বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
পরশ পাথর
"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান SI JOY (০ পয়েন্ট)
X
রাত যেন কাটছেনা আর!! হেলালের সাথে এফবিতে চ্যাট করছিলাম ৷ একের পর এক কথা হচ্ছে ৷ বেটার কথা শুনতে ভালোই লাগে, খালি ওর প্রাক্তন প্রেমিকার কথা বলে ৷ আমারও শুনতে প্রথম দু একবার খারাপ লাগলেও, এখন অনেকটা ভালো লাগার ধারাবাহিক ভাব চলে এসেছে ৷ তা যাইহোক, ওর কাছথেকে অনেকটা এব্যাপরে এক্সপার্ট হচ্ছি ৷ বলোতো যায়না এই সিরিজে কখনো আমিও পরে যেতে পারি ৷ তখন ওর এই ধারাবাহিক মর্ম বানীগুলো কাজে লাগাবো ৷ এরপর গল্পে গল্পে ঘুমের দিক অগ্রসর হলাম ৷ আপাতত মোবাইল ডেটা অফ ৷ ঘুমানোর চেষ্টা আরকি ৷
আমার আবার ঘুম আসতে দেরি হলেও স্বপ্ন আসতে দেরি হয়না ৷ অনেক স্বপ্ন দেখি, আগে অনেক ছানাপোনা টাইপের স্বপ্ন দেখতাম আর এখন ......
থাক এই চিন্তা বাদ ঘুমাই ৷
হায়রে কতজনযে আসলো স্বপ্নে, কেউ আর সিঙ্গেল হইয়া আসেনা ৷ আর আমিও তেমন পাত্তাও দেইনা ৷ কেমনে জানি সাথে সাথে স্বপ্নের ঘটনা চেন্জ হয়ে যায় ৷ অনেকটা রিমোট দিয়ে টিভি চ্যানেল চেন্জ করার মতো ৷ ধুর কইলাম এই চিন্তা বাদ .... পাথর ঘুমা বেটা ঘুমা ৷ কালকে তোর বহুৎ কাজ আছে ৷ নানা বাড়ি যেতে হবে হুমম .....হুমম..... তারপর ঘুম ৷৷
প্রতিদিনের সকালের মতো 7:20 এ মোবাইলের এলার্ম বাজলো ৷ কিন্ত আজকে এলার্মের সুর তাল সবই ভিন্ন ভাবলাম অন্য কারোটা বাজে মনে হয় ৷ কিন্ত বার বার বেজেই চলেছে ৷ উঠে টেবিলের উপর মোবাইল হাতে নিলাম ৷ দেখেতো অবাক মা ফোন দিসে অলরেডি পাঁচটা কল মিসিং ৷ প্রায় ২০ দিন পর ফোন দিছে ৷ সে তেমন আমাক ফোন দেয়না, আমিও দেইনা ৷ ২০ দিন আগে একবার ফোন দিয়ে নানাকে দেখতে যেতে কইছিলো ৷ বলছিল "তোমার নানার অবস্থা তেমন ভালোনা, বার বার তোমাকে দেখতে চায়" ৷ উত্তরে বলছিলাম: তাতে আমি কি করবো আপনারতো বাপ আমারতো কেউনা, আপনিই দেখেন এই নিয়া ৩০ মিনিট ঝগড়া ৷ মায়ের সাথে পারিবারিক সম্পর্ক নাই বুদ্ধি হওয়ায় পর থেকে দেখে আসছি ৷ তারে ঠিক ৩ বছর আগে দেখছিলাম ৷ আর মাঝে মধ্যে এমন ফোন দেই আর ঝগড়া করি ৷
যাইহোক এখন আর ফোন রিসিভ করবোনা, সকাল বেলা ঝগড়া করার ইচ্ছা নাই ৷ আর আজতো আমি নানাকে দেখতেই যাবো ৷
অনেক পরিকল্পনা নিয়ে নানাকে দেখতে যাবার প্রস্তুতি নেওয়া ৷ সকালের নাস্তা পানি খাওয়ার পর, শার্ট খুজছিলাম পড়ার জন্য ৷ নানার অনেক পাঞ্জাবি পছন্দ, আমারতো আর পাঞ্জাবী নেই এই পাঞ্জাবি গলার শার্ট দিয়েই এখন কাজ চালাতে হবে ৷ তা সেটা রাখছি কোথায় ? তখন থেকে খুজছি ....... ধুর.. মাথায় কিচ্ছু থাকেনা ৷
আবার ফোন বাজলো ধরলাম ৷ এখন আর না ধরে উপায় নেই ৷ বিস্কিট ফ্যাক্টরি থেকে ফোন দিছে ৷ যাইহোক রিসিভ করলাম ৷
: স্যার আসবেন না?
