বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিয়তি
.
সন্ধার আধাঁর ঘনিয়ে এলো গ্রামের লোকজন ঘরে লুকিয়ে পড়লো, এটা
কোন প্রবাদ নয়! এটা পানি চক্রের ন্যায় গ্রামের কর্মক্ষণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনচক্র! ভোরের আলো ফুটতেই তারা কর্মের খোঁজে বেড়িয়ে পড়ে কিংবা নিজ চাষের জমিতে সোনার ফসল ফলানোর অপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত
রাখে কিন্ত গোধূলী লগণের শেষ প্রান্তে
সূর্যটা যখন রক্তিম বর্ণ ছেড়ে হালকা গোলাপি বর্ণ হয়ে ডুবে যায় তখন তারা সকল কর্ম ব্যস্ততা ফেলে নিজ
কুটিরে এসে গা এলিয়ে দেয়।
শুধু কর্মক্ষণ মানুষগুলো যে সন্ধার পর
নিজ নীড়ে ফিরে তা নয় পাখিরা দল
বেঁধে কিচিমিচি শব্দে পরিকান্ত সময়টা
ভুলতে ছুটে চলে তীব্র গতিতে তার
স্বপ্নের খরকুটো দিয়ে বুনানো নীড়ে।
ছেলেগুলো এদিক ওদিক ঘুরাফেরা
না করে ছুটে চলে তার পড়ার টেবিলে
কারণ তার স্বপ্ন বড় হয়ে মা- বাবার কষ্ট
মুছে দিবে এজন্য তাকে লেখাপড়া করতেই হবে।
শুধু বিপরীতমুখী শুভ নিজে! অন্ধকারটাই খুব করে শুভকে কাছে টানে তাই তো ছুটে চলে যায় তার ডাকে সাড়া দিয়ে। আকাশটা শূন্য! নেই কোন পাখির আর্তনাত, নেই কোন রোদ্রময়
উজ্জ্বল দীপ্তিময় আলো!
রাস্তাটাও পথচারীর শূন্যতায় ভীষণ
একা ধূ ধূ প্রান্তর। কিন্ত শুভ একা
নয় তার সাথে আছে সুবিশাল আকাশ, মেঠো ক্লান্তিময় রাস্তা
তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকা সাঁড়ি সাঁড়ি
গাছপালা! আরো আছে রাতের প্রহরী
ঝিঁঝিঁ পোকা! তাহলে কে বলবে শুভ
একা, কে বলবে ?
.
রাতের আকাশটা দেখতে অনেক মায়াবী দেখায়, যে তার সব রুপ সৌন্দর্য রাতের আঁধারেই বেশি প্রকাশ পায় যদিও আকাশটা সব সময়-ই সুন্দর। আসলে যেটা মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকে সেই জিনিজগুলোই প্রকৃতপক্ষে বেশি সৌন্দর্যের অধিকারী হয়!
জোৎস্নাগুলো মিটিমিটি জ্বলে আর
বলে, আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হও ঠিক আছে কিন্ত আমাকে কখনো ধরতে এসো না শুধু অনুভুতির মাধ্যমে
জেনে নাও আমি আছি রাত্রিতে নিঃস্ব
একাকি তোমার সঙ্গী হিসাবে।
.
ফোনটা বুক পকেটে বার বার ঝাঁকুনি
দিয়ে জানান দিচ্ছে, শুভ তোমায় কেউ
মনে করছে। সহরাচর এই সময়টা রুপাই ফোন কিংবা ম্যাসেসের মাধ্যমে বিরক্ত করে। চঞ্চল দুষ্ট টাইপের মেয়েটার গলা আজ যেন অনেক ভারী মনে হ্চ্ছে! মেয়েটা শুভকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে, যেমন শিশির ফোঁটা ছোট সবুজ কোমল ঘাসকে ভালোবেসে তার
গায়ে আঁছড়ে পড়ে, তৃণলতা কোন
বৃক্ষকে ভালোবেসে তাকে জড়িয়ে
কাছে পেতে চায়, ঝিঁঝিঁ পোকারা রাতের অন্ধকারকে ভালোবেসে
অন্ধকারকে জড়িয়ে ভালোবাসার গান
করে, এ গানের অর্থগত ভাব কেউ
বুঝতে না পারলেও রাতের অন্ধকার ঠিক-ই বুঝতে পারে, তাইতো নিরব থেকে গানের প্রতিটি সুরের বার্তা শ্রবণ করে!
রুপা গম্ভীর গলায় বললো..
-- কেমন আছো?
-- সব সময়ে যেভাবে থাকি।
--আজ অন্তত ভালো করে কথা বলো।
-- আমি কি সব সময় অস্বাভাবিকভাবে
কথা বলি?
--তুমি নিজেই ভালো জানো। কোথায় আছো এখন?
