বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"ভালবাসার ঘাম"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X হাসলে কেন? " মিহির কথায় আমার হাসি মুখটা চুপসে গেলো।আসলে আমার হাসিতে মিহি যে এভাবে রেগে যাবে বুঝতে পারিনি।আমি মিহির রাগি মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম, -কোই হাসি নাই তো। -আমাকে বোকা পাইছো।এখনও তো হাসতেছো। এবার ধরাই পড়ে গেলাম।আসলে মিহির রান্না দেখে আর হাসি আটকে রাখতে পারিনি। ' মিহির সাথে আমার বিয়ে হয়েছে এই এক সপ্তাহ হবে।এই কয়েকদিনেই মেয়েটা আমার খুব কাছে চলে এসেছে।মনে হচ্ছে ওর সাথে আমার সাত দিন না,সাত বছরের পরিচয়। বিয়ের পর নাকি নতুন বউ বরকে রান্না করে খাওয়ায়।কিন্তু মিহির দিকটা পুরোই উলটো।বিয়ের পর আমিই ওকে রান্না করে খায়িয়েছি।বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে বলে কথা।রান্না তো দূরে থাক কোন দিন প্লেটে ভাত বেড়েও খায়নি। ' আজ যখন অফিস থেকে আসলাম তখনি মিহি বললো সে নাকি রান্না করবে।মিহির মুখে এমন কথা শুনে আমি বেশ অবাক হলাম।বলে কি মেয়েটা। রান্না করবে।ওর রান্না খেলে আমার সারা রাত বাথরুমেই বসে থাকতে হবে।আমি মিহির গালে হাত রেখে বললাম, -তুমি ঠিক আছো তো। -হ্যা আমি ঠিক আছি। -হঠাৎ রান্নার ভুত চাপলো কেন? -আজ একটা নাটকে দেখেছি,নতুন বউ বরকে রান্না করে খাওয়াচ্ছে,আমার ও তো ইচ্ছে হয় তোমাকে রান্না করে খাওয়াতে। -ও আচ্ছা।অন্য কোন দিন খাবো তোমার হাতের রান্না।এখন প্লিজ খেতে দাও খুব ক্ষুধা লাগছে। -আজ তো কোন রান্না হয়নি। -রান্না হয়নি মানে,বুয়া আসেনি? -এসেছিল,আমি চলে যেতে বলেছি। -কেন? -আমি রান্না করবো,তাই। মিহির কথায় আমি আর কিছু বললাম না।এই মেয়েটা একবার যেটা বলবে সেটাই করবে।আজ খেতে পারবো কি না সেটা নিয়েই টেনশন।আমি ফ্রেশ হয়ে রান্না ঘরে যেতেই দেখি মিহি পেয়াজ কাটছে আর কাঁদছে। এটা দেখে আর হাসি আটকে রাখতে পারিনি।তখনি মিহি বেশ রেগে যায়। ' আমি হাসি থামিয়ে মিহির চোখের পানি মুছে দিয়ে বললাম, -অনেক রান্না করছো।আর না।আমি বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসছি। -না।আমিই রান্না করবো। আমি আর মিহিকে কিছু বললাম না।আজ রাতে মনে হচ্ছে না খেয়েই থাকতে হবে। " এইটা কি রান্না করছো? ' মিহির ডাকে ঘুমটা ভেঙে গেলো।তবুও কিছুক্ষন শুয়েই রইলাম।মিহি আমার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো, -অফিস যাবে না? -হুম যাব তো। -ওঠো তাহলে।আমি টেবিলে নাস্তা দিচ্ছি। -তুমি যাও আমি আসছি। আমার কথায় মিহি খাবার টেবিলের দিকে গেলো।আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসতেই মিহি প্লেটে পরেটা আর ডিম ভাজি দিল।আমি মিহির দিকে তাকিয়ে বললাম, -এইটা কি? -কেন,পরেটা। -এইটা পরেটা, না মানচিত্র। -কি বললে তুমি।আমি কত কষ্ট করে বানিয়েছি আর তুমি এসব বলতেছো। -আচ্ছা বাবা সরি ভুল হইছে। -ভুল হইছে মানে কি,বউয়ের হাতের রান্না খেতে ইচ্ছে করে না? -করে তো।