=> না আজ একটা কাজে আটকে পরেছি ৷
: স্যার তাহলে বাবাকে কি
=> বলোযে স্যারের আজকে পরিক্ষা ৷
: হি হি আচ্ছা স্যার ঠিক আছে ৷
=> আর শোন আজকের নাস্তার শুকনো বিস্কিট গুলা তুমি খেয়ে নিও ৷
: স্যার আর কত লজ্জা দিবেন !!
=> আচ্ছা বাই ৷
ক্লাসের 9 এর ছাত্রী, অনেকটা ফ্রেন্ডের মতো ৷ ওকে পড়াতে গেলে আমার ঐ একটাই সমস্যা প্রতিদিনের শুকনা টোস্ট বিস্কিট ৷
আবার ফিরলাম শার্ট খোজার কাজে ৷ আর কতো খুজবো ৷ ইয়েস মনে পড়ছে শার্টতো বিছানার তোষকের নিচে রাখছিলাম ইস্ত্রি করার জন্য ৷ তোষকের নিচ থেকে বের করলাম ৷ আহ কি সুন্দর একটা ভাজও নেই ৷ গত ঈদে কিনেছিলাম ৭০০ টাকা দিয়া ৷ বার দশেক পড়ছিও ৷ যাইহোক একটু পুরান ভাব ধরছিল ভালো করে ধুয়ে, দিছিলাম আমার কৃত্তিম ইস্ত্রিতে ৷ একবার এক হাতুড়ে দরজির কাছে একটা শার্ট দিছিলাম ইস্ত্রি করতে ৷ বেটা টাকা ঠিকই ৫টা নিছে ৷ কিন্ত শার্টের বারোটা বাজায়া দিছিলো ৷ দুইদিন পর সেই শার্টের সবগুলা বোতাম টাইট দেয়া লাগছিলো ৷ এরচেয়ে আমার কৃত্তিম ইস্ত্রিই ভালো ৷ শার্ট প্যান্ট পড়ে ফিটফাট হয়ে দাড়ালাম ৷ শার্টের গলা পাঞ্জাবি গলায় হওয়ায় নিজের ভাবটা আরো বাইরা গেল ৷ নানার পছন্দ না হয়ে যাবে কৈ ৷
মেসের এক বড়ো ভাই আসলো
: পাথর কোথাও যাও নাকি?
=> হু ভাই, নানা বাড়ি যামু ৷
: আসবা কবে?
=> আজকেই ৷ ভাই আমার দুপুরের মিলটা বন্ধ দিয়েন ৷
: আচ্ছা, ভালো ভাবে যেও ৷
তারপর মেসের সবার কাছে বলে
"আমি আজ নানা বাড়ি যাচ্ছি " রওনা হলাম ৷
মনটা অনেক আনন্দের ৷ হাঁটার স্পিড আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি ৷ অটো ধরে নামলাম জনতার মোড় ৷ ওখান থেকে আবার হাঁটা ৷ একটু লোহার বিরিজ হয়ে যাবো ৷ এখানে আবার অন্য সব জায়গা থেকে ফলের দাম কম ৷ হাতে ভাড়া বাদা ১০৫ টাকা ছিলো ৷ ১কেজি আপেল নিলাম ১০০ টাকা দিয়া, কাঁধের ব্যাগের ভিতর ভরে আবার রওনা ৷ বাস ধরলাম খানখানাপুরের টিকিটও কাটলাম ৷ একটু বাসে বসতে না বসতেই আবার মায়ের ফোন ৷ ধুর এইডা এতো ফোন দিচ্ছে কেন? কেটে দিলাম ৷ ভাবছি যেয়ে একটা সারপ্রাইজ দিবো আর খালি ফোন দিচ্ছে ৷
যাইহোক এখন একটু সস্তিতে বসে আছি ৷ আর ভাবছি নানার কথা ৷ বছর সাতেক আগে নানার সাথে দেখা হইছিলো ৷ তখন ক্লাস এইটএ পড়ি ৷ নানা সেদিন জড়ায়া ধরে অনেক কাঁদছিলো ৷ আর বার বার বলছিলো আমার পাথর কতো বড়ো হয়া গেছে ৷ বাড়ির কাকীদের কাছে শুনছি ছোটবেলায় নানা নাকি সবসময় আমাকে কাঁধে কইরা নিয়া ঘুরে বেড়াইতো ৷ আর প্রায় নাকি একটা কথা বলতো যে,
