বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সন্ধ্যা হয়ে এসেছে । সূর্য ডুবে
গেলেও, এখনও পুরোপুরি অন্ধকার
নামেনি । রিক্সা নিয়ে যখন
মেয়েদের হলটা পার হচ্ছিলাম তখনই
চোখটা আটকে গেল গেটের কাছে ।
বেশ কয়েকজন দাড়িয়ে আছে ব্যাগ
নিয়ে । কারো আসার জন্য অপেক্ষা
করছে । কেউ কেউ আবার নিজেই
রিক্সা ডেকে উঠে চলে যাচ্ছে যে
যার গন্তব্যের দিকে ।
আজকে দুপুরের দিকে আমাদের
ক্যাম্পাসে তুমুল মারামারি বেঁধে
গেছে সরকারিও দলের দুপক্ষের মধ্যে
। শোনা যাচ্ছে কয়েকজন নাকি
মারাও গেছে । পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রনের আনার জন্য তাই কর্তৃপক্ষ
অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ
ঘোষনা করেছে আর সেই সাথে রাত
আটটার ভেতরেই হল খালি করার
নির্দেশ দিয়েছে । তাই আমরা সবাই
যে যার মত বাসার দিকে রওনা
দিতেছি ব্যাগ নিয়ে । মেয়ে গুলোও
ঠিক সেই উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে ।
রিক্সাটা হলের সামনে থামাতে
বললাম ! সুপ্তি ব্যাগ হাতে নিয়ে
দাড়িয়ে আছে গেটের এক পাশে ।
আমাকে এখনও দেখে নি । আমি
রিক্সা থেকে নেমে ওর সামনে
যেতেই একটু চমকে উঠলো । আমার
দিকে কয়েক পলক তাকিয়ে রইলো
কোন কথা না বলে । আমি বললাম
-বাসায় কিভাবে যাবে ?
সুপ্তি কোন কথা না বলে চুপ করে
রইলো । মনে ও কিভাবে বাসায়
যাবে সেটা নিয়ে ও নিজে
খানিকটা চিন্তিত । আমি আবার
বললাম
-বাসায় ফোন দিয়েছিলে ?
-হুম !
-কি বলল ?
-আমাদের একখানে এক মামা আছে দুর
সম্পর্কের । উনার বাসায় যেতে বলল ।
ভাইয়ার পক্ষে এখন আসা সম্ভব না ।
ভাইয়া কাল আসবে !
আমি জানি কেন আসা সম্ভব না ।
আমার আর সুপ্তির বাসাটা একই
জায়গায় । সেখান থেকে শহরে
অর্থ্যাৎ যেখান থেকে ঢাকার গাড়ি
ছাড়ে সেখানে আস্তেই মোটামুটি
৩/৪ ঘন্টা লেগে যায় । আর ওর ভাইয়া
যদি রওনাও দেয় তাহলে ঢাকার
দিকে ছেড়ে আসা শেষ বাসটা
ধরতে পারবে না । আর ধরতে পারলেও
এখানে আস্তে আস্তে আরও ছয় সাত
ঘন্টার ব্যাপার । এতো সময় ও
কিভাবে এখানে থাকবে সেটা
একটা বড় প্রশ্ন !
আমি বললাম
-তা এখানে দাড়িয়ে কেন আছো ?
অবস্থা খুব বেশি ভাল লাগছে না ।
আবার মারামারি বাঁধতে পারে ।
তোমার ঐ মামার বাসা কোথায় ?
সুপ্তি কোন কথা না বলে চুপ করে
দাড়িয়েই রইলো । আমার কেন জানি
মনে হল ও ঠিক ওর মামার বাসায়
যেতে রাজি না । কোন একটা সমস্যা
নিশ্চয়ই আছে । নয়তো এখনও এখানে
দাড়িয়ে থাকার কোন মানে নেই ।
চাইলেই চলে যেতে পারতো । আমি
বললাম
-ঐ মামার বাসায় যেতে চাও ?
