বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব: ৪
লেখক: অলিভার কুইন ( শুভ)
প্রিয় ঐশী,
প্রথমেই আমি তোমার কাছ থেকে ক্ষমা
চেয়ে নিচ্ছি। কারন, আর কখনো ক্ষমা
চাওয়ার সুযোগ পাব কিনা জানিনা।
তোমাকে যে কথাগুলো বলতে যাচ্ছি তা
মুখে বলার সাহস আমি পায়নি, তাই পত্রের
মাধ্যমে বলতেছি। জানি, তুমি আমাকে
অনেক ভালবাস, অামিও তোমাকে কম
ভালবাসিনা। তোমাকে অনেক স্বপ্ন
দেখিয়েছি, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে
পারলামনা বলে আমি দু:খিত। আসলে
আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখাটা কাউকে
মানায়না। আমার দুইটা কিডনিই ড্যামেজ
হয়ে গেছে। আমার আর বাঁচার কোন উপায়
নেই, জানিনা এই পত্রটা তুমি পাওয়ার পর
আমি আর বেঁচে থাকব কিনা। সবাইকে
ছেড়ে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু এই
ভেবে শান্তি পাচ্ছি, বুকের ভেতর এতদিন
তিলতিল করে গড়ে উঠা কষ্টের অবসান
হতে যাচ্ছে।
জান, তোমাকে নিয়ে খুব স্বপ্ন দেখতাম,
কিন্তু বিধাতা তা চাইনি। এই জনমে
তোমার আমার মিলন হবেনা ঠিক, কিন্তু
আখিরাতে নিশ্চয় বিধাতার কাছে
তোমাকে আমি চেয়ে নেব।
আমার পত্র পাওয়ার পর সেন্ট্রাল
হসপিটালে একবার এসো, আমার আব্বুর
চোঁখের অপারেশন ঠিকমতো হচ্ছে কিনা
দেখে যেও।
আমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করিও, আর
নতুন করে অন্য কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখিও।
কিন্তু আমার ভালবাসার কসম রইল, নিজের
কোন ক্ষতি তুমি কখনে করবেনা। ভাল
থেকো, দুর থেকে তোমাকে সবসময় আমি
ভালবেসে যাব।
ইতি
শুভ
চিঠিটা পড়ে ঐশী জোরে জোরে কান্না
করতে লাগল। তারপর বাবা-মাকে নিয়ে
সেন্ট্রাল হসপিটালে ছুটে গেল। ততক্ষণে
শুভর বাবার চোখের অপারেশন শেষ।
চোঁখের ব্যান্ডেজ খুলতেছে ডাক্তার। তখন
কান্না করতে করতে ঐশী ঢুকল। বলল:-
ডাক্তার, ডাক্তার আমার শুভ কোথায়?
*ডাক্তার নিশ্চুপ। কোন কথা বললনা।*
-কি হয়েছে আমার শুভর?" শুভর মা জিঙেস
করল।
*ডাক্তার নিশ্চুপ"
শুভর বাবা জিঙেস করল:- ডাক্তার, আমার
এতবড় উপকারটা কে করল? কে এই মহান
ব্যক্তি, যে আমাকে চোখ দান করল?
ডাক্তার এইবার বলল:- দেখতে চান? আসুন
আমার সাথে।
ডাক্তার সবাইকে একটা কক্ষে নিয়ে গেল,
যেখানে লাশ রাখা হয়। তারপর একটা
লাশের উপর থেকে সাদা পর্দা সরিয়ে
বলল:-ইনিই আপনাকে চোখ দান করেছেন।
শুভর নিস্তেজ দেহকে পড়ে থাকতে দেখে
সবাই "না...আ....আ" বলে চিৎকার করে
কেদে উঠল। শুভর বাবা সবার চেয়ে জোরে
কান্না করতে লাগল।
সবার আর্তচিৎকারে রুম যেন ফেটে যাবে,
কিন্তু শান্ত হয়ে শুয়ে আছে শুধু শুভ। আর
কখনো সে জাগবেনা। ভাবতেই অবাক
লাগে। ঐশী শুভর বাবার দিকে পত্রটা
এগিয়ে দিল। শুভর বাবা পড়তে লাগল।
প্রিয় বাবা,
প্রথমেই বাবা দিবসের শুভেচ্ছা রইল। আশা
করি ভাল আছ। বাবা, তোমাকে আমি কি
বলব বুঝতেছিনা। সারাজীবন আমি তোমার
অপদার্থ ছেলে হিসেবে কাটিয়েছি। আমি
আসলেই অপদার্থ বাবা। নিজের বাবার
ভালবাসা পর্যন্ত যার কপালে জুটেনা,
তার মতো অপদার্থ আর কে হতে পারে?
কিন্তু বাবা আমি তোমাকে খুব
ভালোবাসি। তুমি বলেছ, আমি তোমার
সামনে আসলে তোমার মরা মুখ দেখতে
হবে। কিন্তু বাবা, আমি তা দেখতে
পারবনা,
তাই তোমার সামনে কখনো আসবনা, হয়তো
আসার সুযোগও পাবনা। বাবা, আমি জানি
তুমি চোখ নিয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছ। বাবা,
আমি
তো আর বাঁচবনা, আমার দুইটা কিডনিই
ড্যামেজড। তাই আমার চোঁখ দুইটাও আর
প্রয়োজন নেই, সেন্ট্রাল হসপিটালের
ডাক্তারবাবুকে আমি সব বলে রেখেছি।
উনি সব ব্যবস্থা করে দিবেন আমার চোঁখ
দুটো তোমাকে প্রতিস্থাপন করার
ব্যাপারে। বাবা দিবসে তোমাকে আমার
পক্ষ থেকে এই ছোট্ট উপহার বাবা। আমার
চোঁখ দিয়ে তুমি আবার বিশ্বকে দেখ
বাবা। আর আমাকে ক্ষমা করে দিও,
সারাজীবন তোমার জন্য কিছুই করতে
পারলামনা বাবা। বাবা, আমি তোমাকে
অনেক ভালোবাসি। মা, আর ছোট
ভাইবোনদের নিয়ে সুখে থেকো বাবা,
ভালো থকো।
ইতি
তোমার অপদার্থ ছেলে।
চিঠিটা পড়ে শুভর বাবার কান্নার বেগ
আরো বেড়ে গেল। সারাজীবন যে
ছেলেকে তিনি অপদার্থ বলে গালমন্দ
করেছেন, সেই ছেলে তার জন্য এতবড়
ত্যাগস্বীকার করবে বুঝতে পারেননি।
সবাই কান্না করতে লাগল। অথচ কি শান্ত
হয়ে পড়ে আছে শুভর নিস্তেজ দেহ। সবার
কান্নার বেগ বেড়ে গেল। কিন্তু ঐশীর
কান্না থেমে গেল, কান্না করতে করতে
সে যে শুভর লাশের উপর বেহুশ হয়ে পড়ে
আছে, তা কেউ খেয়াল করেনি।
*সমাপ্ত*
লেখক:-অলিভার কুইন(শুভ)
হবিগন্জ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now