"এই মোল্লা বাড়ির মাথা উচু করবো আমার নাতি ৷ বাপ চাচার মতো আলসে হইবোনা ৷ ওরে অনেক শিক্ষিত বানামু" ৷
আর এই কথা নিয়ে বাপের সাথে নানার নাকি প্রায় ভেজাল হইতো ৷
৭ বছর আগে যেদিন দেখা হইছিলো ৷ সেদিনই দেখছিলাম নানার গলার ওখানে বড়ো টিউমার একটা ৷ আর এখন যে তার অসুখ, তা ঐ টিউমার থেকেই ক্যান্সারের আগমন হইছে ৷ এই নিয়া অনেক দৌড় ঝাপ চলছে ৷ বুঝিনা এতো সিরিয়াসের কি আছে! মানুষের মরন কি এতো সহজ ৷ গ্রামের এক দাদারে দেখছিলাম ক্যান্সার হইয়া ১৪ বছর ঘরে পইরা ছিলো ৷ আর নানারতো মাত্র দুইবছর হইলো ৷ যাকগ্যা হায়াত মউত সব আল্লার হাতে ৷ আবার মায়ের ফোন ... এইবার অনেকটা রেগেই ফোন রিসিভ করলাম ৷ তার তথা শোনার আগেই ফোনে আমি কথা বললাম:
=> এতো ফোন দেন কেন? আমি ব্যাস্ত আছি ৷ আপনার যে পুলা আপনার দিনভর মা মা কইরা ডাক পারে তারে ফোন দেন ৷ আর ঐসব নানা টানা দেখার আমার টাইম নাই ....!
বলেই সাথেরসাথ কেটে দিলাম ৷ যতসব ঝামেলা ৷
তবে ওপাশ থেকে কেমন যেন বুড়া মানুষের মতো কান্না শুনা যাচ্ছিল ৷ মনে হয় নানি ৷ আমার কথা এখন আর তাদের সইজ্জো হয়না ৷ যাইহোক এই সাবজেক্ট বাদ ৷
তারপর আবার নানার কথা ভাবতে লাগলাম ৷ আমার যে নাম পাথর সেটা নানাই রাখছে ৷ নানার নাম পরশ আলী আর আমার পাথর অনেকটা মিল আছে , একসাথে পরশপাথর হয় আরকি ৷ মনে হয় অনেক ব্রিলিয়ান্ট ছিলো ৷ তয় আমার এই নাম নিয়ে জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়ছি ৷ অনেকে আবার টিটকিরিও করছে এই বলে যে ... "ধুর পাথর একটা নাম হইলো" ৷ আবার বন্ধুদের সাথে ভেজাল লাগলে এই নাম দিয়াই আমাকে পঁচায়া দেয় ৷ আর মায়ের সাথেতো কথা বললেই প্রায় শুনতে হয় ... "তোমার নাম যেমন পাথর তেমন তোমার মনটাও দিন দিন পাথরের মতোই হচেছ "...
শুধু ঐ পরশ আলীই খুব ভালো ভাবে বুঝায়া দিতে পারতো আমার নামের ব্যাখ্যাটা ৷
ঐ বায়ে চাপে, বায়ে চাপে ৷ হেল্পারের ভয়েস এইবার একবারে কানের ভিতরে লাগছে ৷ বাইরে তাকায়া পুরাই টাস্কি খাইলাম ৷ চলে আসছি খানখানাপুর ৷ নামলাম ৷ আবার মায়ের ফোন ধ্যাত আজকে এইডারে কিসে ধরছে ৷ যে মাসে একবারও খোজ নেয়না আর আজকে এতো ফোন !!! কেটে দিলাম ৷
তারপর রিক্সা নিলাম
নানার বাড়ি খুলাবাইরা মকবুলের দোকানের পাশে, নাকি খুলাবাইরা পিষ্কারমোড় ধুর এতো কনফিউজড ভালো লাগে ৷ যা হবার হবে ৷
=> ঐ রিক্সা যাবা?