কোন কথা না বলে ও কেবল মাথা
ঝাকালো । যেতে চায় না ।
-তাহলে ?
কোন কথা না বলে সুপ্তি আবারও চুপ
করে দাড়িয়েই রইলো । একবার মনে হল
যেতে না চাইলে আমি কি আমি যাই
আমার মত কিন্তু কেন জানি চলে
আসতে পারলাম না । বললাম
-আমি যাচ্ছি বাসায় । তুমি চাইলে
আমার সাথে আসতে পারো । যদি
তোমার এবং তোমার পরিবারের
কোন সমস্যা না হয় !
সুপ্তি আমার দিকে একটু তাকিয়ে
আবার অন্য দিকে তাকালো । সন্ধ্যার
এই অম্লাম আলোতে ওর মুখের যেন
আমি খানিকটা অভিমান দেখতে
পেলাম । কার প্রতি সেটা আমি ঠিক
বলতে পারবো না ! আমি আবার
বললাম
-যেতে চাও ?
সুপ্তি কোন কথা না বলে কেবল মাথা
ঝাকালো । কেবল একটাবার ।
মেয়েটা যেতে চায় !
আমি বললাম
-তাহলে বাসায় জানানোর দরকার
নেই । কারন তোমার বাবা কিংবা
ভাই যদি আমাকে আর তোমাকে এক
সাথে দেখে তাহলে ঠিক ঠিক
ঝামেলা বেঁধে যাবে । আমি কোন
ঝামেলা চাই না । আমি তোমাকে
বাসা পর্যন্ত দিয়ে আসবো । ঠিক
আছে ?
-আচ্ছা !
মুখে হাসি না দেখলেও আমার মনে
হল আমার কথা শুনে ও খুশিই হয়েছে ।
আমি ওকে নিয়ে রিক্সা উঠে বসলাম
। রিক্সা যখন উঠে বসলো তখনও
খানিকটা সন্দেহ জেগে রইলো ।
আমি বললাম
-আচ্ছা তুমি তোমার ঐ মামার বাসায়
যেতে চাইলে না অথচ আমার সাথে
যেতে রাজি হলে, ব্যাপারটা কি ?
সুপ্তি বলল
-ঐ লোকটাকে আমার ঠিক পছন্দ না ।
আর ওনার এখান বাসায় বউ নেই
বাপের বাসায় গেছে । ওনার ঠিক.....।
কথাটা বলতে ওর সংকোচ হচ্ছে বুঝতে
পারলাম । আমি ওকে বাঁচিয়ে দিয়ে
বললাম
-তা আমাকে ঠিকঠাক মত বিশ্বাস হয়
তো ! মানে আমি তোমাদের
প্রতিপক্ষ বাড়ির ছেলে । যদি কিছু
করে বসি !
আমার কথার কোন উত্তর না দিয়ে
সুপ্তি আমার দিকে খানিকটা সময়
একভাবে তাকিয়েই রইলো । তারপর
একটা হেসে বলল
-তাই ? পারবে না !
-কেন ? এতো কনফিডেন্ট হচ্ছো
কিভাবে ?
-আমি জানি ! তোমাদের বাসার
মানুষ গুলোর মত নও তুমি !
-তার মানে কি আমার বাসার অন্য
কেউ হলে তোমার উপর হামলা
করতো ?
-আমি সেটা মিন করি নি । তুমি একটু
আগে যেমন করে আমার বাসার
মানুষদের কে বলল !
-আচ্ছা ! প্রতিশোধ ! হা হা হা !
সুপ্তি বলল
-মনে আছে ঐদিনের কথা ?
-কোন দিন ?
-ঐ যে যেদিন আমাকে টিজ
করেছিলে ? আম বাগানটার সামনে ?
