বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ ২৫ শে আগস্ট। বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। চড়া রোদ। বাস ধরব। বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে। মাথায় একটাই কথা ঘুরছে ভালবাসার মানুষের খুব কাছে কখনো যেতে নেই। ইদানীং এক সমস্যা হয়েছে। মাথায় কোন কথা ঢুকলেই সেটা বারবার ঘুরপাক খায়। খেতেই থাকে। তার কৌণিক বেগ শূন্য না হওয়া পর্যন্ত। যাকে কম্পিউটারএর ভাষায় বলে শিফট ডেল এন্টার। কিন্তু এখন সমস্যাটা হল কথাটা কোথায় পড়েছি মনে পড়ছে না। থাক মনে পড়ে কাজ নেই। সব কথা সর্বদা মনে রাখতে হবে তার ত কোন কথা নেই। মনে থাকে বলেই যত সমস্যা। কই পাগলের ত কোন সমস্যা নেই। ওর কি মেমোরি নেই। আছে হয়ত।
কিন্তু ভালবাসার মানুষের খুব কাছে কখনো যেতে নেই। খুব কাছে মানে কি? শারীরিক ভাবে কাছে আসা? তাহলে বেশ্যার সাথে তার খদ্দেরের ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়। তাহলে কি মন? কিজানি। এ জগতে প্রত্যেকটা জিনিসেরই মন আছে। পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে একটা মন নিয়ে ভালবাসা নিয়ে, কিন্তু কখনো কাছে যায়না। আবার চাঁদ ঘোরে পৃথিবীকে একটা মন নিয়ে ভালবাসা নিয়ে। ইলেকট্রন ঘোরে। আমি ঘুরি তুমি ঘোরো। কাছে যাইনা। ইলেকট্রন ঋণাত্মক। এই বাংলাটা কে আবিস্কার করেছিল কে জানে? ঋণ মানে ধার। ইলেকট্রন ধার করেছে। তাই পাওনাদারের পেছনে ঘুরছে। আরে পাওনাদার ত ঘোরে। যে টাকা ধার নেয় সে টাকা দেওয়ার জন্য ঘুরবে কেনো? এক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিক্রম হচ্ছে না!! এই ইলেকট্রন এখন যদি ঘোরা থামিয়ে দেয়, মিশে যায় পজিটিভ কণার সাথে পজিটিভ নেগেটিভ মিশে গেলে কি হয়? শূণ্য। এ আবার অতীব বিষম জিনিস। একে নিয়ে আপাতত ভাবব না। আচ্ছা পৃথিবী ঘোরা বন্ধ করে দিলে কি হবে?
এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বাসস্ট্যান্ড চলেএলাম। একটা সিগারেট ধরালাম। গালটাকে ভেতরে ঢুকিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলাম। ফুঁ উ উ উ। ফুঁ উ উ উ। লম্বা করে। সামনে একটা সাইন বোর্ড। সেনকো জুয়েলারি। এক সুন্দরী মহিলা সোনার গহণা পরে হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে। কোন নায়িকা হবে। ভারতীয় মহিলারা সোনার পিছনেও ঘোরেন। তাকে অঙ্গে ধারণ করেন। সোনার ভালবাসার কণা আর তাদের শরীরের কণার আদানপ্রদান হয়। মনে ধারণ করেন না। তাই ভালবাসার টানে সোনার পেছনে হন্যে দিয়ে পড়ে থাকেন। আর দেশের প্রচুর ডলার চলে যায় সোনা কিনতে। সোনার ব্যবসায়ী রা এসব বোঝেন। তাই অমন বিজ্ঞাপন।
