বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দূর ছাই!!! ও ফোনটা ধরে না কেন??? এত্ত কিসের অভিমান?? এত্ত কিসের ego?? কি হয় একবার ধরলে?? আমি যে কি ভীষণ কষ্ট পাই, ও কি বোঝে না?? বোঝে, সব বোঝে...... তবু যত্ত দুনিয়ার ঢং!!! ইচ্ছে করে দুম করে ফোনটা ভেঙে ফেলি...মর জ্বালা!! তাও পারি না, মনে একটু খানি আশা আর দুশ্চিন্তা... "যদি ও ফোন করে আমাকে না পায়!!"
অথচ এত্ত অভিমান,এত্ত ঢং-ঢাং কখনোই ছিল না আমাদের মাঝে...modern language এ যাকে বলে bestiezz... আমরা তাই ছিলাম। সারাটা দিন কাটতো আড্ডা, ঘুরাঘুরিতে। সারাদিনের সব কথা একজন আরেকজনকে না বললে, মজার কিছু ঘটলে সেটা নিয়ে দুজন অন্তত দশ বার হাসাহাসি না করা পর্যন্ত শান্তি ছিল না। দুজন বসে গ্রুপ স্টাডি করলে ভার্সিটির জঘন্য সিলেবাসের যন্ত্রণাদায়ক পড়াগুলো-ও নিতান্তই ডাল-ভাত মনে হতো। কি এক জাদু ছিল কে জানে, যে কোনও কাজে দুজনার রসায়ন ছিল চমৎকার। সেই জাদুতে না বলা কথাগুলো হয়ে উঠত ঝকঝকে কাঁচের মতো পরিষ্কার, মন খারাপের দিনগুলোতে সেই জাদুতেই এক নিমিষে দুঃখ হয়ে যেতো পুরোপুরি গায়েব। ভালো হোক, খারাপ হোক...সব পরিস্থিতিতেই দুজন ছিলাম দুজনের পাশে। "আর কক্ষনো তোর মুখ দেখবো না"-টাইপ তুমুল ঝগড়ার দুই মিনিটের মাথায় আবার আমি এসে ওর পাশে বসতাম, কান ধরে স্যরিও বলতাম। আবার আমি গাল ফুলালে ও আমার প্রিয় পেস্ট্রিটা এনে আমার সামনে ধরতো, আর আমি গাল ভরে পেস্ট্রি খেয়ে আরও এক আউন্স ফুলতাম। ভীষণ আনন্দ লাগত মাঝে মাঝে, ভাবতাম এই তো জীবন... একটা অসাধারণ পরিবার, অসাধারণ বন্ধু, রঙিন সব স্বপ্ন... এই নিয়ে বেশ কেটে যাচ্ছে সময়গুলো... আর কি চাই আমার???
আসলেই... ভালোই ছিল জীবনটা... কিন্তু গোলটা বাঁধল পড়াশুনোর পাট চুকে যাবার পর। প্রফেশনাল লাইফে ঢুকে আমি আমার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ফ্যামিলির লোকজন এবার উঠে পড়ে আমার পেছনে লাগলো। বিয়ে করা চাই!!! আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ল...... বিয়ে??? এ বিষয়টা তো আমার স্টুপিড মস্তিষ্কে কখনই আসে নি!!! এখন কি করব?? অচেনা এক বালকের হাত ধরে সম্পূর্ণ অচেনা জগতে পা বাড়াবো?? ভাবতে ভাবতে মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। বাসা থেকে একটার পর একটা ছেলে দেখানো হচ্ছিলো, আর আমি বিপুল বিক্রমে সবাইকে রিজেক্ট করে যাচ্ছিলাম। ওকে সমস্যার কথা বলতেই ও হা হা করে হেসে বলল..." এত্ত পাত্র খোঁজার কি আছে?? আমাকে বিয়ে করে ফেললেই পারিস... ল্যাঠা চুকে যায়!!"
