বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মিথিলার বয়ফ্রেন্ডের সাথে তোলা ছবিতে আমি
কিছুক্ষন আগে যখন মন্তব্য করলাম “তোমাদের
খুব মানিয়েছে” তার কয়েক মিনিট পরেই আমার
মন্তব্যের রিপ্লে দিয়েছে “আমাদের জন্য
দোয়া করবে কেমন?” আমার আর কিছু লিখতে
ইচ্ছে করে না। নিজের ভালোবাসার মানুষটা এই
শহরের বিষণ্ন ধুলোয় আমায় ছেড়ে যখন নতুন
গল্প লিখতে শুরু করে তখন আমার শহরটা ঝিম
মেরে যায়। এসব মনে করতেই আমার ভিতরটা
মোচড় দিয়ে ওঠে। সন্ধ্যার আলোর মাঝে
দেয়ালের সাথে পিঠ লাগিয়ে চুপ করে গুটি মেরে
বসে থাকি। খানিকবাদে আলোটা নিভিয়ে দেই।
সন্ধ্যার আলোটা জানালায় বেদ করে আমার
দেয়ালে ছড়িয়ে যায়। দেয়ালে ছড়িয়ে পড়া
আলোর মাঝে আমার ছায়াটাকে স্পর্শ করতে
ইচ্ছে করে। কিন্তু কেন যেন আমি পারি না। আমি
অনুধাবন করি আসলেই মিথিলা কি আমার ছিল?
.
বিছানার উপরে রাখা ফোনটা এই নিয়ে কয়েকবার
বেজেই চলেছে। সেদিকে আমার একেবারেই
খেয়াল নেই। মাঝে মাঝে জানালার বাহিরে
আকাশের দিকে তাকিয়ে আমার স্বপ্ন দেখতে
ইচ্ছে করে। কিন্তু কখনোই আমার স্বপ্ন দেখা
হয় না। ফোনটা আবার বাজতে শুরু করে। আমি
আস্তে আস্তে গিয়ে অচেতন মনে ফোনটা
রিসিভ করে চুপ করে থাকি। ওপাশ থেকেও কোন
সাড়া শব্দ আসে না। একটু একটু করে নিশ্বাসের
শব্দ শুনতে পেলাম। নিশ্বাসের শব্দ শুনে বুঝতে
পেরে আমার ভিতরটা আবার ধক করে ওঠে। আমি
তাকে বললাম “কিছু বলবে?” সে তারপরও চুপ করে
থাকে। আমিও আবার চুপ করে থাকি। যেন চারপাশটা
ঘুমিয়ে গেছে। সে ইতস্তত করে বললো
“কেমন আছো?” শব্দটা শুনেই আমার শরীর
দিয়ে শীতল কিছু একটা বয়ে যায়। চোখ দিয়ে
জল গড়িয়ে পড়ে। আমার নিশব্দ কান্না তাকে শুনতে
দেই না। চোখের জল মুছে তাকে বললাম
“ভালো আছি। আমি মানুষটা সব সময় ভালো থাকি।” সে
বলে “অনেক অভিমান নিয়ে কথা বলছো। আমার
কথা কি তোমার মনে পড়ে?” আমি কি বলবো
বুঝতে পারি না। আমার মনে পড়ে সে দিন গুলোর
কথা । আমি চুপ করে সে দিন গুলোর
ভালোবাসাকে অনুভব করি। একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে
বললাম “অভিমান এই জিনিসটা আমার ভিতরে কাজ করে
না। মা বাবার কথা মনে পড়ে। ছোট ভাইটার কথা মনে
পড়ে। ছোট ভাইটা দু দিন হলো চিঠি লিখেছে।
আমি এখনও খুলে দেখিনি। কতদিন হলো আমার
শহরে যাওয়া হয় না। তাদের দেখি না।” সে চুপ করে
থাকে। কি বলবে হয়তো ভেবে পাচ্ছে না বা আর
কি বলা যায় তা হয়তো গুছিয়ে নিচ্ছে। আমি তার চুপ
থাকা শুনে বললাম “বেদনার রং নীল হয় কেন?
নীল রংটা আমার পছন্দের না। শেষ বিকেলের গাঢ়
নীল রংটাকে আকাশের মেঘ গুলো যখন
ঢেকে দেয় তখন আমার মাঝে এক বিষণ্নতা ছুয়ে
যায়। যে রংকে অন্য রং আড়াল করতে পারে সে রং
কে আমার পছন্দ হয়না।” আমার এই কথা শুনে সে
বলে “তুমি অনেক সুন্দর করে কথা বলতে
পারো। জানো তুমি মানুষটা খুব ভালো। একটা কাজ
করতে পারবে? জানি কাজটা খুব কঠিন। আমি চাই কাজটা
তুমি করো।” আমি জানালার কাছে যাই। সন্ধ্যার
আকাশটাকে দেখি। তাকে বললাম “কি কাজ” সে
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলে “আমাকে
বন্ধুত্তের তালিকা থেকে মুছে দাও। আমি চাই না
তোমার কষ্ট হোক। এই যে আমার ছবিতে তুমি
দিনের পর দিন মন্তব্য করে যাচ্ছো আমি জানি
এতে তুমি কষ্ট পাও।আর তোমার মন্তব্যের
ব্যাপারটা সাদমান পছন্দ করে না।” আমি চুপ করে থাকি।
আকাশের কালো আবছায়া ছড়িয়ে পড়ার সময়টাকে
আমার কেন যেন খুব বেমানান লাগে। একবার
বলতে চেয়েছিলাম জীবন থেকেই তো সরে
গেলাম আর এই টুকু কাজ করতে পারবো না? কিন্তু
এটা আমি না বলে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললাম “আচ্ছা
ঠিক আছে।” তারপর সে বললো “আমি তোমায়
আর ফোন দিব না কেমন? অনেক ভালো
থেকো।” আমি আচ্ছা রাখি বলে ফোনটা রেখে
দিয়ে আবার কান্না করতে থাকি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now