বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সোনার খনির খুব কাছে গিয়ে বসে থাকে রোজ
স্বর্ণজ্বরে ভোগা রোগামতো একটি মানুষ- মাসুদ খান
নিজেও জানি না নিজের জীবনের মানে। ভাবি দৈনন্দিন যাপনের যে অংশটুকু অপ্রকাশ্য, অপ্রকাশিত কিংবা যেটুকু আমি বলতে পারি না, পারছি না, কিংবা পারা যায় না, সেই অংশটুকুই কি প্রকৃত আমি? আমার জীবন যাপনের যেটুকু মানুষ দেখতে পায়, শুনতে পায়, বুঝতে পারে, যেটুকুর বস্তুগত মূল্য আছে, সেটুকু প্রকৃত আমি না। প্রকৃত আমি কি তাহলে অপ্রকাশ্য, অপ্রকাশিত, গোপন আর খুব কোমল অথবা খুব ধারালো?
যুগের পর যুগ মানুষকে আমরা দৃশ্যমান আচরণ দিয়ে বিবেচনা করে আসছি। খুব ভুল সেই বিবেচনা। খুব ভুল সে বিচার পরিক্রমা। দেখা দৃশ্য মিথ্যে দৃশ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। যে দৃশ্য আমি দেখছি না সেই দৃশ্যই সত্য তবে? সেই দৃশ্যই কি কবিতা তবে? নাকি নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে অবোধ স্রোতহীনতা দেখে দেখে দূরের কোনো ঢেউয়ের অপেক্ষাই কবিতা? কবিতা কী? কেন কবিতা লিখি এসব জিজ্ঞাসা তো আছেই, তারও বেশি আছে কবিতা না লেখার আর্তনাদ। শোপেনহাওয়ার বলেছিলেন ‘বিশ্ব আমার ধারণা’। হৃদয় নিঃসৃত শব্দের অস্তিত্বে কবিতাও আমার কাছে একটা ধারণা মাত্র।
প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের ইশারায় যার ছায়া আঁকি এবং ছায়াতেই যার অস্তিত্ব অনুভব করি, সে তো আমার অনাগত শব্দরাজি।
মীমাংসিত প্রশ্নের অনেক অমীমাংসিত উত্তর যেমন থাকে তেমনি বলে ফেলা কথার অনেক না বলা আকুতিও থাকে। হৃদয় আকাশে সেই আকুতি ভাসে, যেন ধীরলয় মেঘের জ্যামিতি। আমাদের মিথ্যে আবেগ সেই সব না বলা আকুতি ফেরি করে মগজে মগজে। কবিতা, গানে যে আমাদের এত সব প্রগলভ শব্দ, তাদের উৎস মুখ তাহলে কী? আমি করি সেই সুড়ঙ্গেরও সন্ধান।
সবাই লিখে চলেছি যে যার জায়গা থেকে। কেউ হয়তো আত্মজীবনের এইসব বিচ্ছিন্ন লেখা সংকলিত করছে নিজের মতো করে। প্রকাশও হয়তো হচ্ছে মেঘের দেশে, আকাশে আকাশে নানা ভাষায়, ভিন্ন অনুবাদে।
আত্মজীবনের এই ধোয়ায় কালো হয়ে আসে আকাশ। অস্বাভাবিক একটা ঘোরের মধ্যে দিনকে করে রাত। এই ঘোর আমাকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখায়। এই ঘোর আমাকে দুঃস্বপ্নের রঙ শেখায়। ঘোরের ঘর রঙিন করতে গিয়ে দেখি সম্পর্কের দেয়াল থেকে প্রিয় রঙগুলো গলে গলে মাটিতে পড়ছে আর রঙগুলো যখন মাথা উঁচু করে আমাকে বলে-এবার মুখস্থ করো পৃথিবীর ফাঁদে পড়া মানুষের জীবন। আমি তখন পথের পাশে দাঁড়িয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষের পা গুণি। কোত্থেকে যেন একটা তুমুল হাহাকার একদম বুকের পাঁজর বরাবর ধাক্কা মারে। বসতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। অন্ধকারে এলোমেলো হাঁটি আর ঠিক বুঝতে পারি-খেলনা না পাওয়া শিশুর মতো কান্না ছলকে উঠছে ঠোঁটের কোনায়। চোখের জল মাটিতে পড়তে চায়। আমি মুঠোয় ধরে ফেলি তার পতন। অনুভব করি হাতের তালুয় আগুনের ছোপ ছোপ চিহ্ন।
মেঘ হয়ে আকাশে উড়ে যেতে পারি না, মানুষের মাঝেই আমার ঠিকানা, দাঁড়াবোই দাঁড়াবোই দাঁড়াতে পারি না। মানুষের মাঝে আমার ঠিকানা-কাজী বর্ণাঢ্য
বসুন্ধরা আবাসিকের একদম মাথার ওপর উড়োজাহাজের পথ। প্রতিদিনই উড়োজাহাজের আসা যাওয়া দেখি। দূর বিদেশে যেতে ইচ্ছে করে। যেতে যেতে আকাশ থেকে পৃথিবী দেখতে ইচ্ছে হয়। যাওয়া হয় না। দেখা হয় না। ইচ্ছেকে পকেটে নিয়ে ঘরে ফিরি। পকেট থেকে মানিব্যাগ খুলে রাখার সময় ইচ্ছেটাকেও খুলে রাখি টেবিলে। ইচ্ছেটা কাজের মাঝখানে লাফ দিয়ে ওঠে। এভাবে কতদিন? একদিন হয়তো সত্যি সত্যি আমি আকাশ থেকে পৃথিবী দেখবো, যেমন ডানা ভাঙা পাখি তার সবচেয়ে প্রিয় স্বপ্ন থেকে দেখে আকাশ থেকে আকাশে তার অশেষ উড়াল।
এই নগরে, দেখতে খুব চেনা আর খুব জানা মনে হলেও খুব অচেনা কিংবা অজানা মানুষদেরকে সঙ্গে নিয়ে দিন পার করি। আমি চিনতে পারি না কাউকে। কেউ চিনতে পারে না আমায়। সবাই বন্ধুর মতো। সবাই শত্রুর মতোও। কেউ কারও জন্য নয়। অথচ সবাই সবার জন্য এই মুখোশ পরে আছে। প্রতিদিন সংলগ্ন মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলি। কেউ শুনতে পায় না, আমি ছাড়া। বস্তুবাদ আমাকে একটা সান্ত¦নার জায়গা দেয়। বলে বস্তুবাদী চিন্তার বাইরে এসে কিছু আশা করো না। হিসেব মিলবে না। আমারও মেলে না। বারবার দুয়ে দুয়ে চার হয়ে যায়।
নগরে বস্তুবাদী ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারে না। তুমি যদি তার পাশে বসতে চাও তোমাকেও একটা বস্তুবাদী ক্যালকুটের মনে নিয়ে বসতে হবে। কেননা, এখানে সবকিছুর ঊর্ধ্বে পার্থিব চিন্তা বা স্বার্থকেই সবার আগে প্রাধান্য দেয় মানুষ। আদর্শবাদের মতো বিষয় এখানে নগণ্য এবং অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে যথাস্থানে রেখে প্রফিট ম্যাক্সিমাইজ করতে চাওয়ার এই জটিল সমীকরণে পড়ে নিজে কেমন ভ্যাবাচেকা হয়ে যাই, ঠকে যাই, কিন্তু ভাঙি না। ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার অনুমতি পাই না। অপেক্ষা করি। যেন কেউ একদিন হাতে ধরিয়ে দেবে ঘরে ফেরার প্রিয় বিদীর্ণ পথ। শেষ হবে এই জটিল রথের পালা। আর আমি পেয়ে যাব আবারও বাঁশি, আবারও নদী, কোনো মুদ্রায় না বিকোনো, আমার রাখাল জীবন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now