-- এসময় যেখানে থাকি।
--আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই
এখন।
--কাল তোমার বিয়ে তাই এখন এতো রাত্রিতে না বের হওয়াই ভালো।
-- শেষ একবারের মতো তোমার হাতের আলতো ছোঁয়া পেতে চাই।
কোনদিন কিছু চাইনি তোমার কাছে,
মনে কর এটাই তোমার কাছ থেকে পাওয়া শেষ এবং আমার জন্য সর্ববৃহৎ উপহার
--তুমি কি চাও আমি এখান থেকে চলে যাই দুরে বহু দুরে?
--........
--তুমি এসো তবে আজ না এবং একা নয়,কোন এক জোৎস্নাভরা রাতে তোমার স্বামীর হাত
ধরে।সেদিন আমি তোমার পাশে না থাকলেও তোমার পাশে থাকবে তোমার বিত্তবান স্বামী আর আমার রেখে যাওয়া রাস্তার ধারে সাঁড়ি সাঁড়ি
গাছপালা, জনমানবহীন শূন্য ধূ ধূ রাস্তার প্রান্তর,ঝিঁঝিঁ পোকার সুমধুর
গান সাথে সুবিশাল জোৎস্নাভরা আকাশ, আমার অনুপস্থিতি টের-ই
পেতে দিবে তোমায় সেদিন দেখে নিও।
---আরো কিছু বলবে?
--সব সময় ভালো থাকো, সবাইকে নিয়ে ভালো থাকো। কখনো একা ভাববে না,।মনে রেখো তোমার সাথে তোমার পরিবার আছে, যারা কিনা সব সময়
তোমার কথা ভাবে।
--তুমি ভাব না??
-- এটা এখন অবান্তর প্রশ্ন।
-- আমি যাই তবে একটা কথা মনে রেখে দিয়ো, কেউ তোমায় মনের গভীর
থেকে ভালোবেসেছিলো আর আজীবন
ভালোবেসে যাবে। মন মন্দিরে শুধু
একজনের নামটাই আঁকা থাকবে..
---আচ্ছা ভালো থাকো। পরিবেশ আমায় ডাকছে খুব করে ডাকছে।
ওরা যদি আমায় ছেড়ে চলে যায় তবে
বেঁচে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়বে।
-- মন মন্দিরে কার নাম লেখা থাকবে
জানবে চাইবে না??
--না। শেষবারের জন্য আমি আগে তোমায় শুভ্র রাত্রি জানালাম।
ভালো থাকো.....
.
টুন টুন টুন ফোনটা কেটে গেল না রুপা কেটে দিল সেদিকে শুভর কোন ভ্রু ক্ষেপ নেই, শুভ ও রুপাকে এখন ফোন দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করলো না কারণ শুভ জানে রুপা এখন কাঁদবে, অশ্রুজলে ভাসবে।
কাঁদুক অনেকদিন যাবৎ মেয়েটা কাঁদে না, কাঁদলে নাকি যন্ত্রণাগুলোর কার্যক্ষমতা কমে আসে এবং একসময় মানুষকে আর তার বশে আনতে ব্যর্থ হয়!আমি তাকে আর কিছু বলবো না,
ঘৃণা জন্মাক আমার প্রতি, আমার ভালোবাসার প্রতি তারপর ও বলবো সুখে থাকুক রুপা চিরকাল......
রাতটা গভীর হ্চ্ছে আর সাথে অন্ধকারের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে,
অন্ধকারের সাথে তাল মিলিয়ে শুভও
হারিয়ে যাচ্ছে ধূ ধূ প্রান্তরে!
.
এভাবেই হয়তো পারিবারিক বৈষম্যের
কারণে হারিয়ে যায় প্রকৃত ভালোবাসার
জুটি গুলো। আর হাজারো রুপা চিৎকার করে কাঁদে কিন্ত শুভরা চিৎকার করে কখনোই কাঁদতে পারে না, কারণ শুভরা হয় অসহার ছেলে,
যাদের কিনা চিৎকার করে কাঁদতে
সম্পর্ণ বারণ, তারা কাঁদে লুঁকিয়ে, চার দেওয়ালের ভিতর অন্ধকার রুমে সারা শব্দহীনভাবে, শুধু অশ্রুগুলো পরোক্ষভাবে সাক্ষী থাকে অন্ধকার
সময়ে! তবু রাত শেষে শুভরা আবার আগের মত হয়ে যায় কিন্ত দিন শেষে রাতগুলো নিয়মিত অশ্রুময়-ই থাকে।
নিয়তির কাছে হার মেনে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কাঁটে তাদের প্রতিটি দিনরাত, প্রতিটি মূহুত্ব!
তবু শুভদের একটাই প্রার্থনা, চাওয়া
সুখে থাকুক রুপারা চিরদিন.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now