বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

obujh valobasa

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Azadul Islam (Tutul) (০ পয়েন্ট)

X Obujh valobasa Writer:MD azadul Islam tutul . .আমাদের সার্ভেয়িং সাবজেক্টের স্যারকে গিয়ে বলবি ওর মেয়ের সাথে তোর রিলেশন চলছে আর ওনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাস। " " রিজুর মুখে কথাটা শুনে আমি হাই ভোল্টেজের একটা ঝাটকা খেলাম। সব ফ্রেন্ডরা কলেজের আম গাছের নিচে বসে Truth & Dare খেলছিলাম। যখন আমাকে বলল দুইটা থেকে একটা চয়েজ করতে তখন আমি ডিয়ার বেছে নিলাম কিন্তু তখনই রিজু বলল " আমাদের সার্ভেয়িং স্যারের কাছে বলতাম আমি ওনার মেয়ের সাথে রিলেশন করি আর বিয়ে করতে চাই।" আমি প্রথমে মানা করলেও সব কয়টার মার খাওয়ার ভয়ে কাজটা করতে হবে। এখন মনে মনে গালি দিচ্ছি যে এই খেলাটার উৎপত্তি করছে। আমি এখন আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্টের দিকে পা বাড়িয়েছি। কারন ওইখানেই স্যারকে পাওয়া যাবে। আসলে আমি এখন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এট সিভিল ডিপার্টমেন্টেরর ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র। সেই হিসাবে আমাদের ডিপার্টমেন্টের সব স্যার মেডামের সাথে আমার হেব্বি রসায়ন আছে কিন্তু এক মাত্র সার্ভেয়িং স্যার সনেট স্যারের সাথেই আমার কখনো জমে নি। আসলে ওনি হলে সিভিলদের জন্য ১৩ নং বিপদ সংকেত। ওনি এমন এসাইনমেন্ট দেয় যে এটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সময় পার হয়ে যায় কিন্তু উত্তরই মিলে না।আর এখন ওনার কাছে গিয়ে বলতে হবে " আমার সাথে ওনার মেয়ের রিলেশনের কথা "। আমি স্যারের অফিস রুমের সামনে যেতেই স্যার রুম থেকে বের হয়ে আসলো। মনে হয় এখন দুপুরের খাবার খেতে যাবে। এমনি তে স্যারের পেট গরম আছে। এখন যদি কথাটা বলে ফেলি তাহলে হয়ত আমাকে দিয়েই দুপুরের লান্সটা শেষ করবে। আমি স্যারকে দেখে আদাব জানালাম। স্যার আমার সামনে এসে বলল... -- কি হলো রাজ এখনো বাসায় যাও নি? তোমাদের তো কখন ক্লাস শেষ। -- আসলে স্যার বন্ধুরা মিলে গ্রুপ স্টাডি করছিলাম। -- ও ভালো ভালো। স্যার আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল তখন আমি আবার ডাক দিলাম... -- স্যার একটা কথা... -- বলো তারাতারি। আমি লান্স করতে ক্যান্টিনে যাবো। -- আসলে হয়েছে কি.... আমি আম গাছের দিকে তাকিয়ে দেখি সব গুলো স্যারের হাতের রিয়েকশন দেখার জন্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি বার বার কথা বলতে গিয়েও সব গুলিয়ে ফেলছি। -- কি হলো রাজ বলবে নাকি আমি চলে যাবো? -- স্যার আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই?(খুব তারাতারি) -- কী?? -- না না আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। -- মানে? --মা..নে আমার আর আপনার মেয়ের মাঝে রিলেশন চলছে এটাই আপনাকে জানালাম। আপনি চাইলে বিয়ে করবো। -- কি বললি তুই? -- স্যার আমি গেলাম, আমার তো পেয়ে গেছে। আমার কোন দোষ নাই। স্যারের রিয়েকশন দেখার মত অবস্থা আপাতত আমার নেই। আমার অবস্থা এখন তুঙ্গে। দৌড়ে বাথরুমে চলে আসলাম। ফ্রেশ হয়ে বাইরে আসতেই দেখি সব গুলো আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। ইচ্ছা করছে এক একটাকে ধরে আচ্ছা মত পিটাই। কিন্তু এখন কিছু করতে গেলে আমার হাত পা আস্তো থাকবে না। আমি সবার দিকে তাকিয়ে বললাম... -- এবার তোরা খুশি তো। -- হুমম ব্যাপক খুশি। ভাই কালকে তুই মুখটা ফ্যাশিয়াল করে কলেজে আসিস। তোর গালে সেই লেভেলের স্ট্যাম পরতে পারে। (সুমাইয়া) -- মানে কি? আমার কথার জবাব কেউ না দিয়ে যার যার মত চলে যেতে লাগলো। আসলে হচ্ছেটা কি আমার সাথে। এই গুলো বন্ধু নাকি হারিকেন, যখন ইচ্ছা জ্বলে উঠে আবার ইচ্ছা হলে নিভে যায়। . রাতে পড়ার টেবিলে বসে ভাবছি কাল আমার কপালে আসলে কোন মাপের শণি ঘুরছে। পড়তেও মন বসছে না। এবার সব চেয়ে বড় কথা হলো সার্ভেয়িং স্যারের মেয়েটা কে? ওনার মুখে শুনেছি ওনার একটা মেয়ে আছে তবে কখনো দেখার ভাগ্য হয় নি। তবে যদি আমার সিনিয়র হয় তাহলে বেচেঁ গেলাম আর যদি খুব ছোট হয় তাহলেও বেচেঁ গেলাম। আর যদি মোটামোটি হয় তাহলে তো আমার "হয়েই গেল"। আমার এইসব নিয়ে টেনশন হচ্ছে না কিন্তু এইসব কর্মকান্ড যদি প্রিয়ার কানে যায় তাহলে আমি শেষ। প্রিয়া আমাদের কলেজের ৩য় সেমিস্টারের ছাত্রী। ওরে গত এক বছর যাবত পটানোর চেষ্টা করছি কিন্তু মেয়েটা বুঝেও না বুঝার ভান করছে। ওরে হয়ত মুখে কখনো বলার সাহস পাই নি আমি ওরে ভালবাসি কিন্তু ওদের ক্লাসের সব ছেলেরা জানে আমি ওরে ভালবাসি। যেহেতু আমরা কলেজের বড় তাই আমি প্রিয়াদের ব্যাচের সব ছাত্রদের বলে রেখেছি ওর দিকে যেন কেউ নজর না দেয়। ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল খুব রোমান্টিক ভাবে । সেদিন নবীন বরণ ছিল আর এবার নিয়ম করা হয়েছি নতুন সব ছেলে পাঞ্জাবী পরবে আর মেয়েরা পড়বে শাড়ী। আমিও একটু ফিটফাট হয়েই কলেজে গিয়ে ছিলাম। আসলে আমারও টার্গেট ছিল যদি কপালে একটা প্রেম জুটে আর কি? আমরা স্যারদের নির্দেশে সব সাজিয়ে দিলাম আর নতুন ব্যাচের ছাত্র ছাত্রীরা আসলে ওদের ফুল হাতে বরণ করার নিয়ম হলো। ফুল দেওয়ার দায়িত্বে ছিলাম আমি, রিজু,সুমাইয়া আর তিন্নি। তো মেয়েরা মেয়েদের বরণ করছে আর আমরা ছেলেরা ছেলেদের বরণ করছি। কিন্তু গেট দিয়ে এমন একটা মেয়ে প্রবেশ করলো যে আমি পুরো ক্রাশড। আমি আর লেট না করে সুমাইয়ার পাশে গিয়ে দাড়িয়ে পড়লাম ওই মেয়েকে ফুল দিবো বলে। মেয়েটা আমার সামনে আসতেই আমি ওর দিকে ফুল বাড়িয়ে দিলাম তাও এক সাথে পাচঁটা গোলাপ।