বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন মায়াবতী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Jasim uddin Shuvo (০ পয়েন্ট)

X প্রথম অংশ ভোরের কাঙ্ক্ষিত সূর্যের আগমন বার্তা সবাইকে জানিয়ে দেয়, ওহে মানব জাতি তোমরা উঠো কর্ম ক্ষেত্রে যাও, তোমাদের বিশ্রামের সময় শেষ! এর দ্বারাবাহিকতায় ভোরের পাখির দল কিচিমিচি শব্দে উড়াল দেয় অজানা উদ্দেশ্যে, মানুষ সকালের দৈনন্দিন কাজ গুলো করে বেড়িয়ে পড়ে কর্মক্ষেত্রে। শুধু একটি মানুষ এ রুটিনের সম্পর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী! মানুষটি সকালে বাসায় ফিরে প্রায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্রাম নিবে! মানুষটির পাশের মানুষজন ছাড়া অন্য সবাই কর্মকান্ড দেখলে ভাববে মানুষটি হয়তো রাত জেগে কাজ করে বিধায় দিনভর ঘুমিয়ে বিশ্রাম নেয়! মানুষটির অবশ্য নাম আছে, বার বার মানুষ বলে ঘোষিত করলে কেমন জানি বিদঘুটে দেখায়! হুম এই সেই শুভ্র যে কিনা রাতের আঁধারকে সবচেয়ে কাছের মনে করে তাকে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে! রাতের জোনাকির আলো খোঁজে, আকাশের শত সহস্র তারা গুনে, ঝিঁঝিঁ পোকার সাথে সুর মিলিয়ে অজানা কোন সুরের প্রতিবিম্ব তৈরি করে, কি উদ্ভুট কর্মকান্ড! কি উদ্ভুট চলাফেরা! গ্রাম্য মানুষগুলো সত্যিই খুব শিক্ষিত কারণ তারা অল্পতেই সবকিছু বুঝে ফেলে! উদাহরণ সরুপ এইতো,শুভ্রের এক বন্ধু একদল লোকজনের মাঝে শুভ্রের এরকম আচরণ সমন্ধে মজা করে বলছে,, শুভ্রের মাথার একটি নিয়ন্ত্রণ তার ছিঁড়ে গেছে সেজন্য শুভ্র এরকম হয়ে গেছে। তারপর থেকে গ্রামের লোকজনের মুখে একটাই হতাশার বাণী, কেন মাথার তারটা ছিঁড়ে গেল! তারটা কি আর জোড়া লাগানো যাবে না?? . সকাল ১১টা টেবিলের উপর পড়ে থাকা ফোনটা ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছে আর ওদিকে শুভ্র দৈনন্দিন রুটিনের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আছে মানে ঘুমের জগৎতে পাড়ি জমিয়েছে! বজ্জাত ফোনটা তবু অবিরত ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছে! কি বিরক্তিকর! এজন্যই শুভ্র ফোনকে একদম সহ্য করতে পারে না কিন্ত বন্ধু উপহার দিয়েছে বলে হেলায় ফেলেও দিতে পারে না। শুভ্র একজনের কথা কখনো ফেলে দিতে পারে না আর সেই মানুষটি হচ্ছে অভ্র,শুভ্রের বন্ধু! অভ্র পাশের এলাকার থাকলেও সর্বদা শুভ্রের খোঁজ ঠিক-ই রাখে। --কেমন আছিস? (অভ্র) --মনে হয় অনেকদিন পর দেখা হচ্ছে আর সেজন্য বলতেই হবে কেমন আছিস! দু- একদিন পর পর-ই তোর সাথে দেখা হয়। (শুভ্র) --তুই সবচেয়ে কাছের মানুষ, তোর সাথে যদি এক মূহুত্ব পর আবার দেখা হবে তখনও ঠিক কেমন আছিস বাক্যটা বের হবেই! যাইহহোক গতকাল থেকে তোর ফোনে কল ঢুকছে না কেন? --জেনেও আমাকে জিজ্ঞেস করছিস কেন? --অভ্যাসটা একটু পরিবর্তন কর দয়া করে। এক মাসেরম মাত্র একবার দশটা টাকা  ফেক্সিলোড দিয়ে ফোনটা সচল রাখলে কি খুব অসুবিধা হয় তোর? --ফোনটা আমার না তোর বুঝলি? তোর ফোন তুই সচল রাখবি কি বন্ধ রাখবি তোর ব্যপার আমার কি? তোকে কথা দিয়েছি তোর দেওয়া ফোন আমার সাথে রাখবো ব্যাস একটুকুই! --এপর্যন্ত ফোনে কত টাকা জমলো দেখতো? --কি জানি তুই দেখে বল। --৩৫৯ টাকা! (অভ্র ফোনের ব্যালেন্স দেখে বললো) --একবার ফেক্সিলোড ওয়ালা ২০ টাকার বদলে ১৯ টাকা দিয়েছিলো সেজন্য হয়তো ৩৬০ এর বদলে৩৫৯ আছে আর এতেই কি ঝগড়া বাঁধিয়েছিলি তুই ঐ লোকটার সাথে! --আচ্ছা তুই কি এ টাকাগুলো খরচ করবি না কখনো! আজ দীর্ঘ দু-বছর এগার মাস ধরে জমতেই আছে! তুইতো আমাকেও কল দিয়ে টাকাগুলো শেষ করতে পারিস তাই না? --তোর সাথে কথা তো হয়- ই ফোনে আর কি বলবো? তাছাড়া যাদের সাথে আমার নিয়মিত কথা বলার দরকার তাদের সাথে নিয়মিত কথা কথা হয় তবে ফোনের টাকাগুলো শেষ করার কি দরকার! --কাদের সাথে নিয়মিত কথা বলার দরকার তোর আমায় বাদে শুনি? --ঐ তো রাতের আঁধারে একদল জোনাকি, দক্ষিণা পাগল করা হাওয়া,ঝিঁঝিঁ পোকার দল, জোৎস্না ভরা আকাশটা, অসহায় ঐ মেঠোপথ সাথে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে সুউচ্চ ডুমুর গাছটা এদের সাথে নিয়মিত কথা হয় নিরবার্কহীনতার সাথে। --ছাড় তো তোর উদ্ভট কথা বার্তা! আচ্ছা শুভ্র তোর ভয় করে না একা একা গভীর রাতে নির্জন জায়গায় সময় কাঁটাতে? --ভয় পাবে কেন! তারাই তো আমাকে কাছে ডেকে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকে। --একটা কথা রাখবি? --বাবা-মা চলে যাওয়ার পর একমাত্র তোর কথা ছাড়া আর কারো কথা রাখতে পারিনি বা রাখতে চেষ্টা করিনি কারণ তোকেই এখন সবচেয়ে কাছের মনে হয়। জানিস সেদিন মা মারা গেল তার অন্তিম মূহুত্বে বললো তোর বাবার কথা মানিস আর বাবা যেদিন চলে যাবে তার অন্তিম মূহুত্বে তোর কথা মানতে বললো! এবার বল তোর কথা ফেলতে পারবো? --সত্যি রাখবি? --রাখতে পারলে অবশ্যই রাখবো আর যদি বিদঘুটে কোন ক্থা রাখতে বলিস তাহলে কিভাবে রাখবো! --আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে এটা জানিস? তো আজকেই আমার সাখে চল না আমার বাসায়। --মাখা খারাপ হইছে নাকি তোর! মুক্ত আকাশের পাখি হয়ে কিভাবে ঐ বন্ধি খাঁচায় এতোগুলো দিন পার করবো বলে দে? --জানি তুই রাখবি না সেজন্যই বলতে চাইছিলাম না। আচ্ছা শুভ্র তোর কাছে এটাই আমার শেষ চাওয়া ফেলে দিস না। কথা দিচ্ছি আমার বাসায় কেউ তোরে বন্ধি করে রাখবে না! তোর যখন  যেখানে খুশি যাবি কেউ বাঁধা দিবে না। --কথা দিচ্ছিস তো? --হুম কথা দিলাম। --ঠিক আছে যাবো তবে আজ না কাল দুপুরে। --ধন্যবাদ বন্ধু! . রাতটা বেশ গভীর। প্রতিদিনের ন্যায় আজও পরিচিত নির্জন জায়গায় শুভ্র বসে বসে আকাশের তারা গুনার নিচ্ছুক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে! ডুমুর গাছটার মগ ডালে বাঁদুড়টা ডানা ঝাপটে কি সংকেত দিচ্ছে শুভ্র তা এই মূহুত্বে বুঝতে পারছে না! কেন জানি শুভ্রের ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে আজ তবে এ মাথা ব্যাথার ঔষুধ শুভ্রের বেশ ভালো ভাবেই জানা আছে, উদ্ভট চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিতে পারলেই হলো মাথা ব্যাথা পালানোর পথ খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পরবে নিমিষে! কিন্ত কেন জানি কোন উদ্ভট চিন্তা মাথায় আসছেই না! তবে কি মাথা ব্যাথা জেঁকে বসে থাকবে? পরক্ষণেই মনে পড়রো হুমায়ুন আহমেদ  এর মিসির আলী চরিত্রের কথা। মিসির আলীর মাথা ব্যাথা করলেই টিয়া পাখি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো! উরন্ত অবস্থায় টিয়া পাখির রং কালো দেখায় কেন? সত্যিই তো আকাশে উরন্ত অবস্থায় টিয়া পাখির রং কালো দেখায় কেন? সত্যি ভাবনার বিষয়!!! ফজরের আযানের সুর কানে এসে জানান দিলো, শুভ্র তোমার ফেরার সময় হয়ে গেছে! শুভ্র ভাবতে লাগলো, একি উরন্ত অবস্থায় টিয়া পাখির রং কালো দেখায় কেন এতটুকু ভাবতে ভাবতেই রাত শেষ হয়ে গেল! কিন্ত কেন কালো দেখায় সেটাই তো জানতে পারলাম না। থাক অন্যসময় দেখা যাবে....... চলবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now