আমার বেশ ভাল করেই মনে আছে ।
আমাদের গ্রামে দুইটা চেয়ারম্যান
বাড়ি আছে । একটা মতি চেয়ারম্যান
আর আসাদ চেয়ারম্যান । সুপ্তি মতি
চেয়ারম্যানের মেয়ে । ওদের সাথে
আমার বাড়ির লোকজনের সেই কবে
থেকেই শত্রুতা । দুইজন দুই বাড়ির
লোকজনদেরকে দেখতে পারে না ।
একবার ওর বাবা চেয়ারম্যান হয়তো
আরেকবার আমার বাবা । ক্ষমতা আর
প্রভাব প্রতি-পত্তিতে কেউ কারো
থেকে কম না । তাই একটা ঠান্ডা যুদ্ধ
লেগেই থাকে সব সময় । আগে অবশ্য
মাঝে মাঝে দুই বাড়ির ভেতরে
মারামারিও লেগে যেত । তবে এখন
সেরকম হয় না । তবুও গ্রামের লোকজন
আমাদের দুই বাড়ির মানুষজনদের
নিয়ে বেশ ভয়ে ভয়ে থাকে । কখন কি
হয়ে যায় কেউ বলতে পারে না । তবে
আমার বাবারা দুজনেই বেশ বয়স হয়ে
গেছে । আগের মত শত্রুতা না
থাকলেও সেই ভাবটা ঠিকই আছে
দুজনের মাঝে !
সুপ্তি মতি চেয়ারম্যানের মেয়ে
হওয়া সত্ত্বেও মাঝে মাঝে আমার
এলাকার কিংবা আমার বাবার কিছু
চ্যাংড়া পুলাপাইণ ওকে ওকে টিজ
করতো । তখন ও স্কুলে পড়তো । অন্য
মেয়ের মত সুপ্তি সেটা কিছুতেই সহ্য
করতো না । হাতে কাছে যা পেত
সে গুলো ছুড়ে মারতো । ওর ছুড়ে
দেওয়া ইটের আঘাতে অনেকের
মাথা ফেটে গেছে । তাই আমাদের
পুলাপাইণ ওকে নাড়তে আরও বেশি
মজা পেত । আমি এই টিজিং এ অংশ
না নিলেও দেখতাম । একদিন কি মনে
হল আম বাগানের কাছে আসতে
সুপ্তিকে টিজ করা শুরু করলাম । তখন
সবে স্কুল শেষ করে কলেজে যাওয়া
শুরু করেছি । সুপ্তি সামনে এসএসসি
দিবে । আমি ভেবে ছিলাম
আমাকেও ও কিছু নিয়ে ঠিক ঠিক
তাড়া করবে । কিন্তু আমার মুখ থেকে
টিজ শুনে সুপ্তি একদম চুপ করে গেল ।
আমি নিজে অবাক না হয়ে পারলাম
না । আরও অবাক হয়ে গেলাম যখন ওর
চোকখে পানি দেখলাম ।
পরদিন সকালে যখন আবার ওর স্কুলের
যাবার সময় হল আমি একটা কাগজে বড়
করে "সরি" লিখে সেই আম বাগানেই
টাঙ্গিয়ে রাখলাম । জানতাম যে
সুপ্তি এটা নিশ্চিত দেখবে । হলও তাই
। ও কিছুটা সময় সেই কাগজটা দিকে
তাকিয়ে তারপর আমার দিকে
তাকালো । তারপর মাথা নিচু করে
চলে গেল । এরপর থেকে আমি আর
কোন দিন ওকে টিজ করি নি কিংবা
আমাদের কোন ছেলেদের কেও
সেটা করতে দেই নি । সেগুলো অবশ্য
কয়েক বছর আগের কথা ! আমি বুঝলাম
না ও হঠাৎ এই কথা কেন বলল !
আমি বললাম
-হ্যা মনে আছে ! কেন ?
-না এমনি ! তুমি চাইলেই আমার সাথে
কিছু করবে না আমি জানি ! বুঝেছো !
