বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অফিস থেকে বের হয়ে রিকসার জন্য অপেক্ষা করছিলো হৃদয়।
প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর একটা রিকসা পেলো।
মামা নিউমার্কেট যাবেন (হৃদয়)
হুম মামা যামু,ভাড়া কিন্তু ত্রিশ টাকা দেওন লাগবো(রিকসাওয়ালা)
আচ্ছা ঠিক আছে চলেন (হৃদয়)
রিকসা যেই চলতে শুরু করবে ঠিক তখনি। মিষ্টি একটি শব্দ ভেসে আাসে বাঁ দিক থেকে।
ফিরে তাকায় হৃদয়।একটি মেয়ে দাড়ীয়ে আছে, পরনে মেরুন রঙের টি-শার্ট,কালো টাইটস,হাইহিল জুতো। চুল গুলো ছোট পেছনে ঘাড়ের ওপর ফুলে আছে।
দিকে ও কপালের ওপর গোলাকার জুলে আছে। কাদে জুলানো গ্রামীন চটের ওপর নকশা করা একটি ব্যাগ।
মেয়েটি বেশ লম্বা, গলার বাক দেখার মত,শরীরের সবকটি মোড়ে ফুটে আছে উদ্ধত ভঙ্গিমা।
ভাইয়া, আপনি কোনদিকে যাবেন? (মেয়েটি)
নাড়া খেলো হৃদয়। উত্তর দেওয়া দরকার অথচ শব্দ নেই মুখে। বোকার মতো তাকিয়ে আছে কেবল।
অনুমতি ছাড়া মেয়েটি ত্বরিত গতিতে উঠে এসেছে রিকসায়। অনেকটা হুমরি খেয়ে পরেছে হৃদয়ের ওপর। রিকসা চলতে শুরু করেছে।
স্যরি ভাইয়া,এছাড়া কোন উপায় ছিলো না,অনেকক্ষন দাড়িয়ে ছিলাম,রিকসা,সিএ
নজি,অটো কিছুই পাচ্ছিলাম না অথচ আমাকে এদিকে যেতেই হবে খুব জরুরী, কিছু মনে করেননি তো(মেয়েটি)
ইটস ওকে। মনে করার কিছু নেই (হৃদয়)
হৃদয় ও দেখতে স্মার্ট, উজ্জল ফর্সা,লম্বা,মুখ
ে খোচা খোচা দাড়ী,পরনে খয়েরী রঙের ফুলহাতা দামী শার্ট,বটল গ্রিন কালারের দামী প্যন্ট,পায়ে দামী জুতা। আর পকেটে ভারী মানিব্যাগ, পাচঁশ টাকার বিশটি নোট। দেহের উত্তাপ আর পকেটের উত্তাপ মিলেমিশে একাকার।
হৃদয় হঠাৎ টের পায় মেয়েটি তার দিকে আরেকটু ঘেসে বসেছে।এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে রিকসা বসেছে হৃদয়। দেহে উত্তাপ বাড়ছে। শরীরের জড় গিট গুলো খুলে যাচ্ছে।ধীরে ধীরে সহজ হতে থাকে সে।
মেয়েটির মুখের দিকে তাকায় এবার। হাসি হাসি মুখ, বড় বড় চোখ, কড়া ঠোট, গায়ে পারফিউমের গন্ধ।
মেয়েটি আবারও বলে, ভাইয়া কোন দিকে যাবেন? গলার স্বর মিষ্টি নরম।
নিউমার্কেট।হৃদয় জবাব দেয়
আমি মহিলা কলেজে যাবো,নিউমার্কেটের মোড়ে নামিয়ে দিলেই হবে(মেয়েটি)
সিওর(হৃদয়)
মেয়েটির দিকে আবার ও তাকায় হৃদয়। তাকানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভেতর অন্য রকম আবহ জেগে উঠে,যেন মেয়েটি লুকোনো হাতে ছুয়ে দিয়েছে মন। ওকে খুবই লাবন্যময়ী মনে হয়। মনে ঢেউ জাগছে, ছোট ছোট ঢেউ। লাবন্যের জুয়ারে দুলছে হৃদয়।
কী এমন জরুরী কাজ।(জানতে চায় হৃদয়)
একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে কলেজে,সন্ধা ৭টায় শুরু হবে,আমি দেরিতে গেলে অনুষ্ঠান আটকে থাকবে। (মেয়েটি)
আপনি কি পারফরমার(হৃদয়)
হ্যা,কজনের মধ্য একজন। (মেয়েটি)
বাসায় থাকেন।(হৃদয়)
না,হোস্টলে থাকি। এদিকে এসেছিলাম বিশেষ কাজে, আটকে গেছি। তাই আপনার হেলপ নিলাম।(মেয়েটি)
পারফরমার শুনে হৃদয়ের আগ্রহ আরো বেড়ে।অপর পক্ষের তেমন আগ্রহ নেই।তবু সংকোচ ঝেড়ে আগ বাড়িয়ে হৃদয় জানতে চায়:-