: কোহনে যাবেন?
=> খুলাবাইরা
: হ যাওয়া যায়, খুলাবাইরা কোহনে যাবেন?
=> মকবুলের দোকান
: আচ্ছা উঠেন ৪০ টাকা দিয়েন !
=> আরে মামা কি কন? এতো ভাড়া নাকি ফরিদপুর থেকে আসলাম ৩০ টাকা দিয়া ৷
:আচ্ছা যান আপনে ছাত্র মানুষ ৩০ টাকাই দিয়েন ৷
তারপর আবার চলা শুরু ৷ গ্রাম আগের মতোই আছে ৷ আগে শুধু মাটির রাস্তা ছিল এখন ঐডা পাকা হইছে ৷ চারপাশের প্রকৃতিটা আগের মতোই সুন্দর ৷ ভাবতেছি মামাতো ভাইদের সাথে এইবার একটু ঘুরুম ৷ তারপর ভাবতে ভাবতে আর গ্রাম দেখতে দেখতে চলে আসলাম মকবুলের দোকানের পাশে ৷ নামলাম ৷
এদিক ওদিক তাকালাম কৈ এখানে আশে পাশেতো তেমন বাড়ি ঘর নেই ৷ তাইলে কৈ আসলাম ৷
=> দোকানদার কাকা এইডা কোন জায়গা?
: আমার নাম মকবুল বাজান ৷ আর সবাই এই জায়গারে মকবুলের দোকানই কয় ৷ তা তুমি কোহনে যাব্যা?
=> হ্যা .. ওহ আচ্চা নুরু আলীর বাড়ি কৈ জানেন?
: নুরু ... নুরু.. নুরু নামে এদিকতো কেউ নাইরে বাজান, তয় আলী গোষ্ঠীতো খুলাবাইরা পিষ্কারমোড়রের ঐদিক আছে ৷ মনে হয় ঐ দিকেই পাইবা ৷
=> হ্যা, হ্যা, পিষ্কারমোড় ৷
হুর কেন যে এই ভুলটা করলাম ৷
তা কাকা পিষ্কারমোড়ের রাস্তা কোনটা এখানদিয়ে ৷
: এহন দুপুর বেলাতো কোন গাড়ি পাইবানা ৷ এই তোমার হাতের ডান পাশ দিয়া রেল লাইন ধইরা চইলা যাও ৷ হাঁটতে হাঁটতে চইল্যা যাও সামনে পিষ্কারমোড়ের সাইনবোর্ড পাবা ৷
=> তা কতদুর এখান থেকে?
: এই মাইল তিনেক ৷
=> এ্যা তিন মাইল (অনেকটা অবাক হয়েই বললাম)
: আরে রেললাইন ধইরা গেলে বেশিক্ষণ লাগবেনা ৷
তারপর শুরু করলাম হাঁটা ৷ কি রোদরে বাবা ৷ মনে হয় এরেই ঠাটা পড়া রোদ কয় ৷ মনে হচ্ছে যেন আজকে রোদের তাপ সব আমার উপর দিয়েই যাচ্ছে ৷ উহ এতো সুন্দর শার্টটা ভিজায়া কি করলাম ৷ মাথার উপর দিয়া কেমন যেন ভাব উঠতেছে ৷
হাঁটছিতো হাঁটছি
আজকে আর ব্যাগে পানির বোতলটা আনতেও মনে নাই ৷ বড় বড় পাথর দিয়া রেললাইনের ভিতর দিয়া ভরা ৷ যা বর্তমানে সরকার উন্নতি করছে আরকি ৷ মাঝে মধ্যে রেললাইন এর কিনার দিয়ে দুই একটা ভ্যান যায় ধান, গম নিয়া ৷ বলতেও চাই আমারে নিয়া যান, কিন্ত সাহস পাইনা ৷ যাইহোক কষ্ট হোক তাও ভালো, আজ নানাকে দেখবো এটাই বড়ো ব্যাপার ৷ নানারে যখন নিজ হাতে আজ আপেল খাওয়াবো, সেই আনন্দের কাছে এই কষ্ট কিছুইনা ৷
হেটে যাচ্ছি সূর্যের তাপ বেড়েই চলেছে ৷ বেলা 11:17 বাজে ৷ যত পথ এগোচ্ছি নানার কথা ততোই মনে পড়ছে ৷ ছোটবেলায় একবার নাকি নানা আমার জন্য কাঁঠাল নিয়া আইছিলো ৷ আর আমারে ভাইঙ্গা দিয়া ইচ্ছা মতো রোয়া খাওয়াই ছিল ৷ এরপর নাকি আমার ভিষন পেট খারাপ হয় ৷এর জন্য নানার সাথে বাপে অনেক রাগারাগি করছে ৷ আর আমারিতো বেশি দোষ ছিলো ৷ আমি নাকি ছোটবেলায় খাওয়া দাওয়ায় সেই লেভেলের পেটুক ছিলাম ৷
ওমাগো ......