বাসে উঠে গাড়ি ছাড়তে খুব বেশি
সময় লাগলো না । পুরো বাস জুড়েই
সুপ্তি আমার সাথে টুকটাক কথা বলতে
লাগলো । আমার সত্যি মনে হল না ওর
বাবার সাথে আমার বাবা এমন
শত্রুতা আছে । মনে হতে লাগলো
আমাদের কত দিনের চিন-পরিচয় । অবশ্য
চিন-পরিচয় যে অল্প দিনের না, সেটা
তো সত্যি । আমার বাবা একটা দিন
নাই যে মতি চেয়ারম্যান কে গালি
দেন না । অবশ্য মতি চেয়ারম্যানেরও
নাকি আমার বাবার মতই অবস্থা ।
আমার দুটো ভাইও হয়েছে তেমনই ।
বাবাদের শত্রুতা ছেলেদের ভেতরে
প্রবাহিত হয়েছে । কিন্তু মেয়েটা
মনে সেরকম নয় বোঝাই যাচ্ছে ।
কথা বলতে বলতে একটা সময়ে আমরা
দুজনেই ঘুমিয়ে পড়লাম । যখন জাফরপুর
সদরে পৌছালাম তখন রাত প্রায় দুইটা
। আমি তাকিয়ে দেখি বাস থেকে
গেছে সবাই নামা শুরু করেছে । সুপ্তি
আমার কাধে মাথা রেখেই
ঘুমিয়েছে । কয়েক মুহুর্ত আমি ওর
দিকে তাকিয়ে থেকে ওকে ডাক
দিলাম ।
আসার সময় আমি ভাইয়াকে ফোন করে
বলে রেখেছিলাম । আমাদের বাসায়
রঘু মিয়াকে যেন সদরে পাঠিয়ে দেয়
নছিমন নিয়ে । আমাদের এলাকায়
যাওয়ার জনপ্রিয় যানবাহন হচ্ছে এই
নছিমন । ভ্যানের সাথে স্যালো-
মেশিন লাগিয়ে বানানো । অবশ্য
বাসও চলে তবে সেটা সন্ধ্যার পরপরই
বন্ধ হয়ে যায় । এগুলো মাল আনা
নেওয়ার কাজে খুব চলে ।
আমি সুপ্তিকে নিয়ে নামতেই রঘু
মিয়াকে দেখতে পেলাম । আমাকে
নামতে দেখেই এগিয়ে এল । কিন্তু
আমার সাথে সুপ্তি কে দেখে অবাক
হয়ে বলল
-ভাইজান আপনের সাথে এইটা
কেডা ? মতি চেয়ারম্যানের
মাইয়া ?
-হুম !
-আপনার আব্বা জানলে কি হইবো
ভাবছেন একবার ?
-আব্বাকে কে বলবে ? তুমি ?
রঘু মিয়া খুব ভাল করেই বুঝে গেল
আমি ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছি ।
আর কথা বলল না । আমি আর সুপ্তি উঠে
বসলাম নছিমনে ।
সুনশান নিরবতা দিয়ে ভটভট করে রঘু
মিয়ার নছিমন এগিয়ে চলছে । সুপ্তি
আমার পাশে বসে আছে । একটা
ঝাকি লাগতেই আমার হাত চেপে
ধরলো । বলল
-এই গাড়িতে করে মানুষ কিভাবে
যায় এখনও বুঝলাম না ।
-তুমি চড়ো নাই এটাতে ?
-জীবনেও না । ভাইয়া সব সময় বাইক
নিয়ে আসে আমার জন্য ।
-আমার ভাইয়েরও বাইক আছে । চাইলে
আমিও বলতে পারতাম । কিন্তু ভাইয়া
যদি এখন থাকতো তাহলে বুঝতেই
পারছো কি হত !
