বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরো গল্পটা পড়ার অনুরোধ রইল*
লেখক: অলিভার কুইন(শুভ)
পর্ব: ১
বাবা মার অপদার্থ ছেলে হিসেবে
পরিচিত শুভ। অনার্স শেষ করে একটা
চাকরির চেষ্টা করতেছে ইদানিং সে।
কিন্তু কপালে তার চাকরি জুটেনা। তাই
বাবা বলে, -তোর মতো অপদার্থের কপালে
কখনো চাকরি জুটবেনা। বাবা একটা আছে,
সারাজীবন বাবার ঘাড়ে চড়েই কাটিয়ে
দিবি।
"নিজের বাবা যদি এমন অভিশাপ দেই,
তাহলে সারাজীবন কেন, সাত জনমেও
চাকরি পাবেনা সে" মনে মনে এই কথা
বলে শুভ,, কিন্তু মুখে বলে:- বাবা, চাকরি
করতে গেলে হয় পূর্ব অভিঙ্গতা লাগবে,
আর নয়তো অনেক টাকা ঘুষ দিতে হবে।
আচ্ছা তুমিই বলো বাবা, মানুষ কি জন্মের
সময় অভিঙ্গতা নিয়ে জন্মায়? সব চাকরি
করতে যদি অভিঙ্গতা লাগে, তাহলে তো
আমাদের মতো কেউ চাকরি পাবেনা,
আগে চাকরিটা করতে দিলেই না
অভিঙ্গতা হবে, চাকরি না দিলে
অভিঙ্গতা হবে কেমনে? আর ঘুষ দিয়ে
চাকরি করতে চাইলে তুমি টাকা
দেবেনা......
-কেন দেব টাকা? অনেক টাকা খরচ করে
তুকে লেখাপড়া করিয়েছি কি ঘুষ দিয়ে
চাকরি করার জন্য? একটা টাকাও দেবনা।
-তাহলে বাবা আমি ব্যবসা করব, টাকা দিও
কিছু।
-ব্যাংকে কিছু টাকা জমা আছে, ঐগুলা
তুলে ব্যবসা শুরু কর।
-ঠিক আছে বাবা।
.
রাঁতে শুভর বাসায় খবর এল, শুভ
মারাত্মকভাবে জখম হয়ে হসপিটালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। ব্যাংক
থেকে টাকা তুলে ফেরার সময়
ছিনতাইকারীর হাতে পড়েছিল সে। পেটে
ছুরি বসিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল
ওরা।
শুভর বাবা জমি বিক্রি করে শুভর
অপারেশন করল। সুস্থ হওয়ার পর বাসায়, যখন
ফিরল, তখন বাবা বলল:-তুই শুধু অপদার্থই নই,
তুই একটা অপয়াও। তুই আমাকে পথে বসায়
দিলি।" শুভ কিছু বললনা, নিরবে ভেতরে
চলে গেল। বাবার অবস্থা সে বুঝতে
পারছে। তাকে বকা দিয়ে যদি কিছুটা
শান্তি পাই বাবা, তাহলে সে বকা শুনতে
রাজি আছে।
.