সেইদিন ওর কথা একদম সিরিয়াসলি নেইনি...আমি জানি, ও-ও সিরিয়াসলি কিছু বলে নি। তবু কি জানি পোকা ঢুকল বাড়ির লোকজনের মাথায়...তারা ভাবতে লাগলেন আমরা একজন আরেকজন কে ভালোবাসি, তাই অন্য কোথাও বিয়ে করতে চাই না। তাই দুম করে আমাদের বিয়েটা ঠিক করে ফেললেন তাঁরা। আমরা দুজন-ও ভেবে দেখলাম নাম না জানা বালক-বালিকাদের ব্যাপক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে আমরা দুজন দুজনের গলায় ঝুলে পড়লেই পারি।
শুনেছিলাম বিয়ে নাকি ভালোবাসা, বোঝাপড়া, বিশ্বাস, আস্থা, দায়িত্বশীলতা... এসবের কারণেই সফল হয়। আমাদের কোনও কিছুর-ই অভাব ছিল না, এই ভেবেই বিয়েটা করতে সম্মতি দিয়েছিলাম। বন্ধু হিসেবে তো কম ভালবাসতাম না একে অপরকে!! আর বাকি জিনিসগুলো তো সব সম্পর্কেই দরকার। আমাদের বন্ধুত্বতেও ছিল নিখাদ সম্পর্কের অটুট বাঁধন। তাই ভেবেছিলাম অন্যদের তুলনায় সবকিছু হয়তো অনেক সহজ-ই হবে আমাদের জন্য।
ভালোবাসার অর্থ বুঝে আমরা বিয়ে করিনি, তাই জীবনে প্রথমবারের মতো যখন মধ্যরাতে আমরা দুজন মুখোমুখি হলাম,লজ্জায় লাল হবার বদলে আমি তখন খুশিতে বাকবাকুম। সারারাত গল্প করা যাবে...আনন্দ তাই আমাদের আর ধরে না। এবং এখন থেকে প্রতি রাতে আমরা চুটিয়ে আড্ডা দিতে পারবো... এটা ভেবে আরও পুলকিত হয়ে গেলাম!!
কিন্তু নদীর প্রতিটা স্রোত তো প্রতিদিন একইভাবে বয় না। আমার আনন্দের দিনগুলো কেমন বিষাদে বদলে যেতে থাকে। আরেক অদ্ভুত জাদুর খেলায় কেমন যেন ওলট পালট হয়ে যেতে থাকে আমার দিনরাত্রি। সকালবেলাটায় আমায় তুলে না দিয়ে ও অফিস চলে গেলে ভীষণ কষ্ট পাই এখন। সারাটা দিন ওর কথা ভেবে আনমনা হয়ে থাকি। ওকে না দেখার যন্ত্রণাটা কুড়ে কুড়ে খায়...অফিসের সব কাজে গোলমাল করে ফেলি বারবার। দুপুরে ওকে ফোন করে যেদিন শুনতে পাই ও লাঞ্চ করে নি, সেদিন আমার আর খাওয়া হয় না। আমার অদ্ভুতুড়ে পাগলামি, রাত-বিরাতে আইসক্রিম খেতে যাওয়া নিয়ে তুমুল উত্তেজনার মুহূর্তে ও যখন এক চিলতে হাসি দেয়,আমার তখন মনে হয় আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই বিধাতার কাছে!!! আস্তে আস্তে আবিষ্কার করি... আমার ভেতরের দস্যি মেয়েটাও ভালবাসতে জানে!!! কি অপার্থিব একটা ব্যাপার!!! আমি ভেবে ভেবে অভিভূত হই...... আর এই নিয়েও সন্দেহে থাকি... আচ্ছা, আমার মতো করে ও-ও কি ডুবে যাচ্ছে ভালোবাসার নদীতে?? এই ভাবনায় আমি দিনকে রাত করি, রাতকে দিন। আশ্চর্য হই...এত দিনের চেনা মানুষটার মন আজকে কেন আমি বুঝতে পারছি না??? কেন এত্ত অচেনা লাগছে আজ ওকে?? আমি কি বদলেছি? নাকি ও? আজকাল রাগও হয় ভীষণ ওর উপর... হয়তো সামান্য কোনও কারণেই প্রচণ্ড রেগে যাই ওর উপর... আরও আশ্চর্য হই... আচ্ছা ওকে তো আমি ভালবাসি...তবে কেন এত্ত রাগ?? এই পাজী ছেলেটাও এখন আর পেস্ট্রি এনে আমার মান ভাঙায় না। তখন আরও কষ্ট লাগে... কেন ও এমন করে?? কেন?? এই মান-অভিমানের গোলকধাঁধায় দুই bestie-র সম্পর্কের তারটাও একটু ঢিলে ঢিলে লাগে ইদানীং!!! আগের মতো hang out তো দূরের কথা, দু-দন্ড শান্তিতে বসে দুটো ভালো কথা-ও বলা হয় না!! কেমন একটা সংকোচ, অদ্ভুত টানাপড়েন। সত্যিই কি আমরা দূরে সরে যাচ্ছি একে অপরের থেকে?? কথা বলতে গেলেই রাগারাগি,গোলমাল... আজকেই যেমন খুবই তুচ্ছ বিষয়ে ঝামেলা লেগে গেলো আমাদের...