বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মৃত্যুর যন্ত্রণা (পর্ব-১)
আল্লাহ তায়ালা সুরা আল ইমরানের ১৮৫, আল আম্বিয়ারর ৩৫ ও আল আনকাবুতের ৫৭ নং আয়াতে বলেন, "প্রতিটি প্রাণিই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।"
(লেখাটি পরার আগে ১মিনিট শ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু যন্ত্রণা অনুধাবন করার চেষ্টা করুন)
অনেকেই শ্বাস টানা ১মিনিট বন্ধ রাখতে পেরেছেন, তবে বেশিরভাগ লোকই পায়নি। আপনি কি ভেবে দেখেছেন আপনার এই শ্বাস নেওয়া মৃত্যুর সময় চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে! আর তার কতই না কষ্টকর হবে! আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"আর মৃত্যুর যন্ত্রণা যথাযথই আসবে। যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে।" (সূরা ক্বাফ- ১৯)
এই আয়াত থেকে স্পট মৃত্যুর যন্ত্রণা কেমন হবে তার ধারণা পাওয়া যায়। যখন একটা মুরগি জবাই করা হয় তখন সে কিভাবে ছটফট করতে থাকে। কি রকম কষ্ট হয় সেই মুরগির। যখন কোনো হরিণের পিছনে বাঘ ধাওয়া করে তখন সে বাঁচার কতই না চেষ্টা করে!
ভেবে দেখুন আপনার মৃত্যু কিভাবে হবে?
একদিন আপনার মৃত্যু আপনার সামনে হাজির হবে সেদিন আপনার অবস্থা কি রকম হবে চিন্তা করে দেখুন।
মৃত্যুর পর যে আরো একটি জীবন আছে সেটাও আমরা ভুলে যাচ্ছি। আমরা যদি মারাই যাই তাহলে কেন পৃথিবীতে আসলাম?
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"জিন ও মানবজাতিকে আমি (আল্লাহ) আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬)
অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শুধু তার ইবাদত এর জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমরা তার ইবাদত ও মৃত্যুর কথা ভুলে যাই। যখন আমরা কবরে যাই তখন আমরা আফসোস করবে আর আবার পৃথিবীতে যাইতে চাইব। কিন্তু আর পারব না। তাই এই পৃথিবীতে আমরা বেশি বেশি আমল করব যাতে এই রকম পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে না হয়।
কাফিরদের মৃত্যু: রসূল (সা) বলেন,
যখন কাফির এর মৃত্যু হয় তখন কালো চেহারার ফেরাস্তারা আসবেন। তাদের হাতে ১টি চট থাকবে। তারপর আজরাইল তার মাথার পাশে বসবেন এবং তাকে বলবে,
: হে পাপিষ্ঠ আত্মা! আল্লাহর গযবের দিকে বেরিয়ে আয়।
তার কথা শোনা মাত্র আত্মা শরীরের ভেতর এদিক অদিক দৌড়াতে থাকবে। তখন আজরাইল (আ) তার আত্মাকে এমনভাবে বের করবেন যেমন একটি ভেজা তুলার বালিশ হতে এমন একটি সুই বের করবে যাতে অজস্র তীরের ফলা উল্টোদিক করে রাখা। আজরাইল জোর করে সেই সুই বিদ্ধ করে টেনে আত্মাকে বের করবেন। তারপর সেই চটে জরিয়ে নিজেদের হাতে নিবেন। তখন সেখানে থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হবে। যখন একে আকাশে নিয়ে যাওয়া হবে তখন অন্য ফেরেশতারা জিজ্ঞাস করবে যে এটা কার আত্মা। তখন উত্তরে খুব খারাপ পরিচয়ে বলবে অমুক এর ছেলে অমুক। তারপর আকাশের দরজা খোলার অনুরোধ করা হলেও তা খোলা হবে না।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে আর এ ব্যাপারে অহংকার করে তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সুঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে।* এভাবেই আমি অপরাধীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি (সূরা- আরাফ: ৪০)
*সুঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করা অসম্ভব। তাই এখানে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করা অসম্ভব বুঝানো হয়েছে।
তারপর আত্মাকে শরীরে ফেরত পাঠান হবে। তারপর তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করা হবে।
তোমার প্রভু কে?
: হায়! আমি এ সম্পকে কিছুই জানি না।
তোমার দিন কি?
: হায়! আমার জানা নেই।
আল্লাহরর পক্ষ হতে যাকে পঠান হয়ে ছিল, তিনি কে?
: হায়! এটাও তো আমি জানি না।
প্রশ্নোত্তর শেষ হলে আওয়াজ আসবে, সে মিথ্যা বলছে। তার নিচে আগুন বিছিয়ে দাও ও জাহান্নাম এর দরজা খুলে দাও। তখন দোজখের দরজা খোলা হবে সেখান হতে গরম বাতাস আসতে থাকবে। তার কবর সংকির্ণ হয়ে যাবে। ফলে পাজরের হাড় পরস্পরের মধ্যে ঢুকে যাবে। তখন কুশ্রী চেহারার নিকৃষ্ট জামা পরিহিত একজন লোক আসবে আর তাকে বলবে,
: শোন, এটা সেই দিন সেই দিন যার সম্পর্কে তোমার সাথে ওয়াদা করা হয়েছিল।
তখন সে আত্মা বলবে তুমি কে?
লোকটি বলবে, "আমি তোমার বদ আমল। সামনে তোমার জন্য আরো ভয়ংকর আযাব আসছে।
তখন আত্মা ভয়ে চিন্তা করবে, কেয়ামত হলে না জানি আরো কত আযাব অপেক্ষা করছে। তখন সে বলবে, "হায় আল্লাহ কেয়ামত যেন না ঘটে।"
তাহলে আপনারই চিন্তা করে দেখুন, আপনার অবস্থা কেমন হতে পারে ??
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now