পরদিন বাবা শুভকে একটা প্রস্তাব করল,
এলাকার এক
মেয়েকে অনেক টাকা যৌতুকের বিনিময়ে
বিয়ে করতে হবে। শুভ রাজি হলনা, এ
অন্যায় সে
করতে পারবেনা। কিন্তু বাবার এক কথা,
বিয়ে না
করলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।
বাবা কনেপক্ষকে কথা দিয়ে ফেলেছে।
বিয়ের দিনতারিখ ঠিক করে এসেছে,
কিন্তু
বিয়েরদিন শুভকে খুজে পাওয়া গেলনা
কোথাও।
পরদিন বাসায় ফিরল সে। কিন্তু, বাবার এক
কথা, বাড়ি
থেকে শুভ বেরিয়ে না গেলে বাবার মরা
মুখ
দেখতে হবে। তাই শুভ অনেক কষ্ট নিয়ে
বাড়ি
ছেড়ে চলে গেল। বাড়ি ছেড়ে সে শহরে
এসে ঠাই নিল। শহরের একটা বাসায় সে
লজিং থাকল,
একটা ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের মেয়ে
পড়াতে
হবে, ওদের বাসায় থাকবে, খাবে।
শহরে শুভর সময়টা ভালয় কাটতেছিল। সে
আরো
কয়েকটা টিউশনি করে। মাসে বার থেকে
পনের
হাজার টাকা সে পাই, টাকাগুলো সে জমা
করে,
একদিন সব বাবার হাতে তুলে দেবে।
ফ্যমিলি
ছড়ে চলে এসে তার খুব কষ্ট হয়। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই কেমন আছে কে জানে। তাদের
কথা মনে পড়লে মনটা খারাপ হয়ে যায়
শুভর। তবু
অনেক আশা নিয়ে সে বেঁচে আছে। একদিন
বাবা নিশ্চয় নিজের ভুল বুঝতে পারবে।
***
এরই মধ্যে শুভর সাথে লজিং এর যে মেয়ে সে পড়ায়, তার প্রেম হয়ে গেল। মেয়েটা নাম ঐশী। শুভ যখন ঐশীকে পড়াতে বসে,
ঐশী তখন একনজরে শুভর দিকে তাকিয়ে
থাকত।
একদিন শুভ জিঙেস করল:- কি ব্যাপার?
আমার দিকে
এইভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
-স্যার, আমার মোটেও পড়তে ইচ্ছে করেনা।
-তো কি করতে ইচ্ছে করে?
-সারাক্ষণ আপনার দিকে চেয়ে থাকতে
ইচ্ছে
করে। স্যার, একটা কথা বলব?
-বল?
-স্যার, আজ আমায় নিয়ে একটু বাইরে
বেড়াতে
বের হবেন বিকেলে?
-না, তোমার বাবা-মা জানতে পারলে
আমাকে আর
এখানে থাকতে দেবেনা।
-আম্মুকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব আমার।
আর
আব্বু জানতে পারবেনা। আপনি শুধু রাজি
কিনা
বলেন?
-আচ্ছা ঠিক আছে।
বিকেলে ওরা বের হল। একটা পার্কে বসে
বাদাম
খেতে খেতে দু'জন আড্ডা করতে লাগল।
হঠাৎ
ঐশীর কি হল জানিনা, উঠে গিয়ে অচেনা
একটা
মেয়ের মুখে চড় বসায় দিল। তারপর শুভকে
দেখিয়ে বলল:- এই মেয়ে, তুমি উনার দিকে
এইভাবে হা করে তাকাইছিলা কেন?
জীবনে কি
কোন পুরুষ মানুষ দেখনি?
মেয়েটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল ঐশীর
দিকে। পরে শুভ এসে পরিস্থিতি সামাল
দিল।
মেয়েটাকে বুঝিয়ে, স্যরি বলে বিদায়
করল।
তারপর ঐশীকে বলল:-মেয়েটার সাথে
কাজটা
ঠিক করলেনা।
-কেন স্যার? মেয়েটা আপনার দিকে হা
করে
তাকিয়ে থাকবে, আর আমি তা চেয়ে
চেয়ে
দেখব?
-আমার দিকে কোন মেয়ে তাকালে
তোমার
তাতে কি?
-আমার ওসব সহ্য হয়না স্যার। আমি
আপনাকে
ভালবাসি।
ঐশীর এ কথায় শুভ ঠাস করে একটা চড়
বসিয়ে
দিল তার গালে। তারপর বলল:- আমি
তোমার স্যার,
ভুলে যেওনা।
-আমি এতকিছু বুঝিনা। আমাকে মারেন
কাটেন, যাই
করেন,আমি শুধু আপনাকে চাই।" এই কথা
বলে
কান্না করতে করতে ঐশী দৌড়ে চলে গেল
বাড়ির দিকে। রাঁতে সে কিছুই খেলনা।
পড়তেও বসলনা
তার মা কিছু একটা আচ করতে পেরেছিলো তবে কিছুই বলল না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now