আর ও হুট করে উঠে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে গেলো। কোথায় গেলো, কেন গেলো... কিছুই বলল না। ছুটির দিন, কোথায় দুজন একটু একসাথে সময় কাটাবো বহুদিন পর...কিছুই হল না। ভেবেছিলাম আজকেই বলে দেবো... "ভালবাসি...অনেক বেশি..তুমি আমাকে বাসো, নাইবা বাসো"
সব প্ল্যানে ছাই ঢাললাম বসে...কিছুই হবে না। আমার আর কিছুই বলা হবে না। সারাজীবন হয়তো এইভাবেই অশান্তিতে কেটে যাবে... ওকে বিয়ে করে কি ভুল করে ফেললাম?? বন্ধু কি জীবনসঙ্গী হতে পারে না?? আগডুম বাগডুম ভাবতে ভাবতে আনমনে বাইরে চলে এলাম হাঁটতে হাঁটতে। কে যেন টেনে ধরল আমার হাতখানা...খুব চেনা কোনও ভঙ্গিতে। আমি চমকে উঠি...ও ছাড়া তো আর কেউ এমনি করে আমার হাত পাকড়াও করে না!! ঘুরে তাকাতেই দেখি ওর হাতে এক বক্স পেস্ট্রি... আমি নিশ্চিত ওগুলো আমার পছন্দের ফ্লেভারের। বক্সের ওপরেই এক গাদা রজনীগন্ধা,আমার প্রিয় ফুল। আমাকে অবাক হবার সুযোগটুকুও ও দিল না, রি রি করে টানতে টানতে নিয়ে গেলো বাড়ির ছাদে। এলোমেলো ভঙ্গিতে হাতের সবগুলো জিনিস পাশে রেখে অন্য দিকে তাকিয়ে বলল..."এই নে, এগুলা তোর" আমার মাথায় আবার ওকে জ্বালানোর ঘোর শয়তানি চাপল!! "তুমি আমার দিকে তাকাতে লজ্জা পাচ্ছো কেন??? আগে তো পাইতা না, এখন কেন পাও?? নিজের বউয়ের দিকে তাকাতে মানুষ লজ্জা পায়?? বেকুব!!"-আমার এ মহান উক্তিতে বেচারা কেঁদেই ফেলে প্রায়। নেহাত ছেলেমানুষ, তাই কাঁদতে পারে না।
-"আগে তো বউ ছিলি না,এখন হইসিস, তাই লজ্জা লাগে।"
-"আগে তো অনেক কিছুই ছিলাম না,কিন্তু এটা কোন দেশী ম্যানার?? নিজের বউ কে তুই তুই করো!! ছিঃ! সভ্য হও বুঝসো?? ভালো হইতে পয়সা লাগে না।"
-"স্যরি... বারবার ভাবি তোমাকে এখন থেকে তুমি করে বলবো...তবু তোমার সামনে আসলে কি জানি হয়...তুমি এত্ত সুন্দর,আমি খালি লস্ট হয়ে যাই!! "
-"হি হি হি হি হি... আমি সুন্দর এটা তুমি এত দিনে জানলা?? চারটা বছর একসাথে ছিলাম, তখন বুঝো নাই??"
-'উহু...অত কি আর দেখসি খেয়াল করে? আমি কি আর জানতাম তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে?? তাইলে তো সারাদিন হাঁ করেই চেয়ে থাকতাম!!"
-"প্রেম দেখি উপচায় পড়ে!! হুহ!!"
-"আমার তো পড়েই... তোমারি না পড়ে না!!!!!এখন শুধু বউ বলেই কি এত্ত রাগ দেখানো লাগবে?? দূরে গিয়ে বসে থাকা লাগবে??"
-"রাগ লাগে তাই দেখাই। কেন বল না ভালবাসো?? সবসময় তো তোমার সব কথা শেয়ার করসো আমার সাথে...এখন কি এত্তই পর হয়ে গেলাম যে লাইফের এত সুন্দর সত্যিটা আমাকে বলা যায় না??? "
-"আমি তো বলতাম-ই...শুধু অপেক্ষায় ছিলাম আজকের বিকেলটার মতো একটা মুহূর্তের...যে মুহূর্তটা............"
আমি আর ওকে কথা বলার সুযোগ দেই না...মুখটা চেপে ধরি। এখন আর কথা বলা মানায় না...এখন সময় শুধুই ভালোবাসায় ডুবে থাকার..............................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now