যদি গোলাপ আর রজনীগন্ধা দেওয়ার নিয়ম। মেয়েটা আমার দিকে একটু ত্যাড়া টাইপে তাকালো। মনে হচ্ছে ডাকাত মেয়ে । হঠাৎ মেয়েটি বলে উঠলো... -- ফুল গুলো তো ছাড়ুন। আমি তাকিয়ে দেখি ওরে ফুল দিয়ে আমি এখনো ফুল গুলো ধরে রেখেছি। ও চলে যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম ও আড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন বলতে বলতে চলে গেল? আমি তো একদমই ফিদা। তখন আমার কানে কানে তন্নি বলল.. -- দোস্ত নামটা জেনে দিতে হবে নাকি। তন্নির কথা শুনে ওর দিকে মুচকি হাসি দিয়ে বললাম... -- দোস্ত আমার বিয়েতে তুই দুইটা মিষ্টি বেশি খেয়ে নিস। এখন তারাতারি মেয়ের নাম আর ডিপার্টমেন্ট জেনে আয়। -- ওকে। এরপর তন্নির মাধ্যমে জেনে যাই ওর নাম প্রিয়া আর ও সিভিল ডিপার্টমেন্টেই ভর্তি হয়েছি। এবার আমার প্রশ্ন হলো মেয়েরা কেন যে এই ডিপার্টমেন্ট বেছে নেয়। হয়ত ছেলেদের ভাত মারতেই।এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন ওর পিছু নিতাম। ওদের ডিপার্টমেন্টের সব ছেলেদের বড় রকমের থ্রেড দিয়েছি যেন ওর দিকে কেউ না তাকায়। আমার যতটুকু মনে হয় প্রিয়া সবই বুঝে শুধু একটু নাটক করে। . রাতে প্রিয়ার কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম খবর ছিল না। হঠাৎ ফোনের আওয়াজে ঘুমটা ভাঙ্গলো আর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সাড়ে ১০টা বেজেঁ গেছে। ও তেরি আমার ক্লাস তো ১০টা থেকে ছিল। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি রিজুর ফোন। আমি ফোনটা রিসিভ করতেই... -- দোস্ত কই তুই? এদিকে তোর খুজেঁ তো একজন পাগল হতে চলল। -- সনেট স্যার নাকি। বলে দে আমি আপাতত ১০৪ ডিগ্রি জ্বরে আছি। -- আরে ধুর প্রিয়া তোর খোজঁ করছে। খাইছে আমারে, ও মনে হয় সব জেনেছে আর রিজুই সব বলছে। ও আমার সব শেষ করেই ছাড়বে। আমি কাপাঁ কাপাঁ গলায় বললাম.. -- প্রিয়া কেন খুজতেঁছে? -- আমি বলতে পারি না তবে তারাতারি চলে আয়। -- হুমম আসছি। আমি তারাতারি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম আর ভাবছি ওরে গিয়ে সব সত্যিটা আজ বলেই দিবো। যা হবে দেখা যাবে। . কলেজে আসতেই হার্টবিট বেড়ে গেল। এক ভয় সার্ভিয়েং স্যার আরেক হলো প্রিয়ার ভয়। কোন রকমে স্যারের অফিস পার করেই সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই প্রিয়া আমার সামনে এসে দাড়ালো।