর্তে আমার একটা কম্পিউটার
লাগবে পরবর্তী কল আসার পূর্বেই।
আমার কম্পিউটারে কাজ করা যাবেনা
আমার ধারণা আমার কম্পিউটার
ট্রাকড হয়ে আছে। অয়নকে কল
দিতে গিয়েও থমকে গেলাম। সিমটাও
যদি ট্রাকড হয়ে থাকে।
কি করব বুঝতে না পেরে শেষমেশ
আমার কম্পিউটার এর পুরো
সিস্টেমটারই সেটাপ দিয়ে দিলাম।
এতে কিছু ক্ষতি হলেও আপাতত তা
নিয়ে ভাবার সময় নেই। তারপর হুবহু
আমার একাউন্টের মত নতুন একটা
ফেক একাউন্ট তৈরি করলাম। তারপর
আমার নিজের একাউন্টে প্রবেশ
করলাম। সেখানে অপারেটিং
সিস্টেমের সামান্য পরিবর্তন করে
ফেক একাউন্টটা এমনভাবে
প্রোগ্রামিং করলাম যে, এখন যে
কেউ এটাকেই আমার আসল
একাউন্ট মনে করবে। এদিকে আমি
আমার আসল একাউন্ট হাইড করে
যারা আমার একাউন্ট ট্রাক করেছিল
তাদের প্রোগ্রামিং খুব সুক্ষ্মভাবে
হ্যাক করে নজরটা ফেক একাউন্টের
উপর দিয়ে দিলাম। আমার হ্যাক
করাটা স্বাভাবিক ভাবেই কেউ ধরতে
পারবেনা। আমাকে তো আর
বাংলাদেশের ব্যাংক গুলোর সাইট
রক্ষা করার দায়িত্ব সরকার এমনি
এমনি দেয়নি যদি এই সাধারণ কাজই
না করতে পারি। তাছাড়া আমার IP
প্রতি সেকেন্ডে ২বার করে
পরিবর্তন হয়। আর ১৫০ এর বেশি
দেশের লক্ষ লক্ষ IP সেভ করা
আছে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now