কি নাম আপনার(হৃদয়)
ফারিজা ইসলাম মিম (মেয়েটি)
বাহ?খুব সুন্দর নাম তো?মেয়েদের মুগ্ধ করার মতো নির্বাচিত কিছু শব্দ হৃদয় স্টকে আছে। তারই একটি শব্দ ব্যবহার করেছে সে।
ফারিজার তেমন একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি।
হৃদয় আবার বলে উঠে,:-
আপনি খুব সুন্দর,খুব মিষ্টি (হৃদয়)
থ্যাংকস(ফারিজা)
নাম আর রুপের প্রশংসা করলে মেয়েরা সাধারনত গলে যায়। ফারিজার কোনো ভাবান্তর নেই,এ মেয়ে অন্য ধাতে গড়া,কঠিন শিলা।
হৃদয়ের সঙ্গে মেয়েরা পরিচিত হতে ব্যাকুল থাকে,একারনে নিজেকে অহংকারী মনে হতো,অহংকার চুর্ন বিচুর্ন হয়ে যাচ্ছে,কেবল প্রয়োজনের তাগিদেয় কি মেয়েটা রিকসাতে উঠেছে? বেপরোয়া হয়য়ে ওঠে সে,আলাপ জমাতে চেষ্টা চালায়।
একা মেয়ে,এভাবে রিকসা ওঠা কি ঠিক হয়েছে,আমি ত খারাপ লোক ও হতে পারি(হৃদয়)
না,আপনি খারাপ না,দেখে বুজেছি,এমন সুদর্শন জেন্টলম্যানরা খারাপ হতে পারে না (ফারিজা)
সত্যি বলছেন(হৃদয়)
হ্যা। সত্যি(ফারিজা)
হৃদয় খুশি হয়।তবে কি ফারিজা গলতে শুরু করেছে।
এই যে রিকসাওয়ালা ভাই থামুন। রিকসা থেমে গেছে নিউমার্কেটের উত্তর পুর্ব কোনের মোড়ে। ফারিজা নেমে দারায়।তারাহুড়া করে বলে,ধন্যবাদ ভাইয়া।
এ বলে হাটা শুরু করে ফারিজা।
হৃদয় একেবারেই বোকা হয়ে যায়।ফারিজার মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে সে।ওর মন গলাতে চেয়েছে অথচ নিজে গলে বসে আছে।
হৃদয় শেষবারের মতো বলে,শুনুন প্লিজ?
ফারিজা ঘুরে দারায়।
আপনার ফোন নাম্বারটি দিবেন,ব্যাকুল চাহনি হৃদয়ের।
ওহ,ইয়েস।(ফারিজা)
একটু ভেবে, পরক্ষনে আবার বলে,আমার যে মোবাইল ফোন নেই ভাইয়া। এই বলে আবার হাটা শুরু করে ফারিজা।
মোড় ঘুরে নিউমার্কেটের দক্ষিন গেটের দিকে অগ্রসর হতে থাকে রিকসা। কিছুদুর এগোতেই মুখ বের করে পেছনে তাকায় হৃদয়।
একি! মেয়েটা মহিলা কলেজের দিকে যাচ্ছে না,দ্রুত একটি রিকসায় উঠে পরেছে, রিকসা আবার দেবিদ্বারের দিকে চলতে শুরু করেছে।
কোথায় যাবে ও?হাহাকার করে উঠে মন। জনারন্যর মাঝে ও জনশূন্যতা জেগে উঠেছে।
রিকসা তার গন্তব্য চলে এসেছে,নেমে দাড়ায় হৃদয়
রিকসা ভাড়া দেওয়ার জন্য তার পকেটে হাত ঢুকায়। সঙ্গে সঙ্গেই কেপে উঠে।
পকেটে মানিব্যাগ নেই। সব পকেটে খুজে। না,নেই। বিশটি কচকচে পাচশ টাকার নোট দশ হাজার টাকার ব্যাপার।
মেয়েটা কি পকেটমার। সব পরিচয়কি ভুয়া,কোথায় কিভাবে ডায়ালগ ছুরতে হয় সব কি তার জানা।
না। খারাপ কিছু ভাবতে পারছে না।রিকসায় ওঠার সময় কেমন অণ্য রকমভাবে মেয়েটি তার ওপর ঝাপিয়ে পরেছিলো। পকেটের ওপর তবে কি চাপ পরেছিলো ওর হাতের?
না,এমন মেয়েকে পকেটমার ভাবা যায়না,উচিত না। ভাবতে গেলে যে নিজেরই কষ্ট।
ট্রাফিক পয়েন্টে লাল বাতি। পকেটে লাল বাতি। মনেও লাল বাতি জলছে এখন। জ্বলুক। এমন মিষ্টি মেয়েকে ভালোলাগার তুলনায় লাল বাতির জ্বালা যেন তুচ্ছ,অতি তুচ্ছ এখণ।
লেখক:- অলিভার কুইন(শুভ)।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now