বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব: ২
লেখক: অলিভার কুইন (শুভ)
গভীর রাঁত পর্যন্ত জেগে গল্পের বই পড়া
অভ্যাস হয়ে গেছে শুভর। সেইরাঁতেও
গল্পের বই পড়ছিল সে। হঠাৎ দরজায় ঠোকা
পড়ল। দরজা খোলার সাথে সাথে ঐশী
একটা
বালিশ নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল। তারপর
শুভর
বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ল। শুভ অবাক হয়ে
জিঙেস করল:-এইসবের মানে কি ঐশী?
-তুমি আমাকে ভালোবাস কিনা বল? নইলে
আজ
সারারাঁত তোমার রুমেই থাকব।" সরাসরি
"আপনি"
থেকে "তুমি" তে চলে এল ঐশী।
-দেখ ঐশী, পাগলামি করিওনা, তোমার
রুমে চলে
যাও।
-না, যতক্ষণ পর্যন্ত তেমার ভালবাসা
আদায় করতে
না পারি, ততক্ষণ পর্যন্ত এইরুম থেকে
একপাও
নড়বনা। বল আমায় ভালবাস?
-আমার মতো অপদার্থকে ভালবেসে তুমি
কিছুই
পাবেনা।
-আমি অতকিছু বুঝিনা।প্লিজ আমাকে দয়া
করে
হলেও ভালবাস? তোমার ভালবাসা ছাড়া
আমি বাঁচবনা।
-কারো ভালবাসা না পেলে কেউ মরেনা।
-অবশ্যই মরে। তুমি কি ভেবেছ, শুধু দেহ
থেকে প্রাণ চলে যাওয়াটাকেই মরে
যাওয়া
বলে? এইটা ভুল। মানুষ জন্মে একবার, কিন্তু
মরে
একাধিকবার। মানুষ যখন কোন স্বপ্ন দেখে
কাউকে নিয়ে, সেই স্বপ্নের মৃত্যু হলে
মানুষের একবার মৃত্যু হয়, খুব আপন কেউ
ছেড়ে গেলে মানুষের আরেকবার মৃত্যু হয়,
যখন মানুষ তার মনের কথা মনের মানুষকে
বলতে পারেনা, মনের কথা মনেতেই মরে
যায়,
তখন মানুষের আরও একবার মৃত্যু হয়। এইরকম
মানুষ
অনেকবার মরে। যখন দেহ থেকে প্রাণ চলে
যায়, তখন মানুষ শেষবারের মত মরে।
তোমাকে না পেলে আমিও জীবন্ত লাশ
হয়ে
যাব, প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিওনা।
আমাকে
ভালবাসতে না পার, অন্তত সারাজীবন
ভালবাসার
অভিনয় করে যাও।" কথাগুলো বলে ফুফিয়ে
কান্না
করতে লাগলল ঐশী। শুভ বুঝতে পারল, ঐশীর
ভালোবাসা পবিত্র। সে তাকে সত্যিই
ভালবাসে।
শুভকে চুপ থাকতে দেখে ঐশী বলল:- প্লিজ
শুভ, বল আমায় ভালবাস?
-কিন্তু ঐশী, তোমার বাবা-মা যদি জানতে
পারে,
আমাকে এইখানে থাকতে দিবেনা।
-জানবেনা, বল আমাকে ভালবাস?
-হ্যা, ভালবাসি।
শুভর কথাশুনে ঐশীর হাসি-কান্না এক হয়ে
গেল।
মুখে হাসি, চোখে অশ্রু। খুশিতে শুভকে
জড়িয়ে ধরতে গিয়ে থেমে গেল ঐশী।
এমনভাবে সে শুভর দিকে তাকাল, যেন
চোঁখ
দিয়ে সে মিনতি করতে চাইল, শুভ একবার
জড়িয়ে
ধরি তোমায়? ঐশীর অবস্থা বুঝতে পেরে
শুভ
বলল:-থেমে গেলে কেন? জড়িয়ে ধর?"
ঐশী তখন হেসে উঠে জড়িয়ে ধরল শুভকে।
সেইরাঁতটা দু'জনের ভালভাবেই কাটল।
একদিন দুজনে বসে আছে পার্কে। শুভ
অন্যমনস্ক হয়ে কি যেন ভাবতেছে। ঐশী
জিঙেস করল:- কি ভাবছ?
-কিছুনা
-বলনা?
-আম্মু ফোন করেছিল। বাসায় টাকার খুব
প্রবলেম। আব্বুও নাকি চোখে ঠিকমতো
দেখতে পাইনা এখন আর। চোখে অপারেশন
করতে হবে। কি করব বুঝতেছিনা।
-আমি বলি কি, তোমার কাছে জমানো যা
টাকা
আছে, তা নিয়ে বাবাকে একবার দেখে
আস।
-আমি যাবনা, আমি গেলে বাবার মরা মুখ
দেখতে
হবে। আমি বেঁচে থাকতে বাবার মরা মুখ
আমি
দেখতে পারবনা। বাবাকে আমি খুব
ভালবাসি ঐশী।
আসলে কি জান, কাছে থাকলে আপন
মানুষগুলোর ভালবাসার মর্ম বুঝা যায়না,
দূরে
এসেই বুঝতে পেরেছি আমি তাদের কতটা
ভালবাসি, আমার জীবনে তাদের
ভালোবাসা কতটা
গুরুত্বপূর্ণ।" কথাগুলো বলতে বলতে শুভর
চোঁখ দিয়ে অশ্রু বেরিয়ে আসল। ঐশীর
আড়ালে তা মুছে ফলতে চাইল, কিন্
পারলনা।
কিন্তু ঐশী তা দেখেও না দেখার ভান
করল।
ঐশী বলল:- তাহলে এখন কি করবে?
-টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। দেখি, বাবার
চোঁখের
অপারেশনের পর কি হয়। চল, বাসায় ফেরা
যাক।
-হূৃমমমম..... চল।
কয়েকদিন পরের ঘটনা। শুভ সারাদিন
বাসায় ফিরলনা। রাতেও আসতে দেরি
হচ্ছে দেখে ঐশীর ফ্যামিলির সবাই
চিন্তা করতে লাগল। ফোন অফ তার, তাই
যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছেনা। রাঁতে
অনেক্ষণ পর বাসায় ফিরল সে। ঐশীর মা
জিঙেস করল:- কোথায় ছিলে বাবা
এতক্ষণ?
-আন্টি, একটু অসুস্থ লাগছিল, তাই
হসপিটালে যেতে হয়েছিল।" বলতে গিয়ে
গলা কেপে উঠল শুভর।
-তো বাবা, এখন ঠিক আছ তো?
-হ্যা আন্টি, ঠিক আছি।
-খেতে বস, আমি খাবার দিচ্ছি।
ঐশী বলল:-মা, আমি খেতে দিচ্ছি, যাও,
তুমি ঘুমিয়ে পড়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now