বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

হাসিবের ঈদ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RIAD (০ পয়েন্ট)

X ঈদের দিন সকাল নয়টা। হাসিব কিছুক্ষণ আগে সিডনি বিমানবন্দরে এসে নেমেছে। ইমিগ্রেশন থেকে বের হয়ে সে তাঁর বন্ধুকে ভাইবারে কল দিল। —বিপ্লব, আমি হাসিব বলছি। বন্ধু, এইমাত্র আমি ইমিগ্রেশন পার হলাম। —তোর না গতরাতে আসার কথা দোস্ত। —কাল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কুয়ালালামপুর থেকে প্লেন ডিলে ছিল প্রায় ১২ ঘণ্টা। আর আমিও এয়ারপোর্ট থেকে ওয়াইফাই কানেকশন পাচ্ছিলাম না। তাই তোকেও জানাতে পারিনি। সরি বন্ধু, আমি মনে হয় তোকে ঝামেলায় ফেলে দিলাম। —আরে না, না। তোকেই বরং একটু ঝামেলা পোহাতে হবে। আমি আজ সকাল আটটা থেকে কাজ শুরু করেছি। বাসায় ফিরতে ফিরতে চারটা বাজবে। দোস্ত, তুই একটা ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে ঠিকানা ধরে আমার বাসায় চলে যা। তারপর পাশের রুমে নক করলে এক আফগানি বৃদ্ধা মহিলা দরজা খুলবে। তাঁকে তোর নাম আর আসার কথা বলে এসেছি। তাঁর ঘরে মালপত্র রেখে তুই দশ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে ওয়েস্টফিল্ড শপিং মলে চলে যাবি। ওখানে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে মোবাইলে ফ্রি ওয়া ফাই কানেক্ট করে রাখবি। আমি কাজ শেষ করে ঠিক সাড়ে তিনটায় তোকে কল দেব। এখন ছাড়ছি দোস্ত। হাসিব বিমানবন্দর থেকে ট্যাক্সি নিয়ে বিপ্লবের ফ্ল্যাট বাড়ির সামনে নামল। তারপর আফগানি নারীর দরজায় নক করে তাঁর ঘরে মালপত্র রেখে রাস্তায় এসে দাঁড়াল। তখন সকাল সাড়ে দশটার মতো বাজে। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। ওয়েস্টফিল্ড শপিং মল কোনদিকে কাউকে জিজ্ঞেস করার জন্য সে দাঁড়িয়ে রইল। হঠাৎ সে বেশ কিছুটা দূরে পায়জামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরা বেশ কয়েকজনকে সামনের পার্কের একটি স্থানে সমবেত হতে দেখল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন ছোট বাচ্চা ও নারীদেরও দেখল। বাচ্চাদের পরনেও নতুন পায়জামা পাঞ্জাবি। নারীরা সবাই নতুন কাপড়ে সজ্জিত। হাসিবের কাছে তাদের বাংলাদেশি বলেই মনে হলো। আবার ভারতীয় কিংবা পাকিস্তানিও হতে পারে। সে কিছুটা উৎসুক হয়ে গেটের ভেতর দিয়ে পার্কে ঢুকল। ঈদের নতুন পোশাকে ছেলেমেয়েরা ছোটাছুটি করছে। কিছুক্ষণ পর ছোট্ট একটি ছেলে তার সামনে এসে বলল, আংকেল তুমি একা এসেছ? আন্টি বাবুদের সঙ্গে আননি? ওদিকে তো সবাই অপেক্ষা করছে। এই বলে বাচ্চা ছেলেটি তার হাত ধরে এক রকম জোর করেই ভিড়ের ভেতর নিয়ে গেল। হাসিব প্রবাসে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে কিছুটা বিব্রত বোধ করলেও নিজেকে সামলে নিল। একজন ভদ্রলোক তার দিকে হাত বাড়িয়ে নিজের নাম বলল। অন্যরাও দেখাদেখি এগিয়ে এল। সেও তার নাম পরিচয় ও এখানে আসার কারণ জানাল। সবাই তাঁকে বেশ স্বাভাবিকভাবেই নিলেন এবং তার বন্ধু না ফেরা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে থাকার ও দুপুরে খাওয়ার জন্য অনুরোধ জানাল। হাসিব কথায় কথায় জানতে পারল, প্রবাসে এই আট-দশটি পরিবার সবাই একে অপরের বন্ধু। কেউ স্কুল জীবনের বন্ধু, কেউ দেশে একসঙ্গে চাকরি করতেন, কেউবা এখানে পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকেন, আবার কেউবা এখানে চাকরিসূত্রে পরিচিত। আজ ঈদের দিনে সবার পক্ষে সবার বাসায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাই নারীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি করে ডিস রান্না করে নিয়ে এসে সবাই এই পার্কে ঈদ উদ্‌যাপন করবেন। তাতে সবার সঙ্গে সবার দেখাও হবে আবার বাচ্চারাও একসঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। নারীদের মধ্যে থেকে একজন বয়স্ক নারী হাসিবের দিকে এগিয়ে এসে ওকে নিয়ে একপাশে বসাল। মায়ের আদর মাখা কণ্ঠে তিনি বললেন, বাবা তুমি অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছ। আমি তোমার খাবার রেডি করি। এই বলে তিনি হাসিবকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই প্লেটে করে পোলাও, রোস্ট, রেজালা ও মিষ্টি নিয়ে এলেন। হাসিব খাওয়া শুরু করলে বৃদ্ধা পাশে বসে তার মা-বাবার খোঁজ খবর নিলেন। হাসিবের খেতে খেতে খুব কান্না পেল। সে অতি কষ্টে তার কান্না দমন করলেও চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। বৃদ্ধা পরম মমতায় শাড়ির আঁচল দিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিলেন। বিকেল সাড়ে তিনটা বাজার কিছু আগে সে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শপিং মলে যেতে চাইলে সবাই কারণ জেনে একজন তার বন্ধু বিপ্লবের মোবাইলে মেসেজ দিয়ে রাখল। বিপ্লব কাজ শেষে জানাল সে পার্কে এসেই তাকে বাসায় নিয়ে যাবে। বিপ্লব হাসিবকে নিতে এসেছে। হাসিব সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বৃদ্ধার কাছে গেল। তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁর ছেলে কাছে এসে বৃদ্ধাকে সামলাতে সামলাতে বলল, আপনার বয়সী আমার ছোট ভাই গত বছর দেশে গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে। তারপর থেকেই মা তার শোকে কেমন জানি হয়ে গেছেন। সিডনিতে আসার পর থেকে সব সময় মন মরা হয়ে থাকেন। ভালোই হলো ভাই, মার আপনাকে দেখলে ভালো লাগবে। বৃদ্ধার ছেলে হাসিবকে জড়িয়ে ধরল। বৃদ্ধা তাদের দুজনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। হাসিব চলে যাচ্ছে আর বৃদ্ধা তার ফিরতি পথের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now