বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হোস্টেলে ব্রি খাওয়ার ব্যাপারে কড়া নিষেধ করা আছে। তার পরেও যারা চেইন স্মোকার তারা তো আর ছেড়ে দিতে পারে না। লুকিয়ে লুকিয়ে ঠিকই ওরা খেয়ে ফেলে। ওপর থেকে বলে দেওয়া আছে যে একজন ব্রি খোরকে হাতে নাতে ধরিয়ে দিতে পারলে তার হাতে নগত একশত টাকা পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হবে।
আমরা আবার কয়েকজন মন্টুদাকে গুরু হিসেবেই মানি। যদিও তিনি যে একজন চেইন স্মোকার এবং তিনি যে এ কার্য বহাল তবিয়তেই এতদিন থেকে করে আসছেন তা কারো অজানায় নেই। কিন্তু সমস্যা একটাই তাকে ধরিয়ে দিতে অনেকেই তৎপর হলেও কেউ তাকে ধরিয়ে দিতে পারে নাই।
পাশের রুমে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছি আমরা কয়েকজন। আমরা আবার দু:খ বেদনা ছাড়া কোনো দিন ব্রিতে টান দেই নাই। কারণ এ কার্য করিয়া ধরা পড়ে মান সম্মান খোয়া দিতে কারই সম্মতি ছিল না।
মণ্টুদা আমাদের মাঝে এসেই সাদাতের পিঠে একটা চটকানা মেরে,
--কি ব্যাপার কি করিস তোরা?
আমি--কিছুনা ভাই ব্রেকআপ পার্টি পালন করতাছিলাম।
মন্টুদা--কার আবারব্রেক আপ হইল এই আষাঢ় মাসে?
--ভাই সাদাত ছেলেটা কয়দিন মেসেঞ্জারে একটা মাইয়ারে পটাইয়া প্রেম করতাছিল কিন্তু, কালকে থেকে নাকি মেসেজ করতেছে না এই দু:খে ছেরাডা ভাত পর্যন্ত ছাইরা দিছে।
মন্টুদা --ব্যাপার না একটা ব্রি খা দেখবি সব টেনশন একেবারে ধোয়ায় উইড়া গেছে।
আমি--ভাই জানেন তো ব্রি খাওয়া নিষেধ।
মন্টুদা--আরে বাদ দে তো চল
ভাবলাম অনেক দিন থেকে টান দেই না তাই আজকে একটু টান দিয়ে দেখি। এর ভিতর দেখি ঘাউরা নূর সে নাকি খাবেনা। না খায় নাই এরকম এক টা মুড নিয়ে আমরা ভাটা ছাড়তে গেলাম। টয়লেটে বসে আমরা আরামচে ধোয়া ছারতেছি কিন্তু, এক টা কথা আছে না যে সুখে থাকলে ভূতে কিলায়। আমাদের ঠিক একই দশা। হোস্টেলের বড়ভাই আজ্রাইলের মত কিছুক্ষণ পরেই এসে হাজির। লাঠি একটা নিয়া টয়লেটের দরজায় বারির উপর বারি। মুখের উপর ধরা পড়ছি দেখে কিছু বলার নাই। সবগুলারে কান ধরে ছাগল টানার মত করে নিয়ে গেল হল রুমে। এরি মধ্যে সারা হোস্টেলে রোটে গেল মন্টুদা ও তার চেলা পেলারা ব্রি খাইতে যায়া নাকি ধরা পড়ছে। সবার মনে একটা পৈশাচিক আনন্দ আজকে মন্টূদা ধরা পড়ছে সাথে আমরাও। কি শাস্তি হয় তাই দেখার জন্য। ঘাউরা নুরের দিকে তাকাইয়া দেখি সালা হলুদ দাত বাইরা কইরা চ্যাগায়া চ্যাগায়া হাসতেছে। হয়তো এ হাসি তার বিজয়ের হাসি, কারণ সে আজ নগত কচকচে একশত টাকা পাবে, আর তা দিয়ে ওর এ মাসের জন্য গুল খাওয়ার টাকা হয়ে যাবে। আমাদের চার জনকে সবার মাঝে বসে রাখা হইছে সবার মাঝে এক টা চাপা গুঞ্জন কি হয় না হয় । শেষে শাস্তি হিসেবে ঠিক হল আমাদের সবার পকেট থেকে নগত এক হাজার টাকা আর সবার সামনে একশবার কান ধরে উঠা বসা করা। আর সামনেনের পুরো এক সপ্তাহ ধরে বাজার করা।
কিচ্ছু করার নাই কারন আমরা অপরাধী।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now