ইসসসিরে........ মাইরা ফেলাইছে ... বলতে বলতে চোখ খুইলে দেকি পইড়া গেছি ৷ হালার পোলাপাইন রাস্তায় ঢিপি বানায়া রাখছিলো ৷ ঐটায় বাইধাই পইড়া গেছি ৷ কেউ দেখার আগেই উঠলাম ৷ হাঁটুতে ভালোই চোট লাহছে ৷ একপাশে কেটেও গেছে ৷ হায়রে .....
রাস্তা যেন আর ফুরাচ্ছেনা !! নানার যে ঠিকমতো খোজ নেই নি এইডা তারই শাস্তি ৷
এরপর আরো দশ মিনিট হাঁটার পর এক লোকের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম চলে আসছি প্রায় ৷ হাঁটছি আর হাঁটছি ৷ সামনে বিরাট একটা গোরস্থান দেখলাম নতুন একটা কবর খোড়ার কাজ চলছে ৷ কে যেন মারা গেছে এদিক, আহারে!!! হায়রে মানুষ!!! যাইহোক কিছুক্ষণ হাঁটার পর অবশেষে পিষ্কারমোড়ের সাইনবোর্ড দেখতে পেলাম ৷ সামনে একজন মুরব্বী আমার দিকে মনেহচ্ছিলো তাকায়া আছে ৷ দুর থেকে ঠিক চিন সারতে পারছিনা ৷ একটু কাছে গেলাম আরে এতো আমার বড়ো নানা ৷ আমার নানার বড়ো ভাই ৷ উনি কার সাথে যেন ফোনে কেঁদে কেঁদে কথা বলছিল ৷ উনি কাঁদছে কেন এই ভেবে, মনের ভিতর কেমন যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠলো ৷ তারাতারি কাছে গেলাম ....... যাওয়ার সাথে সাথে বড়ো নানা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো আর বলছিল .. নানাভাই আইছো তুমি, অনেক বড়ো হইয়া গেছো তুমি ৷ তোমার নানা তোমারে অনেকবার দেখতে চাইছিলো ৷ বুঝতে আর কিছু বাদ রইলোনা " নানা আর নেই" !!
তার সাথে বাড়ির ভিতরে গেলাম ৷ বাড়ি ভর্তি মানুষ ৷ সবাই আমার দিকে অনেকটা আসামী দেখার মতো চেয়েছিলো ৷
হঠাৎই আচমকা মা এসে জরিয়ে ধরলো ...... "হায়রে বাজানরে এখন আইছো ৷ কতবার তোমারে ফোন দিছি ৷ তুমি কত ব্যাস্তরে বাজান ৷ আমার সাথে দুইটা মিনিট কথা বলার তোমার সময় নাই ৷ আজকে সকালেও তোমার নানা তোমারে দেখতে চাইছিলো ৷ কতবার তোমার কথা বলছে ৷ শেষ দেখাডা তোমারে দেখতে পারলোনারে বাজান" ৷ মায়ের কথা গুলো অনেকটা শরিরকে শিউরে দিচ্ছিলো ৷ কি করবো বুঝতে পারছিলাম না ৷ হঠাত কে যেন আমার ঘার ধরে জোড়েসরে একটা ধাক্কা দিলো ৷ হুমরি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম ৷ ফিরে তাকায়া দেখি মামাতো ভাই শরিফ...