সুপ্তি কিছু না বলে হাসলো । যদি
অন্ধকার চারিপাশে তবে ওর
হাসিটা আমার বুঝতে মোটেও কষ্ট হল
না । সুপ্তির হাসি বরাবরই চমৎকার ছিল
। আমার সেই ছোট থেকেই ভাল
লাগতো । মিথ্যে বলবো না ওকে
আমার ভাল লাগতো কিন্তু
পরিবারের জন্য কোন দিন বলতে
পারি নাই সেই কথা ।
যখন ওকে ওর বাসার কিছু দুরে
নামিয়ে দিলাম ও বলল
-আমাকে বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দাও !
-তোমার বাবা আমাকে এখানে
দেখলে খুন করে ফেলবে !
-আমার বাবা এতোটা খারাপ না ।
তার ভেতরে কৃতজ্ঞতা বোধ আছে ।
-থাকুক ! আমি কোন রিস্ক নিতে চাই
না !
আমি তবুও ওকে একটু এগিয়ে দিলাম ।
গ্রামের রাত গুলো সব সময় খুব নির্জন হয়
। রঘু মিয়াকে রাস্তার উপর দাড়
করিয়ে রেখে ওকে নিয়ে হাটতে
লাগলাম । এরকম নির্জন কোন রাতে
আমি সুপ্তিকে নিয়ে হাটবো কোন
দিন চিন্তাও করি নি । মানুষের
কল্পনার বাইরে কত কিছু যে হয় সেটা
আর বলার অপেক্ষা রাখে না । আমরা
ওর বাড়ি থেকে একটু দুরে দাড়ালাম ।
এখান থেকে ওর বাড়ির সদর দরজাটা
স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে । একটা ১০০
পাওয়ারের লাইট জ্বলছে । সুপ্তি বলল
বলল
-থেঙ্কিউ !
-মেনশন নট ! তবে পাওনা রইলো । কোন
দিন শোধ করে দিও !
-আচ্ছা !
তারপর খানিক্ষন দ্বিধা কন্ঠ নিয়ে
বলল
-তোমার নাম্বার টা দেওয়া যাবে ?
-লাগবেই ?
-চাইলে আমি ম্যানেজ করে নিতে
পারি কিন্তু আমি তোমার কাছ
থেকেই চাই ।
আমি হেসে নাম্বার টা দিলাম !
দুই
সেই ঘটনার প্রায় ৬ মাস পার হয়ে
গেছে । গ্রাম থেকে এসে সুপ্তির
সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ শুরু
হয় এবং সেটা অন্য দিকে বাক
নিতেও খুব একটা সময় লাগে নি ।
বিশেষ করে আমি যখন থেকে জানতে
পারি যে ও আমাকে সেই স্কুল
থেকেই পছন্দ করে । এই জন্য ঐ দিনের
আমার টিজিংয়ের স্বীকার হয়েও
কিছু বলে নি । চুপ করে ছিল । আরও
একটা কারনও আছে অবশ্য । সুপ্তির এই
শত্রুতা মোটেই ভাল লাগে না । ওর
ইচ্ছে দুই পরিবারের ভেতরে এই
ঝামেলা টা বন্ধ হয়ে যাক !
সেটা কবে হবে আমি জানি না, এও
জানি না যে আমাদের এই সম্পর্কের
কথা বাড়িতে জানলে কি অবস্থা
হবে । তবে ওর সাথে সময় ভাল কাটতে
লাগলো । কিন্তু ঝামেলা বেঁধে
গেল একদিন সত্যি সত্যি !
