বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেসের বড় ভাইয়ের কাছ থেকে একটা টিউশনি জোগার করেছি। মুলত টাকা পয়সার সমস্যা না হলেও শখের বশে করা। ছাত্র আমার ক্লাস ফাইভে পড়ে, এমনিতে দুষ্টমি করলেও লেখা পড়াতে ঠিক আছে। প্রথম দিন গেলাম ছাত্রের বাসায় কলিং বেল বাজিয়ে অপেক্ষা করছি, এমন সময় দেখি দেখি একটি মেয়ে গেট খুলে দিল
মেয়েটি উপন্যাসের নায়িকার মত সুন্দর না হলেও আমার কাছে মনে হয়েছে পৃথিবীর সেরা রাজকন্যাদের মত।
--স্যার আসসালামু আলাইকুম
হা হয়ে তাকিয়ে আছি যেন আমার বাক খানিক ক্ষনের জন্য হলেও থেমে গেছে জীবনে প্রেম করার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু একে দেখে মনে হল প্রেম না করলে জীবন টাই বৃথা যাবে।
--কি হল এভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যানো?( খানিক টা লজ্বার চোখে)
এহেম এহেম
--না মানে এমনি কিছুনা
--তাহলে সালাম নিচ্ছেন না ক্যানো?
--ও হ্যা তাইতো ও আলাইকুম আসসালাম
--আসুন ভেতরে আসুন
--অয়ন বাসায় আছে
--জ্বি স্যা আছে
--আমাকে স্যার বলবেন না লজ্বা লাগে
--স্যারকে স্যার বলব নাতো কি বলব? {কলিজায় হাত দিছে}
--না মানে নাম ধরে ডাকবেন
এরি মাঝে আন্টি চলে আসলেন
--আন্টি আসস্লামু আলাইকুম
--ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা কেমন আছো
--জ্বি আন্টি ভালো আছি আপনি কেমন আছেন
--জ্বি বাবা ভালো আছি আচ্ছা তোমার ছাত্রকে পড়াও আমি আসি
--জ্বি আন্টি
আন্টি যাওয়ার পর দেখি মেয়েটা এখনো আমার দিকে তাকিয়ে আছে হাসিও দিল, আমিও এক টা হাসি দিলাম জ্ববাব স্বরুপ।
--স্যার
স্বম্ভিত ফিরে পেলাম ছাত্রের ডাকে
--ও হ্যা কি অবস্থা তোমার লেখাপড়ার
--জ্বি স্যার ভালো
সেদিন আর খুব এক টা পড়াই নি শুধু পরিচয়টা আর একটু গল্প করেই মেসে চলে আসলাম।
পরদিন আবার গেলাম। গেটে কলিং বেল বাজানোর সাথে সাথেই খুলে দিল মেয়েটা মনে হয় আমার জন্য ই রেডি হয়ে ছিল। আবারও সেই হাসি, যেই হাসি দেখলে আমার মত হাজার ও ছেলে এক নিমিষে দিওয়ানা হতে দেরি হবে না।
--কি হল স্যার ভিতরে আসবেন নাকি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন?
--না না বাইরে ক্যানো থাকব অয়ন আছে
--জ্বি আছে
--আপনার নামটা জানতে পারি?
--জ্বি আমি তানিয়া
--খুব সুইট নাম , আমি রানা
- ধন্যবাদ, হুম জানি আসুন
বলেই তানিয়া চলে গেল মেয়েটা বোধ হয় বুঝতে পারছে এই দুই দিনেই আমি তার প্রতি কতটা দূর্বল হয়ে পরেছি। ওর বাকানো ঠোটের হাসি যেন আমার রাতের ঘুমকে হারাম করে দিয়েছে। আমার রাত দিন শুধু যেন তাকে ঘিরেই। আসলে আমি দুই দিনেই তানিয়ার প্রতি এতটা দূর্বল হয়ে পরব, আমি নিজেও ভাবতে পারিনি। রাতের ঘুম দিনের কাজ কর্ম সবকিছুতেই যেন ওর পদচারনা। কাজল কালো চোখ আর টোল পড়া গালের হাসি আমার রাতের ঘুমকেও হারাম করে দিয়েছে। প্রেমে পড়লে বুঝি মানুষের এরকম ই হয়।
এর মাঝে আর খুব একটা দেখা সাক্ষাত হয় নাই। তবে আমি নিয়মিতই দেখতাম জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে কেউ একজন আমাকেই ফলো করছে, আমার আর বুঝার বাকি নেই যে ওটা তানিয়া হয়তো সেও আমাকে কিছু বলতে চায় কিন্তু বলতে পারছে না।
কিছু দিন পরের ঘটনা অয়নকে পড়াচ্ছি এরি মাঝে তানিয়া চা নাস্তা নিয়ে আসলো সাধারণত আন্টি নিয়ে আসে কিন্তু আজ ও নিয়ে আসছে।
--কি ব্যাপার আজ আপনি নাস্তা নিয়ে আসলেন যে
--ক্যানো আমি নিয়ে আসলে কোনো সমস্যা
--না সমস্যা থাকবে ক্যানো আজকে আন্টিকে দেখছি না যে
--আম্মু আজ কে একটু বাইরে গেছে তাই
--ওও
--চা খেয়ে বলবেন কিন্তু কেমন হয়েছে