ও বলতেছিল ... "তুই আইছিস কি করতে তোর আসার কোন দরকার ছিলোনা" ৷
সবাই ওরে ধইরা থামাইলো ৷
কয়েকজন আমারে ধইরা লাশের সামন নিলো ৷ অনেক্ষন ভড়ে নানাকে দেখলাম ৷ শুধু বড় বড় দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছিলাম ৷ মনে হচ্ছিল ভিতর থেকে কি যেন একটা নাই হয়ে গেছে ৷ ওখানেই অনেক্ষন নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম আর অনুভব করলাম কতটা আশা নিয়ে আমার পথচেয়ে তাকিয়ে ছিল আমার নানা ৷ আজ সত্যিই মনে হচেছ আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পাপী ৷
তারপর যা যা করার দরকার সবই করলাম ৷ তবে এর ভিতর নানার লাশ নিয়ে সেই গোরস্থানে যাওয়ার পথটা সবচেয়ে কঠিন পথ মনেহচ্ছিলো ৷ সেই পথটা যেন পাড়ি দেওয়া আজ আমার জন্য দুর্লভ হয়ে পড়েছে ৷ মনেহচ্ছিল কেউ যেন আমার পায়ের নিচে বেতের কাটা বিছিয়ে রাখছে , হাটুর উপর মনেহচ্ছিল কেউ বোধহয় মন দশেক সাইজের পাথর বেধেঁ দিছে ৷ পা আর সেচ্ছায় চলছিলোনা ৷ আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছিলো কাঁধের উপর ৷ মনে হচ্ছিলো আজ মনে হয় নানা আমার কাঁধেই ভর করেই শেষ যাত্রায় পাড়ি দিচ্ছে ৷ তারপর কি হলো আর মনে নেই, যা যা করার প্রয়োজন হয়তো করেছিলাম ৷
অনেক সময় চলে গেছে ৷ দেখতে দেখতে কেটে গেল দশ বছর ৷ আজ আবার সেই জায়গায় ৷ নানার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের মসজিদে ইফতারি করালাম ৷ প্রতিবছরই এই দিনে আসি এখানে ৷ নানাকে দেখতে!!
আজ আমার অনেক টাকা হইছে নানাজান ৷ এখন আর ১০০ টাকা বাঁচানোর জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়না ৷ মায়ের সাথে কথা বলার জন্যে বার বার বাবার মুখে বকাও শুনতে হয়না ৷ আজ আমি স্বাধীন নানাজান যেখানে ইচ্ছা এখন যেতে পারি ৷ এখন আর সেই কমদামে আপেল কেনার জন্যে আমার লোহার ব্রিজে যেতে হয়না ৷ আজ আপেল ,কমলা কেনার মতো আমার অনেক টাকা হয়েছে, কিন্ত নানাজান তুমিই নাই ৷ নানাজান! সেদিন পারিনি জড়িয়ে ধরে তোমাকে আমার এই মনের হাহাকারের কথাগুলো বলতে ৷
এগুলো ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছিলাম ৷
একটা ফোন আসলো ৷ বড়কাকীর ফোন , হাসপাতাল থেকে ৷
এখানে আসার আগে নুরজাহানকে হাসপাতলে রেখে আসছিলাম ৷ ওর কাছে থাকতে পারিনি নানার কথা রাখার জন্য ৷
যাইহোক বড়োকাকী খুশির সাথে কথা বলতে লাগলো ....
:সুখবর আছেরে পাথর তোর ছেলে হইছে ৷ মিষ্টি নিয়ে আয় ৷ তোর ছেলের চেহারা একদম তোর নানার মতো ৷
এখান থেকে ফিরে সোজা হাসপাতলে পৌছালাম ৷ তারপর ছেলে দেখলাম , নাম রাখলাম পরশ ৷ পরশটাকে যে আমি আর হারাতে চাইনা ৷ পরশ না থাকলে যে, আমি সেই অপদার্থ পাথরই হয়ে থাকবো ৷ আমার খুব যে ইচ্ছা পরশ পাথর হবার !
লেখায়: শফিকুল ইসলাম জয়
প্রথম প্রকাশ :Finance and banking department Group, Govt. Rajendra College. Faridpur
দ্বিতীয় প্রকাশ: বই পোকা গ্রুপ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now