আমি আর সুপ্তি সেদিন বসুন্ধরার আট
তলায় বসে বসে কথা বলছি । মাঝে
মাঝে এখানে আমাদের সময় কাটে ।
মাঝে মাঝে মুভি দেখি দুজন মিলে ।
আজকেও মুভি দেখেই বের হয়েছি ।
এখন খাওয়া দাওয়া করছি । ঠিক সেই
সময় সুপ্তির দিকে তাকিয়ে দেখি ওর
মুখ শুকিয়ে গেছে । কিছু দেখে ভয়
পেয়েছে এবং ও তাকিয়ে আছে
আমার পেছনের দিকে । যে
জিনিসটা দেখে ভয় পেয়েছে
সেটা আমার পেছনেই দাড়িয়ে
আছে । পেছনে তাকিয়ে দেখি
আমার নিজের বড় ভাই আমার দুজনের
দিকে তাকিয়ে গেছে ।
এটা দেখে আমার খাওয়া আটকে
গেল । মনে হল তখনই পালিয়ে যাই ।
দৌড় না দিলে আজকে আমার খবর
আছে ।
ব্যবসার কাজে ভাইয়া মাঝে মাঝেই
ঢাকায় আসেন । কোন কোন মাসে
বেশ কয়েকবারই আসা লাগে ।
আমাকে প্রতিবার বলেনও না যে
উনি এসেছেন । নিজের কাজ শেষ
করে চলে যান । আজকে যে এখানে
আসবেন সেটা তো আমি জানিই না !
আমার আবারও মনে হল এখন থেকে
দৌড় দেওয়া আমার জন্য সব থেকে
বুদ্ধিমানের কাজ হবে । কিন্তু
ভাইয়াকে আসতে দেখে সেটা আর
করতে পারলাম না !
ভাইয়া আস্তে আমাদের দিকে
এগিয়ে এসে আমাদের পাশে বসলেন
। তারপর ফোন বের করে কাকে যেন
আসতে বললেন ।
আমাদের অবাক হওয়ার তখনও বাকি
ছিল । ঠিক তার ১০ মিনিট পরে
আরেকজন এসে দাড়ালো আমার
টেবিলের সামনে । এবং সেটা আর
কেউ নয়, সুপ্তির বড় ভাই । আমি আসলে
ঠিক মত নিতে পারছিলাম না । কোন
ভাবেই মাথায় ঢকছিলো না এই
দুজনের যোগাযোগ কিভাবে হল ?
আমাদের দুই ভাই পাশাপাশি বসলো ।
আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল
-এইটা কত দিন থেকে চলছে ?
আমার একবার মনে হল মিথ্যা বলি ।
বলি যে আমাদের মাঝে কিছু চলছে
না । কিন্তু সুপ্তি আামকে অবাক করে
দিয়ে বলল
-তোমরা দুইজন বন্ধু ?
ওর ভাই ওকে ধমক দিয়ে বলল
-আমার কথার জবাব দে !
-না দিবো না ! আগে আমার কথার
জবাব দাও !
ভাইয়া সুপ্তির ভাইয়ের দিকে
তাকিয়ে বলল
-তোর বোন দেখছি আচ্ছা বেয়াদব ।
আর ভয়ডর কিচ্ছু পায় না !
-কি করবো বল ! একমাত্র বোন তো কিছু
বলতেও পারি না !
দুজন এমন ভাবে কথা বলতে লাগলো
যেন কত দিনের চেনা । আমরা দুজনই
দুজনের মুখ চাওয়া চাওই করতে
লাগলাম । একটু পরে জানতে পারলাম
যে তারা আসলেই বন্ধু । এবং আজ
থেকে না সেই কলেজ জীবন থেকেই ।
একবার সুজন ভাই কিভাবে যেন আমার
ভাইয়াকে একটা এক্সিডেন্ট থেকে
বাঁচিয়েছিলো । তারপর থেকেই
দুজনের মধ্যে এই বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে ।
ভাবীরাও নাকি একে ওপরের বন্ধু ।
আমাদের জন্য ব্যাপার টা মনে হল
আরও সহজ হয়েগেল । সত্যি সত্যি যে ভয়
পেয়েছিালম । সেটা আর বলার মত
না ।
আমাদের সম্পর্ক আবারও চলতে শুরু
করলো । যদিও বাবারা এখনও জানে
না । কোন একদিন জানবে । তবে
সেদিনের চিন্তা নেই । কারন এখন
আমরা দলে ভারি । দুই বাবাকে ঠিক
ঠিক কাবু করে ফেলবো একদিন !
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now