তবে এর থেকে বুয়ার রান্নাই বেটার। আমার কথায় মিহি আর কিছু বললো না।সোজা রুমে চলে গেলো।বেশ রেগে গেছে মনে হচ্ছে।আমি উঠে রুমে যেতেই মিহি হাতে একটা ব্যাগ নিয়ে বের হল।আমি মিহির হাত ধরে বললাম, -কোথায় যাচ্ছ? -আমাদের বাসায়। -আমি সরি বললাম তো। মিহি আমার কথায় আর কিছু বললো না।চলে গেলো।এই শ্বশুর বাড়ি বাড়ির পাশে হলে এটাই সমস্যা।কিছু হলেও বাবার বাড়ি চলে যায়।যাক,রাগ কমে গেলে নিজে থেকেই চলে আসবে।আমাকে ছাড়া এক মুহুর্ত নয়। " অফিস থেকে বের হয়ে মিহিকে আবারও ফোন দিলাম। সেই একই কথা,বন্ধ আছে।মেয়েটা যে এতটা রেগে যাবে বুঝতে পারিনি।ও তো আর কোনদিন রান্না করেনি।আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যেত।এখন কি মিহিদের বাসায় যাওয়া কি ঠিক হবে।তাছাড়া ওদের বাসার পাশ দিয়েই তো আমাদের বাসায় যেতে হবে। ' আমি রিক্সায় উঠে ভাবতে লাগলাম যাব কি যাবনা।ওর বাবাই বা কি ভাববে।নতুন বউ রাগ করে বাবার বাসায় চলে এসেছে।আমি মিহিদের বাসার সামনে এসে নেমে পড়লাম।রিক্সাওয়ালাকে ভাড়াটা দিয়ে পাশের দোকানে গিয়ে বসলাম।এখান থেকে মিহির রুমটা স্পষ্টই দেখা যায়। ভেবেছিলাম আমাকে দেখে হয়তো মিহি ডাক দিবে কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেলো, মিহির কোন খোজ নেই। আমি আর কিছু না ভেবে বাসার দিকে রওনা দিলাম।মিহির ফোনটা এখনও বন্ধ পাচ্ছি।ওর বাবার নাম্বারে কি একবার ফোন করবো।দেখি কি হয়। এসব ভাবতে ভাবতেই আমার ফোনটা বেজে উঠলো।মিহির ফোন।আমি ফোনটা ধরতেই মিহি বললো, -ভাল ছেলেরা অন্যের বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে না।আর আমার এটা পছন্দও না। কথাটি বলেই মিহি ফোনটা রেখে দিল।আরে আমাকে তো কিছু একটা বলতে দেবে।ফাজিল মেয়ে একটা।আমাকে দেখেও ডাকে নি,নিচে আসেনি। " প্রায় দুই দিন হয়ে গেলো মিহির আসার কোন নাম না।যে মেয়েটা এক মুহুর্ত আমাকে ছাড়া থাকতো না সে দুই দিন হলো কোন যোগাযোগ ছাড়া কিভাবে আছে বুঝতেছি না।এদিকে আমার অবস্থাও বেশ শোচনীয়। বিয়ের পর কোলবালিশটাও আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে।মিহি সেটা কোথায় রেখেছে সেটা নিজেও জানিনা।যাই হোক মিহিকে ছাড়া আর একমুহুর্ত নয়।কাল সকালেই যাব শ্বশুরবাড়ি।শ্বশুর টাও কেমন একবার ফোন দিয়ে খোজও নিল না। " কলিংবেলের শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেলো।এত সকালে আবার কে।বুয়াকে তো আসতে বারন করে দিয়েছি।আমি উঠে ঘুম ঘুম চোখে দড়জা খুলতেই দেখি মিহি দাঁড়িয়ে। ও এত সকালে।আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে মিহি রুমে ঢুকে সোজা রান্না ঘরের দিকে গেলো।কি মেয়েরে বাবা,এতদিন পর বরকে দেখে একটু কথা বলবে আদর করবে, তা না করে রান্নাঘরে কি। ' আমি দড়জা আটকে দিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে মিহিকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললাম, -সরি,তুমি যেটা রান্না করবে,যেভাবেই করবে আমি আর কিছুই বলবো না।