চায়ে চিনির পরিমাণ একটু কম হলেও ওকে বলে ওর মন খারাপ করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই
--হুম খুব ভালো হয়েছে
--ধন্যবাদ
সাথে সাথে লক্ষ করলাম ওর মুখের দিকে এক চিলতে হাসি। হয়তো নিজেই চা বানিয়েছে আর কারো মুখ থেকে সেই চায়ের প্রসংসা শুনে ওর মনে হাসি ফিরে আসছে।
আজ বেশ কয়েক দিন হল কিছু ঝামেলার কারনে টিউশনিতে গেলাম না। আজকে আবার না গেলে হয়তোবা এই টিউশনিটা হারাতে পারি তাই আর দেরি না করে চলে গেলাম।
আজকে আবার তানিয়া গেট খুললনা অয়ন এসে খুলে দিল।
--স্যার এ কয়দিন আসেন নাই ক্যানো
-এমনিতেই আসলে আমার একটু ঝামেলা ছিল তোমার পড়া কমপ্লিট হইছেতো
--জ্বি স্যার
আমি মনে মনে তানিয়া কে খুজতেছি, কারন এ কয়দিন ওকে না দেখে আমারও মন টা ক্যানো যেন খারাপ হয়ে গেছে। তানিয়াকে দেখলাম আংগিনার পূর্বপাশের আমগাছের নিচে মন খারাপ করে বসে আছে। হয়তো এ কয়দিন আমার জন্য ই গেট খোলার জন্য গেটে গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু আমার না আসাতেই তার যত অভিমান।কি আর করার অয়নকে কোনোমতে পড়িয়ে মেসে চলে আসলাম। এসেই লম্বা একটা ঘুম তার পরদিন চলে গেলাম অয়নকে পড়াতে। আজকে ওকে ছুটি দিয়ে দিব। ঈদের আর খুব বেশি দেরি নেই। আন্টি আসলেন
--বাবা ঈদের তো আর খুব বেশি দেরি নেই
ভাবছি তোমার সস্মানিটা দিয়ে দিয়ে দেই আর অয়ন কে ছুটি দিয়ে দাও
--জ্বি আন্টি আমিও সেটাই ভাবছি আজকেই অয়নকে ছুটি দিয়ে দেই
--আর হ্যা বাবা তুমি কিন্তু আজকে আমাদের সাথে শপিং এ যাবা
--শপিং? ক্যানো আন্টি
--সে কি বাবা তুমি অয়নের টিচার তোমাকে ঈদএ না দিলে হয় আর আমাদের ও শপিং করতে হবে তাই না? তুমি কিন্তু অবশ্যই যাবে, না করবে না।
কি আর করার বাধ্য হয়ে চলেই গেলাম। গাড়িতে বসে আছি আংকেল, আন্টি, অয়ন, তানিয়া আর আমি হতভাগা। অয়ন অবশ্য আমার কোলেই বসে আছে। কিছু ক্ষন পর পর আমি তানিয়ার দিকে তাকাচ্ছি। আজকে ওর মনটা বেশ ভালো মুখে হাসি। আর জানালা দিয়ে বাইরের দিকে অজানা মনে তাকিয়ে আছে। শপিং এ নেমে আন্টি ও আংকেল তাদের পছন্দের সবি কিনলেন শেষে আমাকেও শার্ট আর প্যান্ট কিনে দিলেন। না করলেও আংকেল সেটা শুনছেন না শেষে তানিয়াকে বললেন আমাকে নিয়ে যেন অন্য দোকানে গিয়ে ঘড়ি আর জুতো কিনে দেয় তাদের নাকি অন্যদিকে কি যেন একটা দরকার আছে।
আমার দিকে চোখের ইশারায় তানিয়া জানান দিল আসুন। আমিও গেলাম সাথে সাথে প্রথমে একটা ঘড়ির দোকানে নিয়ে গেল। ওর নিজের পছন্দের দিকটাই প্রাধান্য দিল কি জানি হয়ত ও ওর মনে অন্য কিছু লুকিয়ে রেখেছে। তার পর আসলো জুতা নেওয়ার পালা এবারো ও নিজের ক্ষমতাটাই খাটালো আমাকে একবার জিজ্ঞেসও করল না যে এটা আমার পছন্দ কিনা।
তানিয়া আবার বলল :
---চলেন
-- কোথায়
-- কফিশপে
-- আংকেল আন্টি?
-- আরে আসেন তো( কিছুটা ধমকের স্বরে) আপনার সাথে আমার কথা আছে।
কিছুটা আচ করতে পারলেও কিছুই বললাম না।
কফি অর্ডার দিয়ে বসে আছি দুজনে এদিক ওদিক তাকিয়ে আমাকে বলল'
-- এই আপনি কিছু বুঝেন না
-- কি বুঝবো
-- আপনি আসলেই একটা আতেল
-- হুম আতেলরা ও কিন্তু বুঝে
-- তো আমি বলব নাকি আপনি বলবেন
-- বলতে হবে না যা বলার প্রথমদিন থেকেই বুঝে গেছি কিন্তু, আপনি আমাকে ক্যানো চয়েস করলেন
-- আপনার এই আতেল মার্কা চেহারা আমার প্রথম দিনেই রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তার জন্য।
ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম আবারও ও তার ভুবন ভুলানো হাসি দিছে যাতে আমি বরাবরি মুগ্ধ
মনে মনে ভাবছি সালার টিউশনি করাতে এসে আমি এ বাড়ির জামাই। হয়ে যাব না তো?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now