এবার বাসে উঠেছি। আজ জানালার ধারে। প্রথম থেকে তিন নম্বর। বসেই চোখ গেল সোজাসুজি একটা ছবির দিকে। বাসে লাগানো রয়েছে। হিজাব টাইপ কিছু পড়ে আছেন। শুধু চোখ আর হিজাবের ছবি। চোখটা আর হিজাবের কাপড় দুটোই নীল। হানি সিং এর কি একটা গান ছিল। তেরা ব্লু আইস আর হিপনোটাইজড। এরকমই কিছু। আমি হানি সিং এর গান পছন্দ করিনা। তাও মাথায় ওই কথাটাই এল। সন্মোহন অতি প্রাচীন একটি কলা বা শিল্প। প্রাচীন ভারতে নাকি কিছু সাধু সন্মোহন জানতেন। আমি অবশ্য এসব বিশ্বাস করিনা। আমি মনে প্রত্যেকটা জিনিসের মধ্যেই কিছু না কিছু সন্মোহন রয়েছে। যা তার সহজাত। যা আমাদের সন্মোহিত করে। আপাতত আমি ওই ছবির চোখে সন্মোহিত। ভালাবাসার মানুষ বা উপাদানের কাছে কখনো যেতে নেই, সন্মোহিত হয়ে ঘুরপাক খেতে হয়। ইলেকট্রন সন্মোহিত হয়ে ঘুরপাক খায়। আশা রাখছি ওই ছবির চোখে ঘুরপাক খাব। আমার এক বন্ধু তার বান্ধবীর বিয়ে হয়ে যাওয়া সত্তেও তার বাড়ির সামনে ঘুরপাক খায়। ও তার বান্ধবীর খুব কাছে কখনো যায়নি। তাই ঘুরপাক খায়, গেলে খেত না।
বাস ছেড়েছে। আমার মাথায় ওই কথাটা এখনো ঘুরছে। আমার মাথার সন্মোহনে ঘুরপাক খাচ্ছে। খাক। আমি একটু একটু ভাবি, চিন্তা করি, মজা নিই। চিন্তার মধ্যে একটা মজা আছে। পার্বতী বাউলের একটা গান আছে যেটা আমি খুব শুনি -চিন্তা হইতে চিতা ভাল, চিতায় মরা মানুষ পুড়ে। আরে পুড়লে ত সব শেষই হয়ে গেল। চিন্তা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। জ্বালিয়ে রাখে চেতনায় প্রতি মুহুর্তে। চিন্তা শেষ। সব শেষ। চিন্তা করো ঘুরপাক খাও।
আপাতত খুব গরম লাগছে। মাথা থেকে সুড়সুড় করে কি যেন নামছে। ঘামের ফোঁটা। নামুক। এবার নাক বেয়ে ঠোঁটে আসবে। আমি জিভ দিয়ে নুনের স্বাদ নেব। ঘাম নোনা হয়। শরীর থেকে বেরোনো নুন আবার শরীরে চালান করে দেব। ওদের ঘুরপাক প্রক্রিয়ায় একটু সাহায্য আর কি। শরীরের সাথে ঘামের এক আত্মিক সম্পর্ক। ভালবাসার বন্ধন। ঘাম শুকিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে। ঘাম যেদিন বন্ধ, শরীরের আস্ফালনও সেদিন বন্ধ। এবার মাথা তুললাম। বাঁ দিকে তাকিয়ে দেখি এক সুন্দরীও ঠোঁটের উপরে নীচে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সবার ঠোঁটের উপরে নীচে ঘাম জমে না। যাদের জমে তারা দিলদরিয়া টাইপ হন। কখনো কখনো আমার ঘাম হওয়ার ইচ্ছে হয়। আজ হলনা। এমনিই হল না। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
সামনের সিটে এক ভদ্রমহিলা বসে আছেন। বিবাহিত। কানে ফোন লাগিয়ে। কথা বলে যাচ্ছেন অনর্গল। কি বলছেন কিছুই বুঝলাম না। তবে এটা বুঝলাম ঘুরপাক খাওয়ার পরিকল্পনা চালাচ্ছেন। ভালবাসার মানুষের খুব কাছে কখনো যেতে নেই, ঘুরপাক খেতে হয় ইলেকট্রনের মত। এই কথাটা আপাতত আমার মাথাটাকে ভালবেসেই ফেলেছে। ঘুরছে, ঘুরছে। স্টেশন চলে এসেছি। নামলাম। চা টা সেবা নিয়ে স্টেশনে ঢুকলাম। ট্রেনের খবর হয়নি এখনো। হবে। চোখ গেল প্লাস্টিকের ডাস্টবিনের দিকে। শিকল দিয়ে বাঁধা। যাতে ঘুরপাক না খায়। মনে হল ইশ, যদি এভাবে মনটাকে বাঁধতে পারতাম কারণে অকারণে খামখা ঘুরপাক খেত না।
ভালবাসার মানুষের খুব কাছে কখনো যেতে নেই, ইলেকট্রনের মত সন্মোহিত হয়ে ঘুরপাক খেতে হয়। শ্রীকৃষ্ণ রাধার পেছনে ঘুরপাক খেয়েছেন, খাচ্ছেন, খাবেন। তাই উনি অমর। অমরত্ব লাভ করেছেন। সারাজীবন আমরা সবাইই ঘুরছি, কাউকে না কাউকে কেন্দ্র করে সদা, সর্বদা। ঘোরা বন্ধ মানেই "মৃত্যু"।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now