আমি ওর দিকে তাকাতেই... -- আপনাদের ক্লাস ১০টায় আর এখন তো ১১টা বাজে। এটা বুঝি কলেজে আসার সময় হলো। -- আসলে রাতে একজনকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে রাত পার করে ছিলাম তাই আর সকালে ঠিক সময় ঘুম ভাঙ্গে নি। -- কে সেই মানুষ জানতে পারি? -- যে এখন আমার সামনে দাড়িয়ে আছে সে। -- একদম মিথ্যা বলবেন না। -- আমি মিথ্যা বলি না। এবার বলো আমার খোজঁ করছিলে কেন? -- কিছু মনে করবে না। আমি এখন আপনাকে একটা চর মারবো। -- মানে? --ঠাস (সেই লেভেলের আওয়াজ হয়েছে) -- ওই মারলে কেন? -- ভালবাসো আমাকে আর আমি আপনাকে ভালবাসি কি না সেটা না জেনেই বাবাকে গিয়ে বললে আমাদের দুইজনের মাঝে রিলেশন চলছে।তাও ঠিক ছিল তবে আবার বললে আমাকে বিয়ে করতে চাও। কখনো কথা বলি নি আর ধরে নিলে আমি আপনাকে ভালবাসি। -- ওই আমি তোমার বাবাকে চিনি নাকি হে। কখনো বললাম? -- কাল দুপুরে নাকি বলে ছিলে। ও তেরি কাল তো আমি সনেট স্যারকে বলছি ওনার মেয়ের সাথে আমার রিলেশন চলছে। প্রিয়া আবার সনেট স্যারের মেয়ে না তো।আমি দুই গালেই হাত দিয়ে বললাম... -- তোমার বাবার নামটা কি? -- নামের সাথে পরিচয়টাও দেই। আপনাদের ডিপার্টমেন্টের সার্ভেয়িং এর সনেট স্যার হলো আমার বাবা। -- আজ বুঝলাম প্রবাদটা কেন এতো সত্য হলো "যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়। "(আস্তে আস্তে) -- ওই কিছু বললেন? -- না কিছু না। যেমন বাপ তার তেমনি বেটি। -- একদম বাবাকে নিয়ে কিছু বলবেন না। -- আসলে আমি তোমাকে ভালবাসি ঠিকই। আর ভালবাসবো এটাও ঠিক কিন্তু সনেট স্যার তোমার বাবা জানলে কখনো বলতাম না। আমি চাই না তোমার কোন অসুবিধা হোক। আসলে যা হয়েছে সব খেলার ছলে। -- টেনশন নিয়েন না। ভুল করেও তো বাবাকে বলে দিলেন। এখন আর চাপ নেই। নয়ত আমি যদি বলতাম আমার বাবা ওনি তাহলে তো আপনাকে খুঁজেও পাওয়া যেত না। -- তার মানে তুমিও আমায় ভালবাসো। -- জানি না। (মাথা নিচু করে) আমি হাসবো নাকি নাচবো সেটাই ভাবছি। মিথ্যা জ্বরের অজুহাতে ভাবলাম কলেজ আসবো না কিন্তু না আসলেই হয়ত বড় কিছু মিস করতাম। তখনই পাশের ক্লাস রুম থেকে রিজু,সুমাইয়া,তন ্নি হাত তালিয়ে দিতে দিতে বের হলো। তখন রিজু বলল... -- দোস্ত আমরা জানতাম প্রিয়া সনেট স্যারের মেয়ে তাই Truth & Dear খেলার ছলে তোকে দিয়ে এই কাজ করালাম। তাছাড়া তুই প্রিয়াকে কখনো প্রপোজ করতে পারতি কি না সেটাও সন্ধেহ ছিল। কারন তুই তো প্রিয়াকে হেব্বি ভয় পাস। -- হুমম ঠিকই বললি।হাতেও অনেক জোর। (গালে হাত দিয়ে) সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে শুরু করলো। আর আমি শুধু প্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে রইলাম। আর প্রিয়া হয়ত একটু লজ্জা পাচ্ছে। সামনের কপালে কি আছে বলতে পারি না তবে সনেট স্যার যে আমার জন্য বাশ রেডি করবে এটা শিউর। Golper nam deua hoito thik hoini.......... R golpo kemon laglo comment Kore janaben...........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now