একদম চেটেপুটে খাব। -আমাকে ছাড়া এতদিন ভালই ছিলে। -একটুও না।কোলবালিশের মত মিস করেছি। মিহি এবার আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে বললো, -কি বললে? -খুব বেশীই ভালবাসি বউটাকে। -কচু ভালবাসো। -এভাবে রাগ করে কেও বাবার বাড়ি চলে যায়। -তুমিও তো আনতে যাওনি। ঠিকই তো,আমি চাইলেই তো যেতে পারতাম।কিন্তু শরম লাগে শ্বশুরবাড়ি যেতে। আমার চুপ থাকা দেখে মিহি বললো, -যাও ফ্রেশ হয়ে আসো আমি নাস্তা দিচ্ছি। মিহির কথায় আমি মাথা নাড়ালাম।আবার কি বলবো আর আবার রাগ করে চলে যাবে।তারচেয়ে মিহির হাতের মানচিত্র খাওয়া অনেক ভাল।অন্তত মেয়েটাকে তো কাছে রাখতে পারবো। ' রুমে এসে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সে খেয়ালই নেই।ঘুমটা ভাঙলো মিহির ডাকেই।আমাকে উঠিয়ে একদম হাতে দুধ চা ধরিয়ে দিয়ে বললো, -চা টা খেয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে আসো। -হু,যাও আসছি। আমি চায়ে চুমুক দিতেই কেমন যেন অন্য রকম স্বাদ পেলাম আগে মিহি চা দিলে চিনি কম হতো, নয়তো বেশী।আবার মাঝে মাঝে ঠান্ডা চা ও খেতে হতো।কিন্তু আজ একদম ভিন্ন।মিহির মত আজকের চা টাও বেশ মিষ্টি হয়েছে। ' আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসতেই মিহি পরেটার সাথে মাংস বেড়ে দিল।আজ কি হচ্ছে আমার সাথে কিছুই বুঝতেছিনা।এত মিষ্টি চা,আবার পরেটা মাংস।আজকের পরেটা দেখে মনেই হচ্ছে না যে এই মেয়েই গত দুদিন আগে মানচিত্র বানিয়েছিল।মাংসের গন্ধে পেট একদম ভরে গেলো। আমি পরেটা ছিড়ে মাংস দিয়ে মুখে দিতেই আমার বাসার পাশের হোটেলটার কথা মনে পড়ে গেলো।এত মজা করে ওই হোটেলেও রান্না হয়নি কখনও।আমি মিহির দিকে তাকাতেই মিহি আমার বা পায়ের উপর বসে আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে বললো, -এই দু দিন শুধু আম্মুর কাছে থেকে তোমার জন্যে রান্না শিখেছি।আর সেদিনের চলে যাওয়াটাও আমার প্লান ছিল। মিহির কথা শুনে আমি কিছু বলতে পারলাম না।যে মেয়েটা কোন দিন রান্নাঘরে যায়নি সে মেয়েটা দুইদিন এই গরমে রান্নাঘরে গিয়ে আমার জন্যে রান্না শিখেছে।আমার চুপ থাকা দেখে মিহি বললো, -আমি খায়িয়ে দেই? -হু দাও। মিহি আমাকে খায়িয়ে দিচ্ছে আর আমি মিহির মিষ্টি মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।ছোটবেলায় গরমে যখন আমার নাক ঘামতো তখন সবাই বলতো, যার নাক ঘামে তার বউ জামাই পাগল হয়, তোর বউ তোকে খুব বেশীই ভালবাসবে।আজ সেটা ভালভাবেই মিলে গেলো। মিহি আমাকে খায়িয়ে দিয়ে বললো, -কেমন লাগছে? -অনেক মজা।আচ্ছা দেখোতো আমার নাকটা ঘামছে কি না। -হুম ঘেমেছে তো। মুছে দেবো। -এই না।মুছতে হবে না।ঘামুকনা একটু। ' আমি মিহিকে খায়িয়ে দিচ্ছি আর মেয়েটা চুপচাপ লক্ষী মেয়ের মত খাচ্ছে।এদিকে আমার নাকটাও আস্তে আস্তে ঘামছে।আর আমাদের ভালবাসা বাড়ছে।ঘামুকনা একটু।ঘাম থেকে যদি ভালবাসা বাড়ে তাহলে ঘামই ভাল। লেখক:- অলিভার কুইন(শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now